| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘এক টুকরো ভোর’ আশ্বিনের শারদপ্রাতে : যশোবন্ত রায় আমার ছেলেবেলার মহালয়ার সকাল : পীযূষ কান্তি দাস পর্দার দাপুটে নায়ক, বাস্তব জীবনে মানবতাবাদী — নানা পাটেকরের জীবন ও অবিনশ্বর কীর্তি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সসীমকুমার বাড়ৈ-এর ছোটগল্প ‘প্রকৃতি বিভাজন খেলা’ মিরকাশিমের বীরকুল, হেস্টিংসের ব্রাইটন, জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ-এর দীঘা : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (শেষ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা কৌশল বাস্তবায়নের রোডম্যাপ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন কলকাতার নব্য কাজিয়ার দুর্গা : অসিত দাস SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (সপ্তম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নয়া পুঁজিবাদ : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (ষষ্ঠ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (পঞ্চম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার হাসানের ইতিহাস ও বর্তমান ছুঁয়ে : নন্দিনী অধিকারী গান্ধীজী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কবরের ইতিহাস : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (চতুর্থ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ছেলে বেলার পুজো : সুব্রত দত্ত SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (তৃতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই পিতৃ পক্ষের শেষ, মাতৃপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

মানব সভ্যতার বিকাশ, কৃষির ক্রম বিকাশ থেকে পরিবেশ ও মৃত্তিকার অবক্ষয় (প্রথম পর্ব)

Reporter
অনুপম পাল / ১৮৪৩ Views জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

সৃষ্টির আদিলগ্ন: প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর জন্ম। কিন্ত আদিলগ্নে এই ধরিত্রীতে কোন প্রানের চিহ্ন ছিল না। ভূপৃষ্ঠ ছিল নরম, গলন্ত লাভায় পরিপূর্ণ এক বহৎ গোলাকার জলন্ত পিন্ড। তাপমাত্রা ছিল ২০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের বেশী। আরো প্রায় একশ কোটির বছর সময় লাগল ঠান্ডা হতে। অনেকক্ষন ধরে জ্বাল দেওয়া দুধের উপর যে রকম মোটা সর পড়ে সেই রকম হয়ে গেল পৃথিবীটা। নিজের অক্ষ পথে ঘোরার জন্য আকারটা হল কমলালেবুর মত। পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করে সুর্যের চরিদিকে প্রদক্ষিন করছে। মাধ্যকর্ষণ শক্তির টানে ভারী পদার্থ সমূহ পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে চলে গেল। প্রথমে এখনকার বায়ুমন্ডল ছিল না। নানা বিক্রিয়ায় পৃথিবীর উপরে নানা ধরনের গ্যাস তৈরী হল যেমন জল ভেঙে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও মিথেন। কার্বন ডাই অক্সাইড ও আমোনিয়া ছিলই। ধীরে ধীরে আকাশে মেঘ এবং বায়ুমন্ডল তৈরী হল। মাধ্যকর্ষণ শক্তির টানে পৃথিবীর সঙ্গেই বায়ু মন্ডল ও মেঘ আবর্তিত হয়, পৃথিবীর আকাশ থেকে ছেড়ে বেরিয়ে যায় না। উপরিভাগটা (ক্রাস্ট)গলন্ত লাভা জমে শক্ত হয়ে যায় সৃষ্টি হয় পাথুরে মাটি। আর পৃথিবীর গভীরে গরম ফুটন্ত লাভা, এখনো ঠান্ডা না হয়নি। মনে করা হয় ওই সময় পৃথিবীর চৌম্বক শক্তি সৃষ্টি হয়। মাঝে মধ্যে অগ্নুৎপাতের ফলে লাভার উদগীরন ঘটে, ভূমিকম্প হয়, হিমালয়ের মত বিশালাকায় পর্বতমালা তৈরী হয়। এই ঘটনা সেই আদি কাল থেকে চলছে। উপরে ঠান্ডা হওয়া পাথর আবহিক বিকারের মাধ্যমে লক্ষ বছর ধরে মাটির রুপ ধারন করে। এক ইঞ্চি মাটি তৈরী হতে প্রায় এক হাজার বছর সময় লাগে। ইতিমধ্যে প্রাকৃতিক ভাবেই ভূপৃষ্ঠের মোট তিন ভাগের মধ্যে ২ ভাগ জল সৃষ্টি হল। সাগর ও মহাসমুদ্র। এই জল জমে না বা বাস্পায়িত হয়েও জল শূন্য হয়ে যায় নি। এই জলই প্রাণ সৃষ্টি জন্য দায়ী। দুই মেরুপ্রদেশ প্রচন্ড ঠান্ডা, সারা বছর বরফ জমে থাকে,ওখানকার মেরু সাগরও বরফে ঢাকা থাকে। তাপমাত্রা শীতকালে মাইনাস ৬০- ৮০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। পৃথিবী সৃষ্টি হওয়া নিয়েও বেশ কিছু মতবাদ আছে। পৃথিবীতে বেশ কয়েকটা হিমযুগ এসেছে। একে তুষার যুগ বলা যেতে পারে।পৃথিবীর তাপমাত্রা খুব কমে হিমাঙ্কের নীচে চলে যায়, জীব কূলের জীবনধারন প্রতিকূল হয়ে পড়ে। বহু জীবের অস্তিত্ব ল‌োপ পায়।

প্রানের উদ্ভব: প্রানের উদ্ভব হওয়ার সঠিক সময় নিরুপন করা সম্ভব হয় নি। ২০১৭ সালের অস্ট্রলিয়ার এক গবেষনায় মনে করা হচ্ছে ৩৪৬ কোটি বছর আগে অনু জীবের উদ্ভব হয়েছিল। জলেই এক কোষী প্রানের উদ্ভব হয়। অজৈব পদার্থ থেকেই এক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রানের সৃষ্টি হয় (আবায়োজেনেসিস)। জলীয় “জৈব ফোটার মত” বা কোয়াসারভেট বলা হয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রানীর উদ্ভব হয়েছে। তবে পৃথিবীতে প্রানীর আগে উদ্ভিদ জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। প্রানের সঙ্গা ঠিক কি সেটা আমাদের জানা নেই। প্রানীর দেহে প্রান সঞ্চার হয় কি ভাবে তাও অজানা। নীচের একটি তালিকায় জীবের উদ্ভব নিয়ে দেওয়া হল। তবে সময়কাল বিভিন্ন মতবাদ আছে।

সময় ভিত্তিক বিভিন্ন জীবের উদ্ভব

আনুমানিক সময় (বছর)

 উদ্ভিদ ও প্রানীর উদ্ভবমন্তব্য
২৫০-৩৫০ কোটিপ্রথমে এক আবরন যুক্ত কোয়াসারভেট, ২ আবরন যুক্ত মাইক্রোস্ফিয়ারঅনুবীক্ষনিক কোয়াসারভেট লিপিড অনু দিয়ে গঠিত “কোষের মত জৈব ফোঁটা”
২৫০-১০০ কোটিDNA যুক্ত প্রোক্যারিওটিক এক কোষী, জীবানু সায়নো ব্যাকটেরিয়াRNA তৈরী ও পরে DNA গঠন
১০০ কোটিশ্যাওলা জাতীয়বহু প্রানী ও উদ্ভিদ প্রাকৃতিক কারনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।
৫৬ কোটিপাখি, পরাগ মিলনকারী পতঙ্গ
৪৮ কোটিসামদ্রিক প্রানী ও মাছ
৪৭-৩৭ কোটিফার্ণ, মাটিতে জন্মানো উদ্ভিদ, ব্রায়োফাইটা, বীজ হওয়া উদ্ভিদ
২৪-২৮ কোটিকীট পতঙ্গ, ডাইনোসর ও স্তন্যপায়ী
১৬-১৪ কোটিএখনকার গাছপালা, সপুষ্পক উদ্ভিদডাইনোসোর নিশ্চিহ্ন হওয়া
২ লক্ষ-২.৫০

লক্ষ বছর

আদিম মানুষের উদ্ভব (হোমো হাবিলিস), প্রস্তর যুগ বন্য, যাযাবর। গুহাবাসী, পাথরের অস্ত্র দিয়ে শিকার করা ও গাছের ফল মূল সংগ্রহ। মনে করা হয় ৫০-৭০০০০ বছর আগে অফ্রিকা থেকেই পৃথিবীতে মানুষ অনত্র ছড়িয়ে পড়ে, ৩৭-৪০০০০ বছর আগের হাড়ের বাঁশী পাওয়া যায় জার্মানীর এক গুহা থেকে।
২০ হাজারহোমো সেপিয়েন্স একটি প্রজাতিপ্যালিওলিথিক ও মেসোলিথিক যুগ
১১ হাজার বছরএখনকার মানুষ, নিওলেথিক যুগ

(নব্য প্রস্তর যুগ) তামার ব্যবহার শুরু ৫০০০ বছর আগে, প্রায় ৩০০০ বছর আগে দঃ পশ্চিম এশিয়ায় লোহার ব্যবহার শুরু হয়।

শিকার ছেড়ে বসবাস ও কৃষিকাজ শুরু করা, গোষ্ঠিগত সমাজ তৈরীর প্রাথমিক অবস্থা। জলবায়ুর কারনে বিভিন্ন ধরনের মানুষের গোষ্টি তৈরী হয়। নেগ্রয়েড, ককেশিয়ান,

মানুষের ক্রম বিকাশ: শিকার করা কাঁচা মাংস ও বনের ফলমূল খেয়েই চলল কয়েক লক্ষ বছর। আদিম মানুষ প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার বছর আগে নিয়ন্ত্রিত আগুনের ব্যবহার শিখল। বরং বলা যেতে পারে আবিষ্কার করল। দুটি পাথর ঘর্ষনের স্ফুলিঙ্গ থেকেই শুকনো ঘাস-পাতা জালানো হত। মাংস পুড়িয়ে খাওয়া ও শীতের রাতে গুহা গরম রাখা ও বন্য প্রানীর থেকে আত্মরক্ষার জন্য আগুন জরুরী হয়ে পড়ল। শুধু তাই নয় আগুনের দ্বারা বিশেষ পাথরের অস্ত্র (সিলক্রিয়েট) তীরের ফলার মত আকার দেওয়া হত ও তীক্ষ্ন করা হত। অনেক পরে প্রায় ২০০০০ বছর আগের পোড়া মাটির জিনিষের অবশেষ পাওয়া যায় চীনে। ১০ হাজার বছর আগে কৃষি বিকাশের সাথে পোড়া মাটির জিনিষের চল বাড়ে। নিয়ন্ত্রিত আগুনের ব্যবহার ও রান্না করতে শেখাটাই অন্য প্রানীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিল। দু পায়ে সোজা হয়ে চলা ও অন্য প্রানীর থেকে শরীর অনুপাতে বেশী আয়তনের মাথার খুলিই মানুষ অন্য প্রানীর থেকে স্বতন্ত্র হয়ে যায়।

বিভিন্ন প্রানীর গার্হস্থীকরন ও চাষবাস: মানুষ চাষ করা শিখল অনেক পরে। কোন ফসল কি ভাবে চাষ করতে হবে তা ঠিক হয় বহু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর। কোনটা খাবার কোনটা অখাদ্য তাও ঠিক করেছেন আমাদের সেই নাম না জানা পূর্বপুরুষরা।

আশ্চর্যের বিষয় হল বিগত পাঁচ হাজার বছরের কৃষির ইতিহাসে নতুন করে কোন ফসল খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন কি নতুন কোন প্রানীকে দুধের জন্য পালন করা শুরু হয় নি। অথচ আমরা বলছি কৃষির প্রভূত উন্নতি হয়েছে। আসলে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সহ্যকারী রোগ ও পোকা প্রবন “বেশী ফলনের উপযোগী” ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। তথাকথিত কৃষি উন্নয়নের নামে আঞ্চলিক বেশী ফলনের ও রোগ পোকা সহনশীল ফসলের জাত সমূহকে নস্যাৎ করে দিয়ে “উচ্চফলনশীল বীজ” বাজারে বিক্রি হচ্ছে। চাষের সব উপকরণ বাইরের থেকে কিনতে হচ্ছে। ফলে রাসয়নিক সার, কীটনাশক ও বীজের বিক্রি বহুলাংশে বেড়েছে। বেটে জাতের আধুনিক জাতের ধান চাষের জন্য গোখাদ্য খড় থেকে গবাদি পশুরা বঞ্চিত। এমনকি জলমগ্ন ধান জমির থেকে সহজে জন্মানো বিভিন্ন মাছ আর পাওয়া যায় না। কীটনাশকের প্রভাবে মাছ জন্মাতে পারে না। সহজ লভ্য প্রোটিন থেকেও মানুষ বঞ্চিত।

কাছাকাছি জলের উৎস ও ভালো সমতল ভূমির মাটির উপর ভিত্তি করে গম (আদি পুরুষ) ,যব, ধান, মিলেট, ভুট্টা ইত্যাদির চাষ শুরু হল। চাষের কাছাকাছি বসবাস শুরু হল। যৌথ চাষ ব্যবস্থাই ছিল স্বাভাবিক। লাঙ্গল আর চাকা যুগান্তকারী আবিষ্কার। সভ্যতার চাকা এর জন্য ঘুরতে শুরু করেছিল সেই আদিকাল থেকেই। সহজেই পোষ মানে কুকুর। আত্মরক্ষার জন্য কুকুরকে পালন করা শুরু হয় প্রায় খৃষ্ট পূর্বাব্দ ১০-১২০০০ বছর আগে। পরে শিকারের কাজেও লাগানো হয়। অনেক পরে প্রায় খৃষ্ট পূর্বাব্দ ৭০০০-৮০০০ বছর আগে গরু, ছাগল, ভেড়া, শুকর (চীন) ইত্যাদিকে পালন করা শুরু হয়। মাংস এবং দুধের জন্য পোষা শুরু হয়। চাষে লাঙ্গল টানার জন্য ষাড়/বলদের ব্যবহার শুরু হয় প্রায় খৃষ্ট পূর্বাব্দ ৪০০০ বছর আগে। ৬ খৃষ্টপূর্বাব্দে জঙ্গলে মৌমাছি, মৌমাছির চাক ও মধুর উপযোগিতা আবিষ্কার হয়।

লোহার লাঙ্গলের আগে কাঠ,কাঠের সঙ্গে পাথর লাগিয়ে জমি চাষ করা হত। লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি কাজের ব্যাপক পরিবর্তন হতে শুরু হল।

কৃষির বিকাশ ও ফসল গার্হস্থীকরন: এখনকার মধ্য প্রাচ্যের ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের অঞ্চলের লেভ্যান্টে প্রথম কৃষি কাজ ও আধুনিক মানুষের জন বসতির সন্ধান পাওয়া যায়।খৃষ্টপূর্বাব্দ প্রায় ১২২০০ বছর আগের ঘটনা। বিভিন্ন ধরনের মিলেট, বাদাম, ধান, মাটির তলার কন্দ ফসল-কাসাভা ইত্যাদির চাষ করা হত। এখনকার ইসরায়েল, জর্ডন উপত্যাকা, দক্ষিন তুরস্ক,ইরানের জারগোস পাহাড়কে নিয়ে বলা হয় ফার্টাইল ক্রেসেন্ট । ওই অঞ্চলেই বিভিন্ন প্রানীর গার্হস্থ্যীকরন করা হয় এবং বিভিন্ন ফসল চাষের প্রমান পাওয়া গিয়েছে। খৃষ্টপূর্বাব্দ ৫৬০০ বছর আগের তুরস্কের দক্ষিনে কাটাল হউউকে পাওয়া বাড়ির দেওয়ালে ষাঁড়ের ছবি ও দৈনন্দিন ঘটনার চিত্র পাওয়া গিয়েছে। ওই জায়গায় মুসুর, ফল, গম ও বার্লি চাষের তথ্য মিলেছে।

চাষের আদিতে এখনকার মত লাঙ্গল চালনা করা হত না। খুরপি জাতীয় কিছু দিয়ে খুপি করে গাছ লাগানো হত। ঝুম চাষির মত আদি জনগোষ্ঠির মধ্যে এখনও খুপি করে ফসলের বীজ লাগানোর প্রথা আছে।

পরে কোদালের মত চাষাস্ত্র দিয়ে জমি চাষ করা শুরু হল। সিন্ধু সভ্যতায় সময়ে ২৮০০ খৃষ্টপূর্বাব্দে জমি যে চাষ করা হত তার প্রমান মিলেছে। পশু দিয়ে জমিতে লাঙ্গল দেওয়ার নির্দশন। মেসোপটেমিয়ার সভ্যতায় ৬ খৃষ্টপূর্বাব্দে জমি চাষের সূত্র মিলেছে। কাঠের ও পাথরের পর লোহার লাঙ্গল কৃষিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। পশু শিকার, বনের ফলমূল পাওয়ার অনিশ্চয়তা দূর হয়ে গেল। চাষের পর অন্য কাজেও তারা মনোনিবেশ করতে থাকলেন। কৃষির সঙ্গে পশুপালন শুরু হল। যে পশুরা অপেক্ষাকৃত শান্ত এবং জঙ্গল ছাড়া মানুষের কাছাকাছি থেকে বংশবৃদ্ধি করতে পারে এমন পশুদেরই গার্হস্থীকরন করা হয়। পশুর মাংস, জমি চষা, মাল পরিবহন এগুলি ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ওরাইজা সাটিভা

ধান চাষের ইতিহাস খৃষ্টপূর্বাব্দ ৫০০০ বছর আগের। তবে চীনে ইয়াংসী নদীর পাড়ে খৃষ্টপূর্বাব্দের ১১০০০ বছর আগের ধান চাষের নির্দশন পাওয়া গিয়েছে। ভারতে ধান চাষের (ওরাইজা সাটিভা) শুরু ৫০০০-৭০০০ খৃষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে।

মেসো আমেরিকার ওয়াক্সাকা উপত্যাকার গুইলা নাকিৎস অঞ্চলে কৃষিকাজ ৮৯০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ থেকে চলছে। ওখানে লাউ ও স্কোয়াশ, টমাটো, তুলো, বিন ও ছোট আকারের আদি ভুট্টা চাষের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। যেখানে প্রচুর ফসলের বৈচিত্র ছিল সেখানেই সভ্যতার উন্মেষ হয়েছিলো, বসবাস গড়ে ওঠে। মধ্য এশিয়া একটি উদারহন। তবে একই ফসলের একাধিক উৎপত্তিস্থল থাকতে পারে। কোন একটি জায়গায় কোন একটি ফসলের বহু সংখ্যক জাতের উপস্থিতি পাওয়া গেলে সেই অঞ্চলকে সেই বিশেষ ফসলের উৎপত্তিস্থল হিসেবে ধরা হয়।

ট্রিটিকাম উরারতু

গমের আদি পুরুষ ট্রিটিকাম উরারতু ও এগিল্পস্ স্পেলটয়ডিস মধ্যে শংকারায়ন থেকে শুরু করে এখনকার ট্রিটিকাম এস্টিভাম ও ট্রিটিকাম স্পেলটা তৈরী হতে ৫ লক্ষ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে জিন সজ্জাও স্থিরকৃত হল। আপাত সুস্থির বলা যেতে পারে। দানা আকারে বড় এবং শীষ থেকে ঝরে যাওয়ার প্রবনতা কম। মানুষ এই ধরনের বীজের সন্ধান করে ফসল লাগাতে শুরু করে। ১০,০০০ হাজার বছর আগে এখনকার জাতের গম চাষের প্রমাণ মিলেছে।

পৃথিবীতে প্রায ৪ লক্ষ রকমের উদ্ভিদ থাকলে প্রায় ৫০০ উদ্ভিদকে গার্হস্থীকরন করা হয়েছে। বিষাক্ত, উপক্ষার যুক্ত ফসলকে আলাদা করা হয়েছে। খেয়ে দেখেই খাদ্য ও অখাদ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে অসুষ্থ হওয়া ও মত্যুর মত অঘটন ঘটাও আশ্চর্যের বিষয় নয়। অথবা বানর সদৃশ প্রানীরা ধরনের ফলমূল খেতে পছন্দ করে সেটা আদি মানুষের খাবার হতে পারে।

মিলেট

মধ্য ইুয়রোপ ও বল্কান অঞ্চলে দুধ খাওয়ার প্রচলন শুরু হয় প্রায় ৭৫০০ বছর আগে। সরাসরি দুধ নয় দুধের থেকে তৈরী দই ঘোল জাতীয় দ্রব্য।

নিওলেথিক (নব্য প্রস্তর যুগ) যুগে মানুষ কোহল সন্ধানের (দানা শস্য জাতীয় খাদ্যেদ্রব্যকে বিশেষ ভাবে পচিয়ে মদ তৈরী) মাধ্যমে মদ তৈরী করত। ৭০০০ খৃষ্টপূর্বাব্দে চীনে এর প্রমান পাওয়া গিয়েছে। ওখানেই ৪০০০ খৃষ্টপূর্বাব্দে চালের তৈরী মদের ব্যবহার দেখা যায়। আয়ুর্বেদে ওষধিগুন সম্পন্ন মদের উল্লেখ পাওয়া যায়। তৎকালীন মিশর, ব্যাবিলন, সুদানও দক্ষিন আমেরিকায় মদের প্রচলন ছিল। উত্তর চীনের হেনান প্রদেশের জিয়াহু গ্রামে মাটির দ্রব্যের নির্দশন থেকে মনে করা হয় ৯০০০ বছর আগে মদ তৈরী করা হত। এখনও ঝাড়খন্ডের কিছু জায়গায় মিলেট চাষ করা হয় দানা শস্য হিসেবে খাওয়ার জন্য নয়, মদ তৈরীর জন্য। ফসলের কোন জাতের থেকে ভালো মদ তৈরী হবে সেটা খুঁজে বেড়ানো বোধ হয় আদিমতম একটি নেশার মধ্যে একটি। অনেক ফসলের নির্বাচন এই ভাবেই হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।

(আবার আগামীকাল)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev