| | |
এই মুহূর্তে ::
জয়ন্ত দে-র ছোটগল্প ‘সংসারযাত্রা’ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকরী উদ্যোগ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৭/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পাষাণকন্যার পুনরুত্থান — পৌরাণিক অহল্যা ও বর্তমান সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি : রিঙ্কি সামন্ত শিল্পী সোমনাথ হোর : যোগেন চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৭/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মহাবিশ্বের ব্ল্যাকহোলের সন্ধানে দুই বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বিস্মৃতপ্রায় শিশুসাহিত্যিক যোগীন্দ্রনাথ সরকার : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ফ্রানস বালথাজার সলভিনস ও উত্তর কলকাতার ঘোড়ার সহিস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার জনসংযোগের বিপণনে দুর্গোৎসব : পান্নালাল রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৫/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আকাশ প্রদীপ — পুরাণ, ভক্তি ও বিশ্বাস : যশোবন্ত রায় ৮১ বছরে জাতিসংঘ: সবার প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম? : নিকোলাস বিশ্বাস বোধিসত্ত্ব সঞ্জয়-এর ছোটগল্প ‘স্যার’ কুমারটুলির সহিসমহল্লা ও দেবী দুর্গার বাহন ঘোটকমুখী সিংহ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বিজয়াদশমীর ভাঙ-সিদ্ধি : অসিত দাস কলকাতায় এমন দুর্গাপুজো দেখিনি তো আগে : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ওঝা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘নিখোঁজের দর্শক সংখ্যা’ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘সর্বংসহা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকরী উদ্যোগ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন

Reporter
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হাসান মোঃ শামসুদ্দীন / ৪৮ Views জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় দশ বছর ধরে চলমান এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশের সমস্যা না ভেবে এটাকে একটা আঞ্চলিক সংকট হিসেবে ভাবতে হবে। এই সমস্যা যতই দীর্ঘায়িত হবে ততই তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার উপর চাপ সৃষ্টি করবে। এটাকে মানবিক সংকটের পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের একটি কার্যকর সমাধান প্রণয়ন করার জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন। রাখাইন রাজ্যে এখন আরাকান আর্মির দখলে এবং সেখানকার প্রাশাসনিক ব্যবস্থা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। মিয়ানমার সরকার সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই সংকটের কোন রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। এর ফলে আপাতদৃষ্টিতে রাখাইনে স্থিতিশীলতা শান্তি ফেরার সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না। রাখাইনের বেশীরভাগ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের সদিচ্ছা থাকলে সেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাবার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে প্রথমেই তাদেরকে সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে এবং নতুন করে রোহিঙ্গাদের রাখাইন ছাড়ার প্রবণতা বন্ধে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে মনে রাখতে হবে রাখাইন শাসন করতে গেলে সশস্ত্র বিদ্রোহী গুষ্ঠি হিসেবে নয় বরং একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদেরকে প্রস্তুত ও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বর্তমানে রাখাইন সংলগ্ন বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে।

আরাকান আর্মির কাছে অস্ত্রের মজুত ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশের এই সমস্যায় কোনভাবে জড়িয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এ বিষয়ে আরাকান আর্মির সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং বাংলাদেশের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকার ও মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক এবং অন্যান্য বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক চলমান রাখতে হবে। মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের সাথে এই আলোচনা কখনই বন্ধ করা যাবে না। একই সাথে আরাকান আর্মি এবং রাখাইনের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। গত নয় বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মিয়ানমারের এবং রাখাইন রাজ্যের দলগুলোর সাথে বিভিন্ন কারনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি ন্যাশনাল ইউনিটি গভার্নমেন্টের (এন ইউ জি) সাথেও বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ রাখতে হবে। মিয়ানমারের নির্বাচিত দলের বেশীরভাগ প্রতিনিধি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা হলেও সরকার গঠন করা এই নির্বাচিত দলের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। মিয়ানমারের সাথে এ ধরনের যোগাযোগ আগে কখনো হয়নি তাই এটা হতে পারে একটা নতুন উদ্যোগ।

রাখাইন ও মিয়ানমারের জনগণের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ শুরু করা এবং তা ধীরে ধীরে বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা একদিনে অর্জন করা যায় না, তবে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে গেলে একটা সময় আসবে তখন অবিশ্বাস ও সন্দেহ বন্ধুত্বে রূপ নিতে পারে। দুদেশের সীমান্তে বিজিবি ও আরাকান আর্মি কর্তব্যরত রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ থাকতেই হবে।

একই সাথে সীমান্তের ওপারে যেহেতু আরাকান আর্মির প্রশাসন চলছে তাই দুপারের জনগণের সাথে যোগাযোগ বাড়লে অবৈধ ভাবে চলমান চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে। সীমান্ত অঞ্চলে মিয়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণ নাই বিধায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে যারা রয়েছে তাদের মাধ্যমে দুই দেশের স্থানীয় জনগণের যোগাযোগ স্থাপিত হতে পারে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ত্রাণ সহায়তা অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এন জি ও এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে হবে। সব সময় সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে নিজেদের উদ্যোগে তারা তাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে এগিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারের অনেক শিক্ষাবিদ ও গবেষক মিয়ানমারের ভেতরে ও দেশের বাহিরে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সাথে তাদের যোগাযোগের উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ আছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেও আমরা নানা কারনে এই প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রচেষ্টা নেইনি। অথচ মিয়ানমার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি। সেই সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া গেলে হয়ত এই রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হত না। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের পরই এই সংকট ব্যাপকতা পায় এবং বর্তমান সমস্যার শুরু তখন থেকেই।

রাখাইনে এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ঔষধের সংকট চলছে। রাখাইনের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও উন্নত নয়। বাংলাদেশ এই পরিস্থিতিতে রাখাইনের সংকট মোকাবেলায় ভুমিকা রাখতে পারে। খেলাধুলা, শিক্ষাবৃত্তি ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার বিষয়গুলো নিয়ে এগিয়ে আসলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভাল হতে বাধ্য। প্রতিবেশীর সংকটে এগিয়ে আসলে তাঁর একটা ইতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়বে। আমাদের জাতীয় কমিটি অবশ্যই এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে আশা করা যায়।

মিয়ানমার ও রাখাইনের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটা বড় ভুমিকা রয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে এবং সম্পর্কের কোন টানাপোড়েন থাকলে তা মিটিয়ে ফেলতে হবে। আমাদের দেশের বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সচেতন প্রতিনিধিরা এই কাজে এগিয়ে আসতে পারে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গা ও রাখাইন জাতিসত্তার মধ্যে ঘৃণা ও দূরত্ব সৃষ্টি করার চলমান প্রক্রিয়ায় ২০১৭ সালের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশের দিকে রোহিঙ্গা ঢলের সৃষ্টি হয় ও বর্তমান সমস্যার শুরু। এই হেট স্পিচের বিপরীতে তাদের মধ্যে সম্প্রতি সৃষ্টির কোন উদ্যোগ গত নয় বছরে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় গুষ্ঠির পক্ষ থেকে নেয়া হয় নাই। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির উদ্যোগ নিতে হবে। এটা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব হবেনা। বিদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নেতৃত্ব ও প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক মহল, আন্তর্জাতিক এন জি ও এবং মিয়ানমারের মধ্যপন্থী বৌদ্ধ সংগঠনগুলো এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিমিকা রাখতে পারে। বেশ দেরি হয়ে গেলেও এই উদ্যোগ এখনি নিতে হবে।

রাখাইন রাজ্য মিয়ানমারের একটি অনুন্নত অঞ্চল। এই রাজ্য এবং এখানকার জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাখাইন রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কফি আনান কমিশন রিপোর্টে ও এর উল্লখ রয়েছে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা মানুষের মধ্যেকার স্বার্থের দ্বন্দ্ব অনেকখানি কমিয়ে দেয়। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টিতে এর অবদান অনস্বীকার্য। রাখাইন রাজ্যের ভুরাজনৈতিক ও ভুকৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল, আসিয়ানের দেশগুলো, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের অন্যান্য বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্রগুলো এ বিষয়ে অবদান রাখতে পারে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিতে হবে। রোহিঙ্গা তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সক্ষম করে তুলতে হবে।

বৈশ্বিক মহলে তারা তাদের সংকটের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও তা এগিয়ে নেয়ার মত যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করতে হবে। রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করা অংশীজন এসব উদ্যোগে কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে শতকরা পঞ্চাশ ভাগের বেশী নারী এবং নারী ও শিশু মিলে এর সংখ্যা ৭৮ শতাংশ। এই বিশাল অংশকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। রোহিঙ্গা নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী ও নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার মত যোগ্য করে তুলতে হবে। রোহিঙ্গা নারীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়া এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক নারী সমাজের প্লাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে তাদের বঞ্ছনা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের অগ্রগতি এবং এই সংকট সমাধানে বাধা দূর করতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ভাষায় এই ইস্যুটিকে জীবন্ত রাখতে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ ও অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলো তাদের মিডিয়ায় বিভিন্ন ভাষায় সারা পৃথিবীতে এই নির্মম পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে যেতে পারে।

সুদীর্ঘ সময় এই সংকট চলমান থাকায় দাতাদের ক্লান্তি ( ডোনার ফেটিগ) যেন না আসে সে বিষয়ে সচেতন হয়ে প্রয়োজনীয় বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে এবং তা চলমান রাখতে হবে। ও আই সি ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে এই সহায়তার জন্য উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনজীবনে চরম দুরবস্থার সৃষ্টি হবে।

রোহিঙ্গা সংকট এখন একটা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের পাশে হওয়ায় রাখাইন রাজ্যের উপর চীন এবং অন্যান্য পরাশক্তির আগ্রহ এই অঞ্চলের ভুকৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে চীন ও ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। সম্প্রতি চীন মিয়ানমারের উপর দিয়ে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের পরিকল্পনা করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য রাখাইন রাজ্য ও মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতি শীলতা জরুরী। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না করে এই স্থিতিশীলতা কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা বলা যাচ্ছে না। তাই মিয়ানমার ও রাখাইনে রাজনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি ভারত, চীন, জাপান, আসিয়ান ও অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্র গুলোকে সম্পৃক্ত করে রোহিঙ্গা সমস্যার একটা বাস্তবসম্মত সমাধান করার উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশকে কূটনৈতিক সমঝোতা ও আলোচনার পাশাপাশি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

মিয়ানমার সরকার, সেনাবাহিনী, আরাকান আর্মি, মিয়ানমার ও রাখাইনের রাজনৈতিক দল ও বিরোধীদল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটা ফোকাল পয়েন্টের পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সংযোগ এবং সবার মধ্যে একটা সামগ্রিক সংযোগ ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ঐক্য নিশ্চিত করে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সংকট সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধান মন্ত্রীর পাঁচ দফা দিকনির্দেশনার আলোকে জাতীয় কমিটি সক্রিয় হলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করা যায়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মোঃ শামসুদ্দীন, এন ডি সি, এ এফ ডব্লিউ সি, পি এস সি, এম ফিল (অবঃ), মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev