Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রথ নিয়ে বাংলা প্রবাদ ও তার সামাজিক তাৎপর্য : অসিত দাস মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘গোধূলির চিতায়’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ এনকাউন্টার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ফুলমনির মাঠ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শুনুন নেতাজি সুভাষ, শুনছেন — : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলতলার ঝগড়ার ‘কলতলা’ ছিল জলের কল আসার অনেক আগেই : অসিত দাস মাড়ির অসুখ থেকে সাবধান সুগার ও প্রেগন্যান্সিরা! হতে পারে ক্যান্সার : ডাঃ পিয়ালী চট্টোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘সাড়ে তিন হাত বারান্দা’ গুণ্ডা দমন, মন উচাটন, আসছে শমন, বাপ রে বাপ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ‘একা এক নারী’র জয়, পরাজয় এবং… : দিলীপ মজুমদার ভরতমুনির নাটকের ডিম ও ঘোড়ার ডিম : অসিত দাস পাণিহাটির মহোৎসব : স্বামী সারদানন্দ শিবশঙ্করের জীবনানন্দ দর্শন : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্যক্তিস্বাধীনতা পগার পার, বললেন বিচারক জামদার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মঙ্গল কাব্যে কারিগরি পণ্য এবং হাতিয়ার : ড. ললিতা ঘোষ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শতবার্ষিকী মুক্তি পত্রিকা ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলন : ড. দয়াময় রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘রাত পাহারা’
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৭৬ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

পঞ্চম প্রতিবেদনের বেঙ্গল পরিশিষ্ট

কেলি ফার্মিঙ্গারের ভূমিকা

[ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গারের দ্য ফিফথ রিপোর্টের প্রথম খণ্ড সম্পাদনা অনুবাদের পর ফিফথ রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ড — বেঙ্গল এপেন্ডিক্স। ফিফথ রিপোর্টের এই খণ্ডে উপনিবেশের প্রথম সময়ের বাঙলা সংক্রান্ত নানান তথ্য উপস্থাপনা করেছেন তিনি। দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম পর্ব সম্পাদক ফার্মিঙ্গারের বিস্তৃত ভূমিকা, দ্বিতীয় অংশ সাম্রাজ্যের ঘটকদের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ। তৎকালীন বৈশ্বয়িক রাজনীতিতে এই সমীক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আগেও আলোচনা করেছি, পরেও আরও বিশদে আলোচনা করব। এই পর্ব থেকে শুরু হল ফিফথ রিপোর্টের মূল বই-এর দ্বিতীয় খণ্ডের অনুবাদ]

ওয়ারেন হেস্টিংসের মতোই জন শোরও ছিলেন ইংলন্ডের অন্যতম প্রাচীন ব্লু ব্লাড পরিবারের সদস্য। ইংরেজ গৃহযুদ্ধে রাজার পক্ষে থাকার জরিমানা হিশেবে পরিবারের সমস্ত জমি, সম্পদ ক্রোক করে নেওয়া হয়। রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা (Restoration) হলে আগামী দিনে ভারতবর্ষের গভর্নর-জেনারেলের প্রপিতামহ, ডার্বির চিকিৎসক জন শোর, ‘রাজা দ্বিতীয় চার্লসের পালানোয় সাহায্যের স্বীকৃতি হিসেবে’ নাইট উপাধি অর্জন করেন এবং দ্বিতীয় চার্লসের মিনিয়েচার ছবি (রাইট অফ চার্লস টু) উপহার পান (১৬৫১-য় ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধে, উস্টার-এর যুদ্ধে (Battle of Worcester — ইংরেজ গৃহযুদ্ধের (English Civil War) চূড়ান্ত এবং শেষ যুদ্ধ। ১৬৫১-র ৩ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ওরচেস্টার শহরে এই যুদ্ধ হয়) পরাজয়ের পর, যুবরাজ চার্লস (পরে রাজা দ্বিতীয় চার্লস) ছদ্মবেশে লর্ড ক্রমওয়েলের পার্লামেন্টারি বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই পলায়ন যাত্রায় বেশ কিছু ইংরেজ রাজভক্ত, ‘রয়ালিস্ট’ (Royalists) পরিবার তাঁকে আত্মগোপন করতে এবং ইংল্যান্ড থেকে নিরাপদে ফ্রান্সে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। এদের মধ্যে অন্যতম নেতা ছিলেন শোরের প্রপিতামহ জন শোর। ১৬৬০-এ ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হলে, দ্বিতীয় চার্লস ব্রিটেনের সিংহাসনে বসে তার ক্ষমতায় ফেরার জন্য দায়ি, দুঃসময়ের সহযোগীদের পুরস্কৃত করতে শুরু করেন। অনুগামীতার নিদর্শন হিসেবে রাজা, ডা. জন শোরকে ‘নাইট’ (Knighthood) উপাধিতে ভূষিত করেন, এছাড়াও অশেষ সম্মান জানান নিজের এক সোনার ফ্রেমে বাঁধানো অপূর্ব মিনিয়েচার প্রতিকৃতি (Miniature Portrait of Charles II) উপহার দিয়ে — অনুবাদক)। নাইটের দ্বিতীয় স্ত্রী ডার্বির জনৈক বণিক — জন চেম্বার্সের কন্যা, লন্ডনের বণিক, টমাস চেম্বার্সের বোন (তাঁর পুত্র, লর্ড টেনমাউথের Memoir of the Life and Correspondence of John Lord Teignmouth, by his son Lord Teignmouth, vol. i, chap. 1। ফার্মিঙ্গার বলছেন লর্ড টেনমাউথের ছেলের সম্পাদনা করা এই জীবনচরিত সর্বতোভাবে হতাশাজনক। কেন ফার্মিঙ্গার শোরের পুত্রের জীবনীগ্রন্থ পড়ে হতাশ, তার একটা বিস্তৃত ব্যাখ্যা আমি, আমার মত করে বিশদে বক্ষ্যমান কিস্তির প্রান্তদেশে আলোচনা করেছি। পাঠকরা যখন ফিফথ রিপোর্ট অনুবাদ পড়ছেন, আমি জানি তাদের একটা বড় অংশ অবশ্যই ফার্মিঙ্গারদের মত মেট্রোপলিটনিয় দোসরদের সাহিত্যের প্রতিটি লাইনে উপনিবেশের ভালত্বকে তুলে ধরার প্রেক্ষিতকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করবেন নিশ্চিতভাবে। এবং প্রশ্ন করতে হবে — কার স্বার্থে এই উপনিবেশিক সাহিত্য লেখা হল? কার লুঠ করা সম্পদে এই রিপোর্টের লেখক ও সম্পাদকরা বেঁচে ছিলেন? — অনুবাদক) টমাস চেম্বার্সের আরও এক কন্যা, হান্না সোফিয়া ‘ব্রাউনলো, এক্সেটারের অষ্টম আর্ল’কে বিয়ে করেন। নাইটের পুত্র জন, লন্ডনে অভিবাসিত হন। কালক্রমে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ‘শিপস’ হাজব্যান্ড’ বা মালিক হন। এভাবেই ভারতবর্ষের সঙ্গে শোর পরিবারের সংযোগ শুরু হয়। শিপস’ হাজব্যান্ডের তিন বড় ছেলে অল্প বয়সে মারা যান — প্রথমজন, জন ভারতবর্ষেই মৃত্যুবরণ করেন। চতুর্থ পুত্র টমাস, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সুপারকার্গোর (সুপারকার্গো মূলত পণ্যভর্তি জাহাজে কোম্পানির বাণিজ্যিক প্রতিনিধি ছিলেন। জাহাজের ক্যাপ্টেন নৌ চলাচল আর জাহাজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকতেন, আর সুপারকার্গো পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়, দর-কষাকষি, এবং মুনাফা-সম্পর্কিত সমস্ত বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। সুপারকার্গোদের কাছে কোম্পানির লিখিত নির্দেশ থাকত এবং বাণিজ্যের স্বার্থে জাহাজের ক্যাপ্টেন তাঁদের বাণিজ্যিক নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য থাকতেন — অনুবাদক) অতি লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন শেফার্ডের কন্যার সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিবাহ হলে দুই পুত্রের জনক হন — জন পরবর্তীকালে লর্ড টেনমাউথ, এবং টমাস। বলা হয়, সুপারকার্গোর মৃত্যু হয়েছিল ‘চীন থেকে সমুদ্রযাত্রার সময় আইল অফ অ্যাসেনশনে তামার পাত্রে সেদ্ধ করা কচ্ছপের মাংস খাওয়ার সময়ে পক্ষাঘাতজনিত অসুস্থতায়।’

তো এই পরিবারেরই উজ্জ্বলতম সদস্য জন শোর, পরবর্তীকালে লর্ড টেনমাউথ, জন্মগ্রহণ করেন… ১৭৫১-র ৫ই অক্টোবর লন্ডনে, ‘সেন্ট জেমস স্ট্রিটের বাবা-মার অস্থায়ী বাসভবনে। এসেক্সের রমফোর্ডের কাছে মেল্টন প্লেসে তাঁদের সাধারণ বাসস্থানে শৈশবের দিনগুলো কাটান।’ প্রথমে টটেনহ্যাম, পরে হার্টফোর্ডের স্কুল হয়ে হ্যারোয় পাঠ সাঙ্গ করতে যান। সহপাঠী ছিলেন আগামীর কোম্পানি আমলা নাথানিয়েল হ্যালহেড এবং আইরিশ-ব্রিটিশ নাট্যকার, কবি, সফল রাজনীতিবিদ, ‘কমেডি অফ ম্যানার্স’-এর লেখক রিচার্ড ব্রিন্সলি শেরিডন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চিন সেবায় অন্যতম সুপরিচিত নাম মিস্টার পিজু আমাদের আলোচ্য বালকের জন্য কোম্পানিতে রাইটার, করণিকের চাকরির ব্যবস্থা করেন; কিন্তু শোর জানতেন, তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য হিসেব শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা; তাই তিনি হ্যারো স্কুলে ক্লাসিকস না পড়ে, ক্যাপ্টেন পদ ছেড়ে, হক্সটন একাডেমিতে ভর্তি হলেন হিসাবরক্ষণ এবং বণিক হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষা নিতে। ‘হক্সটনের অখ্যাত সেমিনারি’তে শোর, পরবর্তীকালে মার্কুইস অফ হেস্টিংস লর্ড রডনের সমসাময়িক পড়ুয়া ছিলেন। সতেরো বছর বয়সে শোর ইংলন্ড ছাড়েন। গ্রেভসেন্ডের বাড়িতে মায়ের সাথে তাঁর সেই শেষ দেখা। বাংলায় যাওয়ার পথে তিনিও খুব সুস্থ ছিলেন না। ১৭৬৯-এ তিনি ‘এতটাই অসুস্থ হয়ে বাংলায় জাহাজ থেকে অবতরণ করেন যে, জাহাজের ক্যাপ্টেন তাঁর সুস্থতার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।’

শোরের জীবনীকার লিখছেন —

শোর কলকাতায় পা রাখছেন, সে সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজধানী কলকাতা ‘প্রাসাদ নগরী’ হিসেবে বিশ্বখ্যাতি পায়নি। কলকাতা থেকে ছেলেকে লেখা চিঠিতে মি. শোর কলকাতা শহরের বর্ণনা দিচ্ছেন — খুব কম বাড়িতেই ভেনিশিয়ান ব্লাইন্ড বা কাঁচের জানালা দেখা যেত; বরং জানালার পাল্লা তৈরি হতো নিরেট কাঠের; জানলায় ঝুলত বেতের তৈরি ফিনফিনে পর্দা। তাছাড়া এই সময়ের কলকাতায় উষ্ণ আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার মতো বিশেষ ব্যবস্থাও ছিল না। খোলা নর্দমার দুর্গন্ধে কলকাতার পরিবেশ ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর। তাঁর নিজের ভাষায় বললে: ‘একজনও পরিচিত বা বন্ধু-বান্ধব ছাড়াই কর্মজীবন শুরু করেছিলাম; এমনকি আমার হাতে তখন সুপারিশপত্র বা পরিচয়পত্রও ছিল না। কলকাতায় একটাও গির্জা ছিল না, যদিও প্রতি রবিবার সকালে ‘ওল্ড ফোর্ট’-এর একটি কক্ষে ধর্মীয় উপাসনা অনুষ্ঠিত হতো; আর পুরো বাংলায় তখন মাত্র একজন ধর্মযাজক ছিলেন।’

টিকা

অনুবাদকের মন্তব্য

ফার্মিঙ্গার কেন বলছেন লর্ড টেনমাউথের ছেলের সম্পাদিত এই জীবনচরিত সর্বতোভাবে হতাশাজনক? ফিফথ রিপোর্টের শুরুর স্তবকের পাদটিকায় ফার্মিঙ্গার বলছেন — Memoir of the Life and Correspondence of John Lord Teignmouth, by his son Lord Teignmouth vol. i, chap. 1. This work is in every way disappointing। এই মন্তব্যের ইন্টারেস্টিং শব্দবন্ধ হল এভ্রি ওয়ে ডিসাপয়েন্টিং। এত কঠোর কথা কেন তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর নামে করছেন, সেই বিষয়টা নিয়ে বিশদে বাগবিস্তার করতে চাই।

Memoir of the Life and Correspondence of John Lord Teignmouth লিখেছেন Lord Teignmouth-এর আত্মজ (অর্থাৎ দ্বিতীয় Lord Teignmouth)। ফার্মিঙ্গারের মতে, এই আত্মীয়তার সম্পর্ক বইটিকে পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, ঠিক সেই দৃষ্টিকোণে লেখক তার বাবার প্রতিটি কাজকে বারবার ন্যায়সঙ্গত বলেছেন আর বাবাকে অসামান্য গুণী হিসেবে পাঠকের দরবারে তুলেধরেছেন। ফার্মিঙ্গার ঠিক অভিযোগ তুলে বলছেন, শাসক বাবার সম্বন্ধে কোনো সমালোচনা, কোনো দুর্বলতা, অথবা কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের নেতিবাচক দিক পুত্র তার সম্পাদিত বইতে তুলে ধরেননি। ফার্মিঙ্গারের আশা ছিল বই হবে নিরপেক্ষ আর সমালোচনামূলক জীবনী — এই বইতে সেই চরিত্র অনুপস্থিত। বইতে প্রশাসনিক আর রাজস্ব সংস্কারের টেকনিক্যাল বর্ণনা অনেকটাই রয়েছে — যেমন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, রেভিনিউ বোর্ড, জমিদারি অধিকার ইত্যাদি। ফার্মিঙ্গারের দৃষ্টিভঙ্গী হল, এসব বিষয়ের ঐতিহাসিক প্রভাব, তার ভালো-মন্দ, এবং ভারতীয় সমাজের ওপর তার প্রকৃত ফল — সেসব নিয়ে বইতে বিন্দুমাত্রও গভীর বিশ্লেষণ নেই। বরং লেখক শুধু তার বাবার সিদ্ধান্তগুলোকেই মহিমান্বিত করেছেন। বইতে তিনি ভারতীদের চরিত্র সারাক্ষণ প্রবল নেতিবাচক হিসেবে উপস্থিত করেছেন — যেমন ‘native character is cunning, servile, and deceitful’ ইত্যাদি। ফার্মিঙ্গার যদিও নিজেই ফিফথ রিপোর্ট সম্পাদনাকালে ভারতীয়দের সম্পর্কে বহু কঠোর মত পোষণ করেছেন, তবুও তিনি এই বইকে ঔপনিবেশিক অহংকারের দলিল হিসেবে দেখেছেন — কারন বইয়ের লেখকের সম্পাদনা ভারতীয় সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অন্যায়ভাবে হেয় করেছে।

ফার্মিঙ্গার বইকে ‘disappointing’ বলেছেন কারণ — এই বই আত্মকেন্দ্রিক, প্রশংসাসূচক, ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব, ভারতীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে উদাসীন, আর ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্রের গভীরতা উপস্থাপনে চরম ব্যর্থ। ফার্মিঙ্গার যদিও টেনমাউথের স্মৃতিকথাকে ‘হতাশাজনক’ বলেছেন, কিন্তু আমরা যেন ভুলে না যাই, তিনি নিজেও সাম্রাজ্যের একনিষ্ঠ সমর্থক। তিনিও ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, তার মানুষকে হেয় করে ব্রিটিশ শাসনকে ‘আলোকিত শাসন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফার্মিঙ্গারের মত পরশ্রীকাতর, পরজীবি বুদ্ধিজীবিরা ভারতবর্ষে উদারপন্থী সংস্কার চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের শেকড় আরও কার্যকর, দীর্ঘস্থায়ী আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া — ভারতীয়দের সাম্রাজ্য মুক্তির জন্য তারা এক কলমও লেখেন নি

যখন তিনি ফিফথ রিপোর্টের মত অশেষ সাম্রাজ্যের স্বার্থবাহী সমীক্ষার সম্পাদনা করছেন, সে সময় কিন্তু দাদাভাই নৌরজী আর রমেশচন্দ্র দত্তের সাম্রাজ্য লুঠের ধারণা প্রকাশিত — তিনি এই সমীক্ষা সম্পাদনা কালে সে সম্বন্ধে একটাও শব্দ তুলে ধরেন নি। জ্ঞানগঞ্জ ১৩ পুথি ‘অনন্ত লুঠের বাখান’ থেকে এই স্তবকটা নেওয়া — উৎসা পট্টনায়েক রমেশচন্দ্র দত্তের লুঠের হিসাবকে ১৯০ বছরে বিস্তৃত করে বলছেন সাম্রাজ্যকালে ৬২০ মিলিয়ন পাউন্ড লুঠ হয়েছে। এই অঙ্কে যদি মাত্র সরল ৫% সুদ প্রয়োগ করা যায়, তার পরিমাণ হবে ২০১৬ সালের ভারতের জিডিপির ২/৩ ভাগ এবং ২০১৫ সালের যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ৪৫%। তিনি মন্টগোমারি মার্টিনের লুঠ অঙ্কে ১২% সুদ প্রয়োগ করে বলছেন ২০১৫ সালের ব্রিটিশ জিডিপির ৬০০০ গুণ, ১১,৯৩০.৫৪ ট্রিলিয়ন পাউন্ড।

মন্টগোমারি মার্টিনের কথা যখন উঠল, আমরা তার মূল উক্তিটা দেখে নেব। ফার্মিঙ্গার যখন ফিফথ রিপোর্ট সম্পাদনা করছেন, তার ৬ দশক আগে ব্রিটিশ আমলা মন্টগোমারি মার্টিন আমাদের হাতে তুলে দিয়েগিয়েছেন কোম্পানি সাম্রাজ্যে ব্রিটিশ লুঠের কঠোর তথ্য — For half a century we have gone on draining from two to three and sometimes four million pounds sterling a year from India, which has been remitted to Great Britain to meet the deficiencies of commercial speculations, to pay the interest of debts, to support the home establishment, and to invest on England’s soil the accumulated wealth of those whose lives have been spent in Hindustan (The History, Antiquities, Topography and Statistics of Eastern India’-এর তৃতীয় খণ্ডের ভূমিকার xxi পৃ)। আমরা যেন ভুলে না যাই মার্টিন যে ‘ড্রেন’ বা অর্থ লুঠের কথা বলেছেন, সেটা তাঁর মতে শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং এটি একটি নৈতিক অমানবিক প্রক্রিয়া। সম্পূর্ণ গ্রন্থজুড়েই তিনি ভারতের জনসাধারণের দুর্দশার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন শুধু নয় তিনি সমসাময়িক ব্রিটিশ সমাজ ও প্রশাসকদের সতর্ক করেছিলেন — এই লুঠ যদি চলতে থাকে, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। মন্টগোমারি মার্টিন সাম্রাজ্যের আমলা হয়েও কিন্তু সাম্রাজ্যকে সতর্ক করতে ভুলছেন না, কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় — ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারীপরে কোম্পানির ইতিহাস লেখা জেমস মিল, তাঁর ছেলে জন স্টুয়ার্ট মিল, সিটন কার, টেনমাউথ, কর্নওয়ালিস বা ফার্মিঙ্গার — সবাই কোম্পানির বেতনভোগী শাসক বা আমলা। তারা কেউই ‘অবজেক্টিভ’ ইতিহাস লিখেছেন এ কথা বলা যাবে না — অথচ তারা নিজেদের কাজ আড়াল করে অন্যের সমালোচনা করছেন। আমরা যেন ভুলে না যাই তাদের লেখা ছিল শাসনের স্বার্থ নিশ্চিত করা, বৈধতা দেওয়ার কাহিনীমাত্র। ভারতীয় অর্থনীতিকে লুঠ করে যে সম্পদ তৈরি হয়েছে, সেই সম্পদের ওপরেই তাদের বিলাস-ব্যয়, ‘পাণ্ডিত্য’ আর বুদ্ধিজীবিতা। এরা কেউই রমেশচন্দ্র দত্ত বা মন্টোগোমারি মার্টিনের মত আমলার সাম্রাজ্য সমালোচনার কাছাকাছি পৌঁছতে পারছেন না। তারা গ্লোরিয়াস বুদ্ধিজীবিই রয়েগেছেন।

আমরা মনে করি উপনিবেশের শাসনের স্বার্থবাহী ‘বুদ্ধিজীবীরা’ সাম্রাজ্যস্বার্থরক্ষায় তিনটে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন —

১। ভারত শাসনকে ‘সভ্যতার মিশন’ বলে প্রচার করেছেন — যেন তারা ভারতবর্ষকে ‘অন্ধকার’ থেকে ‘আলোতে’ আনছেন;

২। ভারতীয় সমাজকে ‘নিকৃষ্ট’ আর ‘কুসংস্কারাচ্ছন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন — যাতে শাসনের ‘প্রয়োজনীয়তা’ প্রমাণিত হয়।

৩। ভারতীয়দের মধ্যে যেকোনো প্রতিরোধ বা স্বাধীনতা-চেতনার চিহ্নকে ‘অরাজকতা’, ‘বর্বরতা’ আখ্যা দিয়েছেন কম্বুকণ্ঠে।

ফিফথ রিপোর্টের পাঠকদের কাছে নিবেদন, দয়া করে এই দোসরদের লেখা প্রতিটি স্তবককে লুঠ হওয়া মানুষের নিপীড়নের আলোকে পড়ুন। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে — কার স্বার্থে এই রিপোর্ট লেখা? কার লুঠ করা সম্পদে এই রিপোর্টের লেখক-সম্পাদকরা বেঁচে ছিলেন? স্বয়ং ফার্মিঙ্গার ফিফথ রিপোর্ট সম্পাদনা করছেন এবং সাম্রাজ্যকৃতিগুলো সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছেন। ফার্মিঙ্গারের ঠিক আগের বিচারবিভাগীয় আমলা সিটন কার, এস্কোয়ার মারকুইস কর্নওয়ালিসের জীবনীতে কর্নওয়ালিসের চিঠি উল্লেখ করে বলছেন — ‘তাদের [উপনিবেশের তরুণ] মনে দলীয় মনোভাব এবং সরকারের প্রতি সর্বাত্মক বিরোধিতার মানসিকতা গেঁথে দেওয়ার চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছুই হতে পারে না — সেটা তাদের নিজেদের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি উপনিবেশের সামগ্রিক সুশৃঙ্খল পরিবেশের জন্যও বটে। বস্তুত, ‘স্বাধীনতা ও সাম্য’-র ধারণা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই অত্যন্ত অনিষ্টকর ও বিপজ্জনক একটি মতবাদ; ‘তবে এটি ভারতবর্ষে কর্মরত কোম্পানির কর্মচারীদের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত; কারণ তাদের উন্নতি নির্ভর করে নিজেদের কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং চাকরির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর।’

ব্রিটিশই হোক কা কোম্পানির সাম্রাজ্যেই হোক — যে সব শিক্ষিত ‘বুদ্ধিজীবি’ কাজ করে গেছেন, তারা প্রত্যেকেই সাম্রাজ্যের দোসর, হকার কারিগর চাষীদের লুঠ করা উদ্বৃত্তে প্রতিপালিত। অনুবাদকের মনে হয়েছে ফার্মিঙ্গার সমালোচক নন, সাম্রাজ্যের স্থপতিদের কাজকর্ম সমর্থন করেছেন, ফলে তিনিও সাম্রাজ্যের নাটবল্টু। আমরা এভাবেই সাম্রাজ্যের ‘বুদ্ধিজীবী’দের আলোকিত চেহারার নিচে লুকিয়ে থাকা শোষকের আসল মুখ উন্মোচন করে যাব।

টিকা শেষ

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন