
৪৫০. ‘কমিটি অফ সার্কিট’-এর মাধ্যমে যখন পাঁচ-সালা বন্দোবস্ত সম্পন্ন করা হয়েছিল, তখন ইজারাদার ও জমিদারদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে বেশ কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রজাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। যেমন, মূল রাজস্ব-বহির্ভূত যেসব জমি ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে ব্যবহৃত হতো, সেসব জমি বাজেয়াপ্ত বা নতুন করে নিজেদের দখলে নেওয়া তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল; পাশাপাশি ‘বাজি-জমা’, ‘হালদারি’, ‘মোরাচা’ ও ‘সালামি’ নামে পরিচিত বিভিন্ন বাড়তি কর বা শুল্ক আদায় করাও তাদের জন্য বারণ ছিল। তাদের নতুন করে ‘ব্রহ্মোত্তর’ বা অনুরূপ কোনো জমি অনুদান দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল; তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা মফস্বলে রায়তদের চাষকরা জমি থেকে গত বছরের মূল ‘জমা’ (রাজস্ব) এবং বর্তমান সময়ে প্রবর্তিত ‘আবওয়াব’ (অতিরিক্ত কর) আদায় করেন এবং কোনোভাবেই এর চেয়ে বেশি কিছু দাবি না করেন। যেসব ক্ষেত্রে রায়তরা কোনো ‘পাট্টা’ (জমির বন্দোবস্ত-পত্র) ছাড়াই জমি চাষ করত, সেখানে ‘পরগনা’র প্রচলিত হার অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের বিধান ছিল। পূর্ববর্তী ‘মালগুজারি’ (রাজস্ব) সংক্রান্ত আরেকটি ধারায় বলা হয়েছিল যে, বর্তমান বছরের চাষাবাদের জন্য প্রদত্ত ‘পাট্টা’-ই হবে রায়তদের থেকে রাজস্ব আদায়ের মানদণ্ড এবং এই নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল। এছাড়া যেকোনো ধরনের ‘নজর’, ‘সালামি’ বা ‘পারবনি’ (উৎসবকালীন উপঢৌকন) গ্রহণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
৪৫১. সেরেস্তার হিসাবের তুলনামূলক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একজন মোহরীরও নিয়োগ করা হয়েছিল; এবং যেকোনো ধরনের গোপন ও অবৈধ আঁতাত স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
৪৫২. পূর্ববর্তী একটা ধারার ব্যাখ্যায় চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ১১৭২ সালের ‘আসল’ (মূল রাজস্ব) ও ‘আবওয়াব’ (অতিরিক্ত কর)-এর সাথে ১১৭৩ সাল থেকে সদর দপ্তরের নথিপত্র অনুযায়ী এর ওপর যুক্ত হওয়া আবওয়াবগুলো একত্রিত করে রাজস্ব আদায়ের একটা মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে।
৪৫৩. বিধিনিষেধগুলোর ভাষা যতটা নিখুঁত হতে পারত ততটা না হলেও, সেগুলোর ভিত্তি ছিল রাজস্ব আদায়ের একটা প্রতিষ্ঠিত নীতির ওপর। এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, যদি সেগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করা হতো, তবে বর্তমান সমস্যাগুলোর উদ্ভব হতো না; কিন্তু বাস্তবতা হলো তা করা হয়নি। ফলে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় মফস্বলের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান বন্দোবস্তের সময়ের চেয়েও কম ছিল।
৪৫৪. ইজারাদাররা তাদের সাধ্যমতো অর্থ আদায় করত; প্রজাদের ক্ষমতা অনুযায়ী দাবির পরিমাণ নির্ধারণ করত। মফস্বলের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা অনিয়ম শনাক্ত ও প্রতিরোধে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকার দুটো বিপরীতমুখী উদ্দেশ্যের — একদিকে সম্পাদিত বন্দোবস্ত অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যদিকে অতিরিক্ত কর আদায় বা লুঠ প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষা — দ্বন্দ্বে পড়ে কখনো ইজারাদারদের সমর্থন করতে, আবার কখনো তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হতো। তবে উভয় ক্ষেত্রেই এর ফলস্বরূপ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া রাজস্বের ঘাটতি দেখা দিত। ১৭৮১ সালে কালেক্টরদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে অতীতের অভিজ্ঞতাগুলো আরও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে এবং বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা আরও বৃদ্ধি পায়।
৪৫৫. তখন যে ‘কবুলিয়ত’ (চুক্তিপত্র) প্রবর্তিত হয়েছিল তা পরবর্তীকালেও বলবৎ থাকে; এবং চুক্তির শর্তানুযায়ী প্রতিটি নতুন ইজারাদার তার পূর্বসূরি যে পরিমাণ অর্থ দাবি করতেন, তা আদায়ের অধিকার নিজের আছে বলে মনে করত। ফলে কার্যত প্রতিটি নতুন কর বা ‘সেস’ (cess) স্থায়ী রূপ লাভ করে।
৪৫৬. এই বিস্তারিত বিবরণের সাথে আমি কেবল একটা কথাই যোগ করতে চাই: বিধিনিষেধগুলো কার্যকর করা হয়নি বলেই যে সেগুলো অকার্যকর বা অপ্রয়োজনীয় ছিল — এমনটা মনে করা ঠিক হবে না। এই পার্থক্যটি বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ক্ষেত্রেও অত্যন্ত যথার্থভাবে প্রযোজ্য।
৪৫৭. আসন্ন বন্দোবস্তের জন্য আমি যে প্রস্তাবনাগুলো পেশ করব, তা মূলত দুটো প্রধান নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
৪৫৮. সরকারের রাজস্বের নিরাপত্তা এবং তার প্রজাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা।
৪৫৯. প্রথম বিষয় — অর্থাৎ রাজস্বের নিরাপত্তা — সর্বোত্তমভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে জমিদার বা ভূমির মালিকদের সাথে স্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পাদনের মাধ্যমে; কারণ তাঁদের মালিকানাধীন ভূমিই সরকারের জন্য জামানত বা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে।
৪৬০. দ্বিতীয় বিষয়টি — অর্থাৎ প্রজাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা — নিশ্চিত করতে হবে কর-সংক্রান্ত একটা স্বীকরা নীতি যথাসম্ভব বাস্তবায়নের মাধ্যমে। নীতিটি হলো: প্রত্যেক ব্যক্তিকে যে কর দিতে হবে, তা হতে হবে সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত; কোনোভাবেই তা খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারী হওয়া চলবে না। কর প্রদানের সময়, পদ্ধতি এবং প্রদেয় অর্থের পরিমাণ — এ সবকিছুই করদাতার কাছে এবং অন্য সকলের কাছে স্পষ্ট ও বোধগম্য হওয়া আবশ্যক।
৪৬১. এই নীতিগুলোর সাফল্যের জন্য এটা অপরিহার্য যে, বন্দোবস্তটি এমন ন্যায্য ও পরিমিত শর্তে সম্পন্ন করা হোক, যাতে চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে পালনের পরেও জমিদাররা তাঁদের চুক্তির মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন। ‘সোয়ালো’ (Swallow) জাহাজে করে আসা কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের চিঠির ৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বন্দোবস্তের সময়কাল সম্পর্কে নিম্নলিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: ‘অতএব আমরা নির্দেশ দিচ্ছি যে, আপনারা ‘সুনির্দিষ্টভাবে দশ বছরের মেয়াদের জন্য রাজস্ব নির্ধারণ’ করুন।’ তবে একই চিঠির ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত নির্দেশগুলোর প্রতিও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। [২১১]
‘আমাদের অভিপ্রায় হলো, বর্তমানে যে ‘জমা’ বা রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে — তা আমাদের অনুমোদন ও চূড়ান্ত স্বীকৃতি লাভের পর — বাংলায় আমাদের অধিকরা ভূখণ্ডের স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় রাজস্ব হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে কোনো জরুরি ও বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া — বিদেশে কর্মরত আমাদের কর্মচারীরা কিংবা খোদ আমরাও — এতে কোনো ধরনের পরিবর্তন সাধনের ক্ষেত্রে কোনো নিজস্ব এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারব না।’
৪৬২. সুতরাং, বন্দোবস্তটি সুনির্দিষ্টভাবে দশ বছরের মেয়াদের জন্য করা হবে; তবে এর লক্ষ্য হবে স্থায়িত্ব অর্জন।
কিস্তি ৫১ স্তবক ৪৫০ টিকা
কমিটি অফ সার্কিট ও পঞ্চবার্ষিক বন্দোবস্ত
কমিটি অব সার্কিট (Committee of Circuit) ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শুরুর দিকের শাসনকালের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রাজস্ব ও প্রশাসনিক সংস্কার কমিটি। ১৭৭২ সালের মে মাসে বাংলার তৎকালীন গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings) এই কমিটি গঠন করেন। বাংলার দেওয়ানি লাভের পর (১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ) লর্ড ক্লাইভের দ্বৈত শাসনের ফলে রাজস্ব ব্যবস্থায় যে চরম বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, তা দূর করতেই হেস্টিংস এই পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ নেন। ওয়ারেন হেস্টিংস নিজে এই কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাঁর সাথে কাউন্সিলের আরও চারজন সদস্যকে নিয়ে এই কমিটি গঠিত হয়। বাংলার বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে সরাসরি স্থানীয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও লাভজনক ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা (Land Revenue Settlement) গড়ে তোলা।
কমিটি অব সার্কিট বিভিন্ন জেলা সফর করে ১৭৭২ সালের আগস্ট মাসে একটি সুদূরপ্রসারী বিচার ও রাজস্ব পরিকল্পনা পেশ করে। পাঁচশালা বন্দোবস্ত — কমিটি অব সার্কিটের সুপারিশ অনুযায়ী জমিদারি বা জমি থেকে রাজস্ব আদায়ের অধিকার সর্বোচ্চ ডাকদাতাকে ৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া শুরু হয়। এটিই ইতিহাসে ‘পাঁচশালা বন্দোবস্ত’ নামে পরিচিত। রাজস্ব আদায় এবং স্থানীয় প্রশাসনিক তদারকির জন্য প্রতিটি জেলায় একজন করে ইংরেজ কর্মকর্তা বা ‘কালেক্টর’ (Collector) নিয়োগ করা হয়। নবাবের দরবারের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রাজস্ব প্রশাসনের মূল কেন্দ্র মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। কলকাতায় ‘বোর্ড অব রেভিনিউ’ বা রাজস্ব বোর্ড গঠন করা হয়। এই কমিটির পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই হেস্টিংস প্রতিটি জেলায় দেওয়ানি (Civil) ও ফৌজদারি (Criminal) আদালত স্থাপন করেন।
তবে পঞ্চবার্ষিক বন্দোবস্তে চুক্তিতে কিছু শর্ত ছিল, যেমন — নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব পরিশোধ, জমিদারদের কর্তব্য, এবং প্রজাদের প্রতি আচরণের নিয়ম। ব্রিটিশরা এই শর্তগুলোর লক্ষ্য ছিল “সরকারের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রজাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা”। প্রশ্ন হল শোর শুধু ৪৫০ স্তবকেই নয় তাঁর আগে এবং পরেও বারবার রাজস্ব নির্ধারণে যে প্রজাকল্যাণের দোহাই দিচ্ছেন, তার সঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজস্ব সর্বোচ্চকরণের বিরোধ ছিল?
অবশ্যই ছিল — যদিও শোর তাঁর কাউন্সিল মিনিটে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে রাজস্ব ‘পরিমিত’ (moderate) হওয়া উচিত, কারণ অত্যধিক রাজস্ব জমিদার ও প্রজা উভয়ের জন্যই ধ্বংসাত্মক। এই যুক্তি ছিল মূলত পুঁজিবাদী দক্ষতা-ভিত্তিক — যদি প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তাহলে তারা জমি চাষ করা ছেড়ে দেবে, উৎপাদন কমবে, এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে যাবে। তাই শোর বলেছেন, “পরিমিত রাজস্বই দীর্ঘমেয়াদে বেশি রাজস্ব নিশ্চিত করে”। কিন্তু লর্ড কর্নওয়ালিস শোরের উল্টো দিকে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকে দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে ছিলেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে জমিদারদের মালিকানা নিশ্চিত করলেই তাঁরা জমির উন্নয়নে বিনিয়োগ করবেন এবং উৎপাদন বাড়বে। এই দৃষ্টিতে, জমিদারদের স্বার্থই প্রজাকল্যাণের চাবিকাঠি।
শোরের সতর্কবাণী সত্ত্বেও কর্নওয়ালিসের পথেই এগিয়েছে ইতিহাস। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হলে, জমিদারদের ওপর অত্যধিক রাজস্বের বোঝা চাপানো হয়। ফলে জমিদাররা খাজনা দিতে না পেরে জমি হারায় , এবং প্রজাদের ওপর অত্যাচার বাড়ে। আদতে শোরের ‘প্রজাকল্যাণ’-এর বাক্যবাণ ছিল একটি আবরণ। তিনি প্রজাদের স্বার্থে নয়, বরং সাম্রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্বার্থেই ‘পরিমিত’ রাজস্বের পক্ষে ছিলেন। তাঁর বিরোধ ছিল পদ্ধতি-র, লক্ষ্য নয়। কর্নওয়ালিস দ্রুত স্থায়ীকরণ চেয়েছিলেন, শোর ধীরে ধীরে তথ্যভিত্তিক নিষ্পত্তি চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনেই চেয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজস্ব কাঠামোকে সুসংহত ও দীর্ঘস্থায়ী করা।
আমরা যেন ভুলে না যাই উপনিবেশিক শাসনের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে ছিল কোম্পানির রাজস্ব সর্বোচ্চকরণের স্বার্থ। সাম্রাজ্যের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল —
১। সরকারের রাজস্ব নিশ্চিতকরণ : পঞ্চবার্ষিক বন্দোবস্তের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানির রাজস্ব আয়ের একটি স্থিতিশীল উৎস তৈরি করা। প্রজাদের কল্যাণের কথা বলা হলেও, চুক্তির শর্তগুলো ছিল কঠোর ও রাজস্ব-কেন্দ্রিক, যা জমিদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করত, এবং শেষ পর্যন্ত তা প্রজাদের ওপরেই পড়ত।
২। জমিদারি ব্যবস্থার পুনর্গঠন : এটি জমিদারদের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও কোম্পানির অধীনস্থ করার একটি কৌশল ছিল। আপনি যেভাবে দেখিয়েছেন, পরবর্তী চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের স্থায়ী মালিক বানিয়ে তাদের স্বার্থকে কোম্পানির সাথে বেঁধে ফেলেছিল। এই প্রক্রিয়ায় প্রজারা আরও বেশি শোষণের শিকার হয়েছিল।
৩। স্থানীয় বৈচিত্র্য ধ্বংস : পঞ্চবার্ষিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের একরূপীকরণ (standardization) শুরু হয়। এটি স্থানীয় প্রথা ও অধিকারকে উপেক্ষা করে একটি কেন্দ্রীভূত তথ্য-নির্ভর কাঠামো তৈরি করেছিল, যা আপনার পূর্ববর্তী যুক্তির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উপনিবেশের পতন হোক।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ