| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন : অসিত দাস পেজফোরনিউজ-এর শারদোৎসব বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ প্রকাশিত হল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ একটি অব্যক্তিগত বয়ান : তপোধীর ভট্টাচার্য মহালয়ার প্রার্থনা : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘এক টুকরো ভোর’ আশ্বিনের শারদপ্রাতে : যশোবন্ত রায় আমার ছেলেবেলার মহালয়ার সকাল : পীযূষ কান্তি দাস পর্দার দাপুটে নায়ক, বাস্তব জীবনে মানবতাবাদী — নানা পাটেকরের জীবন ও অবিনশ্বর কীর্তি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সসীমকুমার বাড়ৈ-এর ছোটগল্প ‘প্রকৃতি বিভাজন খেলা’ মিরকাশিমের বীরকুল, হেস্টিংসের ব্রাইটন, জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ-এর দীঘা : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (শেষ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা কৌশল বাস্তবায়নের রোডম্যাপ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন কলকাতার নব্য কাজিয়ার দুর্গা : অসিত দাস SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (সপ্তম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নয়া পুঁজিবাদ : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (ষষ্ঠ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (পঞ্চম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার হাসানের ইতিহাস ও বর্তমান ছুঁয়ে : নন্দিনী অধিকারী গান্ধীজী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কবরের ইতিহাস : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (চতুর্থ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই পিতৃ পক্ষের শেষ, মাতৃপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫০ Views জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

[সংক্ষিপ্তসার — এই কিস্তিতে গ্রান্ট সমগ্র প্রথম অধ্যায়ের (১৫৮২-১৭২২) যে চূড়ান্ত হিসাব উপস্থাপন করেছেন তা উপস্থাপন করলাম। এর পরের কিস্তি ৮৬ থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা সূচনা করবেন।

আমরা নৌবহর, সামরিক প্রতিষ্ঠান আর চূড়ান্ত রাজস্ব হিসাব — এই তিন বিষয়ের অনুবাদ উপস্থাপন করব। অমলে-নওয়ারা (Omleh Nowareh)- মূলত ঢাকায় মোতায়েন ৭৬৮টি সশস্ত্র যুদ্ধ নৌকা ও ক্রুজার নিয়ে গঠিত নৌবহর। উদ্দেশ্য মগ, পর্তুগিজ ও অন্যান্য জলদস্যুর থেকে বাংলার উপকূল রক্ষা করা। ৯২৩ ফ্রিঙ্গুয়ান [Fringuan] বা পর্তুগিজ নাবিকের বেতনসহ মাসিক খরচ ২৯,২৮২ টাকা; জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতসহ বার্ষিক ব্যয় ৮,৪৩,৪৫২ টাকা। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য ১১২টি সম্পূর্ণ বা আংশিক পরগনা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল — প্রধানত জাহাঙ্গীরনগর চাকলায়। ৯৯টি আঞ্চলিক বিভাগ থেকে নির্ধারিত রাজস্বের অন্তত চার-পঞ্চমাংশ আসত; বাকি অংশ আসত সিলেট থেকে। পেশকাশ ৫০,৪৩৩ টাকা ও মুদ্রা বিনিময়জনিত ক্ষতি ১৪,০৬৫ টাকা বাদ দেওয়ার পর নিট রাজস্ব দাঁড়ায় ৭,৭৮,৯৫৪ টাকা (৫৫ পরগনা)। আমলেহ আহশম- কামান সহ ৮,১১২ সৈন্য কাঠামো — পূর্ব সীমান্তের প্রহরী ও গ্যারিসনের জন্য। জায়গিরে বরাদ্দ করা ভূমির আয় থেকে ব্যয় নির্বাহ হতো। চার অঞ্চলে বিভক্ত ছিল — সিরাব (২,৮২০ জন, ১৩ পরগনা, ১,৩৫,০৬০ টাকা), ইসলামাবাদ (৩,৫৩২ জন, ১৭ পরগনা, ১,৫০,২৫১ টাকা), রাঙ্গামাটি (১,৪৭৮ জন, ৪ পরগনা, ৬৩,০৪৫ টাকা), সিলেট (২৮২ জন, ৪ পরগনা, ১০,৮২৪ টাকা)। মোট ৮,১১২ জন, ১৩৮ পরগনা, ৩,৫৯,১৮০ টাকা। কেরদাহ-আফিয়াল- হাতি ধরার ব্যয় — ত্রিপুরা ও সিলেটে প্রায় সমান অনুপাতে বরাদ্দকরা ভূমি থেকে নির্বাহ। ৪০,১০১ টাকা। সর্বমোট- নৌ, গ্যারিসন ও হাতি সংক্রান্ত ব্যয় — ১৯৩ পরগনা, ১১,৭৮,২৩৫ টাকা। চূড়ান্ত রাজস্ব হিসাব- জমা তুমারী তশখিস, ১১৩৫ ফসলি বঙ্গাব্দ (১৭২৮ খ্রিস্টাব্দ) — খালসা ভূমি ও রাজস্ব ২৫টি শিরোনামে ১,২৫৬ পরগনা, ১,০৯,১৮,০৮৪ টাকা; জায়গির ১৩টি শিরোনামে ৪০৪ পরগনা, ৩৩,২৭,৪৭৭ টাকা। সুজা খান কর্তৃক সংশোধিত মোট ১,৬৬০ পরগনা, ১,৪২,৪৫,৫৬১ টাকা। জাফর খানের ১৭২২ সালের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে পূর্ণ করতে ৪২,৬২৫ টাকা যোগ করে সম্পূর্ণ মূল মূল্যায়ন দাঁড়ায় ১,৪২,৮৮,১৮৬ টাকা।]

১১। অমলা-নওয়ারা (Omleh Nowareh) — ৭৬৮টি সশস্ত্র যুদ্ধ নৌকো [ক্রুজার] ও নৌকার সমন্বয়ে গঠিত নৌ-বহর, যা মূলত ঢাকায় মোতায়েন ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মগ এবং অন্যান্য বিদেশি জলদস্যু বা আক্রমণকারীদের হাত থেকে বাংলার উপকূল রক্ষা করা। ৯২৩ জন ফ্রিঙ্গুয়ান [Fringuan]বা পর্তুগিজ নাবিকের বেতনসহ এই নৌবহর পরিচালনার মাসিক খরচ ধরা হয়েছিল ২৯,২৮২ টাকা। নতুন জাহাজ নির্মাণ ও পুরনো জাহাজ মেরামতের খরচসহ বার্ষিক মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৮,৪৩,৪৫২ টাকা। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য ১১২টি সম্পূর্ণ বা আংশিক পরগনা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল (প্রধানত জাহাঙ্গীরনগর চাকলায় অবস্থিত), যা ওই বিশাল প্রদেশের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও উর্বর ভূমি। উল্লিখিত ৯৯টি আঞ্চলিক বিভাগ থেকেই নির্ধারিত মোট রাজস্বের অন্তত চার-পঞ্চমাংশ আসত; আর বাকি সামান্য অংশ মূলত সিলেট জেলা থেকে সংগ্রহ করা হতো। তবে এখানে উল্লিখিত মোট অঙ্ক থেকে ৫০,৪৩৩ টাকা পেশকাশ (বিশেষ কর/ফি) বাদ দিতে হবে — যা পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকার কিছু জমিদার রাজকীয় নথিতে রাজার সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত নয় এমন ভূমির জন্য প্রদান করতেন। এছাড়া মুদ্রা বিনিময়জনিত ক্ষতি বা অন্যান্য কারণে আরও ১৪,০৬৫ টাকা বাদ দিতে হবে; এরপর নিট বা প্রকৃত নির্ধারিত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়াবে — পরগনা ৫৫।।। ৭,৭৮,৯৫৪

আমলেহ আহশম (Omleh Ahsham) — কামান সহ ৮,১১২ সৈন্য কাঠামো; পূর্ব সীমান্ত প্রদেশগুলোর প্রহরী ও গ্যারিসনের (সেনাঘাঁটি) জন্য। এই ব্যয় নির্বাহ করা হতো জায়গিরে বরাদ্দকৃত ভূমির আঞ্চলিক আয় থেকে — প্রতিটি নিজ নিজ এখতিয়ারের মধ্যে; যথা —

সিরাব (Seerab) — ঢাকার নিচু অঞ্চল ও সমুদ্র উপকূলের দুর্গ- ২,৮২০ জন … ১৩টি বড় পরগনা … ১,৩৫,০৬০ টাকা

ইসলামাবাদ (Islamabad) — ৩,৫৩২ জন … ১৭টি ছোট পরগনা … ১,৫০,২৫১ টাকা

রাঙ্গামাটি (Rangamatty) — ১,৪৭৮ জন … ৪টি বড় পরগনা … ৬৩,০৪৫ টাকা

সিলেট (Sylhet) — ২৮২ জন … ৪টি পরগনা … ১০,৮২৪ টাকা

মোট- অশ্বারোহী সহ ৮,১১২ জন; ১৩৮ পরগনা; মূল্যায়িত … ৩,৫৯,১৮০ টাকা

১৩। কেরদাহ-আফিয়াল (Kerdah-Afial) — হাতি ধরার ব্যয়; যা বরাদ্দকৃত ভূমি থেকে নির্বাহ করা হতো — ত্রিপুরা ও সিলেটে প্রায় সমান অনুপাতে … ৪০,১০১ টাকা [ফিল – ফরাসিতে হাতি। বাংলার বহু শহরে আজও ফিলখানা নাম পাওয়া যায়]

সর্বমোট- নৌ, গ্যারিসন ও হাতি সংক্রান্ত ব্যয় — ১৯৩ পরগনা, ১১,৭৮,২৩৫ টাকা। [২৭৩]

বাংলার জমা তুমারী তশখিস, ১১৩৫ ফসলি বঙ্গাব্দ;

সারসংক্ষেপে পুনরুক্ত, তৎকালীন অধিকতর উপযোগী ভূখণ্ড বিভাজন অনুযায়ী; যথা-

সুবার খালসা ভূমি ও রাজস্ব —

১৫। এহতিমাম (Eahtimam) — সম্পূর্ণ বিস্তৃত জমিদারি এখতিয়ার — যা সনদ বাLetters patent-এর মাধ্যমে বিশ্বস্ততার সঙ্গে অর্পণ করা হয়েছিল, এত বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রধান ভূস্বামীর একক অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য … ৬১৫ পরগনা … ৬৫,২২,১১১ টাকা।

৯। প্রাদেশিক বিভাগ — রেনেলের অ্যাটলাসে জরিপকৃত ও চিহ্নিত; রাজস্বের বার্ষিক বন্দোবস্তে অসংখ্য হিসাব-শিরোনামের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ; যার প্রত্যেকটির অধীনে অনির্দিষ্ট সংখ্যক ছোট জমিদারি অন্তর্ভুক্ত ছিল … ৫০৫ পরগনা … ২৬,১০,৭৭২ টাকা।

১। মজকুরি (Muscoory) — ছোট বিচ্ছিন্ন তালুক — একুশটি হিসাব-শিরোনামের অধীনে, তবে আয়তন ও রাজস্বের দিক থেকে এতটাই পরিবর্তনশীল যে বিভিন্ন সময়ে সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়; এখানে একটিতে হ্রাস করা হলো … ১৩৬ পরগনা … ৭,৮৫,২০১ টাকা।

সর্বমোট- প্রতিষ্ঠিত রাজস্ব — যা রাজকীয় কোষাগারে প্রদত্ত, ২৫টি ভিন্ন শিরোনামের অধীনে … ১,২৫৬ পরগনা … ১,০৯,১৮,০৮৪ টাকা।

জায়গির অংশ — টেরিটোরিয়াল আয়ের-

১। নিজামত বরাদ্দ … ৬০ পরগনা … ১০,৭০,৪৬৫ টাকা।

২। দেওয়ানি — উচ্চপদস্থ জায়গিরদার, সঙ্গে মুন্সবদারদের অন্যান্য শ্রেণি … ১৫২ পরগনা … ১০,৭৮,৭৭৭ টাকা।

সর্বমোট — রাষ্ট্রের উচ্চ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা … ২১২ পরগনা … ২১,৪৯,২৪২ টাকা।

৩। নৌ, গ্যারিসন, মিলিশিয়া ও হাতি সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান … ১৯২ পরগনা … ১১,৭৮,২৩৫ টাকা।

সর্বমোট- বরাদ্দকৃত ভূমি — ১৩টি শিরোনামের অধীনে, বেসামরিক ও সামরিক ব্যয় নির্বাহের জন্য … ৪০৪ পরগনা … ৩৩,২৭,৪৭৭ টাকা।

খালসা ভূমি, উপরে উল্লিখিত … ১,২৫৬ পরগনা … ১,০৯,১৮,০৮৪ টাকা।

সর্বমোট- বাংলার আনুপাতিক মানদণ্ড-ভিত্তিক খাজনা — খালসা ভূমি ও জায়গির, ৩৮টি শিরোনামের অধীনে, সুজা খান কর্তৃক ১১৩৫ ফসলি বঙ্গাব্দ বা ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে সংশোধিত … ১,৬৬০ পরগনা … ১,৪২,৪৫,৫৬১ টাকা।

পার্থক্য- জাফর খানের ১৭২২ খ্রিস্টাব্দের জমা কাউমিল তুমারীর সঙ্গে মিলিয়ে পূর্ণ করতে … ৪২,৬২৫ টাকা।

সম্পূর্ণ মূল মূল্যায়ন … ১,৬৬০ পরগনা … ১,৪২,৮৮,১৮৬ টাকা।[২৭৪]

টীকা ১

১. অমলা-নওয়ারা — ঢাকায় মোতায়েন রাজকীয় নৌবহর — যা উপকূল রক্ষার দায়িত্বে ছিল।

২. ফ্রিঙ্গুয়ান — পর্তুগিজ নাবিক বা সৈনিক — যারা মুঘল নৌবহরে কর্মরত ছিল।

৩. পেশকাশ — করদ রাজা বা জমিদারদের সার্বভৌম শাসককে প্রদত্ত নির্দিষ্ট কর।

৪. আমলেহ আহশম — সামরিক প্রতিষ্ঠান — পূর্ব সীমান্তের প্রতিরক্ষার জন্য নিয়োজিত ৮,১১২ সৈন্যের দপ্তর।

৫. গ্যারিসন-সেনাঘাঁটি বা দুর্গ — যেখানে সৈন্যরা স্থায়ীভাবে মোতায়েন থাকত।

৬. সিরাব — ঢাকার নিচু অঞ্চল ও সমুদ্র উপকূলের দুর্গ।

৭. ইসলামাবাদ — চট্টগ্রামের মুঘল নাম — ১৬৬৫ সালে আলমগীর কর্তৃক গঠিত।

৮. রাঙ্গামাটি — পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল — সীমান্ত প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

৯. কেরদাহ-আফিয়াল — হাতি ধরার ব্যয় — যা ত্রিপুরা ও সিলেটে বরাদ্দকৃত ভূমি থেকে নির্বাহ হতো।

১০. ফিলখানা- হাতি রাখার স্থান — ফারসি “ফিল” (হাতি) থেকে; বাংলার বহু শহরে আজও এই নাম পাওয়া যায়।

১১. জমা তুমারী তশখিস — বাংলা সুবার সংশোধিত রাজস্ব-তালিকা — ১৭২৮ সালে সুজা খানের আমলে চূড়ান্ত।

১২. খালসা — সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনাধীন ভূমি — যার রাজস্ব রাজকোষে যেত।

১৩. জায়গির — সামরিক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বেতনের বিনিময়ে দেওয়া ভূমি।

১৪. এহতিমাম — জমিদারি এলাকা — যা সনদের মাধ্যমে অর্পণ করা হতো।

১৫. মজকুরি — ছোট বিচ্ছিন্ন তালুক — ২১টি শিরোনামে বিভক্ত।

গ্রান্টের এই অংশ যা নৌ প্রতিরক্ষা, সামরিক ব্যয় ও চূড়ান্ত রাজস্ব হিসাব — এই তিনটি স্তরকে একত্রিত করেছে। অমলা-নওয়ারা নৌবহর প্রমাণ করে — বাংলার উপকূল মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণের ঝুঁকি ছিল; তাই বিপুল ব্যয়ে নৌবহর রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো। আমলেহ আহশম ও কেরদাহ-আফিয়াল দেখায় — সীমান্ত প্রতিরক্ষা ও হাতি ধরার ব্যয়ও জায়গিরের আয় থেকে নির্বাহ হতো। চূড়ান্ত হিসাব — ১,৪২,৮৮,১৮৬ টাকা — বাংলার প্রকৃত রাজস্বের পূর্ণাঙ্গ চিত্র। গ্রান্টের অভিযোগ — ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় দেশীয় প্রশাসন এই প্রকৃত হিসাব গোপন করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রাজস্বের পরিমাণ কমিয়ে দেখায়। এই বিকৃতির মাধ্যমেই বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। এই তথ্যই পরবর্তীতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রাজস্ব সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে।

টিকা ২

এই কিস্তিতে গ্রান্ট যে সমগ্র প্রথম অধ্যায়ের (১৫৮২–১৭২২) চূড়ান্ত হিসাব উপস্থাপন করেছেন তা উপস্থাপন করলাম এবং এর পরের কিস্তি ৮৬ থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার সূচনা করবেন।

গ্রান্ট প্রথম পর্যায়ে (১৫৮২–১৭২২) বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি, টোডরমলের আসিল তুমার জমা, সুলতান সুজার বাড়ানো তুমার জমা এবং মুর্শিদকুলি খানের ১৩ চাকলার চূড়ান্ত বন্দোবস্ত আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি ১৭২২ থেকে ১৭৬৫ পর্যন্ত সময়কাল আলোচনা করবেন — অর্থাৎ মুর্শিদকুলি খানের চূড়ান্ত বন্দোবস্ত থেকে কাসিম আলীর ক্ষমতাচ্যুত ও দেওয়ানি লাভ পর্যন্ত।

এই যে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করব, সেখানে মূল আলোচ্য বিষয় হবে —

১। মুর্শিদকুলি খানের পরবর্তী সুবাদাররা — সুজা-উদ-দৌলা, সরফরাজ খান, আলিবর্দি খান — কীভাবে মূল রাজস্বের বাইরে আবওয়াব (অতিরিক্ত কর) চালু করেন এবং তা স্থায়ী রূপ নেয়। গ্রান্ট দেখাবেন — এই আবওয়াবই ছিল জমিদার ও প্রজাদের ওপর চাপের মূল উৎস।

২। মুর্শিদকুলি খান জমিদারদের দাসত্ব ও পরাধীনতায় নামিয়ে আনার নীতি নিয়েছিলেন [যদিও মুঘল স্টেট বইতে ফার্সি সূত্রে সঞ্জয়-আলম অন্য কথা বলছেন]। কিন্তু তাঁর উত্তরসূরিরা জমিদারদের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেন — বিশেষত আলিবর্দি খানের আমলে। এই জমিদার শ্রেণিই পরে ব্রিটিশদের প্রধান সহযোগী হয়ে ওঠে।

৩। গ্রান্ট দেখাবেন — কীভাবে স্থানীয় কর্মকর্তারা — ক্রোরি, জমিদার, চৌধুরী — রাজস্বের প্রকৃত হিসাব গোপন করে এবং দিল্লির দুর্বলতার সুযোগে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করত। এই আত্মসাতের পরিমাণ ছিল বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা।

৪। আলিবর্দি খানের আমলে নবাবি প্রশাসন কতটা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কীভাবে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়।

৫। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় দেশীয় প্রশাসন কীভাবে এই প্রকৃত হিসাব গোপন করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রাজস্বের পরিমাণ কমিয়ে দেখায় — যার ফলে ব্রিটিশরা প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

অর্থাৎ গ্রান্টের দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হলো — ১৭২২ থেকে ১৭৬৫ পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থা কীভাবে তথাকথিত বিকৃত হয়, জমিদার ও আবওয়াবের বিস্তার ঘটে, এবং সেই বিকৃতির সুযোগে কীভাবে বিপুল রাজস্ব আত্মসাৎ হয় — তা প্রমাণ করা। এই প্রমাণই পরবর্তীতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রাজস্ব সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে।

নতুন পর্বের আলোচনার অনুবাদযাত্রা আমরা ৮৬ কিস্তি থেকে শুরু করব

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev