
৪৩৩. রায়তদের ‘পাট্টা’ (জমির স্বত্ব ও শর্তাবলি সম্বলিত দলিল) দেওয়ার ক্ষমতা কালেক্টরদের হাতে তুলে দিয়েছি। এই পদক্ষেপে যে আমরা নিশ্চিতভাবেই বহুকালের প্রতিষ্ঠিত নীতি থেকে অনেকটাই সরে আসছি এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই — অথচ এই একটা নীতি আমি সবসময় মেনে চলি — সেটা হলো, জমিদাররাই জমির মালিক। অতীতে এমন নজির থাকার জন্য রায়তদের ওপর ধার্য কর বা খাজনা নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপের অধিকার আমি স্বীকার করেছি ঠিকই; কিন্তু কোনো স্পষ্ট প্রয়োজন ছাড়া এ ধরনের হস্তক্ষেপের নীতি ও যৌক্তিকতার বিষয়ে আমার আপত্তি রয়েছে। কোনো জমিদার যদি প্রজা-সুরক্ষার জন্য নির্দেশিত আদেশ কার্যকর করতে অস্বীকার বা গড়িমসি করেন, কিংবা তা কার্যকর করতে অক্ষম হন, তবেই কেবল কালেক্টরের হস্তক্ষেপ সমীচীন হতে পারে। রায়তদের খাজনা নির্ধারণ করা মূলত জমিদার বা ভূমির মালিক এবং তাঁর প্রজাদের মধ্যকার একটা বিষয়, সরকারের নয়; তাছাড়া এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এতটাই জটিল যে, এ বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান না থাকলে তা সামলানো সাধারণ ব্যক্তির পক্ষেই কঠিন। যেখানে খাজনার হার আগে থেকেই নির্ধারিত আছে বা কোনো স্থায়ী নিয়ম মেনে খাজনা আদায় করা হয়, সেখানে কালেক্টরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই; আর যেখানে পরিস্থিতি ভিন্ন, সেখানে খাজনার হার ঠিক করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। কালেক্টরের কোনো ভুল সংশোধনের ভার পরবর্তীকালে জমিদারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়; বরং জমিদারের ভুলত্রুটি সংশোধন করাই সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কালেক্টরকে জমির খাজনার হার নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া আমাদের উচিত হবে না। কালেক্টরের হস্তক্ষেপের চেয়ে বরং প্রতিষ্ঠিত প্রথা এবং জমিদারির কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানে থাকা মফস্বল কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করাই অধিকতর নিরাপদ; কারণ কালেক্টরের ওপর এমনিতেই কাজের যে চাপ থাকে, তাতে তাঁর পুরো সময়টাই ব্যয় হয়ে যায়। তবে জমিদারির কর্মকর্তাদের দ্বারা চূড়ান্ত হওয়ার পর কোনো রায়তের পাট্টা বা ‘জমা-বন্দি’ (খাজনার হিসাব-নথি)-তে কালেক্টরের স্বাক্ষর করার ক্ষমতা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার তেমন কোনো আপত্তি নেই। আমি এখন অন্যান্য প্রস্তাবের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
৪৩৪. ১৭৭৫ সালের ২২শে এপ্রিল রাজস্বের ভবিষ্যৎ বন্দোবস্ত সংক্রান্ত এক নথিতে (মিনিট) মিস্টার হেস্টিংস ও মিস্টার বারওয়েল প্রস্তাব করেন যে, ১১৭২ বঙ্গাব্দে (যে বছর কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করেছিল) শুরু করে পরবর্তী সময়ে দেশের কোনো অংশে রায়তদের ওপর যেসব নতুন কর আরোপ করা হয়েছে, তা যেন সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়। মিস্টার গ্রান্ট ১৭৮৮ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি তাঁর এক বক্তব্যে দেওয়ানি-ভুক্ত ভূমির ক্ষেত্রে একই প্রস্তাব করেন, তবে তিনি এমন একটা শর্ত বা সংযোজন যোগ করেন যা প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে বিদ্যমান কিছু জটিলতা দূর করে বলে মনে হয়। তিনি বলেন যে, কোম্পানি যেন ওইসব ভূমির ক্ষেত্রে তাদের বার্ষিক দাবিকে ‘আসল’, ‘আবওয়াব’, ‘কেফায়ত’ ও ‘তফুর’ (অর্থাৎ ‘মাল’ ও ‘সায়ের’ বা ভূমি ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া রাজস্বের ক্ষেত্রে দেওয়ানি লাভের সময় নির্ধারিত বৈধ আদায়)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে; এই দাবি একটা সাধারণ কর-নির্ধারণী কাঠামোয় আদায় করা হবে এবং এর থেকে কেবল মফস্বল-স্তরের যাবতীয় খরচ ও স্থানীয় পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত অর্থ বাদ দেওয়া হবে। আমি এখানে ‘সিডেড ল্যান্ডস’ বা হস্তান্তরিত ভূখণ্ড এবং সেগুলোর ও দেওয়ানি-ভুক্ত ভূমির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কর-হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করছি না; কারণ মিস্টার গ্রান্টের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিবেচ্য বিষয়গুলো এগুলোর জন্যও সমানভাবে খাটে। ১৭৭৫ সালে কোনো পদক্ষেপ যথাযথ ও বাস্তবায়নযোগ্য ছিল মানেই এই নয় যে বর্তমান সময়েও তা একইভাবে প্রযোজ্য হবে; এবং যদিও এটা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব নয়, তবুও কেন বর্তমানে এর প্রচেষ্টা চালানো উচিত নয়, তার কারণ আমি তুলে ধরব।
৪৩৫. মিস্টার গ্রান্টের প্রস্তাবটি দুটো দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন: প্রথমত, দেশের ওপর সরকারের দাবির মানদণ্ড হিসেবে; এবং দ্বিতীয়ত, রায়তদের থেকে খাজনা আদায়ের নিয়মাবলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে। [২০৯]
৪৩৬. প্রথম বিষয়ের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, কালেক্টরদের সরবরাহকরা হিসাবপত্র এবং তাঁদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা সরকারের দাবি নির্ধারণের জন্য আরও ভালো একটা মানদণ্ড পেয়েছি।
৪৩৭. দ্বিতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, জমিদারদের ওপর সরকারের দাবি নির্ধারণের পদ্ধতি এবং রায়তদের থেকে খাজনা আদায়ের পদ্ধতি — এ দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদিও একথা স্বীকার্য যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রায়তরা নায়েব-নাজিমের জমিদারদের ওপর চাপানো কর — মূল রাজস্বের (আসল) সাথে একই অনুপাতে এবং জমিদারদের মতোই একই নামে — শোধ করত, তবুও সব ক্ষেত্রেই যে এমনটা ঘটত তা নয়; বরং আমার মতে, সাধারণ ক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্রটিই সত্য।
৪৩৮. উদাহরণস্বরূপ, নদীয়া জেলায় মিস্টার গ্রান্ট বলছেন বারোটি ‘আবওয়াব’-এর মধ্যে সাতটি জমিদারদের ওপর ধার্য করা হয়েছিল — খাস-নবিসি, নজরানা, মুকারারি জের-মাথট, আবওয়াব-ই-সরফ-সিক্কা (১আনা), আবওয়াব-ই-ফৌজদারি এবং চৌথ-মারাঠা; আর এগুলোর মধ্যে কেবল শেষোক্ত দুটোই রায়তদের থেকে আদায় করা হতো। মোহাম্মদ আমিনপুর এলাকায় জমিদারদের ওপর পাঁচটি আবওয়াব ধার্য করা হয়েছিল এবং রায়তদের ওপর ধার্য করা হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে তিনটি — যথা: মাথট-ফুলকারা, চৌথ-মারাঠা এবং সরফ-সিক্কা (প্রতি রুপিতে ১আনা)। সাতসিক্কা এলাকায় জমিদারদের থেকে ছয়টি আবওয়াব আদায় করা হতো, কিন্তু রায়তদের থেকে আদায় করা হতো তার মধ্যে মাত্র একটা — চৌথ-মারাঠা। শেষোক্ত বিষয়টি সন্দেহজনক; তবে ১৭২৪ সালেই নদীয়ার রায়তদের ওপর ‘বিকি’ (beekee) ও ‘হলদারি’ (haldaree) নামে দুটো কর ধার্য করা হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল প্রতি টাকায় এক আনা ছয় গণ্ডা; এবং ১৭৫১ সালে ‘সাবধারি’ (subdharree) নামে আরও একটা কর যুক্ত করা হয়, যার হার ছিল প্রতি টাকায় প্রায় দুই আনা। সুতরাং, আমরা যদি মিস্টার গ্রান্টের সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করি — যার মাধ্যমে দেওয়ানি লাভের সময়কার সুনির্দিষ্ট ও বৈধ বারোটি করের মধ্যে দাবি সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে (তাঁর বিশ্লেষণে উল্লিখিত করগুলোকেই আমি এখানে বোঝাচ্ছি) — তবে আমাদের সেই তিনটি কর বাদ দিতে হবে যা আগেই প্রবর্তিত হয়েছিল এবং আজও বলবৎ রয়েছে; এই তিনটি করের মোট পরিমাণ তিন আনা ১৬ গণ্ডা। এই পরিমাণ রাজস্ব হ্রাসের ক্ষতি এড়াতে হলে তাঁর তালিকায় — যেখানে এগুলোর উল্লেখ নেই — ওই তিনটি কর যুক্ত করতে হবে। যেখানে এগুলোর অস্তিত্ব জানা আছে সেখানে এমনটা করা যেতে পারে, তবে তা যেন যথেচ্ছভাবে না করা হয়।
৪৩৯. যশোরে, নাজিমদের দ্বারা জমিদারদের ওপর চাপানো চৌদ্দটি করের (যার মধ্যে বারোটি রায়তদের ওপর বর্তাত) বাইরেও রায়তদের থেকে আরও উনিশটি ভিন্ন ধরনের কর আদায় করা হতো। মিস্টার গ্রান্টের তালিকায় উল্লিখিত ‘নজরানা মুকারারি’ (nuzzernah mokurrery) তারা পরিশোধ করত না।
৪৪০. অন্যান্য জেলাতেও অনুরূপ তারতম্য দেখা যায়। দেওয়ানি লাভের সময় সদর ও মফস্বল — উভয় স্তরেই করব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে উপযুক্ত জ্ঞান ছাড়া তাঁর প্রস্তাব মেনে নেওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বোঝানোর জন্য ওপরের তথ্যটুকুই যথেষ্ট। তা না হলে, মফস্বলের কোন করগুলো আমরা বহাল রাখছি আর কোনগুলো বাতিল করছি, তা আমাদের অজানা থেকে যাবে। মিস্টার গ্রান্টের বিশ্লেষণে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বিবরণ আমি পাইনি।
৪৪১. নদীয়ার কালেক্টর ১৭৮৭ সালের ৬ই মার্চ রাজস্ব বোর্ডের (Board of Revenue) কাছে পাঠানো এক পত্রে ১১৯০ ও ১১৯১ সালে প্রবর্তিত বিভিন্ন কর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরবর্তী অনুসন্ধান ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি দেখতে পান যে, ওই করগুলোর পরিবর্তে আসলে ছাড় বা মওকুফ (deductions) দেওয়া হয়েছিল এবং করগুলো তাঁর প্রাথমিক ধারণার মতো অতটা নিপীড়নমূলক ছিল না। তদনুসারে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যে, ১১৯১ সালের হার অনুযায়ীই যেন রাজস্ব আদায় করা হয়। এভাবেই ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা তাত্ত্বিক ভুলত্রুটিকে সংশোধন করে। এছাড়া, ১৭৮৮ সালের ২৫শে জুন তারিখের এক পত্রে যশোর জেলার কালেক্টর রাজস্ব বোর্ডকে (Board of Revenue) জানিয়েছিলেন যে, অনেক স্থানেই মূল রাজস্ব বা ‘আসল জমা’ (assul jumma) পরবর্তীকালে চাপানো ও বর্তমান জমার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন করের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে কিংবা হারিয়ে গেছে। একই বিষয়ে দিনাজপুর জেলার কালেক্টরের দেওয়া তথ্যও ইতিপূর্বে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
৪৪২. ১৭৭৮ সালে হুগলি জেলায় মিস্টার লুশিংটন একটা ‘জমাবন্দি’ (রাজস্ব নির্ধারণ তালিকা) প্রস্তুত করেছিলেন; পরবর্তীকালে রায়তদের প্রদেয় অর্থের হিসাব সেই তালিকার নিয়মাবলি অনুসারেই নির্ধারিত হয়ে এসেছে।
৪৪৩. এখন ধরা যাক, ‘দেওয়ানি’ লাভের পর থেকে চাপানো সমস্ত কর বাতিল করার জন্য একটা আদেশ জারি করা হলো; তাহলে এর ফল কী হতে পারে, তা পর্যালোচনা করা যাক।
৪৪৪. প্রথমত, রায়তদের থেকে কী পরিমাণ কর আদায় করা হতো তা জানার জন্য জমিদার ও ইজারাদারদের সেই নির্দিষ্ট বছরের হিসাবপত্রের শরণাপন্ন হতে হবে। এটা অত্যন্ত সম্ভাব্য — বরং নিশ্চিতভাবেই বলা যায় — যে অনেক জায়গাতেই সেই হিসাবপত্র হারিয়েছে অথবা এতটাই অগোছালো অবস্থায় রয়েছে যে সেগুলোর হদিস পাওয়া অসম্ভব; এমতাবস্থায় এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়ন করা অবাস্তব হয়ে পড়বে। তবে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে হিসাবপত্রগুলো পাওয়া গেল, তবুও সেগুলো খুঁজে বের করা, যাচাই-বাছাই করা এবং প্রয়োগ করার ঝামেলা হবে অন্তহীন। তাছাড়া, বর্তমানে রায়তরা যে হারে কর প্রদান করছে, তার পরিবর্তে সেই পুরনো আমলের হার মেনে নিতে তারা আদৌ সম্মত হবে কি না, কিংবা এই পরিবর্তনের ফলে তারা কোনোভাবে উপকরা হবে কি না — তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ থাকে। ১৭৬৫ সালের পর থেকে মফস্বল এলাকার পরিস্থিতিতে যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তা বিবেচনায় নিলে সেই আমলের নথিপত্র ও রেকর্ডগুলোর প্রয়োগ করা অত্যন্ত কঠিন হবে।
৪৪৫. মিস্টার গ্রান্ট যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এ ধরনের আদেশ জারি করা খুবই সহজ; কিন্তু এর তাৎক্ষণিক ফল হবে সরকারি রাজস্বের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া। চাপানো কর বাতিলের ফলে অনিবার্যভাবেই এমনটি ঘটবে; আর যদি না পুরনো করের হারগুলো অবিলম্বে পুনর্বহাল ও কার্যকর করা যায়, তবে প্রথম বছরেই নিশ্চিতভাবে রাজস্বের ক্ষতি হবে — সম্ভবত সেই ক্ষতির পরিমাণ সরকারি রাজস্বের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
৪৪৬. সর্বোপরি, এর মাধ্যমে কোনো সুবিধা অর্জিত হবে বলে আমার মনে হয় না। যদি ‘আসুল জমা’ (মূল রাজস্ব) এবং বারোটি ‘সুবাদারি আবওয়াব’ (অতিরিক্ত কর)-এর সমষ্টিই রায়তদের প্রদেয় অর্থের মাপকাঠি হতো, তবে নিঃসন্দেহে এটাকে সরকারি রাজস্বের এবং রায়তদের প্রদেয় খাজনা নির্ধারণ ও সীমাবদ্ধ করার একটা মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যেত। কিন্তু এর বিপরীতের আমাদের কাছে প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে; এবং আমার মতে, মিস্টার গ্রান্টের প্রস্তাবটি গ্রহণের ক্ষেত্রে এটা একটা অকাট্য আপত্তি হিসেবে গণ্য হয়। দিনাজপুরে যে বিপুল পরিমাণ ‘নজরানা’ প্রচলিত ছিল, তাঁর ‘অ্যানালিসিস’ বা বিশ্লেষণে তার কোনো উল্লেখ নেই।
৪৪৭. বর্তমান সময়ে রায়তদের থেকে আদায়যোগ্য খাজনার মানদণ্ড হিসেবে যদি ১৭৬৫ সালের আদায়করা রাজস্বকে গ্রহণ করার কোনো যৌক্তিক কারণ আমার কাছে প্রতীয়মান হতো, তবে আমি প্রথমেই প্রস্তাব করতাম যে, কালেক্টরদের নির্দেশ দেওয়া হোক যেন তাঁরা তৎকালীন করের হারের একটা হিসাব দাখিল করেন এবং সেই হারগুলো নতুন করে কার্যকর করা আদৌ সম্ভব কি না, কিংবা তা রায়তদের জন্য কোনো কল্যাণকর বা সরকারের জন্য লাভজনক হবে কি না — সে বিষয়ে তাঁদের মত প্রদান করেন। এই তথ্য ছাড়া, মিস্টার গ্রান্টের প্রস্তাবিত আদেশটি জারি করা হলে তা নিশ্চিতভাবেই জেলাজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং বর্তমান রাজস্বের পরিমাণ কমিয়ে দেবে; এছাড়া এটা আমাদের ওপর এমন সব খুঁটিনাটি কাজের বোঝা চাপিয়ে দেবে যা সামলানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এ ধরনের সম্ভাব্য পরিণতির কথা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর আবশ্যকতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকা উচিত নয়।
৪৪৮. একটা সাধারণ প্রস্তাব হিসেবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এই যুক্তিগুলোই উঠে আসে: আমি অবশ্য বলছি না যে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এটা আংশিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব নয়; কালেক্টরদের প্রতিবেদনগুলো — যা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে — তাতে যদি এমনটাই প্রতীয়মান হয়, তবেই আমরা এটা গ্রহণ করতে পারি, কারণ তখন আর আশঙ্কা করা অসুবিধাগুলো ঘটার সম্ভাবনা থাকবে না।
৪৪৯. জমিদার ও ইজারাদারদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা এবং রায়তদের (কৃষকদের) যোগসাজশ বা কারচুপি সীমিত করার লক্ষ্যে অতীতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, আমি এখন সেগুলো এবং কেন সেগুলো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি তার কারণগুলো তুলে ধরব।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ