
৫০২। নদীয়া কালেক্টরেটের অন্তর্গত কয়েকটি পরগনায় মিস্টার ফ্রান্সিসের প্রস্তাব পেশ করার সমসাময়িককালে ধার্যকরা খাজনার হিসাব এবং ১১৯৫ সালে ওই একই পরগনাগুলোর জমা-র (রাজস্বের) তুলনামূলক বিবরণী নিচে দেওয়া হলো, যা পূর্বোক্ত মন্তব্যগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে।

৫০৩। উপরের উদ্ধৃতিতে উল্লিখিত বুনুন (Boonun) পরগনা ৫৫,০০১ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু মৌসুমী দুর্যোগের কারণে ১১৯৫ সালে এর থেকে পাওয়া আয় কমে মাত্র ২৮,০০০ টাকায় নেমে আসে। এই পরগনাটি সম্পর্কে কালেক্টরের অভিমত হলো, এটাকে ১১৮৩ সালের রাজস্বের (জমা) পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে দশ বা বারো বছর সময় লাগবে এবং চাষাবাদে সহায়তার জন্য বর্তমান রাজস্বের অর্ধেক পরিমাণ অর্থ প্রতি বছর অগ্রিম হিসেবে প্রদান করতে হবে।
৫০৪। ধরা যাক, ১১৮৩ সালের রাজস্বের পরিমাণকে স্থায়ী ঘোষণা করা হলো এবং জমিদার কর্তৃক পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট বকেয়া পরিশোধের জন্য উপরের পরগনাগুলোর কোনোটি — অথবা সেগুলোর পরিবর্তে অধিক লাভজনক অন্য কোনো পরগনা — বিক্রি করা হলো। উভয় ক্ষেত্রেই — প্রথম বা দ্বিতীয় — সরকারের লোকসান হতো।
৫০৫। এই বিষয়গুলো বাংলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানে মোট রাজস্বের অর্ধেকই আসে ছ’টা বড় জমিদারির থেকে। আর যদি একথা সত্য হয় যে, বিভিন্ন কারণে এই পরগনাগুলোর আয়ে প্রতিনিয়ত ওঠানামা হতে পারে, তবে বর্তমান সময়ে নির্ধারিত কোনো নির্দিষ্ট রাজস্বের শর্তে সেগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে যে অসুবিধাগুলো দেখা দেবে, তা সহজেই অনুমেয়।
৫০৬। বিক্রিত পরগনাটি যদি নির্ধারিত রাজস্বের চেয়ে অনেক বেশি আয় দেয়, তবে জমিদারের অভিযোগ করার যৌক্তিক কারণ থাকবে।
৫০৭। আর যদি আয় অনেক কম হয় — এবং জমিটি যদি সহজে ও দ্রুত উন্নয়নের উপযোগী না হয় — তবে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন; ফলে জমিটি নতুন করে বিক্রি করতে হবে এবং রাজস্বের পরিমাণ কমাতে হবে। জমিদারের কোনো দোষ ছাড়াই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, অথচ তখন তাকে এমন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে যার যোগ্য তিনি নন।
৫০৮। পরিশেষে প্রশ্ন উঠতে পারে, ভবিষ্যতে বিক্রির উদ্দেশ্যে এখনই পরগনাগুলোর রাজস্ব নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয়তা কী? ক্রেতার নিরাপত্তার জন্য কেবল এটুকুই প্রয়োজন যে, পরগনাটি প্রকৃতপক্ষে বিক্রির আগেই তার রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ করা হোক। যেহেতু নির্দেশিত পদ্ধতিতে কিছু অসুবিধা রয়েছে, তাই আমাদের বিবেচনা করা উচিত যে, এমন কোনো বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করা যায় কি না যাতে এই অসুবিধাগুলো নেই। [২১৫]
৫০৯। এটা দুটো উপায়ে করা যেতে পারে; প্রথমত, জমিদারদের দিয়ে পরগনাগুলোর বার্ষিক জমার (রাজস্বের) হিসাব দাখিল করিয়ে — যেখানে সদর জমার অন্তর্ভুক্ত গ্রামগুলোর ওপর এই রাজস্ব ধার্য করা হয়েছে। আমার ধারণা, ইচ্ছাকরা বা অজ্ঞতাবশত এই হিসাবে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, তবে নিলামের মাধ্যমে ক্ষতির ঝুঁকি বড়জোর প্রথম বা দ্বিতীয়বারের বেশি ঘটবে না; কারণ একবার ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পর, জমিদার পরবর্তী ক্ষতি এড়াতে মোট মূল্যের অনুপাতে উপযুক্ত মান নির্ধারণের বিষয়ে আরও সতর্ক হবেন। অথবা দ্বিতীয়ত, নিলামের আগেই জমির মূল্য নির্ধারণ করা এবং বছরের শেষে সেই মূল্যের ভিত্তিতে প্রদেয় রাজস্বের পরিমাণ ঠিক করা। প্রয়োজনে কালেক্টরকে নির্দিষ্ট কিছু পরগনা বাজেয়াপ্ত বা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে — যেগুলোর নিলাম থেকে বকেয়া অর্থের সমপরিমাণ অর্থ আদায় সম্ভব হবে — এবং নিলামের আগে ভূমি-রাজস্ব নির্ধারণের জন্য জমির উপযুক্ত মূল্য নির্ণয় না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর ব্যবস্থাপনা তিনি নিজের হাতেই রাখবেন।
৫১০। এই পদ্ধতিটি জমিদার, ক্রেতা এবং সরকার — সকল পক্ষের জন্যই সবচেয়ে সন্তোষজনক ও ন্যায়সঙ্গত হবে; তবে এতে বিলম্ব, জটিলতা ও ঝামেলা জড়িত থাকতে পারে। অবশ্য নিলামের আগে জমির রাজস্ব নির্ধারণের জন্য বার্ষিক মূল্যনির্ধারণের পরিকল্পনাটিই যথেষ্ট হতে পারে; এবং এতে কিছু আপত্তি থাকার পরেও একটা গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে — তা হলো বকেয়া রাজস্ব দ্রুত আদায়। সব মিলিয়ে, আমি এই পদ্ধতিটিই সুপারিশ করতে চাই; তবে নিলামের সময় জমির খাজনা বা রাজস্ব নির্ধারণের উপায় হিসেবে জমির প্রকৃত মূল্য জানার প্রয়োজনীয়তার সপক্ষে তৃতীয় অনুচ্ছেদে যেসব যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার জবাব হিসেবে এই দুটো প্রস্তাবের যেকোনোটিই কার্যকর হবে।
৫১১। চতুর্থত। এই অনুচ্ছেদে উল্লিখিত সুবিধাসমূহের জবাবে এমন যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, একবার জমা বা রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারিত হয়ে গেলে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপদের কারণে জমিদারদের রাজস্ব মওকুফ বা ছাড় দেওয়া উচিত নয়; বিশেষ করে যখন আমরা তাদের প্রদেয় রাজস্বের পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করতে চাইছি যা অতীতে প্রকৃতপক্ষে প্রদত্ত রাজস্বের একটা ন্যায্য হিসাবের ওপর ভিত্তি করে করা হবে।
৫১২। তবে অন্যদিকে এটাও লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও মনোযোগ সত্ত্বেও ভুল-ত্রুটির আশঙ্কা থেকেই যায়। যদি জমা (রাজস্ব)-র হার এমনভাবে নির্ধারণ না করা হয় যাতে জমিদার উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে পারেন, তবে খরা ও বন্যার মতো ব্যাপক বিপর্যয় — যার শিকার বাংলা অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে বেশি এবং যা একই বছরেও ঘটতে পারে — তা জমিদারকে সর্বস্বান্ত করে দিতে পারে, যদি না তাঁকে কোনো প্রকার সহায়তা প্রদান করা হয়। এই পরিণতি হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে দেখা দেবে না, বরং এমন সব সংকটের ফলে তা ঘটতে পারে যা কাটিয়ে ওঠা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না।
কিস্তি ৫৩ ৫০২ স্তবকের টিকা
ওপরের সারণীর বাংলা অনুবাদ আর ব্যাখ্যা দেওয়াগেল
পরগনা ১১৮৩ সালের জমা (রাজস্ব) ১১৯৫ সালের জমা (রাজস্ব)
বলকুয়া ২২,৬৮১ ১৩,৩০২
বগোয়ান ৯৫,৫৪১ ৬৯,০০১
কোবাগেপুর ১৯,৭৬৫ ১১,৬২১
কিষেণগর ৯০,৮১৪ ৭৬,২৩৭
মুত্তেয়ারি ৭৩,৫৭২ ৫২,০০১
বুনুন ৯১,২১১ ৫৫,০০১
পাজেনোর ৬৮,০৫৪ ৪০,১৮৯
পলাশী ৮১,০৯৮ ৪৯,৭৭৪
ব্যাখ্যা
পরগনা হল প্রশাসনিক বা রাজস্ব বিভাগ (বর্তমানের ব্লক বা মহকুমার অনুরূপ)।
১১৮৩ বঙ্গাব্দ (বাংলা সন) : ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দ।
১১৯৫ বঙ্গাব্দ : ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দ।
জমা হল নির্ধারিত রাজস্বের পরিমাণ (জমিদার বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরকারকে দেওয়ার জন্য বাধ্য)।
এই টেবিলে দেখা যাচ্ছে যে ১১৮৩ সাল থেকে ১১৯৫ সালের মধ্যে প্রতিটি পরগনার রাজস্ব (জমা) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যেমন :
বগোয়ান : ৯৫,৫৪১ থেকে ৬৯,০০১ (প্রায় ২৮% কম)
পলাশী : ৮১,০৯৮ থেকে ৪৯,৭৭৪ (প্রায় ৩৯% কম)
এই হ্রাসের সম্ভাব্য কারণ — ১. দুর্ভিক্ষ, বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া। ২. রাজস্ব আদায়ে জমিদারদের অক্ষমতা বা রাজস্ব কাঠামোর পরিবর্তন। ৩. অঞ্চলের জনসংখ্যা ও চাষাবাদের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া।
এই পরিসংখ্যান চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩) ঠিক পূর্ববর্তী সময়ে বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতা ও জমিদারদের ক্রমবর্ধমান সংকটকে নির্দেশ করে।
৫০৫ স্তবকের টিকা
১৭৮৯ সালের ১৮ জুন রাজস্ব বোর্ডের প্রধান স্যার জন শোর তাঁর বিখ্যাত বিবরণী বা ‘মিনিট’ (Shore’s Minute)-এ বাংলার যে ছয়টি বড় জমিদারির কথা উল্লেখ করেছিলেন, সেগুলি হলো :
বর্ধমান (Burdwan)
রাজশাহী বা নাটোর (Rajshahi / Natore)
দিনাজপুর (Dinajpur)
নদীয়া (Nadia)
বীরভূম (Birbhum)
বিষ্ণুপুর (Bishnupur)
জন শোরের মতে, এই প্রধান ছয়টি এস্টেট বা জমিদারি থেকেই তৎকালীন সুবা বাংলার মোট ভূমি রাজস্বের প্রায় অর্ধেক অংশ সংগৃহীত হতো। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) শুরু হওয়ার আগে বাংলার রাজস্ব কাঠামোর ওপর এই বড় জমিদারদের একচেটিয়া প্রভাব বোঝাতে শোর এই মন্তব্য করেছিলেন।
ছ’টা বড় জমিদারি ও রাজস্বের কেন্দ্রীকরণ
জন শোর তাঁর মিনিটে উল্লেখ করেছিলেন যে বাংলার মোট রাজস্বের প্রায় অর্ধেক আসে এই ছ’টা জমিদারি থেকে। এটি ব্রিটিশ রাজস্ব কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে —
১. রাজস্বের কেন্দ্রীকরণ : মুষ্টিমেয় কয়েকটি জমিদারির হাতে রাজস্বের এত বড় অংশ থাকার অর্থ ছিল যে এই জমিদারিদের ওপর সরকারের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. জমিদারি ব্যবস্থার অসমতা : এই কেন্দ্রীকরণই পরবর্তীকালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে আরও সুসংহত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। ছোট জমিদারিরা প্রায়শই রাজস্বের বোঝায় দেউলিয়া হয়ে যেত, আর বড় জমিদারিরা তাদের প্রভাব ধরে রাখত। এই কেন্দ্রীকরণই স্থানীয় বৈচিত্র্য ধ্বংস করে একটি তথ্য-নির্ভর উৎপাদন কাঠামো তৈরির শোরের পরিকল্পনার অংশ ছিল। ছ’টা বড় জমিদারি রাজস্বের অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করত, যা সরকারের জন্য রাজস্ব আদায়কে সহজ করলেও স্থানীয় প্রথা, ছোট জমিদারি ও প্রজাদের অধিকারকে দুর্বল করে দিয়েছিল। নারী জমিদারদের জন্য এই কেন্দ্রীকরণ আরও মারাত্মক ছিল, কারণ তাদের ছোট সম্পত্তিগুলি প্রায়শই এই বড় এস্টেটগুলির কাছে বিলীন হয়ে যেত বা নিলামে বিক্রি হয়ে যেত।
১৭৫০-১৮০০ সালের মধ্যে বাংলার ছয়টি বড় জমিদারির মধ্যে এবং তার বাইরেও যে নারী শাসকদের কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে রাণী ভবানী (নাটোর/রাজশাহী) ও রাণী বিষ্ণুকুমারী (বর্ধমান) সব থেকে বিখ্যাত তাদের ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধাচরণের জন্য। এছাড়াও, বিষ্ণুপুরেও কিছু প্রমাণ মেলে।
নাটোর/রাজশাহী — রাণী ভবানী ১৭৪৮ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর নাটোর (রাজশাহী) জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় চার দশক ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এটি পরিচালনা করেন। তাঁর জমিদারি ছিল বাংলার বৃহত্তম এবং প্রায় ৩২,৯৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। তিনি শুধু একজন শাসকই ছিলেন না, বরং সমাজসংস্কারক ও দানবীর হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্ব নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়ে একটি আবেদন পেশ করেছিলেন। ১৭৭৫ সালের এই আবেদনে তিনি কোম্পানির রাজস্ব নীতিতে প্রজাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা তাকে বাংলার ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দিয়েছে।
রাণী বিষ্ণুকুমারী — ১৭৮০-এর দশকে বর্ধমানের জমিদারি পরিচালনা করতেন। তিনি তাঁর পুত্র রাজা তেজচন্দ্রের অভিভাবক এবং কার্যত শাসয়িত্রী হিসেবে পরিচালনা করতেন। তিনি কোম্পানির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কোম্পানি তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে, তিনি ১৭৮১ সালে জমিদারি কর্মকর্তাদের নিয়ে কলকাতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো সাহসী পদক্ষেপ নেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে তিনি একজন দুর্বল নারী ছিলেন না, বরং নিজের অধিকার ও পুত্রের ভবিষ্যত রক্ষায় সক্রিয় ও প্রতিবাদী ছিলেন।
হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য বর্ধিষ্ণু বর্ধমান বইতে বর্ধমানের রাণীর প্রতিবাদী সত্ত্বা বিষয়ে মন্তব্য করেছেন — ‘১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দে মহারাজা তিলকচাঁদের মৃত্যুর পর জমিদারীর মালিক হন তাঁর ছয় বৎসর বয়স্ক নাবালক পুত্র তেজচন্দ্র। ১৭৭১ খ্রীষ্টাব্দে সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এলাহাবাদের দরবার থেকে তেজচন্দ্রকে মহারাজা উপাধি এবং ৫০০০ পদাতিক সৈন্য, ৩০০ অশ্বারোহী সৈন্য, কামান, সামরিক বাদ্য ইত্যাদি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন। তৎকালীন গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্ট্রিংস-এর সঙ্গে মহারাণীর মতবিরোধ হয়। মহারাণীর আপত্তি সত্ত্বেও তিলকচাঁদের দেওয়ান রূপনারায়ণ চৌধুরীর পরিবর্তে চুপী নিবাসী ব্রজকিশোর রায়কে দেওয়ান নিযুক্ত করা হয়। মহারাণী তৎকালীন বর্ধমানের রেসিডেন্ট, হেষ্টিংসের বন্ধু গ্রেহাম ও ব্রজকিশোরের মাধ্যমে হেষ্টিংস্-এর বিরুদ্ধে নাবালক রাজার কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কাউন্সিলে করলেও তা প্রমাণিত হয় নি। ১৯৭৯ খ্রীষ্টাব্দে জমিদারীর ভার ১৫ বৎসর বয়স্ক তেজচন্দ্রের হাতে অর্পণ করা হয়।’
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ