| | |
এই মুহূর্তে ::
শিল্পী সোমনাথ হোর : যোগেন চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৭/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মহাবিশ্বের ব্ল্যাকহোলের সন্ধানে দুই বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বিস্মৃতপ্রায় শিশুসাহিত্যিক যোগীন্দ্রনাথ সরকার : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ফ্রানস বালথাজার সলভিনস ও উত্তর কলকাতার ঘোড়ার সহিস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার জনসংযোগের বিপণনে দুর্গোৎসব : পান্নালাল রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আকাশ প্রদীপ — পুরাণ, ভক্তি ও বিশ্বাস : যশোবন্ত রায় ৮১ বছরে জাতিসংঘ: সবার প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম? : নিকোলাস বিশ্বাস বোধিসত্ত্ব সঞ্জয়-এর ছোটগল্প ‘স্যার’ কুমারটুলির সহিসমহল্লা ও দেবী দুর্গার বাহন ঘোটকমুখী সিংহ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বিজয়াদশমীর ভাঙ-সিদ্ধি : অসিত দাস কলকাতায় এমন দুর্গাপুজো দেখিনি তো আগে : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ওঝা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘নিখোঁজের দর্শক সংখ্যা’ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘সর্বংসহা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯১/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাজারাজড়া ও বণিকের দুর্গাপূজায় নিম্নবর্গ ছিল রবাহূত : অসিত দাস প্রজনন অধিকার নিশ্চিত হলেই সুস্থ্য বাংলাদেশ গড়া সম্ভব : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯১/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৭/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৮৫ Views জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

[সংক্ষিপ্তসার — গ্রান্ট এখানে কলকাতা ও ২৪ পরগনার জমিদারির রাজস্ব বৃদ্ধির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। এই আলোচনা মুঘল শাসনামলের রাজস্ব ব্যবস্থার প্রকৃতি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ১৭২২-এ জাফর খানের মূল রাজস্ব-তালিকায় কলকাতার জমির তুমারি জমা ছিল ২,২২,৯৫৮ টাকা। ১৭৫৭-তে ক্লাইভের রাজকীয় রাজস্ব অধিকার অর্জনে সুবাদারি রাজস্ব ছিল ৩,৩২,০৭৮ টাকা। আঠারো মাস পর প্রকাশ্য নিলামে ৭,৬৫,০০০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু মীর কাসিমের শাসনকালের মাত্র তিন বছর পর, কর্নওয়ালিসের তদন্তে, দেখা যায় প্রকৃত বার্ষিক রাজস্ব ছিল ১৪ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। গ্রান্ট এখানে ভেরেলস্টকে “বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও দক্ষ ইংরেজ গভর্নর” আখা দিয়ে বলছেন ইংরেজ নমনীয় প্রশাসনে কলকাতার জনসংখ্যা বেড়েছে; তার কারন কলকাতার মুসলিম সুবাদারদের স্বেচ্ছাচারী শাসনের তুলনায় ইংরেজ শাসন অনেক ভালো; কিন্তু গ্রান্টের অভিযোগ কলকাতার এই বাস করতে আসা নতুন জনগোষ্ঠী “কর্মঠ বা খুব প্রয়োজনীয় শ্রেণি ছিল না”; মূলত “অলস, বেতনভোগী অনুচর” — এরা নবাবি আঞ্চলের আইনি কঠোরতা থেকে বাঁচতে ব্রিটিশ আশ্রয়ে এসেছিল। গ্রান্ট বলছেন তারা “চব্বিশ পরগনার কোনো এলাকায় লাঙলের পরিমানও বাড়ায়নি”। গ্রান্ট দেখান — কলকাতা পরগনা পরিচালনা অর্জনের পর চৌধুরী ও তালুকদাররা বাজি জমিন, ব্রহ্মোত্তর, দেবোত্তর, বিষ্ণোত্তর ও পীরোত্তর নামে প্রতারণামূলক দাতব্য অনুদান তৈরি করে জমি আত্মসাৎ করেছিল; ৫ শতাংশ রসুম ও নানকার জমির পরিমাণ তিনগুণ বাড়িয়েছিল। গ্রান্ট বলছেন — এই ধরনের প্রতারণামূলক দাতব্য অনুদানের পরিমাণ সমগ্র বাংলায় মুঘলদের দেওয়া জমির চেয়েও বেশি। তিনি লিখছেন কোম্পানির অধীনস্থ জমি পরে পূর্বের জমিদারদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বর্ধিত করের দাবি করলে “সুপরিকল্পিত বিদ্রোহের নিশ্চিত লক্ষণ” হিসেবে গণ্য হয়েছে। গ্রান্টের মতে — ১৭৬৩ সালের আগেই কোম্পানির জমিদারির ওপর আনুপাতিক হারে রাজস্ব ধার্য করা হয়েছিল। ব্রিটিশ কালেক্টরদের হস্তবুদ তদন্তের ফলে তিন-চার বছরের মধ্যে মোট রাজস্ব প্রায় তিনগুণ হয়ে যায়। গ্রান্ট দাবি করেন — “ইওরোপে এমন কোনো কৃষকগোষ্ঠী নেই যারা এত কম কর দেয় এবং এত সুখী”।]

ভারতে সার্বভৌম মালিক এবং মধ্যবর্তী জমিদার বা ভূমির প্রজাদের পারস্পরিক দেওয়ানি অধিকার সম্পর্কে যাদের ভুল ধারণা রয়েছে — এবং যারা দেশের অতীত বা বর্তমান দারিদ্র্য সম্পর্কে বাস্তব প্রমাণের চেয়ে বরং আর্থিক বিশৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চান — তাদের কাছে পূর্ববর্তী দুটো রাজস্ব-নির্ধারণের পরিমিতি বা যৌক্তিকতা বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা কঠিন হতে পারে। তবুও, কলকাতার আশেপাশের পরগনাগুলোর জমিদারির অবস্থা ও পর্যায়ক্রমিক উন্নতির বিষয়টি — যা বেশ সুপরিচিত — এক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এই জমিগুলোর বেশিরভাগই ছিল লবণাক্ত জলাভূমি এলাকা (মোট ৮৮২ বর্গমাইল), যেখানে কেবল ধানই উৎপাদিত হতো — এগুলো ভারতীয় কৃষিজ পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ও কম লাভজনক হলেও দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য। ১৭২২-এ জাফর খান বাংলার যে বিখ্যাত মূল রাজস্ব-তালিকা (rent-roll) প্রস্তুত করেন, তার অংশ হিসেবে এই জমিগুলোয় আংশিক ও অপেক্ষাকৃত নতুন হস্তবুদ জরিপ চালিয়ে তুমারি জমা (নির্ধারিত রাজস্ব) ধরা হয় ২,২২,৯৫৮ টাকা। এই তথ্য আগেই উল্লেখ করা হয়েছে এবং কোম্পানি সনদ সূত্রেও প্রমাণ করা সম্ভব; কারণ কোম্পানিই ছিল ওই ভূখণ্ডের আনুষ্ঠানিক ও বৈধ ভূমির মালিক। যদিও কেউ কেউ মনে করেন ১৭৫৭-তেই এর সার্বভৌম মালিকানা অর্জিত হয়েছিল, তবে প্রকৃতপক্ষে এর রাজকীয় রাজস্বের অধিকার শাহ আলম লর্ড ক্লাইভকে সিকুরঘাট [সিকুরঘাট কি সাঁকরাইল? – অনুবাদকের জিজ্ঞাসা] জায়গির হিসেবে প্রদান করেছিলেন। অধিকার অর্জনের ঠিক সেই মুহূর্তে, পুরনো আদর্শ রাজস্বের (standard revenue) অতিরিক্ত হিসেবে, এই নবগঠিত জেলার বিভিন্ন উপঅঞ্চলে নিয়মিত আদায়করা পূর্বোল্লিখিত সুবাদারি রাসজস্বের মোট পরিমাণ ৩,৩২,০৭৮ টাকা। আঠারো মাস পর, প্রকৃত আদায় রাজস্বের পরিমাণ আরও ভালোভাবে জানার পর, সর্বোচ্চ দরদাতাদের কাছে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে এই রাজস্ব আদায়ের অধিকার ৭,৬৫,০০০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। অথচ, মীর কাসিমের শাসনকালের মাত্র তিন বছর পরেই, বাংলায় আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও দক্ষ ইংরেজ গভর্নরের পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছিল, বার্ষিক রাজস্বের পরিমিত পরিমাণ ১৪ লক্ষ টাকার কিছু বেশি ছিল। এই গভর্নর এমন এক ব্যক্তি যিনি বিপুল অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অর্থব্যবস্থাপনা বা রাজস্ব বিষয়ে বিশেষ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন; তাছাড়া, মুসলিম শাসনামলে ভারতের সাধারণ রাজস্ব-উৎসর প্রকৃতি এবং দেশের আইন আর প্রথা অনুযায়ী বার্ষিক রাজস্ব সংগ্রহের যে নীতি প্রচলিত ছিল, সে সম্পর্কে উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহের সর্বোত্তম ও প্রাথমিক সুযোগ তাঁরই ছিল; এটা প্রতি বছর আদায় করা হতো এবং তা ছিল দেশের আইন ও প্রথারই অংশ; এর সাথে যুক্ত ছিল স্থানীয় জনগণের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে তাঁর গভীর ও নিখুঁত বোঝাপড়া। নিজস্ব জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার মতো সক্ষমতা ও আগ্রহ — উভয়ই তাঁর ছিল; পাশাপাশি, কর্মকালে তাঁর প্রত্যক্ষ নিয়োগকর্তাদের জন্য সেই জ্ঞানকে বাস্তবে ফলপ্রসূ করার গুণও তাঁর ছিল। এমনকি পরবর্তীকালে তাঁর প্রকাশিত নির্দেশাবলি কিংবা ১৭৭২ সালে হাউস অফ কমন্স-এর কমিটির সামনে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে তা কাজে লাগানোর মতো উপযুক্ত মানসিকতা যদি সংশ্লিষ্টদের থাকত, তবে তিনি সমগ্র জাতির উপকারেও তা আসতে পারতেন।

তবুও কেউ কেউ হয়তো বলবেন যে, ইংরেজদের অপেক্ষাকরা নমনীয় ও অবাধ প্রশাসনের অধীনে তাঁর এলাকার জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; এবং কলকাতার শহরের ক্ষেত্রে — বিশেষ করে অধীনস্থ মুসলিম সুবাদারদের স্বেচ্ছাচারী শাসনের তুলনায় — [আমার] এই পর্যবেক্ষণ যে যথার্থ, তা স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু এর অর্থ কোনোভাবেই এমন নয় — বা বাস্তবেও এমনটাও দেখা যায়নি যে, আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়া এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মঠ বা অধিকতর প্রয়োজনীয় শ্রেণি ছিল; কিংবা সাধারণ প্রজা হিসেবে তারা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উন্নয়নে বিন্দুমাত্র কোনো অবদান রেখেছিল। তাদের সাথে থাকত অলস ও বেতনভোগী অনুচরের দল — যারা নিজেদের আইন-কানুন বা বিচারব্যবস্থার কঠোরতা (যা হয়তো অপরিহার্য ছিল) থেকে পালিয়ে ব্রিটিশ পতাকার সর্বজনীন ও নিরপেক্ষ আশ্রয়ে নিজেদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা খুঁজছিল। অথচ আশ্রয়দানকারী শক্তির জন্য বিলাসিতার মতো কোনো সুবিধা তারা বয়ে আনেনি, কিংবা চব্বিশ পরগনার কোনো এলাকায় কৃষিকাজের জন্য লাঙলও হয়তো বাড়ানোর চেষ্টা করেনি — ব্যতিক্রম কেবল রাজধানীর বাগান-এলাকাটুকু, যার পরিমাণ আমরা পূর্বোল্লিখিত সর্বশেষ দুটো সাময়িক ভাড়ার হিসাব থেকে বাদ দিয়েছি। অবশ্য এর সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করাও আমাদের জন্য সমীচীন হবে- হুগলি নদীর অপর পাড় থেকে অথবা একই সুবিধাজনক জলপথ ব্যবহার করে বাংলার প্রায় যেকোনো দূরবর্তী অঞ্চল থেকেই সমান শর্তে তাদের সামান্য সব প্রয়োজন মেটানো অনেক বেশি সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী ছিল। [২৮৯]

অন্যদিকে, যারা ভারতে সার্বভৌম শাসকের অধিকার থেকে পৃথক বা স্বতন্ত্র কোনো বিশাল ভূ-সম্পত্তি বা ভূমির মালিকানা স্বত্বের অস্তিত্বের ভুল ধারণা পোষণ করেন, তারা হয়তো কোম্পানির নিজস্ব খাজনা (proper rents) বা আয়ের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে একই সত্তার মধ্যে শাসক ও ভূমির মালিক — উভয়ের অধিকারের সংমিশ্রণের ফল বলে মনে করতে পারতেন; যদি না বর্ধমান এবং হস্তান্তরিত অঞ্চলের (ceded lands) ছোট ছোট স্বতন্ত্র জমিদারীগুলো একই ধরনের তদারকিমূলক প্রশাসনের অধীনে উন্নতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করত। অধিকন্তু, এটা প্রমাণ করা খুব কঠিন না যে, কলকাতা পরগনা অর্জিত হওয়ার পর — চৌধুরী বা তালুকদার হিসেবে পরিচিত ভূমির উচ্চপদস্থ দখলদাররা, যারা পরবর্তীতে উচ্চতর এখতিয়ারের অধীনে একত্রিত হয়েছিল — তারা তাদের পূর্ববর্তী আইনি সুবিধাগুলো হারানোর পরিবর্তে বরং গোপনে নিজেদের প্রয়োজনে বাজি জমিন (Bazee Zemeen) বা ব্রহ্মোত্তর (Bermooter) — অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের জন্য দাতব্য ভূমি — হিসেবে জমি আত্মসাৎ করে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা কেবল তাদের ৫ শতাংশ রসুম (russoom) বা কমিশন এবং রাজকীয় রাজস্ব সংগ্রহের সাথে যুক্ত অন্য ছোটখাটো দাপ্তরিক সুযোগ-সুবিধার (যা শর্তসাপেক্ষে প্রদানকারী কর্তৃপক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছিল) ক্ষতিপূরণই আদায় করেনি, বরং তাদের পারিবারিক সম্পত্তির ওপর নানকার (nancar) — অর্থাৎ উদার শাসকের দ্বারা তাদের ভরণপোষণের জন্য নির্ধারিত জমি — এর পরিমাণও তিনগুণ বাড়িয়ে নিয়েছিল; যা মূলত তাদের রিসিভার জেনারেল বা প্রধান রাজস্ব সংগ্রহকারীর পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরিস্থিতির জন্য রাখা হয়েছিল। কারণ এটা সর্বজনবিদিত যে, আলোচ্য জেলার মধ্যে আজও এমন প্রতারণামূলক, অননুমোদিত এবং সম্পূর্ণ অভিনব দাতব্য অনুদান বা ধর্মীয় দান হিসেবে অধিকরা জমির পরিমাণ অনেক বেশি — যা মুঘলদের প্রতিষ্ঠিত আইন ও বিধান অনুযায়ী অনুরূপ অনুদান প্রদানের প্রচলিত ও স্বীকরা পদ্ধতিতে সমগ্র বাংলায় প্রদত্ত জমির পরিমাণের চেয়েও অধিক; এবং মুঘলদের খণ্ডিত সাম্রাজ্যের পরবর্তী প্রতিটি নিয়মিত সরকারের আমলেও এই ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছিল — হয়তো শাসনক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক শর্তাবলী মেনে চলার প্রয়োজনে, অথবা শাসিত জনগণের বিশাল অংশের কাছে সর্বজনস্বীকরা ও শ্রদ্ধেয় একমাত্র আইনি ব্যবস্থাকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার কারণে। একই সাথে, আমাদের এই বিশ্বাসের সাথে বিষয়টি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, বর্তমানে — এবং বিশেষ করে দেওয়ানি (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) হস্তান্তরের পর থেকে (কিন্তু তার আগে নয়) — এমন প্রায় ৪০ লক্ষ বিঘা জমি রয়েছে যার বার্ষিক গড় কর ধরা যেতে পারে বিঘা প্রতি দুই টাকা। এই জমিগুলো সুবা বা প্রদেশ থেকে জমিদার বা অন্যান্যদের দ্বারা বেআইনিভাবে হস্তান্তরিত বা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল; তারা রাজকীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতার চরম অবমাননাকর ও রাষ্ট্রদ্রোহী অপব্যবহার করে ব্রহ্মোত্তর (Bermooter) নামে অননুমোদিত সনদ জারি করেছিল। এছাড়াও দেবোত্তর (Deowutter), বিষ্ণোত্তর (Beshnowutter) ও পীরোত্তর (Peerooter)-এর মতো আরও নানা ধরনের প্রতারণামূলক হিন্দু অনুদান-প্রথা চালু করা হয়েছিল, যা দেশের প্রকৃত আইনি কাঠামোর কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত ও নতুন।

যাই হোক, আমাদের মূল প্রসঙ্গে ফিরে এসে বীরভূম ও দিনাজপুরের ভূমি-নির্ধারণ বা রাজস্ব-মূল্যায়নের বিষয়টি শেষ করা যাক। ১৭৬৩ সালে কাসিম আলীর আর্থিক কার্যক্রম এবং তার মাত্র তিন বছর পর কলকাতার নিজস্ব এলাকায় কোম্পানির কার্যক্রমের মধ্যে তুলনা করলে আমাদের আরও বিষয় লক্ষ্য করতে হয়- পরবর্তীকালে কোম্পানির অধীনস্থ সেই জমিগুলোর অধিকাংশই — পুরানো সব সুবিধাসহ — তাদের আগের জমিদারদের (বা যাদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছিল তাদের) কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অথচ, ভারতের ভূমির মালিকানা ও ব্যবহারিক অধিকার নিয়ে ইওরোপে সম্প্রতি প্রচারিত মতবাদ এবং স্থানীয় বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে উপযুক্ত ও গভীর জ্ঞানের মধ্যে এতটাই পার্থক্য রয়েছে যে, পুনর্বহাল হওয়া সেই জমিদাররা যদি তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সময়কালে পরগনাগুলোর বাড়ানো খাজনার পুরোটা বা তার অংশ দাবি করতেন, তবে হিন্দুস্তানে এমন কোনো ব্যক্তি — কিংবা এমন কেউ যিনি এ দেশের উল্লেখযোগ্য প্রথা ও রীতিনীতি পর্যবেক্ষণ করার মতো যথেষ্ট সময় এখানে কাটিয়েছেন — থাকতেন না যিনি বিষয়টিকে অজ্ঞতা, উদ্ধত বোকামি কিংবা সার্বভৌম শাসকের অধিকার সম্পর্কে ভুল ধারণা বলে মনে করতেন; বরং প্রত্যেকেই একে সুপরিকল্পিত বিদ্রোহের নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবেই গণ্য করতেন। একই সাথে, নিম্নস্তরের প্রজা বা জমির প্রকৃত চাষি — যারা সরকারকে বার্ষিক কর প্রদান করত — তাদের কথাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ১৭৬৩-র আগেই কোম্পানির জমিদারির ওপর সুবার অন্যান্য অংশের মতোই আনুপাতিক হারে রাজস্ব ধার্য করা হয়েছিল (যার মধ্যে আসল জমা এবং পরবর্তীকালে চাপানো আবওয়াব — উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল); এবং ব্রিটিশ কালেক্টরদের দ্বারা পরিচালিত হস্তবুদ (বাস্তব আয়-ব্যয় সংক্রান্ত) তদন্ত ও তার ভিত্তিতে করা নতুন বন্দোবস্তের ফলে সেই মোট রাজস্বের পরিমাণ পরবর্তী তিন-চার বছরের মধ্যেই প্রায় তিনগুণ হয়। এই প্রেক্ষাপটে আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি যে, ইওরোপে এমন কোনো কৃষকগোষ্ঠী নেই যারা তাদের স্বাভাবিক প্রয়োজন কিংবা খামারের প্রকৃত উৎপাদনক্ষমতা ও আয়ের তুলনায় এত কম করের বোঝা বহন করে এবং এত সুখী জীবনযাপন করে। (আইনজীবীদের প্ররোচনায় অভিযোগ দায়ের করতে উদ্যত হয়েও তারা নিজেদের সেই মর্যাদাবান বলেই মনে করত) অথচ সরকারের বা রাষ্ট্রের দাবি যখন তাদের আইনসম্মত প্রাপ্য সীমার (মোট আঞ্চলিক উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশ) বেশি হতো না — তখন বীরভূম, দিনাজপুর এবং বাংলার প্রায় অন্যান্য সমস্ত জমিদারির তুলনায় ২৪ পরগনার রায়তদের ওপর ধার্য করের পরিমাণ অনেক বেশি মনে হতে পারে; যদিও এই জেলাটি ছিল জনবিরল, কৃষিকাজে অনুন্নত ও আয়তনে ক্ষুদ্র।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev