Logo
এই মুহূর্তে ::
‘একা এক নারী’র জয়, পরাজয় এবং… : দিলীপ মজুমদার ভরতমুনির নাটকের ডিম ও ঘোড়ার ডিম : অসিত দাস পাণিহাটির মহোৎসব : স্বামী সারদানন্দ শিবশঙ্করের জীবনানন্দ দর্শন : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্যক্তিস্বাধীনতা পগার পার, বললেন বিচারক জামদার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মঙ্গল কাব্যে কারিগরি পণ্য এবং হাতিয়ার : ড. ললিতা ঘোষ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শতবার্ষিকী মুক্তি পত্রিকা ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলন : ড. দয়াময় রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘রাত পাহারা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বই পড়া : প্রসেনজিৎ দাস অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘নীলমণির প্রত্যাবর্তন’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্যাটা গরম করে দেওয়া, স্যাটা ভেঙে দেওয়ার গোড়ার কথা : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ভাসামানিক ভাসামানিক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ হুগলি-চুঁচুড়ার স্মৃতি ও বঙ্কিম প্রতিভার উন্মেষ : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আর্ট কলেজ থেকে পাশ করে মুখ্যমন্ত্রী — বলে কি রে : বিজয় চৌধুরী বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কামারপুকুর পুরসভায় এলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ, কাজের জন্য মানুষ দরকার — লোকোত্তরানন্দ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে বিদ্যাসাগর — একটি কল্পিত সাক্ষাৎকার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ খোলা খামের পরে খোলা চিঠি : দিলীপ মজুমদার
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

‘একা এক নারী’র জয়, পরাজয় এবং… : দিলীপ মজুমদার

দিলীপ মজুমদার / ৫৮ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

‘একা এক নারী — প্রতিপক্ষ কয়েকজন’। আমার এই বইটি ২০১১ সালে প্রকাশ করেছিলেন ‘দেশ প্রকাশন’। ২০১১ সালে এই রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস দল গঠন করেন সরকার। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ‘সকালবেলা’, ‘সংবাদ প্রতিদিন’, ‘দুর্বার কলম’ প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত আমার নিবন্ধগুলি একত্রিত করে প্রকাশিত হয় এই বইটি। এটি কোন স্তুতিমূলক বই নয়, যার সাহায্যে কোন অনুদান বা অনুগ্রহ লাভ করার অভীপ্সা থাকে। আসলে আমি আমার মতো করে মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলাম রাজনৈতিক ঘটনার। এই বইএর প্রথম দিকে দুটি খোলা চিঠি ছিল। একটি ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে লেখা। আর একটি ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে লেখা। দুটি চিঠিতেই দুজনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা ছিল। আমার মতে প্রকৃত সমালোচনা নিছক নিন্দা বা প্রশংসা নয়। নিন্দার ছলে প্রশংসা বা প্রশংসার ছলে নিন্দাও নয়। নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন।

‘একা এক নারী’ মমতা ব্যানার্জি। বাহ্যত সামান্যা নারী। বংশগৌরবে গৌরবান্বিতা নন। নামকরা দাদা-কাকা-জেঠা-মামা ছিলেন না কোন। প্রথমে তিনি কংগ্রেস দলে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল কংগ্রেস বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে কঠিন কঠোর লড়াই করতে চান নি, তলে তলে একটা সমঝোতা করে চলছিলেন, তাঁকেও যথোচিত সাহায্য করেন নি। তাই তিনি কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে এসে নতুন দল গঠন করে। লাগাতার বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। সে লড়াইতে অনেক সময় নাটুকেপনা ছিল। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে রাজ্যে একটা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর আন্দোলন সে হাওয়াকে তাতিয়ে দিচ্ছে।

খুব সহজ ছিল না বামফ্রন্ট তথা সিপিআইএমের সঙ্গে লড়াই। বামেদের নির্দিষ্ট আদর্শ আছে। সে দল ক্যাডারভিত্তিক। সে দলে জ্যোতি বসুর মতো পোড় খাওয়া নেতারা আছেন। সে দল শঙ্খলাপরায়ণ। কর্মীরা দলীয় নির্দেশ মেনে চলেন। সেই দলের সঙ্গে প্রায় এককভাবে লড়াই এবং শেষে জয়। মমতার অন্তর্নিহিত শক্তি নিন্দুকেরাও অস্বীকার করতে পারবেন না। এই শক্তির উপাদান ব্যাখা করে সেদিন বলেছিলাম : চলিষ্ণুতা, স্মৃতিশক্তি, সাহস অথবা দুঃসাহস, সহজিয়া চলন ও বাচনভঙ্গি, নাটকীয়তা।

মমতা জয় লাভ করলেন। দীর্ঘ পনেরো বছর রাজ্য শাসন করলেন। ২০২৬ সালে পরাজিত হলেন। এই পরাজয়ের পেছনে অন্য খেলা নিশ্চয় থাকতে পারে। থাকতে পারে একটা সুপরিকল্পনা। থাকতে পারে রজতচক্রের মায়া। কিন্তু এই পরাজয়ের জন্য মমতা নিজেও যে দায়ী, চেতন বা অচেতনভাবে, সেকথা অনস্বীকার্য। পরাজয়ের পরে দলে দলে বিধায়ক, সাংসদ, অন্য পদাধিকারীরা যে তাঁকে ছেড়ে যাবেন, তাঁর তৈরি দলে তিনি যে অপাংক্তেয় হয়ে যাবেন, সেটা অভাবিতপূর্ব। এবং এসবের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তিনিই দায়ী।

২০১১ সালে লেখা বইটি খুলে আমি দেখছি, মমতাকে লেখা খোলা চিঠিতে আমি এসব সম্বন্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছিলাম। এক এক করে তুলে ধরি সতর্কবার্তাগুলি :

১] ‘ দলীয় সংগঠনের প্রশ্ন গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। স্বীকার করতে হবে অবক্ষয়িত হলেও বামপন্থীদের দৃঢ় সংগঠন আপনাদের নেই। একটা প্রসারিত মতাদর্শের উপরেই সংগঠনের শৃঙ্খলা নির্ভর করে।’ ( পৃঃ ৮)

২] ‘ভাবতে হবে যৌথ নেতৃত্বের কথা। মতাদর্শের কথা। তৃণমূল সংগঠনের কেন্দ্রে আছেন আপনি। একক। কিন্তু আপনি তো এক ব্যক্তি মাত্র। একক এক ব্যক্তির সীমাবদ্ধতা স্বীকার্য।’ (পৃঃ ৮)

৩] ‘জাতীয় ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আপনার দলের নীতি নির্ধারণ করতে হবে, ঠিক করতে হবে অর্থনৈতিক নীতিসমূহ।’ (পৃঃ ৮)

৪] ‘আপনার ব্যক্তিত্বে ‘অসহিষ্ণুতা আছে,হঠকারিতা আছে, চমক দেবার আগ্র্হ আছে। আপনার ব্যক্তিত্বের এসব নেতিবাচক উপাদান সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে।’ (পৃঃ ৯)

৫] লুম্পেন প্রোলেটারিয়েত বা সমাজবিরোধীরা ‘এবার আপনার ছত্রচ্ছায়ায় আশ্রয় নিতে চাইবে। এভাবে দলে বেনোজল ঢুকে যায়। সতর্ক না হলে বিপদ।’ (পৃঃ ৯)

আর বাড়াব না উদ্ধৃতি। উদ্ধৃতি বাড়িয়ে নিজেকে ত্রিকালজ্ঞ বলে প্রমাণ দেবার চেষ্টা করে লাভ নেই। এটুকু শুধু বলা : রাজনীতিবিজ্ঞানের সামান্য ছাত্র হিসেবে মমতা ব্যানার্জির শক্তি ও দুর্বলতা আমি কিছুটা হলেও অনুভব করেছিলাম। সেই দুর্বলতাই তাঁর পতনের কারণ। একে একে তাঁকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তথাকথিত রথী-মহারথীরা। প্রতিপক্ষের মানুষজন উল্লসিত হয়ে বলছেন যে তৃণমূল অপ্রাসঙ্গিক, তৃণমূল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় তাই খবর। কিন্তু এখন যে নানা অঞ্চলের নানা ইউটইবার দেখা দিয়েছেন। তাঁদের ভিডিয়োতে দেখছি তৃণমূলের কর্মীদের। তাঁরা বলছেন পতাকা দরকার নেই, দলের নাম দরকার নেই, শুধু মমতার ছবি হলেই হবে। গ্রেপ্তার, ভীতিপ্রদর্শন, ডিম নিক্ষেপের মধ্যেও পথে নেমেছেন তাঁরা। এই কিছু-না-পাওয়া, এই শুধু মমতা-প্রীতিস্নিগ্ধ কর্মীদের নিয়ে মমতা ব্যনার্জি কি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন ? একাত্তর বছর বয়েসেও রাস্তায় বেরিয়ে এসে বলতে পারবেন, ‘নহি সামান্যা নারী ?’ আর যদি পারেনও, সমস্যা থেকে যাবে। আদর্শের ভিত্তিতে দলকে সংগঠিত করার সমস্যা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন