| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৭/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পাষাণকন্যার পুনরুত্থান — পৌরাণিক অহল্যা ও বর্তমান সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি : রিঙ্কি সামন্ত শিল্পী সোমনাথ হোর : যোগেন চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৭/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মহাবিশ্বের ব্ল্যাকহোলের সন্ধানে দুই বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বিস্মৃতপ্রায় শিশুসাহিত্যিক যোগীন্দ্রনাথ সরকার : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ফ্রানস বালথাজার সলভিনস ও উত্তর কলকাতার ঘোড়ার সহিস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার জনসংযোগের বিপণনে দুর্গোৎসব : পান্নালাল রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আকাশ প্রদীপ — পুরাণ, ভক্তি ও বিশ্বাস : যশোবন্ত রায় ৮১ বছরে জাতিসংঘ: সবার প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম? : নিকোলাস বিশ্বাস বোধিসত্ত্ব সঞ্জয়-এর ছোটগল্প ‘স্যার’ কুমারটুলির সহিসমহল্লা ও দেবী দুর্গার বাহন ঘোটকমুখী সিংহ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বিজয়াদশমীর ভাঙ-সিদ্ধি : অসিত দাস কলকাতায় এমন দুর্গাপুজো দেখিনি তো আগে : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ওঝা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘নিখোঁজের দর্শক সংখ্যা’ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘সর্বংসহা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯১/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাজারাজড়া ও বণিকের দুর্গাপূজায় নিম্নবর্গ ছিল রবাহূত : অসিত দাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৭/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪১ Views জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

টীকা ১

১. তুমারি জমা — নির্ধারিত রাজস্ব-তালিকা — যা টোডরমল ১৫৮২ সালে নির্ধারণ করেন।

২. সুবাদারি কর — সুবাদারের আমলে প্রবর্তিত অতিরিক্ত কর — যা মূল রাজস্বের বাইরে ধার্য করা হতো।

৩. নিলাম — জমিদারির রাজস্ব আদায়ের অধিকার সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া।

৪. কর্নওয়ালিস — লর্ড কর্নওয়ালিস — ১৭৮৬ সালে বাংলার গভর্নর-জেনারেল হন এবং ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।

৫. বাজি জমিন — নিষ্কর বা করমুক্ত জমিকে বুঝিয়েছেন। ‘বাজি জমিন’ কথাটির আভিধানিক অর্থ হলো “বিবিধ বা অন্যান্য জমি”। মুঘল আমলে এবং নবাবী আমলে জমিদারেরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পণ্ডিত, পুরোহিত, মসজিদ বা সমাজসেবামূলক কাজের জন্য যে সমস্ত জমি দান করতেন এবং যার ওপর কোনো সরকারি ভূমিরাজস্ব বা খাজনা ধার্য করা হতো না, সেগুলোকে ‘বাজি জমিন’ বলা হতো। জেমস গ্রান্ট তাঁর রিপোর্টে দাবি করেন যে, জমিদার ও নবাবরা অবৈধভাবে প্রচুর পরিমাণ আবাদি জমিকে ‘বাজি জমিন’ বা নিষ্কর দেখিয়ে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। গ্রান্টের হিসাব অনুযায়ী, বাংলায় প্রায় ৭১ লক্ষ বিঘারও বেশি এমন বাজি জমিন ছিল।

৬. ব্রহ্মোত্তর — ব্রাহ্মণদের জন্য দাতব্য ভূমি — খাজনা-মুক্ত ছিল।

৭. দেবোত্তর — দেবতার নামে দান করা জমি — খাজনা-মুক্ত ছিল।

৮. বিষ্ণোত্তর — বিষ্ণুর নামে দান করা জমি — খাজনা -মুক্ত ছিল।

৯. পীরোত্তর — পীর বা সুফি সাধকের নামে দান করা জমি — খাজনা -মুক্ত ছিল।

১০. নানকার — জমিদারের পারিবারিক ভরণপোষণের জন্য বরাদ্দকৃত জমি — যা ফ্রি-হোল্ড বা নিরঙ্কুশ মালিকানার মতো।

১১. রসুম — রাজস্ব আদায়ের বিনিময়ে প্রদত্ত কমিশন — যা ৫ শতাংশ হারে।

১২. হস্তবুদ — জমির প্রকৃত আয়-ব্যয় ও উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত জরিপ।

১৩. ২৪ পরগনা — কলকাতা ও আশেপাশের ২৪টি পরগনা — যা নদীয়া জেলার অংশ ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার তৎকালীন নবাব মীর জাফর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে কলকাতার দক্ষিণে যে ২৪টি পরগনা বা রাজস্ব মহলের জমিদারিস্বত্ব দান করেছিলেন, জেমস গ্রান্ট তাঁর বিখ্যাত রাজস্ব সংক্রান্ত বিবরণীতে সেগুলির বিস্তারিত বিবরণ ও নাম নথিভুক্ত করেন। ঐতিহাসিক এল. এস. এস. ও’ম্যালির (L.S.S. O’Malley) ১৯১৪ সালের ‘বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার্স- ২৪ পরগনা’-তেও এই ২৪টি পরগনার সুনির্দিষ্ট তালিকা পাওয়া যায়।

১৪. দুর্লভরাম [মহীন্দ্র] — পলাশী চক্রান্তে পর ক্ষমতা ভাগাভাগি ও মীরনের সাথে বিরোধের জেরে দুর্লভরামের শোচনীয় অবস্থা হয়। পরবর্তীতে ইংরেজদের মধ্যস্থতায় তিনি প্রাণরক্ষা করে কলকাতায় পালিয়ে আসেন এবং নিঃস্ব জীবন কাটান।মীর জাফর এবং তার সহযোগীদের (যেমন পুত্র মীরনসহ অন্যান্য প্রধান বিশ্বাসঘাতক) বংশ ও পরিণতির কথা বলতে গিয়ে রজতকান্ত রায় দেখিয়েছেন যে ক্ষমতার মোহে অন্ধ এসব ওমরাওদের বংশ ও জীবন ধ্বংস হয়।

টিকা ২

“কিন্তু এর অর্থ কোনোভাবেই এমন নয় — বা বাস্তবেও এমনটি দেখা যায়নি — যে, আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়া এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মঠ বা অধিকতর প্রয়োজনীয় কোনো শ্রেণি ছিল; কিংবা সাধারণ প্রজা হিসেবে তারা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উন্নয়নে বিন্দুমাত্র কোনো অবদান রেখেছিল। তারা ছিল মূলত এমন সব ব্যক্তি — যাদের সাথে থাকত অলস ও বেতনভোগী অনুচরদের দল — যারা নিজেদের আইন-কানুন বা বিচারব্যবস্থার কঠোরতা (যা হয়তো অপরিহার্য ছিল) থেকে পালিয়ে ব্রিটিশ পতাকার সর্বজনীন ও নিরপেক্ষ আশ্রয়ে নিজেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা খুঁজছিল।” প্রসঙ্গে

অনুবাদক আদতে শুধু উপনিবেশিক শাসক আর দেশীয় কোলাবরেটরদের সম্পর্ক দেখাতে চাইছে না, বলতে চাইছে কীভাবে সেই সম্পর্কের মধ্য প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে লুঠ করা গ্রামীণ সম্পদ দেশ এবং তারপরে মেট্রোপলিটনের নগরে সম্পদ সঞ্চয়ের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হচ্ছিল। জেমস গ্রান্টের ১৭৮৬-র রাজস্ব পর্যবেক্ষণের এই অংশ কেবল কলকাতার জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিবরণ হিসেবে পড়লে তার ঐতিহাসিক তাৎপর্য অধরা থেকে যায়। তাঁর বর্ণনায় উঠে আসে এমন এক সম্পদশালী জনগোষ্ঠী, যারা নিজেদের পূর্বতন প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার কঠোরতা থেকে সরে এসে কোম্পানির আশ্রয়ে কলকাতায় জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা খুঁজছিল। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে নবাবি আমলের রাজস্ব-প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত অভিজাত ও জমিদারদের জীবনপথ অনুসন্ধান করা জরুরি। অনুবাদক প্রথম পাঠে মনে করেছিল, গ্রান্ট বোধহয় নবাবের সঙ্গে বিবাদ করে কলকাতায় পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া দুর্লভরাম মহীন্দ্রের [ইতিহাসে পপুলার রায় দুর্লভ] মতো ব্যক্তির কথা বলছেন। এই প্রসঙ্গে ব্যক্তির ভূমিকাকে ছোট না করেই বলছি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রান্টের বর্ণিত গোষ্ঠীর সদস্য বলে চিহ্নিত করার জন্য আলাদা প্রমাণ হাতে নেই। ব্যক্তির জীবনী থেকে বৃহত্তর কাঠামোয় যাওয়ার পথটি খুলে দেয় তাঁদের প্রশাসনিক অবস্থান, সম্পদ সঞ্চয়ের পদ্ধতি এবং উপনিবেশিক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক।

এই প্রক্রিয়ার সূচনা ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে নয়। তার আগেই কোম্পানি পুরোনো মুঘল-নবাবি রাজস্বব্যবস্থার অধিকার, দায় ও মধ্যস্থতাকারী সম্পর্কগুলিকে নিজেদের রাজস্ব-রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যস্ত করতে শুরু করেছিল। Hastings-এর রাজস্ব-পরীক্ষা থেকে Cornwallis-এর বন্দোবস্ত পর্যন্ত এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, উপনিবেশিক রাষ্ট্র কেবল বিদ্যমান জমিদারিকে ব্যবহার করেনি; জমি, রাজস্ব ও সম্পত্তির অধিকারকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ সমাজের ক্ষমতাসম্পর্কও বদলে দিয়েছে। এই কাঠামো বদলে লাভ কারা পেয়েছিল, আর কৃষক, প্রজা ও স্থানীয় উৎপাদকদের ওপর কী ধরনের দায় ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল — সেই প্রশ্নই ওঠা উচিত। কলকাতার প্রাসাদ, জমিদারদের নগরবাস এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর রাজস্বের চাপ তখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, বরং উপনিবেশিক উদ্বৃত্ত লুঠ ও সম্পদ পুনর্বণ্টনের পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে থাকা প্রক্রিয়া হিসেবে পড়া সম্ভব। এই অর্থে, অমিয় কুমার বাগচীর বলা ‘Empire for profit, profit for Empire’ কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; কোম্পানির রাজস্বনীতি, সম্পদশালী দেশীয় মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের আর্থিক ভিত্তির পারস্পরিক সম্পর্ক অনুসন্ধানের ঐতিহাসিক প্রশ্ন।

গ্রান্টের যে অংশ নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম, সেটায় রয়েছে কলকাতা আর ২৪ পরগনার রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্নওয়ালিসের তদন্ত, জমিদারদের কলকাতায় আসা এবং উপনিবেশিক জ্ঞানচর্চার কুৎসার গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ। তিনি দেখান — কলকাতার প্রকৃত রাজস্ব ছিল ১৪ লক্ষ টাকা; কিন্তু সেই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি স্থানীয় শাসকদের দেননি — বরং তাদের অলস ও অদক্ষ চিত্রিত করেছেন। গ্রান্টের বক্তব্য — আবওয়াবের পরিমাণ বা অনিয়ম নয়; বরং জমিদারদের অতিরিক্ত আদায়, জমি আত্মসাৎ এবং মুঘল শাসকদের আর্থিক অদক্ষতা — তিনি মনে করেন এই তিনটেই ছিল জনগণের অসন্তোষ আর রাজকীয় আয়ের ঘাটতির মূল কারণ। কিন্তু এই বর্ণনা আসলে উপনিবেশিক স্বার্থরক্ষার একটি হাতিয়ার — যা ঐতিহাসিক তথ্য ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে খণ্ডন করা জরুরি।

অন্য দৃষ্টিভঙ্গীতে গ্রান্টের But it by no means follows, nor does it appear in fact…added a single plough to the culture of any of the 24 pergunnahs স্তবক আলোচনা

একটি লাঙলও যোগ করেনি’ – জেমস গ্রান্ট চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কুইট রেন্ট যুগের বহু আগে কলকাতায় অভিবাসিত হওয়া অকর্মা ধনী শ্রেণি ও ঔপনিবেশিক দ্বিচারিতা সম্বন্ধে বলছেন। মাথায় রাখতে হবে গ্রান্ট মিনিট জমা দেওয়ার ৭ বছর পর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বাংলায় আবির্ভাব ঘটে। জেমস গ্রান্ট রাজস্ব সমীক্ষায় খুল্লমখুল্লা বলছেন ১৭৭০-এর আশেপাশে কলকাতায় থানাগাড়া অভিজাত ধনীকদের দ্বিচারিতা, শ্রেণিবৈষম্য। সতেরো-আঠেরো শতে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল চলে আসা এবং ক্রমবর্ধমান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক লুঠ প্রক্রিয়ার শেকড় গজানোর সূত্রে কলকাতায় ধনীকদের অনেক বেশি বাড়বাড়ন্ত হচ্ছিল। গ্রান্ট তাদের নিয়ে উপনিবেশিক রাজনীতি করেছেন; তারা যে বিদ্রুপের বস্তু এ সম্বন্ধে দ্বিমত নেই — কিন্তু এটাই কলোনিয়াল একতরফা ইতিহাস – তিনি শুধু জমিদার ইত্যাদির মত কোলাবরেটরদের বিদ্রূপ করে কোম্পানির লুঠ, অত্যাচার, গণহত্যার দায়ভারকে কমিয়েছেন।

তিনি দ্বিধাহীনস্বরে বলছেন কলকাতায় আসা বিপুল সংখ্যক মানুষ পরিশ্রমী বা উৎপাদনশীল শ্রেণি না — They were for the most part, rich individuals, with their trains of idle, hireling dependants — মূলত ধনী, অলস, অকম্মা, খুব বেশি হলে বেতনভোগী পরজীবী ভদ্রবিত্তবর্গ। এদের বড় অংশ নিজের অঞ্চলের শাসকদের কঠোর আইন, শাস্তির ভয়ে ব্রিটিশ শাসনে জীবন/ সম্পদের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে এসেছিল।

গ্রান্ট কোলাবরেটরদের দিকে আঙুল তুলে বলছেন ধনীরা কলকাতায় আশ্রয় নিয়েও ২৪ পরগনার কৃষি বা উৎপাদনে একটাও লাঙল (a single plough) যোগ করেনি। অর্থাৎ ততদিনে ঐতিহাসিকভাবে তারা গ্রামীণ উৎপাদন কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে; কোম্পানি লুঠ কাঠামোর ওপরে নির্ভর করে শুধু ভোগই করেছে। এমনকি ব্রিটিশদের দেওয়া আশ্রয়ের বিনিময়ে শাসকদের অর্থনৈতিক সুবিধাও দেয়নি, কারণ তাদের প্রাত্যহিক চাহিদা হুগলি নদীর ওপার থেকেই সস্তায় মিটে যেত।

গ্রান্টের এই বিদ্রূপের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ জরুরি। ১৭৬৫-তে দেওয়ানি লাভের পর ক্রমশঃ মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক ক্ষমতা চলে আসায় নতুন ধনকুব শ্রেণি, কোম্পানির কর্মচারী আর কোলাবরেটরেরা দলেদলে কলকাতায় উঠে আসে। এরা জমিদারি বা মহল কিনে গোমস্তাদের দিয়ে নিজেদের জমিদারিগুলোয় খাজনা আদায় করত; এরাই প্রথম দিকের অনুপস্থিত জমিদার। এবসেন্টি ল্যান্ডলর্ডিজমের সময়ক্রম ১৭৯৩ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অনেক আগে। এই পরজীবিদের সম্পদের উৎস কারিগর-কৃষকদের থেকে নিঙড়ে নেওয়া খাজনা আর বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকারে কোলাবরেটরগিরি। গ্রান্ট এই কৃষক-শোষণের উৎস বা কোম্পানির লুঠ আড়াল করে শুধুই ফিলদি রিচদের অলসতা বিলাসিতাকে সামনে আনতে বাধ্য হয়েছেন।

টিকা ৩

“মীর কাসিমের শাসনকালের মাত্র তিন বছর পরেই, বাংলায় আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও দক্ষ ইংরেজ গভর্নরের (one of the best and ablest of our English governors in Bengal) পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছিল যে, বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ ছিল ১৪ লক্ষ টাকার কিছু বেশি — যা ছিল অত্যন্ত পরিমিত। এই গভর্নর ছিলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি বিপুল অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অর্থব্যবস্থাপনা বা রাজস্ব বিষয়ে বিশেষ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন…১৭৭২ সালে হাউস অফ কমন্স-এর কমিটির সামনে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে তা কাজে লাগানোর মতো উপযুক্ত মানসিকতা যদি সংশ্লিষ্টদের থাকত, তবে তিনি সমগ্র জাতির উপকারেও তা আসতে পারতেন।”

গ্রান্ট নাম উল্লেখ না করে যাকে “one of the best and ablest of our English governors in Bengal” (বাংলার অন্যতম সেরা ও যোগ্যতম ইংরেজ গভর্নর) হিসেবে বর্ণনা করছেন, তাঁর প্রবন্ধে ইঙ্গিত তিনি ক্লাইভের পরে কোম্পানির শাসনভার তুলে নেওয়া হ্যারি ভেরেলস্ট। গ্রান্ট এখানে সুনির্দিষ্টভাবে হ্যারি ভেরেলস্ট-এর কথাই বলছেন –

কারন মীর কাসিমের শাসনকালের মাত্র তিন বছর পরেই, ‘বাংলায় আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও দক্ষ ইংরেজ গভর্নর’ একমাত্র হ্যারি ভেরেলস্ট ছাড়া আর কেউই হতে পারেন না। মীর কাশিমের পরবর্তী তিন বছরের রাজস্ব এবং তা “১৪ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া” সংক্রান্ত প্রতিবেদন হ্যারি ভেরেলস্টের গভর্নরশিপের কালের (১৭৬৭–১৭৬৯) রাজস্ব অনুসন্ধান। ক্লাইভের দ্বিতীয়বার ফিরে যাওয়ার পর ভেরেলস্ট বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজস্বের উৎসগুলো খতিয়ে দেখার জন্য ‘সুপারভাইজার’ নিয়োগসহ বেশ কিছু আর্থিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তাছাড়া উদ্ধৃতির শেষ লাইনে স্পষ্ট, before a Committee of the House of Commons in 1772। ১৭৭২ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স কোম্পানির লুঠ আর রাজস্ব ব্যবস্থা তদন্ত করতে ‘সিক্রেট কমিটি’ ও ‘সিলেক্ট কমিটি’ গঠন করে। হ্যারি ভেরেলস্ট ১৭৬৭ থেকে ১৭৬৯ সাল পর্যন্ত বাংলার গভর্নর ছিলেন এবং ১৭৭২ সালের এই সংসদীয় কমিটির সামনে তিনি হাজির হয়ে বাংলার রাজস্ব, শাসন ব্যবস্থা এবং মুসলিম (মুঘল) আমলের কর ব্যবস্থার প্রকৃতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তারিত সাক্ষ্য ও দালিলিক প্রমাণ জমা দেন। উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, এই গভর্নরের মুঘল/মুসলিম আমলের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি, আইন ও রীতিনীতি সম্পর্কে প্রভূত অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ জ্ঞান ছিল। হ্যারি ভেরেলস্ট তাঁর শাসনকাল এবং তার পরবর্তী সময়ে ১৭৭২-এ লন্ডনে A View of the Rise, Progress, and Present State of the English Government in Bengal-এর মত গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এতে তিনি মুঘল আমলের আসল রাজস্ব ব্যবস্থার বিবরণ দেন এবং দেখান কীভাবে মীর কাশিম বা তার পরবর্তী সময়ে কর সংগ্রহ করা হতো। জেমস গ্রান্ট মূলত ভেরেলস্টের এই বই এবং নির্দেশাবলীকে published instruction or formal declarations বলছেন। বাংলার রাজস্বের মূল্যায়ন নিয়ে জেমস গ্রান্ট লর্ড ক্লাইভ বা ওয়ারেন হেস্টিংসের কড়া সমালোচক ছিলেন। এই অনুচ্ছেদে তিনি নাম না নিয়ে যে অভিজ্ঞ, অর্থবিদ্যায় পারদর্শী এবং ভারতীয়দের চরিত্র বোঝেন এমন গুণী গভর্নরের প্রশংসা করছেন — তিনি ১৭৬৭-১৭৬৯ সালের বাংলার গভর্নর হ্যারি ভেরেলস্ট।

টিকা ৪

গ্রান্টের কলমে ক্লাইভের নীরব নিন্দা ও ভেরেলস্টের নির্বাচিত প্রশংসা

জেমস গ্রান্টের রাজস্ব-নথি Historical and Comparative Analysis of the Finances of Bengal ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্বার্থরক্ষার অনবদ্য উপনিবেশিক আখ্যান। গ্রান্টের রিপোর্টে বড়ভাবে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো — রবার্ট ক্লাইভের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি বা তাঁর শাসনকালের প্রশংসা তো দূরের কথা, নিন্দাও করেননি। ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৫-তে দেওয়ানি লাভ সূত্রেও ক্লাইভ আর অনুগামীরা বাংলা থেকে বিপুল সম্পদ লুঠ করেন। ১৭৭২-এ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লুঠ তদন্ত কমিটি তৈরি হলে ক্লাইভের নামে কালি লাগে। গ্রান্ট যখন তাঁর রিপোর্ট (১৭৮৮-৮৯) জমা দিচ্ছেন, ক্লাইভ ১৫ বছর আগেই মারাগেছেন। মৃত ক্লাইভের নামে সমালোচনা গ্রান্টের জন্য রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ ছিল, তবে তিনি তা না করে বরং ক্লাইভের আমল নীরবে পাশ কাটিয়েন। তার হয়ত ধারণা হয়েছিল ক্লাইভের লুঠ ও দুর্নীতির কথা সরাসরি স্বীকার করলে কোম্পানির সামগ্রিক রাজস্ব সংস্কারের উন্নয়নের ছবি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আবার গ্রান্ট ক্লাইভের উত্তরসূরি হ্যারি ভেরেলস্টের (গভর্নর, ১৭৬৭-১৭৬৯) ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ক্লাইভের বিশৃঙ্খল শাসনের পর ভেরেলস্ট ক্ষমতায় এসে রাজস্ব তদন্ত কমিশন গঠন করেন এবং দেশীয় কর্মকর্তাদের জালিয়াতি ধরার জন্য যে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছিল, তা গ্রান্টের মতে ভেরেলস্টের “দক্ষতা ও সততার সাক্ষ্য” বহন করে। তবে ভেরেলস্টও সম্পূর্ণ ‘নিষ্কলঙ্ক’ ছিলেন না। কোম্পানির কর্মচারী উইলিয়াম বোল্টস ভেরেলস্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ আটকাদেশের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন এবং সেই মামলায় ভেরেলস্ট পরাজিত হয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হন। ভেরেলস্ট পরে ঋণে জর্জরিত হয়ে ফ্রান্সে পালিয়ে যান এবং ১৭৮৫ সালে নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। গ্রান্টের সামনে যখন রিপোর্ট লেখার সুযোগ আসে, তখন ভেরেলস্ট ইতিমধ্যেই মৃত, নিঃস্ব ও ক্ষমতাহীন। ফলে একজন মৃত ও বিতর্কিত ব্যক্তির ‘রাজস্ব সংস্কার’ ও ‘হিসাবের স্বচ্ছতা’র প্রশংসা করা গ্রান্টের জন্য ছিল সম্পূর্ণ নিরাপদ। এখানেই গ্রান্টের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় — তিনি ক্লাইভের চরম লুঠ আড়ালে রেখে, ভেরেলস্টের সুনাম সামনে এনে কোম্পানির শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দিলেন। তাঁর বর্ণনায় ক্লাইভ ‘নীরব নায়ক’ আর ভেরেলস্ট ‘নির্বাচিত সৎ প্রশাসক’; অথচ বাস্তবে দুজনেই কোম্পানির আর্থিক স্বার্থের কাঠামোর অংশ। ফলে গ্রান্টের রিপোর্ট প্রমাণ করে — উপনিবেশিক ইতিহাস কেবল ঘটনার বিবরণ নয়, বরং ক্ষমতার স্বার্থে নির্মিত নির্বাচিত সত্যের অপলাপ।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev