| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উত্তম কুমার : বাঙালির সমাজভাষ্য, মূল্যবোধ ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকার : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় গৈরিক নয়, ‘গৈরেয়’ শব্দটি থেকেই এসেছে ‘গেরুয়া’ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাঙালিয়ানা ও উত্তম কুমার: সংস্কৃতির দর্পণে এক অনন্য মহাকাব্য : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় বিচিত্র লোক সংস্কৃতি — নন্দোৎসবে নারকেল কাড়াকাড়ি : সুব্রত দত্ত গড়িয়াহাট কি ছিল অলস, অকর্মণ্য বলদের হাট : অসিত দাস চলচ্চিত্র অভিনয়ের সংজ্ঞা ছিলেন উত্তম : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আমার প্রিয় গল্পগুলো : নুসরাত সুলতানা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কবিদের লেখনীতে শরৎ ঋতু : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নিঝুম রাতের পাড়ি : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ জলবায়ূ দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না : নিকোলাস বিশ্বাস জিয়াউর রহমানের বিএনপি গঠন ও ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ : অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গপুঙ্গবের রাখী : অসিত দাস কবরের মানুষ : সোহেল আর রানা (তরু) আজ রাখী বন্ধন…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নিম্নচাপের বৃষ্টিতে নষ্ট সবজি, আকাশ ছোঁয়া দামে নাজেহাল মানুষ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় রামযাত্রার মাঠ ফাঁকা : অয়ন মুখোপাধ্যায় যাদবপুরের যাদবদের গোপালনের ইতিহাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ রাখি পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ১০৩ Views জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৫১৩। ধরা যাক, যে জমির রাজস্ব বা জমা পাঁচ লক্ষ টাকা, বন্যায় সেখানে মাত্র দশ শতাংশ ক্ষতি হলো (বুনুন পরগনার উদাহরণ প্রমাণ করে যে ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়েও বেশি হতে পারে) এবং জমিদার সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলেন; সেক্ষেত্রে ঘাটতি হওয়া ৫০,০০০ টাকা কীভাবে পূরণ করা হবে? যদি কোনো পরগনা বিক্রির মাধ্যমে তা করা হয়, তবে জমিদার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়তে পারেন। অন্য কোনো উৎস থেকে জমিদার এই ক্ষতির সমপরিমাণ সুবিধা ভোগ করতে পারেন — এমন যুক্তি এর যথাযথ সমাধান হতে পারে না; এবং পরবর্তী কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বার্ষিক ঘাটতি — যদিও এমন ঘটনার প্রমাণ থাকাটা জরুরি। কিন্তু এই বিষয়টি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য বা জ্ঞান ছাড়া কোনো জমিদারের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে যা অনুমোদন করতে সরকারের ন্যায়বোধ দ্বিধাগ্রস্ত হবে।

৫১৪। যে হিসাবপত্র তলব করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তা এককভাবে এটা নির্ধারণ করবে না যে জমিদার কোনো প্রকার ছাড় বা প্রতিকার পাওয়ার যোগ্য কি না। ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করার জন্য প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত পরগনাগুলোর প্রকৃত খাজনা বা আয়ের সাথে ক্ষতির পরিমাণ তুলনা করতে হবে; এবং সমগ্র জমিদারির লাভ-ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তবেই প্রকৃত অবস্থা নির্ণয় করা সম্ভব। এই হিসাবপত্র ছাড়া, দুর্যোগের প্রভাব বাড়িয়ে দেখানোর উদ্দেশ্যে কাল্পনিক বা ভুয়া আয়ের হিসাব উপস্থাপন করা হতে পারে। ক্ষতির একটা সাধারণ ধারণা পাওয়ার অন্যান্য উপায়ও রয়েছে যার মাধ্যমে ছাড়ের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে (তবে মনে রাখতে হবে, ছাড়ের দাবি কেবল তখনই গ্রহণ করা উচিত যখন দুর্যোগের প্রভাব সুস্পষ্ট ও ব্যাপক হয় এবং তা সাধারণ সময়ের মুনাফাকে ছাড়িয়ে যায়); যদিও সেই পদ্ধতিগুলো আমার প্রস্তাবিত পদ্ধতির চেয়ে কম নির্ভুল, তবুও আমার প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে যেসব অসুবিধা বা জটিলতা রয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই তাতে থাকে না। যেমন, যখন বন্যার কারণে ক্ষতির অজুহাত বা দাবি উত্থাপন করা হয়, তখন জমিদারকে তার ছাড় পাওয়ার দাবির সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে বিগত দুই বছরের প্রকৃত আদায়ের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে দাখিল করতে বলা যেতে পারে; এর মাধ্যমে জানা সম্ভব হবে যে সামগ্রিকভাবে রাজস্বের হার সহনীয় নাকি অত্যধিক, এবং তিনি সেই ক্ষতি বহন করতে সক্ষম কি না; আর যদি এই হিসাবপত্রগুলো প্রকৃতপক্ষে দাখিল করা হয়, তবে স্থানীয় পর্যায়ের ঘাটতির পরিমাণও হিসাব করা সম্ভব হবে।

৫১৫। পঞ্চম। এই প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নলিখিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

এ দেশে তকসীম (tukseem) নামে একটা হিসাব বা নথিপত্র প্রচলিত আছে, যা প্রায়শই জমির সীমানা ও মালিকানা নির্ধারণ, হাট ও গঞ্জ (বাণিজ্যিক কেন্দ্র) স্থাপনের অধিকার এবং রাজস্ব সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। একই সাথে এটাও স্বীকরা যে, এই হিসাবটি অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ এবং বর্তমান পরিস্থিতির সাথে অনেক ক্ষেত্রেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ; তবে বর্তমানে এর ব্যবহার পুরোপুরি বর্জন করা সম্ভব নয়, যদিও ভবিষ্যতে এটা হয়তো কেবলই একটা নথিতে পরিণত হবে। জমিদার বা ইজারাদারদের ইচ্ছামতো গঞ্জ ও হাট স্থাপন করা যাবে না; এগুলি স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে; যেমন — চালু পুরনো গঞ্জ (বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা বাজার) থেকে এদের দূরত্ব এবং বাজার বসার দিনক্ষণ। আমি আরও জেনেছি যে, তকসীম বা রাজস্ব-বণ্টন তালিকায় নথিভুক্ত কোনো গঞ্জ বা বাজার যদি বেশ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর নতুন করে চালু করা হয়, তবে সাধারণ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নৈকট্য-সংক্রান্ত নিয়মগুলো এক্ষেত্রে আর মানা হয় না।

৫১৬। প্রস্তাবিত তকসীমটি আগের উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে; আগেরটা যেমন বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে, তেমনি সময়ের সাথে সাথে নতুনটি তার স্থলাভিষিক্ত হবে।

৫১৭। জমিদারির সামগ্রিক জমা বা রাজস্বের অংশবিশেষের ওপর ভিত্তি করে যে তকসীম তৈরি করা হয় — যা ভবিষ্যতে ওই অংশগুলোর কর-নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে — তা যদি ক্রমবর্ধিষ্ণু (progressive) প্রকৃতির হয়, তবে প্রকৃত জমার বিবরণী-যুক্ত তকসীমের সমস্ত উদ্দেশ্যই তা যথাযথভাবে পূরণ করবে। [২১৬]

৫১৮। জমি সংক্রান্ত নিয়োগপত্র বা সনদ প্রদানের উদ্দেশ্যে এ ধরনের একটা হিসাবের প্রয়োজন হবে। বর্তমান তকসীমের বিবরণগুলো দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

৫১৯। ষষ্ঠত। উল্লিখিত সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার জন্য কেবল জমিদারের সাথে তাঁর অধীনস্থ ইজারাদারদের চুক্তির বিষয়গুলো জানাই যথেষ্ট নয়; বরং জমিদার ও রায়তের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্তরের ইজারাদারদের মধ্যকার প্রতিটি চুক্তি — অথবা সেগুলোর অনুলিপি — সংশ্লিষ্ট জমিদারি, পরগনা, তালুক বা গ্রামের সরকারি কাছারিতে জমা রাখা আবশ্যক। এর ফলে কোনো অভিযোগ তোলা হলে সহজেই সেই নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হবে।

৫২০। এ বিষয়ে আপত্তিগুলো প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিদার সন্দেহ করবেন যে, এই বিধিব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো তাঁর মুনাফার পরিমাণ জেনে নেওয়া; অন্যদিকে অধীনস্থ ইজারাদারও জমিদারের প্রতি সন্দিহান হবেন, কারণ সরকার জমিদারের অনুকূলে যে নীতি নির্ধারণ করেছে, তা সত্ত্বেও তিনি (জমিদার) অর্জিত তথ্যের সুযোগ নিয়ে ইজারাদারের ক্ষতি করতে দ্বিধা করবেন না। এটা কার্যকর করার জন্য মিথ্যা হিসাব দাখিল বা প্রকৃত হিসাব গোপন করার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান প্রবর্তন করতে হবে। এই প্রস্তাবের সমর্থনে উত্থাপিত যুক্তিগুলোর বিপরীতে পাল্টা যুক্তি হিসেবে বলা যেতে পারে যে, যেহেতু প্রতিটি ভাড়াটিয়ার সাথেই একটা চুক্তি বা বন্দোবস্ত থাকে, তাই কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে সেই চুক্তিপত্রটি উপস্থাপন করলেই সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধিত হতে পারে; তাছাড়া, যাদের ওপর জমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে, তাদের নাম জানা ও নথিবদ্ধ করা সম্ভব — এর জন্য তাদের সম্পাদিত প্রতিটি চুক্তিপত্র বা বন্দোবস্তের দলিল উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই। আমি স্বীকার করি যে, এই ব্যবস্থায় কিছুটা কাজ হতে পারে; তবে জমা (রাজস্বের পরিমাণ) এবং এ-সংক্রান্ত যাবতীয় লেনদেনের একটা পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র বা রেকর্ড থাকলে তা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এ ধরনের লেনদেনের বিষয়টি সর্বসমক্ষে থাকলে তা নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা বিদ্যমান চুক্তি ও বন্দোবস্ত লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করবে। পাঁচসালা বন্দোবস্তের সময় কৃষকদের (ইজারাদারদের) সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে এমন একটা শর্ত ছিল যার উদ্দেশ্য ছিল বর্তমানে প্রস্তাবিত নথিপত্র বা রেকর্ড প্রস্তুত করা; কিন্তু তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার বিরোধিতা করা হয়েছিল এবং কখনোই কার্যকর করা হয়নি।

৫২২। এই প্রস্তাবের সমর্থনে আরেকটি যুক্তিও উঠে আসে; তা হলো, যদি পরগনা-ভিত্তিক বন্দোবস্তের নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কাছারিতে জমা না রাখা হয়, তবে একজন নতুন ইজারাদার ইজারা নেওয়া জমির জন্য নিজস্ব বন্দোবস্ত বা বন্দোবস্ত-প্রক্রিয়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ বা তথ্যের অভাবে পড়বেন।

৫২৩। ইজারাদার নির্বাচনের বিষয়টি যেহেতু জমিদারের এখতিয়ারভুক্ত, তাই চুক্তির শর্তাবলী পূরণের সক্ষমতা তাদের আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জমিদারেরই দায়িত্ব; তাছাড়া জমিদাররা যাদের সাথে চুক্তি করেন, সেই মফস্বল ইজারাদাররা সাধারণত ওই জমিদারিরই বাসিন্দা হন এবং স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা থাকে — পূর্ববর্তী মন্তব্যগুলো থেকেই এই যুক্তিগুলো উঠে এসেছে।

৫২৪। এটা নিশ্চিত যে, সদর জমার (মূল রাজস্বের) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিস্তারিত কর-নির্ধারণী তথ্য সংগ্রহ করলে আমরা বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল তথ্য পাব; এবং যদি প্রতি বছর এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তবে বিভিন্ন বছরের তুলনামূলক হিসাবের মাধ্যমে ভুল তথ্য যাচাই ও সংশোধন করা সম্ভব হবে — যার জন্য বন্দোবস্তের মৌলিক নীতিকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে না। অবশ্য অভিজ্ঞতার আলোকে যদি সেগুলো অপরিহার্য বলে মনে হয়, তবে তখন তা তলব করা যেতে পারে।

৫২৫। তবে রায়ত বা কৃষকদের ক্ষেত্রে তাদের সুরক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজন যে, তাদের সাথে সম্পাদিত বন্দোবস্তের বিষয়টি নথিবদ্ধ বা লিপিবদ্ধ করা হোক। প্রতিটি জমিদারিতে, যেখানে রাজস্ব আদায়ের প্রচলিত আইন লঙ্ঘিত হয়নি, সেখানে বর্তমানে এই পদ্ধতিই অনুসৃত হচ্ছে।

৫২৬। আমি এখন এমন একটা ধারণার বিষয়টি বিবেচনা করব যেখানে মনে করা হয় যে, জমিদারদের ওপর চাপানো জমা বা রাজস্বের পরিমাণ বিভিন্ন পরগনা ও গ্রামের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া ছাড়া তাদের থেকে আর কোনো তথ্যের প্রয়োজন নেই; এবং জমির প্রকৃত মূল্য নিরূপণ বা খুঁটিনাটি বিষয়ে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের জমির দখল ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া হয়।

৫২৭। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং সেই সাথে তদন্ত কমিটির অভিজ্ঞতা — যাদের প্রতিবেদন আমি উদ্ধৃত করেছি — তা থেকে দেখা যায় যে, প্রাচীন প্রথা বা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অবহেলার ফলে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কানুনগো পদের কার্যকারিতা লোপ পাওয়া এর অন্যতম কারণ; অথচ বার্ষিক পরিবর্তনশীল রাজস্ব বা জমা নির্ধারণের প্রচলিত ব্যবস্থায় এই পদটি ছিল অপরিহার্য। দেওয়ানি লাভের পর টানা পাঁচ বছর ধরে রাজশাহী জমিদারির পক্ষ থেকে সরকারকে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা রাজস্ব প্রদান করা হয়েছিল; কিন্তু গত পনেরো বছরে এই গড় পরিমাণ ২১ লক্ষ টাকার বেশি হয়নি। বিভিন্ন সময়ে এই জমিদারি সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনায় ন্যস্ত করা হলেও তাতে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি; রাজস্বের এই ঘাটতির কারণ কী? আংশিকভাবে এর কারণ হতে পারে জমিদারির জনশূন্য বা জনবিরল অবস্থা, যা মূলত ধারাবাহিক অব্যবস্থাপনারই ফল। তবে একই সাথে এটাও স্বীকার করতে হবে যে, জেলার অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা আমাদের দুটো বিষয় থেকে বঞ্চিত করেছে: প্রথমত, প্রকৃত কারণটি নির্ণয় করা এবং দ্বিতীয়ত, আমাদের নিজস্ব হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির সংশোধন করা। বর্তমানে জমিদারদের থেকে কী পরিমাণ রাজস্ব দাবি করা উচিত, সে বিষয়ে আমরা কেবল অনুমানই করতে পারি; অথচ আদায়ের হিসাব বা নথিপত্র যদি যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকত, তবে প্রকৃতপক্ষে কত অর্থ আদায় হয়েছে তা জানা যেত এবং আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্যটি পাওয়া সম্ভব হতো।

৫২৮। আমরা এও জানি যে, জমিদাররা প্রতিনিয়ত তাদের রায়ত বা প্রজাদের ওপর নতুন নতুন কর বা সেস (cess) চাপিয়ে থাকেন এবং রাজস্ব আদায়ের মৌলিক নিয়মগুলো লঙ্ঘন করে প্রজাদের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ আদায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করেন। এটা একটা অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা; কারণ এর ফলে সরকারের সুরক্ষাবঞ্চিত প্রজারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি তাদের ওপর ধার্যকরা করের হার নিয়ন্ত্রণ বা নির্ধারণের জন্য আমাদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দেয় — এমন একটা কাজ যা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মতো সক্ষমতা বা সামর্থ্য আমাদের খুব কমই থাকে। যদিও এমনটা করা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়, তবে আমার বিশ্বাস, সাধারণত তা সরকার কিংবা প্রজাদের — যেকোনো এক পক্ষের — ক্ষতি করেই করা হয়েছে; অর্থাৎ, রাজস্বের পরিমাণ হয়তো যতটা হওয়া উচিত ছিল তার চেয়ে কমিয়ে রাখা হয়েছে, অথবা অত্যধিক উচ্চ হারে বহাল রাখা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রথমোক্ত বিষয়টিই ঘটে থাকে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev