আরামবাগ আপনজন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির একের পর এক অভিনব প্রয়াস। সমাজের মানুষের পাশে থেকে শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য রক্ষায় দাগ কেটে রেখে যেতে চায়। প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক ও বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রয়াত জয়দেব চক্রবর্তীর হাত ধরে যার পথচলা শুরু, তা আজও অবলীলায় চলে আসছে। সমাজের মানুষের কাছে এই সোসাইটি ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ। সেই সংকল্প নিয়েই রবিবার স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চায় যে — “রক্ত আমার রক্ত,/তোমার ধর্ম চেনায় জাতে/রক্ত যদি জীবন বাঁচায়,/কি এসে যায় তাতে।” এই মঙ্গল বার্তায় সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন স্বেচ্ছায় ১৪৮ জন রক্তদানে। এক মনোজ্ঞ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এই শিবির। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ডানকুনি দৃষ্টিদীপ আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. তনুশ্রী চক্রবর্তী রক্তদানে এগিয়ে আসা। যা সকলের নজর কাড়ে। প্রায় দেড় শতাধিক রক্তদানের কাজে এগিয়ে আসে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক।

সোসাইটির সম্পাদক বিপ্লব সামন্ত জানান, প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক ও বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রয়াত জয়দেব চক্রবর্তীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই আপনজন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সৃষ্টি থেকে সমাজের কল্যাণমূলক কাজে আজও সমর্পিত। দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোতভাবে প্রচেষ্টা আজও অম্লান। একইভাবে সমাজের মানুষের অন্ধত্ব নিবারণে বিনা ব্যয়ে চক্ষু শিবির ও অস্ত্রোপচার আলোর পথ দেখিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, রক্তদান মহৎ দান — এটা সমাজের বুকে কাজের মাধ্যমে মানুষকে বোঝাতে পেরেছে। সভাপতি হারাধন কুণ্ডু জানান, সারা বছর সোসাইটির সেবামূলক কাজে জড়িত। এলাকার মানুষের সহযোগিতায় সেবামূলক কাজ হয়ে থাকে। এবারে এলাকার মানুষের রক্তদানে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ সোসাইটির সেবামূলক কাজের প্রশংসা করেন। পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এমনকি এই সোসাইটির আজীবন সদস্য পদ গ্ৰহণ করেন।

বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও জয়দেব চক্রবর্তীর সুযোগ্যা কন্যা ডাঃ তনুশ্রী চক্রবর্তী বলেন, রক্তদানের উৎসাহ ও আনন্দ আমাকে মুগ্ধ করেছে। কেবল রক্তদান কর্মসূচি পালিত হয় না, মানুষকে আলোর পথও দেখায়। বিনামূল্যে চক্ষু অপারেশন শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পিছিয়ে পড়া সমাজের দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে থেকে পথ দেখানো হয়। উল্লেখ্য,এদিন তাঁর রক্তদান সকলকে মুগ্ধ করেছে। সোসাইটির অন্যতম সদস্য বিজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, যাঁর হাতে ধরে এই সোসাইটির সৃষ্টি তিনি আজ আর নেই ঠিকই, কিন্তু বেঁচে আছেন আমাদের মধ্যে। তাঁর ভাবনাগুলো পাথেয় করে আজও পথচলা। এই সোসাইটির যাঁরা হারিয়ে গেছে তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির প্রায় সকল সদস্য ও বিশিষ্টজনেরা। এই ধরনের মহতী অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এলাকার মানুষ।