Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ঢেউ-এর দোলায় তসলিমা নাসরিন : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রথ নিয়ে বাংলা প্রবাদ ও তার সামাজিক তাৎপর্য : অসিত দাস মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘গোধূলির চিতায়’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ এনকাউন্টার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ফুলমনির মাঠ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শুনুন নেতাজি সুভাষ, শুনছেন — : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলতলার ঝগড়ার ‘কলতলা’ ছিল জলের কল আসার অনেক আগেই : অসিত দাস মাড়ির অসুখ থেকে সাবধান সুগার ও প্রেগন্যান্সিরা! হতে পারে ক্যান্সার : ডাঃ পিয়ালী চট্টোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘সাড়ে তিন হাত বারান্দা’ গুণ্ডা দমন, মন উচাটন, আসছে শমন, বাপ রে বাপ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ‘একা এক নারী’র জয়, পরাজয় এবং… : দিলীপ মজুমদার ভরতমুনির নাটকের ডিম ও ঘোড়ার ডিম : অসিত দাস পাণিহাটির মহোৎসব : স্বামী সারদানন্দ শিবশঙ্করের জীবনানন্দ দর্শন : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্যক্তিস্বাধীনতা পগার পার, বললেন বিচারক জামদার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মঙ্গল কাব্যে কারিগরি পণ্য এবং হাতিয়ার : ড. ললিতা ঘোষ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শতবার্ষিকী মুক্তি পত্রিকা ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলন : ড. দয়াময় রায়
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ২৯ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

মিঃ শোর, বাংলায় আসার পরপরই গোপন রাজনৈতিক বিভাগে নিযুক্ত হন। সেই দপ্তরে ছিলেন এক বছর। এই বিভাগের নথিপত্রের অনেকগুলো খণ্ড তাঁর নিজের হাতে লেখা। বার্ষিক বেতন ছিল ৯৬ চলতি রুপি, — তৎকালীন মুদ্রার মূল্যে ১২ পাউন্ড; অথচ তিনি জঘন্য, সংকীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর বাসস্থানের ভাড়া দিতেন ১২৫ আর্কট রুপি, তার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ।’

ভারতবাসের প্রথম দিকে, লর্ড ক্লাইভের তৈরি বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের ফলে কোম্পানির সিভিল সার্ভেন্টদের বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার ওপর বিপুল আঘাত এসেছিল, শোর সেটা মর্মে মর্মে অনুভব করছিলেন; ১৭৬৯-তে মাকে লেখা চিঠিতে লর্ড ক্লাইভকে ‘কুখ্যাত লর্ড ক্লাইভ’ (Lord Clive of infamous memory) হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে, তাঁর পুত্রের সম্পাদিত পুস্তক সূত্রে জানতে পারি পরের দিকে তিনি মিঃ ক্লাইভ সম্পর্কে অতটা ‘অপ্রীতিকর ভাষায়’ কথা বলতেন না।

১৭৭০-এ কম্পট্রোলিং কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হলে শোর মুর্শিদাবাদে কাউন্সিলের সহকারী পদে নিযুক্ত হন। শোরের জীবনীকার-পুত্র লিখছেন — ‘তাঁর বিভাগ-প্রধানের অলসতা আর দ্বিতীয় বিভাগ প্রধানের প্রেসিডেন্সির বিভিন্ন প্রান্ত অঞ্চলে বিশেষ বিশেষ মিশনে যাওয়ার ফলে দপ্ত দীর্ঘরে অনুপস্থিতির ফলে, তিনি উনিশ বছর বয়সেই সরকারি দপ্তরের থাকবন্দীর নিচের দিকে কাজ করা সাধারণ খাটিয়ে করণিক থেকে হঠাতই বিচারকের দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজে জুড়েগেলেন — এই পদে অধিষ্ঠিতরা সাধারণভাবে কোনও এক বড় জেলার দেওয়ানি আর রাজস্ব সংক্রান্ত বিচারব্যবস্থার দায়িত্বে থাকতেন।’ এই মন্তব্য খবই অসতর্ক এবং অবাস্তবও বটে। ১৭৭০-র ২৪শে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ কাউন্সিলের নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং রিচার্ড বেকার; তিনি আমলা হিসেবে ‘অলস’ তো ছিলেনই না, বরং সম্ভবত সেই সময়ের অন্যতম সেরা শিক্ষক ছিলেন; তাঁর অধীনে তরুণ বেসামরিক কর্মকর্তার কাজ শেখার অমিত সুযোগ ছিল। মুর্শিদাবাদ কম্পট্রোলিং কাউন্সিল ১৭৭২-এর সেপ্টেম্বরে শেষবারের মতো বৈঠকে বসে এবং এরপর থেকে জেলার রাজস্বের কাজ রেসিডেন্ট আর তাঁর সহকারীরা কালেক্টরদের সাথে পত্রালাপের মাধ্যমে চালাতেন। শোরের জীবনীকারের দাবিটি মারাত্মক কারন ১৭৭২-১৭৭৪-এর কাউন্সিলের রাজস্ব বোর্ডের কার্যবিবরণীর সূচিপত্রে শোরের নাম খুঁজে পাওয়া যায় না (ফার্মিঙ্গারের ইঙ্গিত, সে সময়ে শোর দপ্তরের মিনিটস বা কার্যবিবরণীতে উল্লিখিত হওয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ পদে উত্তীর্ণ হন নি — অনুবাদক)।

জীবনীকারের ভাষ্যমতে, ১৭৭২-এ মুর্শিদাবাদ কম্পট্রোলিং কাউন্সিল বিলুপ্ত হলে শোর ‘রাজশাহি প্রদেশের রেসিডেন্টের প্রথম সহকারী নিযুক্ত হন।’ রাজশাহীর কালেক্টরের পদে প্রকৃতপক্ষে স্যামুয়েল মিডলটন একাই আসীন ছিলেন; এই পদে থেকেও তিনি দরবারের (মুর্শিদাবাদ) রেসিডেন্ট এবং কাশিমবাজারের প্রধানের পদও সামলাতেন এবং এই নতুন নিয়োগে শোর সম্ভবত তাঁর বাসস্থান পরিবর্তন করেননি। ১৭৭২-এর ২০শে অক্টোবর মুর্শিদাবাদের উপকণ্ঠ ‘ময়দাপুর’ থেকে লিখছেন —

‘সমস্ত দেওয়ানি মামলা — অর্থাৎ যেসব বিবাদে শান্তিভঙ্গ হয়নি এমন সব বিরোধ — আমার বিচারের এখতিয়ারভুক্ত; আর আপনি হয়তো মনে করবেন এই কাজটা মূলত দক্ষ আইনজীবীর, তবুও এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হিসেবে ভাষা সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান এবং এ অঞ্চলের মানুষের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারের রীতিনীতি (যা আমাদের রায়ে কখনোই লঙ্ঘিত হয় না) সম্পর্কে কিছুটা জানাশোনা থাকাই যথেষ্ট।’

১৭৭৩-এর নভেম্বর, ছয় প্রাদেশিক রাজস্ব পরিষদ (Forrest: Selections from the Letters, Despatches, and other State Papers preserved in the Foreign Department of the Government of India: 1772-1785, vol. ii, pp. 16-18) গঠন করা হল এবং কালেক্টরদের পরিবর্তে নিয়োগ পেল ভারতীয় আমিলরা। ১৭৭৪-এর ২০শে ডিসেম্বর, সর্বোচ্চ পরিষদ নতুন নিয়োগ পর্বে ওয়ারেন হেস্টিংসের সুপারিশগুলো প্রায় উপেক্ষিত হল, এবং প্রতিকূল সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে জন শোর কলকাতা পরিষদের পঞ্চম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেন। উল্লেখ্য, একই সময়ে সংখ্যাগরিষ্ঠরা মুর্শিদাবাদে দ্বিতীয় সদস্য হিসেবে হেনরি পামারের মনোনয়ন বাতিল করে, ডেভিড অ্যান্ডারসনকে পঞ্চম সদস্য হিসেবে নিয়ে আসে।

১. সব প্রেসিডেন্সি মিলিয়ে — ফিলিপ মিলনার ড্যাক্রেস … প্রেসিডেন্ট। অন্য চার সদস্য — জর্জ ভ্যানসিটার্ট। হেনরি কট্রেল। উইলিয়াম হারউড। এডওয়ার্ড গোল্ডিং।

ঢাকা — রিচার্ড বারওয়েল …প্রধান। অন্য চার সদস্য — চার্লস পার্লিং। ডব্লিউ. এম. থ্যাকারে। জন শেক্সপিয়ার। উইলিয়াম হল্যান্ড।

৩. মুর্শিদাবাদ — স্যামুয়েল মিডলটন … প্রধান। অন্য চার সদস্য – এডওয়ার্ড বেবার। । উইলিয়াম ম্যাক্সওয়েল। উইলিয়াম হোশেয়া। জন হোগার্থ।

৪. পাটনা — টমাস লেন… প্রধান। অন্য চার সদস্য — জর্জ হার্স্ট। রবার্ট পলক। সিমকন ড্রোজ। ইওয়ান ল।

৫. বর্ধমান — জন গ্রাহাম …প্রধান। অন্য চার সদস্য — জন বাথৌ। আলেকজান্ডার হিগিনসন। জন হোম। স্যামুয়েল লুইস।

৬. দিনাজপুর — উইলিয়াম ল্যামবার্ট…. প্রধান। অন্য চার সদস্য — হারবার্ট হ্যারিস। জর্জ রবার্টসন। অ্যান্টনি বি. গুডলাড। ফ্রান্সিস গ্ল্যাডউইন।

এভাবে শোর তার কর্মজীবনের প্রথম উল্লেখযোগ্য ধাপে পা রাখলেন ফিলিপ ফ্রান্সিস অনুগামীদের অপার সৌজন্যে। ১৭৭৮-এর নভেম্বরে লিখলেন — ‘মিঃ ফ্রান্সিস আমার বিশেষ বন্ধু; এবং আমি বিশ্বাস করি, যখনই সময় তাকে সুযোগ দেবে, তিনি তার যোগ্যতার প্রমাণ পেশ করবেন।’ ক্যাপ্টেন জে. প্রাইসের ভাষ্য হল, ওয়ারেন হেস্টিংসের দৃঢ় সন্দেহ ছিল রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ফ্রান্সিসের মিনিটস, কার্যবিবরণী একমাত্র শোরের মস্তিষ্কপ্রসূত। তাই হেস্টিংস সেই বেসামরিক করণিক থেকে আমলা হওয়ার পথে পা বাড়িয়ে থাকা তরুণকে দেশের প্রান্তপ্রদেশগুলোয় সংক্ষিপ্ত সফরে পাঠালেন। লক্ষ্য করা দরকার একটা নির্দিষ্ট সময় জুড়ে শোরের অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সিস অসুস্থতার অজুহাতে পরিষদে যোগদান থেকে বিরত ছিলেন (উপরে দ্রষ্টব্য, খণ্ড ১, ভূমিকা, পৃষ্ঠা cccix। ১৭৮৩-র ২৬শে মার্চ মাকে লেখা চিঠিতে শোর প্রাইসের (Price) বক্তব্য উল্লেখ করেন এবং ফ্রান্সিসের (Francis) লেখা ‘কাউন্সিল মিনিটস’ (Minutes of Council) সংকলনের কৃতিত্ব অস্বীকার করেন না। Memoir of the Life, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭। ১৭৮০-র ১৫ই ফেব্রুয়ারি তিনি ফ্রান্সিসের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অনুসারী জি. জি. ডুকারেলকে (G. G. Ducarel) লেখেন – ‘আমার চিন্তাভাবনা মিস্টার ফ্রান্সিসের মতামতের সাথে অনেকটাই মেলে; তবে এই পরিকল্পনা প্রস্তাব করার পর থেকে যে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এখন বেশ কিছু স্থানে রদবদল বা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।’ ঐ, পৃষ্ঠা ১১৬।)। এই গুজব মিথ্যা নাও হতে পারে, ফ্রান্সিস তাঁর শিষ্য, শোরের বৌদ্ধিক সাহায্যের সুযোগ পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছিলেন, এবং শোর তার সব কিছুই ফ্রান্সিসের জন্য ঢেলে দিতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এই কথাটাও বলা দরকার, মনে হয় না ফ্রান্সিস, দৃষ্টান্তমূলক কিছু বিবরণ এবং তাঁর পাশে থাকা এক দয়ালু সম্পাদকের মাঝেমধ্যে করা সংশোধনের চেয়ে বেশি কিছু ইনপুটের জন্য শোরের ওপর নির্ভরশীল হবেন। ফিলিপ ফ্রান্সিসের পেশ করা রাজস্ব নীতির প্রকৃত প্রণেতা হিসেবে শোরের অবদান বহুবার কম্বুকণ্ঠে বলা হলেও, একটা বিষয় লক্ষ্য করা দরকার, পরের বছরগুলোয় শোর ভূমি, রাজস্ব কাঠামো নিয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবেন, তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ফ্রান্সিসের কার্যবিবরণীতে উল্লিখিত মতের বিপরীত ছিল। ১৭৮৯-এ শোর, ভূমি বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী নীতি হিসেবে ঘোষণা করার নীতির সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেন- ১৭৭৫-এর ফেব্রুয়ারিতে, রাজস্ব বিতর্ক শুরু হওয়ার আগে ফ্রান্সিস লিখছেন — ‘জমিদার, তালুকদার, বা এমনকি রায়তদেরও, অনেক ক্ষেত্রে, হয় চিরস্থায়ী অথবা আজীবন নির্দিষ্ট খাজনা এবং ইজারা নবীকরণের সময় নির্দিষ্ট জরিমানার শর্তে জমি হস্তান্তর করা উচিত।’ (Parkes and Merivale: Memoirs of Sir Philip Francis, K. C. B. (London 1867) vol. ii, p. 28) ১৭৮৯-এ শোর জমিদার আর প্রজার মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক নিশ্চিত করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন- ১৭৭৬-এ ফ্রান্সিসের বক্তব্য ছিল, যদি জমিদার এবং রায়তদের ‘নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেদের নেওয়ার মতো করে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তারা এমন এক চুক্তিতে উপনীত হবে যেখানে প্রতিটি পক্ষই নিজের সুবিধা খুঁজে পাবে।’ (উপরে দেখুন, খণ্ড ১, ভূমিকা, পৃষ্ঠা ccciv অন্যদিকে কর্নওয়ালিস ‘যা হওয়ার হবে, যা খুশি হোক’ নীতিতে আস্থা রাখেন, এফ. ডি. অ্যাসকোলি — আর্লি রেভিনিউ হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল অ্যান্ড দ্য ফিফথ রিপোর্ট (অক্সফোর্ড, ১৯১৭), পৃ. ৭০। কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যর্থতার জন্য দেখুন হান্টার- বেঙ্গল এমএসএস. রেকর্ডস, ভূমিকা, অধ্যায় ৬।)

১৭৮১-র ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্সিতে ‘সুপ্রিম কমিটি অফ রেভিনিউ’ (রাজস্ব বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটি) গঠন করে প্রাদেশিক কাউন্সিলগুলো বিলুপ্ত করা হয়। শোরের জীবনীকার লিখেছেন — ‘প্রথম পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সততা আর দক্ষতার জন্য সুবিদিত কোম্পানির কর্মচারী মিস্টার ডেভিড অ্যান্ডারসনকে। কিন্তু, বিভিন্ন বিশেষ অভিযানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভদ্রলোক, সহায়তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন; মিঃ হেস্টিংস বোর্ডের দ্বিতীয় পদ পূরণের জন্য তাঁর সাথে পরামর্শ করলেন — যে পদে কাজের জন্য এমন একজন কর্মচারীর প্রয়োজন ছিল, যার যোগ্যতা কোনোভাবেই তার যোগ্যতার চেয়ে বিন্দুমাত্র ন্যূন হবে না। মিঃ অ্যান্ডারসন তৎক্ষণাৎ মিঃ শোরের নাম সুপারিশ করে বলেন, এই সুষ্ঠু পরিষেবার জন্য, কোম্পানির যে কোনো সদস্যের তুলনায় শোরই হবেন ওই পদের অধিকতর উপযুক্ত প্রার্থী। গভর্নর-জেনারেল হেস্টিংস যাকে তাঁর অন্যতম কট্টর বিরোধী বলে মনে করতেন, তেমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন; কারণ মিস্টার শোরের আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত বোঝার দক্ষতার সুখ্যাতিতেই মিঃ হেস্টিংসের ধারণা ছিল, মিঃ ফ্রান্সিসের ‘মিনিটস’ বা নথিপত্র প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শোর-এর বড় ভূমিকা ছিল। মিঃ অ্যান্ডারসন যেহেতু মিঃ হেস্টিংস এবং মিঃ শোর উভয়ের চরিত্র সম্পর্কেই ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত ছিলেন, উত্তর দিলেন — ‘মিঃ শোরকে নিয়োগ দিন; এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে আপনার এবং তাঁর মধ্যে একটি বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে।’ ডেভিড অ্যান্ডারসনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল এবং তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীও সুফল দিয়েছিল।’ (মেমোয়ার অফ দ্য লাইফ, খণ্ড ১, পৃ. ৭০।)

‘কমিটি অফ রেভিনিউ’-এর গঠন আর তার কার্যপদ্ধতি নিয়ে শোর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘তারা হয়তো কোনোমতে কাজ চালিয়ে নিতে পারবে — এবং সেটা তাদের করতেই হবে — কিন্তু তারা যে প্রকৃতপক্ষে কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারছে, এমন দাবি করা হবে নিছক বোকামি আর মিথ্যাচার।’ দেওয়ান গঙ্গা গোবিন্দ সিংহ সম্পর্কে তিনি লিখছেন : —

‘বাস্তবে, দেওয়ান বা নির্বাহী পদের অধিকারী হিসেবে প্রেসিডেন্সিতে জমা হওয়া সমস্ত রাজস্বের ওপর এই ব্যক্তির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে; এবং সামান্যতম দক্ষতা থাকলেই তিনি সমস্ত ইজারাদারকে নিজের স্বার্থে বশবর্তী করে ফেলতে পারেন। কমিটির সদস্যদের ঘুষ বা দুর্নীতি থেকে বিরত রাখার বিশেষ কোনো সুফল নেই, যদি না তাদের নির্বাহী কর্মকর্তা — যিনি ধরা না পড়েই এসব অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন — কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজন দেশীয় ব্যক্তি যেসব কৌশল বা কূটকৌশল প্রয়োগ করেন, তার বিবরণ দিতে গেলে একটা আস্ত বই লেখা হয়ে যাবে। তিনি জমিদার আর ইজারাদারদের গোপন আয়ের উৎস এবং তাদের শত্রু ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে আশা আর ভয়ের কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি তাদের নিজের উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহার করেন। সর্বোত্তম সদিচ্ছা, দক্ষতা ও নিষ্ঠা থাকা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত কমিটিকে তাদের দেওয়ানের হাতের পুতুল হয়েই থাকতে হল।’ (Memoir of the Life, vol. i, p. 74. ওয়ারেন হেস্টিংসের বিচার, ইমপিচমেন্টের প্রসেস চলাকালীন সাক্ষ্য দেওয়ার সময় শোর বলেছিলেন, তাঁর মৌলিক আপত্তি ছিল সাধারণভাবে ‘দেওয়ান’ পদের বিরুদ্ধে — নির্দিষ্টভাবে গঙ্গা গোবিন্দ সিংহের বিরুদ্ধে নয়; তবে রামচন্দ্র সিংহের বিষয়ে তাঁর ধারণা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক — যিনি ফ্রান্সিসের সুপারিশক্রমে গঙ্গা গোবিন্দ সিংহের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। তাঁর মতে, কোনো দেশীয় ব্যক্তিই এই পদের উপযুক্ত প্রার্থী ছিলেন না।)

১৭৮২-র নভেম্বরে মা-র উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে শোর তাঁর পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছেন; ‘এই মুহূর্তে আমার চারপাশে ইউরোপের যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বড় এক জনসভা বসেছে, এবং সমস্ত অনুচর আমাকে তোষামোদ আর প্রতারণা করার জন্য তৈরি। বাংলার দুই-তৃতীয়াংশ জমির মালিকই দেশীয় — এবং যেহেতু এদের প্রজারাই ভিড় তৈরি করে এবং আমার ইশারায় সাড়া দেয়, আমি নড়াচড়া করতে পারি না, কিন্তু এর বিশ গুণ এবং কখনও কখনও পাঁচ গুণ বেশি আবেদনকারী আমার সামনে হাজির হয়।’

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন