
কিপটে চূড়ামণি পঞ্চানন্দ তালুকদার তাঁর জীবদ্দশায় এগারো বার দিঘা এসেছিলেন। কিন্তু কেন? সে গল্প পরে। সুতরাং দীঘার ভ্রমণ বেত্তান্ত বর্ণনা নেহাতই আহাম্মকের কাজ হবে।
সৈকত শহর দীঘা। যত দূর চোখ যায় আকাশ ছোঁয়া সমুদ্র। সোনালি বালির বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি, ঝাউবন আর সমুদ্র সফেন নীল জলরাশির বুকে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নৌ-মিছিল। চোখ বন্ধ করে মনের মধ্যে এমন ছবি ভেসে উঠলেই যে নামটা সবার আগে আসে সেটা আজকে রাজ্যের অন্যতম সৈকত পর্যটন কেন্দ্র দীঘা। সমুদ্রের অমোঘ টানে ভ্রমণপিপাসু আপামর বাঙালি বারবার ছুটে আসেন আজকের সৈকত পর্যটনকেন্দ্র দীঘায়। বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে এমনকী সেলুলয়েডেও বহুবার ধরা দিয়েছে সৈকত পর্যটন কেন্দ্র দীঘার সৌন্দর্য।
এতো সৈকত পর্যটনকেন্দ্র দীঘার সাম্প্রতিক ছবি। কিন্তু বহু বছর আগে কেমন ছিল আজকের দীঘার এলাকা? আঞ্চলিক ইতিহাসবিদ ও কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রেমানন্দ প্রধানের ‘হিজলীনামা’ বইতে জানিয়েছেন, অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সেটলমেন্টের রেকর্ডে বীরকুল নামে ওড়িশার জলেশ্বর চাকলার অধীনে থাকা একটি পরগনার উল্লেখ ছিল। ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ভ্যালেন্টিন ও ১৬৬৮ খ্রিষ্টাব্দে টমাস বৌরির মানচিত্রে বর্তমান কাঁথি শহর থেকে ২৪ মাইল দূরে দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তে ‘নরিকুল’ নামে একটি সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অস্তিত্ব নজরে আসে। ১৭০০ সালে পাইলট মানচিত্রে নরিকুল জায়গার পাশেই ‘বিটবুল’ নদীর অবস্থান দেখা যায়। পরে রেনেলের মানচিত্রে নরিকুলের জায়গায় বীরকুলের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ‘মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম’ গ্রন্থের অন্যতম লেখক ও মুগবেড়িয়া কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ হরিপদ মাইতির কথায়, — “মীরকাশিম ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বদান্যতায় ১৭৬০ সালে দ্বিতীয়বার বাংলা বিহার ও ওড়িশার নবাব হওয়ার প্রতিদানে ‘চাকলা মেদিনীপুর’, ‘চাকলা বর্ধমান’ ও ‘চাকলা চট্টগ্রাম’-এর অধিকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেন। সেই সময় চাকলা মেদিনীপুরের ৫৪টি পরগনার মধ্যে একটি পরগনা ছিল বীরকুল। ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে ওড়িশার উপকূলকে লিজ নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন বাংলার তৎকালীন গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস। সেই সময় দক্ষিণ পশ্চিম মেদিনীপুরের ওড়িশা সীমান্ত লাগোয়া উপকূল অঞ্চল বীরকুল পরগনা তাঁর নজরে আসে।

ইতিহাস জানান দেয়, ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭৫ সালে বীরকুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মনোরম সমুদ্র সৈকতে গ্রীষ্মাবকাশ কাটানোর জন্য একটি বাংলো তৈরি করেন। প্রাকৃতিক পরিবেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজদের মাছধরা, ‘সমুদ্রস্নান’-সহ বিনোদনের জন্য বীরকুলের বিশ্রামাগার তৈরির পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেন। হেস্টিংসের এই পরিকল্পনার কথা ১৭৭৮ সালের বেঙ্গল গেজেটেও উল্লেখিত ছিল। ওয়ারেন হেস্টিংস বীরকুল পরগনাকে ‘ব্রাইটন অফ ক্যালকাটা’ বলে তাঁর স্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখও করে ছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ আধিকারিকরা সস্ত্রীক বীরকুলে ছাউনি ফেলতেন। পরবর্তীকালে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস আর ভূমিক্ষয়ে বীরকুল ভগ্নস্তূপেপরিনত হয়। এমনকী হেস্টিংসের বিনোদনের বাংলোটিও সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এর পরে কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর। ১৮৫২ সালে কাঁথি মহকুমা গঠনের সঙ্গে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য কাঁথি মহকুমাকে কাঁথি, রামনগর, খেজুরি, এগরা, পটাশপুর আর ভগবানপুর এই ছ’টি থানায় বিভক্ত করা হয়। রামনগর থানা এলাকার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হয় অতীতের বীরকুল পরগনা। দীঘা তখনও ছিল বীরকুল পরগনার অখ্যাত পরিচয়হীন এক দুর্গম গ্রাম।
১৯২৩ সালে কলকাতার জুয়েলারি ও ঘড়ি তৈরির প্রসিদ্ধ হ্যামিল্টন অ্যান্ড কোম্পানির মালিক জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে আর রামনগরের বালিসাইয়ের বাসিন্দা এক খদ্দেরের কাছ থেকে বীরকুলে দীঘা সৈকতের কথা জানতে পারেন। নেহাতই কৌতুহলবশে হাতির পিঠে চেপে বীরকুলে এসে সৈকতের সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে যান তিনি। সমুদ্রপাড়ে সাড়ে এগারো একর জমি লিজ পেয়ে সৈকতের ধারে রানসউইক হাউস তৈরি করে দীঘার প্রথম আবাসিক হিসেবে বসবাস শুরু করেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দীঘাকে সৈকত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাছে জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ আবেদন জানান। সৈকত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধীরে ধীরে দীঘার বুকে তৈরি হয় সৈকতাবাস, জল সরবরাহ-সহ নানা ব্যবস্থা। ১৯৬২ সালে বিধানচন্দ্র রায়ের মা অঘোরকামিনী দেবীর নামে তৈরি হয় ‘অঘোরকামিনী’ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। হাত গুটিয়ে থেমে ছিলেন না স্নেইথ সাহেবও। বছরের ছ-মাস এই সৈকত শহরে থাকতেন। বাকি সময়টা শিলং-এ। সেখান থেকে তিনি কলকাতার বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে এসে বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে নিজের টু সিটার প্লেনে চেপে দীঘায় আসতেন। দীঘার সৈকতে স্নেইথ সাহেবের প্লেন ওঠানামা দেখতে ভিড় জমাতেন স্থানীয় মানুষজন। সেই সময় এলাকায় স্কুল স্থাপনের জন্য নাড়াজোলের রাজাকে দীঘায় বাড়ি তৈরি করতে সাহায্য করেন স্নেইথ সাহেব। দীঘার সমুদ্র সৈকত দেখতে পর্যটকরা যাতে সরাসরি সড়ক পথে দীঘায় আসতে পারেন তার জন্য কলকাতা-দীঘা সড়ক তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। এক অখ্যাত দুর্গম এলাকা দীঘাকে ভ্রমনপিপাসু পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করে তোলার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম এবং বয়স বাড়ার ঝামেলায় ক্লান্ত হয়ে চিরকুমার স্নেইথ সাহেব নিজের জুয়েলারি আর ঘড়ি কোম্পানির দায়িত্বভার নিজের ভাগ্নে চার্লস অ্যান্ড্রিউ ফ্ল্যানিগানের হাতে দিয়ে দীঘার রানসউইক বাংলোতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। প্রতি সপ্তাহে বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে ভাগ্নে ফ্ল্যানিগান একটি দুই সিটের প্লেনে করে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথের কাছে পৌঁছে দিতেন। আবার, কখনও কখনও স্নেইথ সাহেবের বন্ধুরাও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দীঘাতে যেতেন। ১৯৬৪ সালে দীঘাতেই মারা যান দীঘার প্রথম আবাসিক জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ। স্নেইথ সাহেবের মরদেহ রানসউইক বাংলোতেই সমাহিত করা হয়। পরে স্নেইথ সাহেবের ভাগ্নে ফ্ল্যানিগান রানসউইক বাংলো বিক্রি করে ইংল্যান্ড ফিরে যান। বর্তমানে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের অতিথিশালা হিসেবে রানসউইক বাংলো ব্যবহৃত হয়।
মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দীঘায় এসে একাধিক বার এখানে রাত্রিযাপন করেছেন। দীঘা ঢোকার মুখে হাল আমলে নির্মিত প্রবেশ তোরণ পেরিয়ে কিছুটা এগোলেই রাস্তার বাঁ দিকে চোখে পড়বে রানসউইক হাউস। যা বীরকুল পরগনার দুর্গম এক অখ্যাত গ্রাম দীঘার আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে হিসেবে গড়ে ওঠার বহু ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। হাউসের সুবিশাল প্রান্তরের এক প্রান্তে রয়েছে স্নেইথ সাহেবের সমাধি। প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর রানসউইক হাউসে স্নেইথ সাহেবের সমাধিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে স্মরণ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই বাড়ির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িয়ে রয়েছেন সুরথ মাইতি। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, — “১৯৬৪ সালের প্রথম দিকে মাত্র ষোলো বছর বয়সে আমি একজন মালি হিসাবে স্নেইথ সাহেবের বাংলোয় কাজে যোগ দান করি। মাইনে ছিল মাসে মাত্র ষাট টাকা। তেইশ বিঘা জায়গা জুড়ে রানসউইক হাউস কম্পাউন্ড। বাড়িটার পিছনেই ছিল কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা। নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্যে কেরোসিন চালিত জেনারেটর রুম ছিল আরেক দিকে। খাওয়ার জন্য কাঁচা সবজি বাড়ির বাগানেই চাষ করা হতো। তবে স্নেইথ সাহেবকে আমি বেশিদিন পাইনি। কাজে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস বাদে ১৯৬৪ সালের ১৮-ই ডিসেম্বর ভোর বেলা জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ মারা যাওয়ার সময় আমি সাহেবের মাথার কাছেই সারা রাত জেগে বসে ছিলাম। তবে এই কদিনেই সাহেবকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম আমি। বাড়ির সমস্ত কর্মচারীদের সাথে একান্ত আপনজনের মতো ব্যবহার ছিল স্নেইথ সাহেবের। বড়দিনের সময় সামনের লনে চারদিকে ক্যাম্প করে বরিশা অনাথাশ্রমের ছেলেদের থাকার ব্যবস্থা হতো। আর লনে অনুষ্ঠিত হতো নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। বসে আঁকো প্রতিযোগিতা ছিল স্নেইথের খুব পছন্দের অনুষ্ঠান। কাকার মৃত্যুর পরও ফ্লানিগন নিয়মিত দীঘায় আসতেন। ক্রিস্টমাসে বিরাট উৎসব হতো। অংকন ও অন্যান্য প্রতিযোগিতা চালু ছিল। বরিশা অর্ফানেজের ছাত্রদের আঁকা আরো কিছু সুন্দর ছবি বাড়িটার নানা জায়গায় টাঙানো আছে।”
এরপর সুরথবাবু ধীরে ধীরে চার্লস অ্যান্ড্রু ফ্লানিগনের বন্ধুস্থানীয় হয়ে উঠলেন। ততদিনে তিনি সামান্য মালি থেকে রানসউইক হাউসের ম্যানেজার হয়ে উঠেছেন। ফ্লানিগনের সাথে সেই টু সিটার পাইপার প্লেনে দীঘা থেকে কলকাতায় যাতায়াতও করেছেন তিনি। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফিট পর্যন্ত উঁচুতে উড়তে পারতো প্লেনটা। ব্যারোমিটার দিয়ে উচ্চতা মাপা হতো। আকাশপথে বেহালা থেকে দীঘায় আসতে সময় লাগতো ঠিক ৩৫ মিনিট। ১৯৭২ সালে সুরথ বাবুকে একবার নিউ ইয়র্ক আর কানাডা ঘুরিয়ে এনেছিলেন ফ্লানিগন।

সুরথবাবু একটা নতুন তথ্য জানালেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেক্ট্রিসিটি বোর্ডের কাছে বাড়িটা বিক্রি করেননি ফ্লানিগন। রানসউইক হাউস তিনি দান করেছিলেন। শুধু আসবাবপত্রের মূল্য বাবদ দেড় লাখ টাকা ফ্লানিগনকে দিয়েছিলেন বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান মিস্টার জে সি তালুকদার। তবে বাড়ি হস্তান্তরের সময় ফ্লানিগনের শর্ত ছিল রানসউইক হাউসের কর্মচারীদের ইলেক্ট্রিসিটি বোর্ডে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে। ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রানসউইক হাউস ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেক্ট্রিসিটি বোর্ডের নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গেলো। আর তার ঠিক পাঁচ দিন বাদে ১৬ ফেব্রুয়ারি সুরথবাবু স্থায়ী চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেলেন। বাড়িটাকে কোনো অফিস না বানিয়ে কর্মচারীদের দীঘায় ছুটি কাটানোর জন্যে গেস্ট হাউস হিসাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলো কোম্পানি। ২০০৭ সালে WBSEB নাম পাল্টে WBSEDCL হয়ে গেছে। ২০০৮ সালে সুরথ বাবু চাকরি থেকে রিটায়ার হয়ে যান।
লন পেরিয়ে জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ সাহেবের সমাধি। ফলকের উপর ল্যাটিনে লেখা “Si Monumentum Requiris Circumspice” কথাটার ইংরেজি তর্জমা করলে দাঁড়ায় — “If you seek his monument, look around you”. ঠিক ওই জায়গা থেকে একটা ঢালু সরু রাস্তা সোজা এগিয়ে গিয়ে ঝোপের সারিতে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। ওই রাস্তা দিয়েই নাকি সমুদ্রের পাথুরে বালিয়াড়িতে প্লেন ল্যান্ড করার পর বাংলোর দিকে হেঁটে আসতেন স্নেইথ আর ফ্লানিগন। আগে রানসউইক হাউসের বারান্দা থেকে সমুদ্র পরিষ্কার দেখা যেত। পরে সামনের অনেকটা জায়গা জুড়ে সৈকতাবাস তৈরী হওয়ায় এখন আর কিছুই দেখা যায় না।
সমুদ্র উপকূলবর্তী দুর্গম বীরকুল পরগনাকে ওয়ারেন হেস্টিংস আবিষ্কার করলেও বীরকুল পরগনাকে আমুল বদলে আজকের সৈকত সুন্দরী দীঘার জন্মদাতা তো স্বয়ং জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ।
ছবি : সোহম গুহ
পেজফোরনিউজ ২০২৫ পুজা সংখ্যায় প্রকাশিত