| | |
এই মুহূর্তে ::
পর্দার দাপুটে নায়ক, বাস্তব জীবনে মানবতাবাদী — নানা পাটেকরের জীবন ও অবিনশ্বর কীর্তি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সসীমকুমার বাড়ৈ-এর ছোটগল্প ‘প্রকৃতি বিভাজন খেলা’ মিরকাশিমের বীরকুল, হেস্টিংসের ব্রাইটন, জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ-এর দীঘা : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (শেষ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা কৌশল বাস্তবায়নের রোডম্যাপ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন কলকাতার নব্য কাজিয়ার দুর্গা : অসিত দাস SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (সপ্তম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নয়া পুঁজিবাদ : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (ষষ্ঠ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (পঞ্চম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার হাসানের ইতিহাস ও বর্তমান ছুঁয়ে : নন্দিনী অধিকারী গান্ধীজী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কবরের ইতিহাস : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (চতুর্থ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ছেলে বেলার পুজো : সুব্রত দত্ত SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (তৃতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ঝন্টু মামা ও তাঁর শিকারের গল্প’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (প্রথম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা — বর্তমান পরিস্থিতিতে একট চ্যালেঞ্জ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৭৩ Views জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

[সংক্ষিপ্তসার — গ্রান্ট এখানে ছয়টা গুরুত্বপূর্ণ জমিদারির বিবরণ দিয়েছেন। রুকুনপুর (Rokinpoor): আয়তনে বিশাল এবং সমগ্র বাংলার বড় জমিদারিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। মূলত শাহ নারায়ণকে — যিনি সুবার সমস্ত জমির কানুনগো বা নিবন্ধক ছিলেন — এই জমিদারির এখতিয়ার দেওয়া হয়। এই নিয়োগ ছিল অত্যন্ত অনুপযুক্ত ও অসাংবিধানিক; সম্ভবত রাজস্বের ওপর প্রদেয় ২.৫ শতাংশ হারে রসুম বা কমিশনের বিনিময়ে এটা তাকে দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একই পরিবারের দুই শাখার মধ্যে প্রশাসনিক কাঠামো অসমভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। এই জেলার প্রকৃতি ও অর্জনের ইতিহাস মানুষের সেই প্রবণতার উদাহরণ — যেখানে অতি ক্ষুদ্র সব ভূখণ্ড বিভিন্ন জমিদারি থেকে আলাদা করা হয়; ফলে এর ঠিকঠাক আয়তন নির্ণয় করা সম্ভব ছিল না বলে নিয়মিত রাজস্ব নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল না। রুকনপুর শুরু থেকেই ৬২টি পরগনা নিয়ে গঠিত ছিল, রাজস্ব ২,৪২,৯৪৩ টাকা। মাহমুদশাহী: ভূষণা চাকলায়; উৎপাদনশীলতায় তুলনামূলক কম — বিশেষত নলদি অঞ্চলের তুলনায়। ১৭২২ সালের পর রামদেব নামক এক ব্রাহ্মণকে প্রদান; জায়গিরসহ ২৯টি পরগনা, রাজস্ব ১,১০,৬৩৩ টাকা। ফতেহসিংহ: অখণ্ড ও সুসংহত প্রশাসনিক এলাকা; ভাগীরথী বা কাশিমবাজার নদীর তীরে, মুর্শিদাবাদের সামান্য দক্ষিণে। হরি প্রসাদ নামক ব্রাহ্মণকে প্রদান। জরিপ-বহির্ভূত ছোট তালুক আলাদা করে নেওয়ায় ও রাজস্ব কমে আসায় কাগজে-কলমে ক্ষয়িষ্ণু মনে হলেও বাস্তবে জমির অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। ১১টি পরগনা, রাজস্ব ১,৮৬,৪২১। ইদ্রাকপুর: রেনেলের মানচিত্রে ঘোড়াঘাট প্রদেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। মাঝে মাঝে দিনাজপুর ও রংপুরের সঙ্গে জোড়া লাগানো হতো; তবে বেশিরভাগ সময় কায়স্থ বিশ্বনাথের পরিবারের অধীনে স্বতন্ত্র জমিদারি হিসেবে টিকে ছিল। ৬০টি পরগনা, রাজস্ব ৮১,৯৭৫ টাকা। ত্রিপুরা: বাংলার সর্বপূর্বের ও বিশাল আয়তনের জমিদারি; সিলেটের দক্ষিণে, বন্য হাতির বিচরণক্ষেত্র। শাহজাহানের রাজত্বকালে মানিক বংশের উত্তরাধিকারীদের থেকে জয় করা হয় এবং উদয়পুর সরকার গঠন করা হয়। ১১৩৫ বঙ্গাব্দে ৪টি পরগনা নিয়ে গঠিত হলেও পরে রোশনাবাদ পুনর্দখলের পর ২৪টি পরগনায় বিভক্ত হয়। প্রাথমিক রাজস্ব ৯২,৯৯৩ টাকা; তবে ৪৫,০০০ টাকার জায়গির বাদ দেওয়ার পর খাস অংশের জন্য মাত্র ৪৭,৯৯৩ টাকা অবশিষ্ট থাকে। পচেত: বাংলার বিশাল ও সর্বপশ্চিমের জমিদারি; ছোটনাগপুর ও রামগড় দিয়ে ঘেরা। বিষ্ণুপুর সংলগ্ন অঞ্চল গুর-নারায়ণ নামক রাজপুত পরিবারের শাসনাধীন থাকায় বড় অংশ শুরুতে কেবল পেশকশ প্রদানের শর্তে শাসিত হতো। ২টি পরগনা, রাজস্ব ২৮,২০৩ টাকা। সামগ্রিক হিসাব: খালসা ভূমির বার্ষিক রাজস্ব নির্ধারণ বা জমা বন্দোবস্ত তুমারির মোট হিসাবে বাংলার ১৫টি বড় জমিদারি অন্তর্ভুক্ত ছিল; মোট ৬১৫টি পরগনা, রাজস্ব ৬৫,২২,১১১ টাকা।]

১০। রুকুনপুর (Rokinpoor): এটি ছিল আয়তনে বিশাল এবং নিঃসন্দেহে সমগ্র বাংলার সমআয়তনের জমিদারিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সমৃদ্ধ। মূলত শাহ নারায়ণকে — যিনি সুবার সমস্ত জমির কানুনগো বা নিবন্ধক ছিলেন — এই জমিদারির এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল। তবে এই নিয়োগ ছিল অত্যন্ত অনুপযুক্ত আর অসাংবিধানিকও। বিশেষ অনুগ্রহে, অথবা সম্ভবত রাজস্বের ওপর প্রদেয় আড়াই শতাংশ হারে রসুম বা প্রচলিত কমিশনের যে ক্ষুদ্র অংশ তাকে দেওয়া হয়েছিল, তার বিনিময়েই এই জমিদারি তাকে দেওয়া হয়। পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে — অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে সরকারের অধীনে সর্বোচ্চ ও গোপনীয় দায়িত্বের অপব্যবহারের ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে — একই পরিবারের দুই শাখার মধ্যে দাপ্তরিক আয় বা সুবিধা অসমভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এই জেলার প্রকৃতি ও অর্জনের ইতিহাস মানুষের সেই প্রবণতার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যেখানে একই পরিস্থিতিতে মানুষ একইভাবে কাজ করে; এই অঞ্চলগুলো বাংলার বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অতি ক্ষুদ্র সব ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত, যা বিভিন্ন জমিদারি থেকে কেটে নেওয়া হয়েছিল। এই অতি সামান্য আর বিক্ষিপ্ত ভূখণ্ডগুলোর উপযুক্ত আয়তন বা পরিমাপ কখনোই নির্ণয় করা হয়নি বলে এগুলোর ওপর নিয়মিত কর বা রাজস্ব নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল না; একই সঙ্গে, সরকারি নথিপত্র বা রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গোপনে এগুলোর আয়তন বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগও ছিল — অথচ এই কর্মকর্তাদের মূল কাজই ছিল জমির মালিকদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়া, জমির প্রকৃত আয় ও উৎপাদন ক্ষমতা যাচাইয়ের যে জটিল প্রক্রিয়া বা হস্তবুদ (hustabood) তদন্তের ব্যবস্থা ছিল, তা থেকে এরা প্রায় পুরোপুরি অব্যাহতি পেত; কারণ এই তদন্ত পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত কঠিন, একটি চাকলার (chukleh) সীমানার বাইরে একই সময়ে তা সচরাচর ঘটত না এবং হয়তো অর্ধশতাব্দীর মধ্যেও কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দুবার এমন তদন্তের ঘটনা ঘটত না। এমন প্রলোভন এবং অবাধ ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে — এর উদাহরণ ১৭৬৭ সালে উত্তর সরকারের (Northern Circars) মাসুলিপত্তনম বিভাগের দেওয়ানের প্রধান সেরেস্তাদার বা দোভাষীর কর্মকাণ্ডে দেখা যায় — রাজামুন্দ্রি প্রদেশের বিভিন্ন জমিদারি এলাকা থেকে পরিমাপের অযোগ্য অতি ক্ষুদ্র সব ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন করে এমনভাবে একত্রিত করা হয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত প্রায় ২০,০০০ পাউন্ড বার্ষিক আয়ের সমতুল্য এক বিশাল ও রাজকীয় জমিদারি বা এস্টেটয় তৈরি করা সম্ভব হয়। এই বিশাল ভূসম্পত্তি কৌশলে মিরাসি (merassy) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল এবং এর বিনিময়ে যে নামমাত্র কর বা কুইট-রেন্ট (quit-rent) দিতে হতো, তা ছিল ওই আয়ের মাত্র এক-অষ্টমাংশ; অথচ সরকারি খাতায় একে দেখানো হতো মাসিক বেতন হিসেবে, যা নাকি ওই বিশাল ভূখণ্ড থেকে পাওয়া প্রকৃত আয়ের সমান বলে দাবি করা হতো। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি হিসেবে এটি টিকে ছিল; পরবর্তীতে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত অঞ্চলকে একত্রিত করে এটিকে একটি সুসংহত রূপ দেওয়া হয়। একইভাবে, ঢাকা চাকলার অন্তর্গত রাজনগরের বিক্ষিপ্ত তালুকদারি রাজা রাজবল্লভ (যিনি বর্তমান রায় রায়াঁ উপাধিধারী একই নামের অন্য ব্যক্তির পরিবারের ছিলেন না) উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল; তিনি আলীবর্দী খানের শাসনামলে বাংলার অর্থ বিভাগের প্রধান ছিলেন। অনুরূপ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অন্যান্য অনেক বিদ্যমান জমিদারির উৎপত্তির ইতিহাসও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে — যদিও সেগুলো হয়তো রুকুনপুরের মতো অতটা উল্লেখযোগ্য ছিল না; রুকুনপুর শুরু থেকেই ৬২টি পূর্ণাঙ্গ বা উপ-বিভক্ত পরগনা নিয়ে গঠিত ছিল, যার রাজস্ব বা করের পরিমাণ ছিল ২,৪২,৯৪৩ টাকা।

১১। মাহমুদশাহী: ভূষণা চাকলায় এবং উৎপাদনশীলতার দিক থেকে তুলনামূলক কম — বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী নলদি অঞ্চলের (যা আয়তনে এর তিনগুণ বড় এবং রাজশাহী অঞ্চলের অংশ ছিল) তুলনায়। ১৭২২-এর পরে জনৈক ব্রাহ্মণ রামদেবকে দেওয়া হয়; এর অন্তর্ভুক্ত ছিল বিভিন্ন জায়গির এবং ২৯টি পরগনা, যার রাজস্ব ছিল ১,১০,৬৩৩।

১২। ফতেহসিংহ: মূলত অখণ্ড ও সুসংহত প্রশাসনিক এলাকা — এর অবস্থান ভাগীরথী বা কাশিমবাজার নদীর তীরে এবং মুর্শিদাবাদের সামান্য দক্ষিণে। এটা হরি প্রসাদ নামক এক ব্রাহ্মণকে প্রদান করা হয়েছিল। এর মধ্য থেকে জরিপ-বহির্ভূত অনেক ছোট ছোট তালুক আলাদা করে নেওয়ায় এবং বার্ষিক কর বা রাজস্বের পরিমাণ ক্রমশ কমে আসায় — বাস্তবে জমির অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও — কাগজ-কলমে বা আনুষ্ঠানিক বিচারে এটাকে ক্রম-ক্ষয়িষ্ণু বলে মনে হতে পারে। এর জন্য প্রদত্ত প্রাথমিক সনদে ১১টি পরগনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার নির্ধারিত রাজস্ব ছিল ১,৮৬,৪২১।

১৩। ইদ্রাকপুর (Edrackpoor) — রেনেলের মানচিত্রে ঘোড়াঘাট প্রদেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে — কখনও কখনও বার্ষিক বন্দোবস্তের সময় দিনাজপুরের এবং অতি সম্প্রতি রংপুরের সাথে জোড়া হয়েছে; তবে এটা অধিকাংশ সময়ে মূল সনদপাওয়া ব্যক্তি কায়স্থ বংশোদ্ভূত বিশ্বনাথের পরিবারের অধীনে একটা স্বতন্ত্র জমিদারী হিসেবেই বজায় ছিল।।। ৬০টি পরগনা। ৮১,৯৭৫।

১৪। ত্রিপুরা (Tipperah) — বাংলার সর্বপূর্বের ও বিশাল আয়তনের জমিদারী, যা সিলেটের দক্ষিণে অবস্থিত এবং বন্য হাতির বিচরণক্ষেত্র; এর অধিকাংশ এলাকাই ছিল অনুন্নত, দরিদ্র ও অনাবাদী। শাহজাহানের রাজত্বকালে মানিক্য বংশের উত্তরাধিকারীদের থেকে এই ভূখণ্ড জয় করে উদয়পুর সরকার (প্রশাসনিক বিভাগ) গঠন করা হয়; উদয়পুর ছিল তৎকালীন জেলার সদর দপ্তর – কুমিল্লা থেকে প্রায় ২৫ মাইল পূর্বে। ১১৩৫ বঙ্গাব্দে ৪টি পরগনা নিয়ে গঠিত এই এলাকার (যা পরবর্তীতে রোশনাবাদ নামে পুনর্দখলের পর ২৪টি পরগনায় বিভক্ত হয়) প্রাথমিক রাজস্ব ৯২,৯৯৩ টাকা ধার্য করা হয়েছিল; তবে এর মধ্যে দাউদপুর অন্তর্ভুক্ত ছিল না, কারণ সেটি জাহাঙ্গীরনগর চাকলার সাথে যুক্ত ছিল। কিন্তু এই মোট অঙ্ক থেকে ৪৫,০০০ টাকার জায়গিরের পরিমাণ বাদ দিতে হবে — যা রাম মানিকের পুত্রকে তাঁর নিজের জন্য অথবা হাতি ধরার খরচ মেটানোর জন্য পৃথকভাবে বরাদ্দ করা হয়েছিল — যার ফলে খাস (রাজকোষে জমাযোগ্য) অংশের জন্য মাত্র ৪৭,৯৯৩ টাকা অবশিষ্ট থাকে।

১৫। পচেত (Pachekt) — বাংলার বিশাল ও সর্বপশ্চিমের জমিদারী, যা পূর্বোল্লিখিত অঞ্চলের সম-অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও জীবনধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী উৎপাদনের দিক থেকে অধিকতর সমৃদ্ধ; ছোটনাগপুর ও রামগড় দিয়ে ঘেরা এবং বিহার সুবার অধীনে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো — যার মধ্যে বিষ্ণুপুর সংলগ্ন অঞ্চলও আছে — সম্পূর্ণ বশ না হওয়ায় এবং গুরুনারায়ণ নামক এক রাজপুত পরিবারের শাসনাধীন থাকায়, এগুলোর বড় একটা অংশ শুরুতে কেবল নির্দিষ্ট পেশকশ (রাজস্ব) প্রদানের শর্তে শাসিত হতো; ২৮,২০৩ মূল্যের ২টি পরগনা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

খাস (খলসা) ভূমির বার্ষিক রাজস্ব নির্ধারণ বা জমা বন্দোবস্ত তুমারির মোট হিসাব — এগুলো বাংলার পনেরো বড় জমিদারির বা আঞ্চলিক এখতিয়ারভুক্ত এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল — সেগুলো বার্ষিক বন্দোবস্তের সময় অবিভক্ত জেলা হিসেবেই গণ্য হতো। সমসংখ্যক একক ভূ-স্বামী (ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে) এই বন্দোবস্তে অংশ নিতেন। পূর্বোল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী, এতে ৬১৫টি পরগনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা থেকে ৬৫,২২,১১১ (টাকা) রাজস্ব পাওয়া যেত। [২৬৯]

টীকা

১. কানুনগো: মুঘল প্রশাসনিক পরিভাষায় নিবন্ধক বা হিসাবরক্ষক — যিনি জমির নথি ও রাজস্বের হিসাব সংরক্ষণ করতেন।

২. রসুম: রাজস্ব আদায়ের বিনিময়ে প্রদত্ত কমিশন বা প্রচলিত ভাতা। এখানে ২½ শতাংশ হারে।

৩. মিরাসি: উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বা ভূমি — যা কর-মুক্ত বা নামমাত্র করের অধীন।

৪. কুইট-রেন্ট না নামমাত্র ভূমি-কর — চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত সূত্রে কুইট-রেন্ট Quit-rent বা নামমাত্র ভূমি-কর ব্যবস্থা এবং এবসেন্টি ল্যান্ডলর্ডিজমের যুগ শুরু হল দায়হীন জমিদারদের কোলাবরেটরগিরিতে। লুঠেরা ব্রিটিশ উপনিবেশের স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট পলিসির প্রেক্ষিতে বড়বাংলার জমিদারি কাঠামো এই প্রথম কার্যত দায়-দায়িত্বহীন আর্থিক হাতিয়ারে রূপান্তরিত হল। এম্পায়ার ফর প্রফিট, প্রফিট ফর এম্পায়ার বটমলাইন ক্যারি করা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রশ্রয়ে জমিদারের আর দায় রইল না, তার প্রজার, তার অঞ্চলের ভালমন্দ দেখার – যে অত্যাবশ্যক দাস ছিল মুঘল-নবাবি আমলে। যে অপ্রতিরোধ্য জমিদারবর্গ একবারের জন্য মুর্শিদাবাদের দরবারে পা দেন নি, সব কাজ সামলেছেন, উকিল পাঠিয়ে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত শুরু হওয়ার এক দশকের মধ্যেই, সেই দায়-দায়িত্বহীন জমিদারদের উত্তর প্রজন্ম এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বিনিয়োগ করতে আসা বিভিন্ন ক্ষেত্রের ফাটকাবাজ কোলাবরেটর নব্য জমিদারেরা দলবেঁধে জমিদারির উদ্বৃত্ত বগলদাবা করে দলে দলে আসতে শুরু করল উপনিবেশিক কলকাতা পুণ্যভূমিতে, মধ্যসত্ত্বভোগীদের হাতে জমিদারি পরিচালনার সমস্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে। বাংলায় অনুপস্থিত জমিদারিত্ব Absentee Landlordism-এর পাখা বিস্তার করল – এই পরম্পরার জমিদার পরিবার বা এদের উত্তর প্রজন্ম বা এদের উদ্বৃত্তে পালিত নবজাগরণীদের হাতে তৈরি হবে গ্রাম-বিদ্বেষ, মহিলা বিদ্বেষ, বিকেন্দ্রিভূত অর্থনীতি বিদ্বেষ, ছোটলোক বিদ্বেষের যুগ। অমিয় কুমার বাগচী কথিত উপনিবেশিক স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্টের অন্যতম ক্রীড়ানক হবে গ্রাম উদ্বৃত্তে কলকাতায় সাম্রাজ্যের অঙ্কে পালিত অনুপস্থিত জমিদারকুল। ।

৫. হস্তবুদ: জমির প্রকৃত আয়-ব্যয় ও উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত জরিপ।

৬. খাস/খালসা: সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনাধীন ভূমি — যার রাজস্ব রাজকোষে যেত।

৭. পেশকশ: করদ রাজা বা জমিদারদের সার্বভৌম শাসককে প্রদত্ত নির্দিষ্ট কর।

৮. জায়গির: সামরিক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বেতনের বিনিময়ে দেওয়া ভূমি।

৯. পরগনা: মুঘল প্রশাসনিক উপবিভাগ — মহল বা তালুকের সমতুল্য।

গ্রান্টের এই অংশ বাংলার জমিদারি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখায় — কীভাবে অতি ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড জমিদারি থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে বিশাল এস্টেট তৈরি করা হতো। রুকুনপুরের উদাহরণে তিনি দেখান — শাহ নারায়ণ কানুনগো হিসেবে নথি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থেকেও কীভাবে নিজের সুবিধার্থে জমির আয়তন বাড়িয়ে নিয়েছিলেন। উত্তর সরকারের মাসুলিপত্তনম বিভাগের উদাহরণটি আরও স্পষ্ট — যেখানে প্রায় ২০,০০০ পাউন্ড বার্ষিক আয়ের এস্টেট কৌশলে হস্তগত করা হয়, অথচ কুইট-রেন্ট ছিল আয়ের মাত্র এক-অষ্টমাংশ। গ্রান্টের মূল বক্তব্য হলো — এই ধরনের জমিদারি গঠনের প্রক্রিয়াই উপনিবেশিক রাজস্ব ব্যবস্থার বিকৃতির মূল কারণ। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় এই প্রকৃত হিসাব গোপন করা হয়েছিল; যার ফলে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছিল।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev