| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গপুঙ্গবের রাখী : অসিত দাস কবরের মানুষ : সোহেল আর রানা (তরু) আজ রাখী বন্ধন…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নিম্নচাপের বৃষ্টিতে নষ্ট সবজি, আকাশ ছোঁয়া দামে নাজেহাল মানুষ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় রামযাত্রার মাঠ ফাঁকা : অয়ন মুখোপাধ্যায় যাদবপুরের যাদবদের গোপালনের ইতিহাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাম নামে কাম নাই, আমিই তো রাম : দিলীপ মজুমদার তৃষিত মাঠের খসড়া : বিশ্বজিৎ মণ্ডল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মাঠের মাছ ও একটি ঢ়োড়া সাপের গল্প : সুব্রত দত্ত রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর — সমস্যা সমাধানে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ যাদবপুর নামটি এল কোথা থেকে : অসিত দাস ইতিহাস গড়ে নারী, ইতিহাস ধরা থাকে অক্ষরে : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজেপির দুর্ধর্ষ আই টি সেল থেকে মালব্য বিদায় : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বার্ধক্যের নিঃসঙ্গ ছায়া: একাকীত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও অবসাদ : যশোবন্ত রায় মনসার ঢেলাফেলা পার্বণ মনসাভক্তদের একচক্ষু দেবীকে নিবেদনের লোকাচার : অসিত দাস সংকট সমাধান ও সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার এখন বারাণসী যেতে মন চায় না : বিজয় চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ রাখি পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৯৯ Views জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

৩৯৬. ‘ফাক্কা পাট্টা’য় (Fucka puttahs) সাধারণত প্রতি বিঘা জমির জন্য একটা নির্দিষ্ট হার উল্লেখ থাকে, যাতে অন্য কোনো শর্ত বা উপাদানের উল্লেখ থাকে না; কিন্তু সেই মোট অঙ্কের মধ্যেই হিসাব-নিকাশের সময় বিদ্যমান বিভিন্ন উপকর অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং কখনও কখনও আরও কিছু কর যুক্ত করে মূল হারের সাথে একীভূত করা হয়।

৩৯৭. ক্রমাগত কর আরোপের ফলে খাজনার বোঝা যখন অত্যধিক হয়ে দাঁড়ায়, তখন রায়তরা হয় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়, অথবা জমিদার তাদের সুবিধাজনক হারে অন্য জমি দিয়ে ক্ষতিপূরণ বা রফা করেন; তবে কর মওকুফ করা বা অন্য জমির হার কমিয়ে দেওয়ার ঘটনা খুব কমই ঘটে। অবশ্য কিছু কিছু জায়গায় ‘আবওয়াব’-এর অত্যধিক বৃদ্ধির ফলে ‘আসল’ (মূল খাজনা)-এর পরিমাণে আনুপাতিক হারে হ্রাস ঘটেছে; বিশেষ করে দিনাজপুরের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়।

৩৯৮. জমি যখন পরিমাপ করা হয়, সে সময় বিদ্যমান হারগুলোই বহাল রাখা হয় এবং সাধারণত তার সাথে কিছু বাড়তি করও যোগ করা হয়। যেখানে কোনো নির্দিষ্ট হার পাওয়া যায় না, সেখানে পরিমাপকরা স্থানের কাছাকাছি সমমানের অন্য জমির হারের সহায়তা নেওয়া হয়; তবে সেক্ষেত্রে হার নির্ধারণ বা রফা করা বেশ কঠিন কাজ। এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপই বিবাদের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়; উভয় পক্ষের দাবিই অযৌক্তিক হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতার মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি ঘটে।

৩৯৯. এই হারগুলো নথিবদ্ধ করা ‘পাটোয়ারী’র কাজ; অতীতে ‘মফস্বল কানুনগো’রাও এগুলি লিপিবদ্ধ করতেন। এবং প্রয়োজনে এগুলি সরকারি পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকত।

৪০০. আমার ধারণা, কোনো নির্দিষ্ট জেলায় কোনো একটা নির্দিষ্ট ধরনের ফসলের জন্য সুনির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করা অসম্ভব; কারণ মাটির গুণমান এবং জমির অবস্থান — যেমন বাজার ও জলপথে পরিবহনের সুবিধাই তা নির্ধারণ করে। এই মন্তব্য সব ধরনের ফসলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

৪০১. যেখানে জমির হার সুনির্দিষ্ট ও জানা থাকে, সেখানে একজন রায়ত বা কৃষক অতিরিক্ত বা অন্যায় কর আদায়ের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা পান — অবশ্য যদি সরকারি কর্মকর্তা তাঁর অভিযোগ শোনেন ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন; অন্যথায় তাঁর কোনো সুরক্ষাই থাকে না। ‘পাট্টা’ (জমির বন্দোবস্ত-পত্র) থেকে তিনি যে বাড়তি সুরক্ষা পান — যদি তা উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে — তা হলো এই যে, এতে অন্য কোনো হিসাবের উল্লেখ ছাড়াই জমির ভোগদখলের শর্তাবলি এবং ‘আবওয়াব’ বা উপ-করের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে; অথচ এই আবওয়াব বা উপকর ‘নিরখবন্দী’ (হারের তালিকা) বা সবসময় ‘জমাবন্দী’ (রাজস্বের হিসাব)-তে উল্লেখ করা থাকে না।

৪০২. যেসব স্থানে হিসাবপত্র অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে রাখা হয় এবং নির্ধারিত হার মেনে চলা হয়, সেখানেও প্রতিটি রায়তের প্রদেয় বার্ষিক খাজনা নির্ধারণ বা সমন্বয় করাটা সহজসাধ্য নয়। প্রচলিত পদ্ধতি হলো জমি জরিপ করা এবং তার সাথে আগের বছরের হিসাবের তুলনা করা; আগের বছরের হিসাবে জমির আপেক্ষিক অবস্থানসহ সব ধরনের চাষাবাদের বিবরণ উল্লেখ থাকে। যখন জমির বাস্তব অবস্থার সাথে হিসাবের বিবরণ হুবহু মিলে যায়, তখন খাজনা নির্ধারণে বিশেষ কোনো সমস্যা হয় না; কিন্তু যখন অমিল দেখা দেয় — যেমন চাষের আওতায় জমির পরিমাণ বেশি পাওয়া যায় অথবা একই জমিতে উন্নত মানের ফসল ফলানো হয়েছে বলে দেখা যায় — তখন সেই জমির জন্য বাড়তি খাজনা দাবি করা হয় এবং তা নির্ধারণের জন্য প্রায়শই নতুন করে পরিমাপ বা মাপজোখের আশ্রয় নেওয়া হয়। কাজের প্রকৃতি থেকেই বোঝা যায় যে, কেবল এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিরই তা সম্পন্ন করা সম্ভব।

৪০৩. সম্রাটদের নির্দেশাবলিতে রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তাদের সর্বদা মূল্যবান ফসল সংরক্ষণের জন্য উৎসাহিত ও নির্দেশিত করা হতো।

৪০৪. আমার ধারণা, বাংলার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় সুনির্দিষ্ট হার অনুযায়ী খাজনা আদায় করা সম্ভব; এবং আমি যেসব অনিয়মের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছি তা সত্ত্বেও, এটা স্পষ্ট যে কোনো না কোনো মানদণ্ড নিশ্চয়ই বিদ্যমান; কারণ, এই ব্যবস্থা ছাড়া প্রতি বছর যেভাবে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়েছে, তা কখনোই সম্ভব হতো না। একদিকে যেমন জোরকরে আদায় বা অতিরিক্ত করের চাপ থাকে, অন্যদিকে তেমনি তার বিপরীতে চলে নানা রকম কারচুপি ও গোপন আঁতাত; তবে আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে, রায়তদের ওপর করের বোঝা আগের মতোই অত্যন্ত ভারী।

৪০৫. জমিকে ‘রায়তি’ ও ‘খামার’ — এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়; রায়তি জমির খাজনা নগদে এবং খামার জমির খাজনা ফসলের আকারে (শস্য হিসেবে) পরিশোধ করা হয়। সাধারণত জমির উৎপাদনের অর্ধেক অংশ জমিদার এবং বাকি অর্ধেক চাষি পান; তবে নির্ধারিত এই ভাগের বাইরেও চাষিকে সাধারণত উৎপাদনের খরচের একটা অংশ বহন করতে হয়।

৪০৬. ‘খুদ-কাশত’ রায়ত — অর্থাৎ যারা নিজ বাসস্থানের গ্রামের জমিই চাষাবাদ করেন — তাদের সাধারণত কোনো সময়সীমা ছাড়াই পাট্টা দেওয়া হয়; এতে উল্লেখ থাকে যে, তারা প্রতি বছর খাজনা পরিশোধ সাপেক্ষে জমি ভোগ-দখল করবেন। এ থেকেই ‘স্বত্ব-দখল’ বা দখলি স্বত্বের উদ্ভব ঘটে। দীর্ঘদিনের প্রথা বা রীতি অনুযায়ী এটাও স্বীকরা যে, এই শর্তে জমি ভোগকারী রায়তরা তাদের দখলে থাকা জমির কোনো অংশ ছেড়ে দিলে কিংবা চাষাবাদের ধরন পরিবর্তন করলে তাদের দখলি স্বত্ব বাতিল হয়ে যেতে পারে (যদিও বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়); আর জমিদাররা এক্ষেত্রে খাজনার পার্থক্যটুকু দাবি ও আদায় করে থাকেন। আমি আরও জেনেছি যে, এই দখলি স্বত্ব কেবল মূল ভোগকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রেও তা বলবৎ থাকে।

৪০৭. ‘পাই-কাশত’ রায়ত — অর্থাৎ যারা নিজেদের বাসস্থানের বাইরের কোনো গ্রামের জমি চাষ করেন — তাদের জমির ভোগ-দখলের শর্ত বা মেয়াদ অপেক্ষাকরা অনির্দিষ্ট প্রকৃতির হয়ে থাকে। তাদের দেওয়া পাট্টায় সাধারণত একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ থাকে; শর্তাবলিকে প্রতিকূল বা অলাভজনক মনে হলে তারা অন্য কোনো স্থানে চলে যান।

৪০৮. আমার জানা ও অনুসন্ধান অনুযায়ী সাধারণ রীতিনীতি ও কার্যপদ্ধতি এমনই; তবে এমন কিছু স্থানীয় প্রথাও রয়েছে যা কেবল সরেজমিনে তদন্তের মাধ্যমেই জানা সম্ভব। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী জমিদার রায়তদের জমি পরিমাপ করতে পারেন না, যদি না রায়তরা পাট্টা ও ‘জমা-বন্দি’ (রাজস্বের হিসাব-তালিকা) অনুযায়ী খাজনা পরিশোধে ব্যর্থ হন। এই বিবরণ থেকে যেসব অসুবিধা ও অনিয়মের কথা অনুমান করা যায়, তার মধ্যে প্রধানগুলো হলো:

ধাপে ধাপে নতুন নতুন কর বা বাড়তি বোঝা চাপানো।

এসব করের আধিক্য এবং রায়তদের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করার জটিলতা।

৪০৯. এখন আমি বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত সেই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরব ও পর্যালোচনা করব, যার লক্ষ্য হলো ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং বিদ্যমান অনিয়মগুলো দূর করা।

৪১০. মিস্টার ফ্রান্সিস প্রস্তাব করেছিলেন যে, জমিদারদের জন্য একটা অপরিহার্য শর্ত রাখা উচিত — যাতে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের প্রজাদের নতুন পাট্টা প্রদান করেন। এই পাট্টার শর্ত হতে পারে হয় জমিদারের নিজস্ব নির্ধারিত খাজনার (quit rent) অনুরূপ — অর্থাৎ জমিদারের খাজনা অপরিবর্তিত থাকা পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে — অথবা পারস্পরিক সম্মতিক্রমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তা নির্ধারিত হবে। প্রথমোক্ত পদ্ধতিটিই এদেশের প্রচলিত প্রথা। এটা প্রতিটি রায়তের জন্য একটা নতুন ‘আসল জমা’ (মূল খাজনা) হিসেবে গণ্য হবে এবং জমিদারের নির্ধারিত খাজনার মতোই তা অলঙ্ঘনীয় হওয়া উচিত। পাট্টাটি অত্যন্ত সহজ ও সরল ভাষায় লেখা হওয়া উচিত, যাতে কোনো প্রকার ‘আবওয়াব’ বা ‘মুঠোট’ (অতিরিক্ত কর বা চাঁদা)-এর উল্লেখ না থাকে; এতে কেবল চাষকরা জমির পরিমাণ (বিঘা হিসেবে) এবং উৎপাদিত ফসলের ধরন বা মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী খাজনার তারতম্য উল্লেখ থাকবে।

৪১১. কারও কারও মতে, কালেক্টরদেরই রায়তদের পাট্টা প্রদান করা উচিত; এবং আমার বিশ্বাস, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা এই পদক্ষেপের অনুমোদনও দিয়েছিলাম। তবে ইদানীং এই বিষয়ক আবেদনগুলো সামগ্রিক বিবেচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

৪১২. আমি ইতিপূর্বে যেসব পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করেছি, তার পাশাপাশি এই বিষয়ে কালেক্টরদের পরামর্শগুলোকেও এখানে একনজরে তুলে ধরা সমীচীন হবে।

বীরভূম ও বিষ্ণুপুর।

৪১৩. কালেক্টর বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতারণা ও জবরদস্তিমূলক আদায়ের — যা মূলত প্রধান রায়ত বা মণ্ডলরাই করে থাকে — বিবরণ দেওয়ার পর, এগুলোর হাত থেকে রক্ষার উপায় হিসেবে সমগ্র বীরভূম জুড়ে ব্যাপকভাবে পাট্টা বিতরণের সুপারিশ করেছেন এবং এ উদ্দেশ্যে একটা পাট্টার খসড়া বা নমুনাও প্রস্তাব করেছেন।

৪১৪. পাট্টা বিতরণের মাধ্যমে যে মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে, তার অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য তিনি প্রতিটি পরগনায় একজন ‘শেরস্তাদার’ নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। এই কর্মকর্তার দায়িত্বের বিবরণ থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর কাজগুলো মূলত অতীতের ‘নায়েব কানুনগো’দের কাজের মতোই, তবে এক্ষেত্রে তাঁদের ক্ষমতার পরিধি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। রায়তদের দাবি ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তিনি নিজে যেসব নিয়ম বা পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, সে সম্পর্কেও তিনি অবহিত করেছেন।

৪১৫. কিন্তু বিষ্ণুপুরের ক্ষেত্রে তিনি পাট্টা প্রদানের সুপারিশ করেননি; কারণ এর ফলে সরকার… প্রতারণা ও গোপন আঁতাত উদঘাটনের সুবিধা।

বর্ধমান।

৪১৬. এই জমিদারির ক্ষেত্রে কালেক্টর আমাদের জানিয়েছেন যে, এখানকার প্রজাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি প্রজার কাছে ‘পাট্টা’ নেই; আর যেসব পাট্টা দেওয়া হয়েছে, তা জমিদার নিজে না দিয়ে ইজারাদার বা তাঁদের গোমস্তারা দিয়েছেন। প্রজাদের প্রদেয় খাজনা প্রথা ও রীতিনীতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং এই পাট্টাগুলো স্থায়ী প্রকৃতির নয়; কারণ, যখন পূর্বের তুলনায় অধিক লাভজনক কোনো ফসল ফলানো হয়, তখন সেই বাড়তি লাভের হিসাব প্রজাদেরই দিতে হয়। আমি যেসব পাট্টা দেখেছি, তার কয়েকটিতেই এমন শর্তের উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও জানান যে, প্রজাদের ভূমিস্বত্ব বা দখলি স্বত্বের ভিন্নতার কারণে কোনো একটা নির্দিষ্ট বা সাধারণ ধরনের পাট্টা প্রবর্তন করা অবাস্তব; একইভাবে জমির পরিমাণ কিংবা ফসলের গুণমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় খাজনা (quit rent) নির্ধারণ করাও সম্ভব নয় — কারণ ফসলের গুণমান বা উৎপাদন নানা আকস্মিক কারণে পরিবর্তিত হতে পারে।

৪১৭. আদেশ মেনে তিনি একজন দক্ষ জমিদারি কর্মকর্তার সহায়তায় একটা পাট্টার খসড়া প্রস্তুত করেছেন; তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, মফস্বল ব্যবস্থাপনায় যেকোনো নতুন পরিবর্তনের প্রতি যে ধারাবাহিক বিরোধিতা দেখা যায়, তাতে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। এই বিষয়ের পাশাপাশি আমি আরও একটা তথ্য যোগ করতে চাই — যা আমার বিশ্বাস সত্য — তা হলো, বর্তমানে বর্ধমান জমিদারির সর্বত্রই কৃষিকাজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যদিও বাংলার অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় সেখানকার রায়তদের ওপর করের বোঝা অনেক বেশি।

ঢাকা।

৪১৮. এই মন্তব্যগুলো প্রদেশের কেবল একটা বিভাগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কালেক্টর মিস্টার ডে আমাদের জানিয়েছেন যে, ঢাকা জেলার উত্তরাঞ্চলে খাজনা আদায়ের পদ্ধতি হলো ফসল তোলার ঠিক আগে প্রতিটি ভাড়াটিয়ার (বা রায়তের) দখলে থাকা জমির ‘হস্তবুদ’ বা পরিমাপ করা; সেই অনুযায়ী জমির মূল্যমান নির্ধারণ ও খাজনা আদায় করা হয়। তিনি আশঙ্কা করছেন যে অন্যান্য জায়গাতেও একই পদ্ধতি চালু আছে এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য এর চেয়ে হতাশাজনক আর কিছু হতে পারে না।

৪১৯. সাধারণত জমিদাররা রায়তদের সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেন না, বরং সাধ্যমতো খাজনা আদায় করেন। খাজনা মওকুফের সুবিধা কখনোই রায়তদের পর্যন্ত পৌঁছায় না; আবার খাজনা বৃদ্ধির বিষয়টিও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। কথিত আছে যে, নানাবিধ কর বা আবওয়াব চাপানো হয় যার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই; আর আনুষ্ঠানিক চুক্তির অভাব থাকায় অনিয়ম বা অপব্যবহার শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর জন্য অবিলম্বে প্রতিকার প্রয়োজন; তাই তিনি প্রস্তাব করেছেন যে, জমিদারদের তাদের নিজস্ব ইজারার মেয়াদের জন্য রায়তদের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য করা উচিত। তিনি একটা পাট্টার নমুনাও পাঠিয়েছেন। [২০৭]

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev