| | |
এই মুহূর্তে ::
কলকাতায় এমন দুর্গাপুজো দেখিনি তো আগে : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ওঝা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘নিখোঁজের দর্শক সংখ্যা’ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘সর্বংসহা’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯১/২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাজারাজড়া ও বণিকের দুর্গাপূজায় নিম্নবর্গ ছিল রবাহূত : অসিত দাস প্রজনন অধিকার নিশ্চিত হলেই সুস্থ্য বাংলাদেশ গড়া সম্ভব : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯১/১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘জলের অক্ষর’ কতো বড়ো বড়ো পুজোরে বাবা… : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নবপত্রিকা: দুর্গাপূজার অন্তরালে শস্যদেবী ও প্রকৃতির আরাধনা : যশোবন্ত রায় মন্ত্র ভুল বললেও কোনও অসুবিধে নেই… নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিংহবাহিনী দুর্গা মৃগবাহিনীও : শ্যামলকান্তি চক্রবর্তী দেবদেবীর পূজায় দুর্বার প্রয়োজন কেন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কারসন-এর শব্দের ব্যুৎপত্তির ধারণা : অসিত দাস মিয়ানমার সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন : অসিত দাস পেজফোরনিউজ-এর শারদোৎসব বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ প্রকাশিত হল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই পিতৃ পক্ষের শেষ, মাতৃপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

কলকাতায় এমন দুর্গাপুজো দেখিনি তো আগে : দিলীপ মজুমদার

Reporter
দিলীপ মজুমদার / ৯৪ Views জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

পটভূমি

প্রায় পঞ্চাশ বছর বাস করছি কলকাতায়। কংগ্রেস আমল দেখেছি, বাম আমল দেখেছি, তৃণমূল আমল দেখলাম। কিন্তু কোন আমলেই এমন দুর্গাপুজো দেখিনি। এমন পটভূমিও দেখিনি। এবারের পটভূমি একেবারেই আলাদা। সরকার পরিবর্তন হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছেন সনাতনীরা। এসেই শুরু করে দিয়েছেন কাজ। বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ। এনকাউন্টারে সাক্ষীর দফারফা। সংখ্যালঘুর অধিকারকে থোড়াই কেয়ার। ভালো তৃণমূলের সন্ধানে অপারেশন লোটাস। মমতা তৃণমূলের নাম ও নিশান লোপাট করার চেষ্টা। তারপর বামেদের উপর আক্রমণ। মুখ্যমন্ত্রী যে আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো দুর্বল নন, সে কথা উচ্চকণ্ঠে জাহির। রাজপথ রঙিন করার উদ্যোগ। এ এক পটভূমি। আর এক পটভূমি ভোটচুরির বিরুদ্ধে অভিযান। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ। পথ খুলে দিল ককরোচেরা। তারপর তাতে সামিল বিরোধীরা। সরগরম দিল্লির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল ভারতময়। পুলিশের মার। গ্রেপ্তার। তবু দমানো যাচ্ছে না প্রতিবাদীদের। ফাটল ধরছে সরকারের শরিকদের মধ্যে। নড়েচড়ে বসছে বিচার ব্যবস্থা। যেন ঝড়ো যুগের মাঝে এসেছে দিন বদলের পালা।

এই সব পটভূমিতেই এবার কলকাতায় দুর্গাপুজো।

কলকাতার দুর্গাপুজো : ইতিহাস

কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসের সন্ধানে যেতে হবে বড়িশায়। সাবর্ন রায় চৌধুরীদের আদি বাসভবনে। পিছিয়ে যেতে হবে চারশো বছর। ১৬১০ সালে। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি সম্ভবত প্রথম দুর্গাপুজো। এরপর আমাদের যেতে হবে শোভাবাজারে। নবকৃষ্ণ দেব শোভাবাজার রাজবাড়ির রাজা। ১৭৫৭ সালে তিনি আয়োজন করলেন দুর্গাপুজোর। ব্যস, হুড়োহুড়ি লেগে গেল কলকাতার ধনীদের মধ্যে। নবকৃষ্ণ যখন করেছেন, বেশ নাম কিনেছেন, তখন আমরাই বা বাদ যাব কেন? তাঁদের কাছে দুর্গাপুজো হয়ে উঠল স্ট্যাটাস সিম্বল। সেসব দুর্গাপুজোর পুরো বিবরণ তুলে ধরলে একালের স্বঘোষিত সনাতনীরা কানে আঙুল দেবেন। ধনীদের দুর্গাপুজোয় শাস্ত্রাচার ছিল একেবারেই গৌণ। অতিথি হয়ে আসতেন ইংরেজ প্রভুরা। তাঁদের জন্য উইলসন হোটেল থেকে আসত গরু ও শুয়োরের মাংস। আসর বসত মদ্যপানের। দেবীপ্রতিমার সামনেই নাচের আসর বসত। তাতে অংশগ্রহণ করতেন মুসলমান বাইজিরা। ব্যতিক্রম ছিল অবশ্য। যেমন রানি রাসমণি। তাঁর জানবাজারের বাড়িতে যে দুর্গাপুজো হত, সেখানে এসব ‘অনাচার’ ছিল না।

বাংলার প্রথম বারোয়ারি বা সার্বজনীন পুজো হয়েছিল হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়ায়। ১৭৯০ সালে। বিন্দুবাসিনীতলার জঙ্গল পরিষ্কার করে জনা কয়েক যুবক আয়োজন করেছিলেন দুর্গাপুজোর। আশপাশের মানুষের কাছ থেকে চাঁদাও তুলেছিলেন তাঁরা।

কলকাতার প্রথম সার্বজনীন পুজো হয় ভবানীপুরের বলরাম বসু ঘাট রোডে। আদি গঙ্গার তীরের এই ঘাট সতী ঘাট নামেও পরিচিত।। এই ঘাটে স্নান করে রানি রাসমণি কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতেন। ১৯১০ সালে এখানে সার্বজনীন দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন বারো জন বাঙালি। এই বারো জনের মধ্যে কয়েকজন আবার স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। ভবানীপুরের সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভার পক্ষ থেকে পুজোর আয়োজন করা হয়। তারপর থেকে বিভিন্ন স্থানে বারোয়ারি বা সার্বজনীন দুর্গাপুজোর আয়োজন শুরু হয়ে যায়। যেমন : ১৯১১ সালে শ্যামপুকুর আদি সার্বজনীন, ১৯১৩ সালে শ্যামবাজারের শিকদারবাগান সার্বজনীন, ১৯১৯ সালে নেবুবাগান (বর্তমানে বাগবাজার) সার্বজনীন, ১৯২৬ সালে সিমলা ব্যায়াম সমিতির সার্বজনীন দুর্গাপুজো। সে সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েছে। ২০০৮ সালের হিসেবে সংখ্যাটা ছিল ২ হাজারের বেশি। বর্তমানে সে সংখ্যা আরও পরিপুষ্ট হয়েছে।

কলকাতার কিছু উল্লেখযোগ্য সার্বজনীন দুর্গাপুজো :

উত্তর কলকাতা : দর্পনারায়ণ ঠাকুর স্ট্রিট পল্লি সমিতি, পাথুরিয়াঘাটা ৫-এর পল্লি, হাটখোলা গোঁসাইপাড়া, মানিকতলা চালতাবাগান লোহাপট্টি, আহিরিটোলা বি কে পাল, বাগবাজার সার্বজনীন, আহিরিটোলা শীতলাতলা, কুমোরটুলি পার্ক, কুমোরটুলি সার্বজনীন, শোভাবাজার বেনিয়াটোলা, নিমতলা সার্বজনীন, হাতিবাগান নলিনী সরকার স্ট্রিট, হাতিবাগান সার্বজনীন, হাতিবাগান নবীন পল্লি, মানিকতলা হরীতকী বাগান, গৌরীবাড়ি সার্বজনীন, সিমলা ব্যায়াম সমিতি, সিমলা বিবেকানন্দ স্পোর্টিং, রবীন্দ্রকানন, লেকভিউ পার্ক সার্বজনীন, সিঁথি সার্বজনীন, বাঙালি সংঘ, নবজীবন যুবক সংঘ, উত্তর বরাহনগর শ্রীশ্রী মাতৃপূজা সমিতি, টালা বারোয়ারি।

পূর্ব কলকাতা ও বিধাননগর : তেলেঙ্গাবাগান, করবাগান, শুড়ির বাগান, উল্টোডাঙ্গা বিধানসংঘ, কাঁকুড়গাছি মিতালি, কাঁকুড়গাছি আবাসিকবৃন্দ, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, লেকটাউন অধিবাসীবৃন্দ, নতুন পল্লি প্রদীপ সংঘ, আমরা সবাই ১নং পল্লিশ্রী কলোনি, লেকটাউন নেতাজি স্পোর্টিং, জপুর ব্যায়াম সমিতি কালিন্দী, ১৪-এর পল্লি দমদম, দমদম পার্কের তরুণ সংঘ, দমদম পার্কের ভারত সংঘ, দমদম পার্ক যুবক সংঘ, লাবনী এস্টেট, এফ ডি ব্লক সল্ট লেক, এইচ বি ব্লক সল্ট লেক, এজে ব্লক সল্ট লেক, বিই (ইস্ট) সল্ট লেক, আইএ ব্লক স ল্ট লেক।

মধ্য কলকাতা : শিয়ালদা রেলওয়ে অ্যাথালেটিক ক্লাব, তালতলা যুবগোষ্ঠী, তালতলা সার্বজনীন, ইন্টালি উদয়ন সংঘ, সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, তালতলা ডাক্তার লেন, মহম্মদ আলি পার্ক, পার্কসার্কাস বেনিয়াপুকুর সংযুক্ত সার্বজনীন, কলেজ স্কোয়ার, মধ্য কলকাতা সার্বজনীন, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার (নেবুতলা)।

বেহালা : বেহালা ক্লাব, দেবদারু ফটক, মুকুল সংঘ, বড়িশা ক্লাব, আদর্শ পল্লি, আচার্য প্রফুল্ল সংঘ, বড়িশা যুবক সংঘ, ঐক্য সম্মিলনী, বেহালা ২৯ পল্লি, সাহাপুর মিতালি সংঘ, বড়িশা তরুণ তীর্থ, বেহালা প্রগতি সংঘ, বড়িশা উন্নয়ন পল্লি, বেহালা নতুন দল, ঘোলসাহাপুর ইয়ংস্টার।

দক্ষিণ কলকাতা : সুরুচি সংঘ, সন্তোষপুর লেকপল্লি, হরিদেবপুর অজেয় সংহতি, ৬৬ পল্লি, বাদামতলা আযাঢ় সংঘ, বাবুবাগান, অবসারিকা, ভবানীপুর মুক্তদল, পদ্মপুকুর বারোয়ারি সমিতি, বালিগঞ্জ সমাজসেবী সংঘ, ত্রিকোণপার্ক সার্বজনীন, শিবমন্দির, বোসপুকুর তালবাগান, খিদিরপুর ২৫ পল্লি, কালীঘাট সংঘশ্রী, ৯৫ পল্লি, ৬৪ পল্লি, হরিদেবপুর বিবেকানন্দ স্পোর্টিং, হরিদেবপুর ৪১ পল্লি, রাজডাঙা নব উদয় সংঘ, পল্লিমঙ্গল সমিতি, সেলিমপুর পল্লি, গড়িয়া মিতালি সংঘ, সংঘশ্রী ক্লাব, ২১ পল্লি, একডালিয়া এভারগ্রিন, নাকতলা ভ্রাতৃমিলন সংঘ, নাকতলা সম্মিলনী, চক্রবেড়িয়া সার্বজনীন, ত্রিধারা সম্মিলনী, যোধপুর পার্ক, দেশপ্রিয় পার্ক, বালিগঞ্জ কালচারাল, সিংহী পার্ক, হিন্দুস্থান ক্লাব, বালিগঞ্জ পূর্বপল্লি, হিন্দুস্থান পার্ক, গড়িয়া বিধানপল্লি, নাকতলা উদয়ন সংঘ, আদি বালিগঞ্জ, ভবানীপুর বকুলবাগান, হরিদেবপুর আদর্শ সমিতি, ম্যাডক্স স্কোয়ার, সোদপুর প্রগতি সংঘ, চেতলা অগ্রণী, ভবানীপুর ২২ পল্লি, সূর্যনগর সার্বজনীন, পশ্চিম পুটিয়ারি পল্লি উন্নয়ন সমিতি।

বাম আমলের ৩৪ বছরের শাসনে এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে কলকাতার দুর্গাপুজো তার ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। বামেরা পুজোয় বিশ্বাসী না হলেও উৎসবের বিঘ্ন ঘটতে দেন নি। তবে তখনকার নেতা ও মন্ত্র্রীরা প্রত্যক্ষভাবে কোন পূজা কমিটির সঙ্গে জড়িত থাকতেন না। পুজো মণ্ডপের পাশে তাঁরা বইএর স্টল দিতেন। তৃণমূল আমলে নেতা ও মন্ত্রীরা প্রত্যক্ষভাবে পুজোর সঙ্গে যুক্ত হতেন, পূজো কমিটিতে থাকতেন। বাম ও তৃণমূল উ্ভয় আমলে ‘ক্রাউড ম্যানেজমেন্টে’ কলকাতা পুলিশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দক্ষতার সঙ্গে তাঁরা পুজো প্যাণ্ডেলের ভিড় সামলেছেন।

কার্নিভাল নয় শুধু বিনোদন

২০১৬ সালে তখনকার তৃণমূল সরকার দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের ঠিক আগে কলকাতার সেরা পুজো মণ্ডপগুলোর প্রতিমা ও থিম নিয়ে রেড রোডে এক জমকালো কার্নিভালের আয়োজন করেন। দুর্গাপুজোকে নিছক একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে না রেখে তাকে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ দেওয়া ও বাংলার শিল্প-ঐতিহ্য-শিল্পীদের বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা ছিল এই কার্নিভালের মূল উদ্দেশ্য। তার পর থেকে প্রতি বছর বিজয়া দশমীর পরের দিনগুলিতে রেড রোডে এই কার্নিভাল হয়ে আসছে।

২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর [UNESCO] আন্তরাষ্ট্রীয় কমিটির ১৬তম অধিবেশনে কলকাতার দুর্গাপুজোকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ [Representative List of the Intangible Cultural Heritage of Humanity] তালিকায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

“I would like to offer warm congratulations to India, its people and especially all those who worked on the nomination dossier. I am confident that this inspiration will offer encouragement to the local communities that celebrate Durga Puja, including all the traditional craftspeople, designers, artists and organizers of large-scale cultural events, as well as tourists and visitors who pertake in the inclusive festivity that is Durga Puja.”

ERIC FALT

Director, UNESCO, New Delhi

অতনু বিশ্বাস এই সম্মানের পর্যালোচনা করে লিখেছেন :

“বিশ্বজনীন উত্তরাধিকারের তালিকায় ইউনেসকোর অস্থাবর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া নিঃসন্দেহে এক বিশেষ সম্মান। এ এমন এক অনুমোদন যা জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয় আন্তর্জাতিক দুনিয়ায়। মনোনয়ন, কাগজপত্র তৈরি এবং পক্ষ সমর্থনের একটি কঠোর প্রক্রিয়ায় বিচার করা হয় গুণাগুণ এবং তারই সঙ্গে আধুনিকীকরণ এবং বিশ্বায়নের ঝাপটায় সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়গুলি যে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, মূল্যায়ন করা হয় তারও।

“কলকাতার দুর্গাপুজোর সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রভাব এমনিতে প্রবল। এই পুজোর কালচার, যা আজকের রূপ নিয়েছে যুগসঞ্চিত প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে, তাকে অন্য কোনও পটভূমিতে অনুকরণ করা কঠিন শুধু নয়, অসম্ভবও। ইউনেসকোর এই স্বীকৃতি কতটা প্রভাব ফেলবে কলকাতার দুর্গাপূজোয়, তার উদ্দীপনায়, তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনায়? আসলে দুর্গাপুজোকে নিয়ে সামাজিক উদ্দীপনা এতটাই যে তাতে চট করে নতুন কোন বিশিষ্ট সংযোজন ঘটানো সম্ভব নয়। কোভিডের কালবেলা ছাপিয়ে অর্থনৈতিক ধাক্কাকে যথাসম্ভব অতিক্রম করে নতুন উদ্যমে যে আবার জনগণেশের ঢল নামবে রাস্তায়, সে এক রকম নিশ্চিত।’’ (আনন্দবাজার পত্রিকা ০২.১০.২০২২)

ইউনেসকোর এই সম্মান বাংলার অর্থনীতিতে কি প্রভাব ফেলবে তার আলোচনায় শ্রীবিশ্বাস বলেছেন :

“পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে দুর্গাপুজোর অপরিসীম গুরুত্ব সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও অ্যাসোচ্যাম-এর একটি বহু উদ্ধৃত ২০১৩-এর সমীক্ষা রিপোর্ট অবশ্যই উল্লেখ্য, যেখানে দুর্গাপুজোর অর্থনীতির পরিমাণ সে সময়ে অনুমান করা হয়েছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা, যার আনুমানিক বার্যিক বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। বৃদ্ধির এই বিপুল হার অবশ্যই দীর্ঘকালীন মেয়াদে ধ্রুবক নয়। এর মাঝে ভয়ঙ্কর অতিমারি ওলট-পালট করে দিয়েছে জীবনযাপনের স্পন্দন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাম্প্রতিক গবেষণারিপোর্টে দুর্গাপুজোকে চালিত করে এমন দশটি সৃজনশীল শিল্পের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, কোভিড পূর্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯-এ পুজোর সময় তৈরি হয়েছিল প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’। …. ইউনেসকোর সাম্প্রতিক স্বীকৃতি এই সম্ভাবনার দুয়ারকে আর একটু প্রশস্ত করেছে।”[ওই]

সনাতনী হুংকার

সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে সনাতনী মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, ‘অতীতে এ রাজ্যে মহালয়ার আগে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হতে দেখেছে মানুষ। পিতৃপক্ষের অবসান হয়নি, দেবীপক্ষের সূচনা হয়নি, তার আগেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপ খুলে দেওয়া হয়েছে জনসাধারণের জন্য, এমন দৃশ্যই বেশ অনেক বছর ধরে পরিচিত হয়ে গিয়েছিল। তবে এবার আর তা হবে না। দেবীপক্ষের সূচনা না হলে কোনও পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না।’ শুধু তাই নয়, দুর্গাপুজো ও বিসর্জনে ডিজে বাজানো যাবে না। মহাষ্টমীতে রাজ্য জুড়ে বন্ধ থাকবে মদের দোকান। পুজোর থিমে, প্রতিমা নির্মাণের ক্ষেত্রে, প্যাণ্ডেলে এমন কিছু করা যাবে না যাতে সনাতন রীতি লঙ্ঘিত হয়।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এলেন বাগেশ্বরবাবা। মধ্যপ্রদেশের এই বাবাটির আসল নাম ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর ধর্মীয় সভায় যোগ দেন গিরিরাজ সিং, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। বাগেশ্বরধামে ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। তার মানে বিজেপির সঙ্গে বাগেশ্বরবাবার বেশ মধুর সম্পর্ক। সেই বাবা হাওড়ার লিলুয়ার এক সভায় বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর প্যাণ্ডেলের কাছে আমিষ ভোজন করা হয়। এটা ঘৃণ্য খাবার। যারা নবরাত্রিতে আমিষ খায় তারা পাখণ্ডি। ’ এই মন্তব্য করার আগের দিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে মালা পরিয়ে এসেছেন।

দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়। তাই একে শারদোৎসব বলে বাঙালি। রবীন্দ্রনাথের লেখায় শারদোৎসবের ব্যবহার দেখতে পাই।

সনাতনীরা এতে ক্ষুব্ধ। দুর্গাপুজোকে কেন বলা হবে শারদোৎসব? অতএব সনাতনী মুখ্যমন্ত্রী দাগলেন কামান। তাঁর বিশেষ লক্ষ্য বামপন্থীরা। সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি জানিয়ে দিলেন এটি আসলে একটি ধর্মীয় উৎসব, তাই শারদোৎসব না লিখে লিখতে হবে দুর্গাপুজো।

মহালয়ায় মহিষাসুর বধ

মহিষাসুর অশুভ শক্তির প্রতীক। বিজেপি সরকারের কাছে বিরোধীরাও অশুভ শক্তি। তারা দেশদ্রোহী, তারা পাখণ্ডি। তাদের মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। আগের সরকার কার্নিভাল করে নাম কিনেছিলেন। বন্ধ করতে হবে সেটা। কার্নিভালকে অনর্থক অর্থের অপব্যয় বলে সমালোচনা করেছেন তাঁরা। কার্নিভালের বদলে নতুন কিছু একটা করতে হবে।

সেটা হল মহালয়ার মেগা ইভেন্ট। ইডেন গার্ডেনে।

১০ হাজার ড্রোন উড়বে আকাশে। ড্রোনের ডানায় অপরূপ দেবী মূর্তির নানা প্রতিচ্ছবি উঠবে ফুটে। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকবে আতসবাজির প্রদর্শনী। বাবুঘাটের বাজেকদমতলা ঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট, মিলেনিয়াম ঘাট, কুমোরটুলি ঘাট, হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটকে সাজিয়ে তোলা হবে। সেসব ঘাটে বাজবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’।

সমগ্র অনুষ্ঠানটির বাজেট প্রায় ১২৮ কোটি টাকা, যা আবার কোন কোন মহলে ১৫০ থেকে ১৬৭ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের কার্নিভালে খরচ হত ৫০-৬০ কোটি টাকা।

মহালয়ার মেগা ইভেন্টের আরও একটা তাৎপর্যপূর্ণ দিক আছে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ভার দেওয়া হয়েছে গুজরাটভিত্তিক এক বেসরকারি সংস্থাকে।

এই মেগা ইভেন্টে মহিষাসুর বধ হবেই। তার একটা নজির দেখা গেল এজেসি রোড থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ঢোকার মুখে কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটির একটা হোর্ডিংএ। তাতে ‘বামবধে’র কথা লেখা অছে। কামারডাঙা দুর্গোৎসবের এবারের মূল থিম ‘হিন্দু সনাতন রাষ্ট্র’। পুজো কমিটির তরফে সুরজ সিং বলে দিয়েছেন যে বামপন্থীরা হিন্দুধর্মের উপর আঘাত হেনেছে, তাই তাদের ছাড়া হবে না।

এত বুকিস স্টল কেন?

সনাতন ধর্ম প্রচারে, অধর্মের স্রোতকে রুখে দেবার জন্য বহু অবাঙালি স্বেচ্ছাসেবককে দেখা যাচ্ছে আমাদের এই বাংলায়। তাঁরা মূলত অন্ধ ভক্ত। তাঁদের লেখাপড়ার দরকার নেই। যুক্তিতর্ককে তাঁর ঘৃণা করেন। বই তাঁদের পরম শত্রু। তাই দিকে দিকে বামপন্থীদের বুক স্টল ভাঙার জন্য তাঁরা হাজির হয়েছেন। তাঁদের পেছনে পুলিশ আছেন। আবর্জনারূপ বইগুলি তুলে নেবার জন্য পুরসভার ময়লা ফেলার গাড়ি এসেছে। এই রকম একজন স্বেচ্ছাসেবকের বক্তব্য ভিডিয়ো করে রেখেছেন কেউ। শুনলাম সেই বক্তব্য। আহা কী শুনিলাম! জন্মজন্মান্তরে ভুলিব না।

তিনি বলছেন, ‘এত বুকিস স্টল কেন? কি হবে বই দিয়ে? তার চেয়ে ত্রিশূল বিক্রি করুন, তলো্যার বিক্রি করুন।’

বই দিয়ে কি হয়, তিনি জানেন না। কিন্তু তাঁকে যাঁরা ভাঙার কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা অবশ্যই জানেন। তাঁরা জানেন, যারা বই পড়ে তারা জানে, আর যারা জানে তারা কম মানে। আমাদের ননবায়োলজিক্যাল নেতার উপর ভক্তি চলে গেলে যে সব্বোনাশ।

চরম বেদনায়, পরম ঘৃণায় আমাদের বন্ধু স্বপন মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘ আমরা বাংলা মায়ের সন্তান, এ গর্ব করার অধিকার আর আমাদের নেই। যে ক্ষমতাদর্পীরা আজ বুক চিতিয়ে বাংলার বুকে বই পোড়াচ্ছে, বুক স্টল ভাঙার উস্কানি পাচ্ছে, তাদের সামনে বাঙালি নির্বাক, নিঃসহায়, নির্বল। রাজশেখর বসুর বই আছড়ে ফেলে পা দিয়ে লাথি মেরে ছেঁড়া হচ্ছে, এক বৃদ্ধ অনুনয় করেও নির্বোধ দুষ্কৃতিকে বিরত করতে পারছে না। এ কি বাংলা না অন্ধ কূপ? সুকান্ত, নজরুল, মার্কস, লেনিন, ভগৎ সিং, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, অদ্বৈত মল্লবর্মণ ছেঁড়া হচ্ছে, অর্থাৎ তাঁদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে অথচ বাঙালি গর্জে উঠছে না।

‘১৯৩৩ সালের ১০ মে বার্লিনে একদিনে ২০ হাজার বই পোড়ানো হয়। জোসেফ গোয়েবলস দাঁড়িয়ে থেকে যুদ্ধবিরোধী, নাৎসিবিরোধী বই সেই সঙ্গে ব্রেইলে লেখা সব বই পুড়িয়ে দেয়। অথচ জার্মানির মাইনৎস শহরে গুটেনবার্গ প্রথম ১৪৫০-এ ছাপাখানা আবিষ্কার করেন। বিস্ময়কর বৈপরীত্য! বাংলার বুকে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বাংলার শ্রীরামপুরে প্রথম ভারতের বুকে ছাপাখানা আবিষ্কার হয়। আমি বিশ্বাস করি না কোন সুস্থ মস্তিষ্কের বাঙালির পক্ষে বই পোড়ানো সম্ভব। কোন গোপন উদ্দেশ্যে অবাঙালি কুচক্রীর দল কিছু বাঙালি উন্মাদদের দিয়ে এ কাজ করাচ্ছে।’

চোরবাগানে জীবন চুরি

চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো। পুরানো কমিটিকে বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন। এলেন বিধায়ক বিজয় ওঝা, রাজকুমার সেওড়া, শান্তনু দুবে, তমোঘ্ন ঘোষ এবং ‘ভাইপো’ দেবদীপ অধিকারী। যাঁরা হলেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ। এখানকার পুজোর অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই।

প্রতিমা নির্মাণ করেছেন সুশান্ত শিবানী পাল। এবার চোরবাগানের থিম ‘অ-রব’ (Beyond Sound)। মণ্ডপ নির্মাণে ছিলেন বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ওরফে জয়। মণ্ডপ ও প্রতিমার এই অভিনব রূপ তৈরি করা হয়েছিল শহরের কোলাহল ও ব্যস্ত জীবন থেকে মনকে শান্ত করা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।

১৭ অক্টোবর। শনিবার। সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি হচ্ছে। মণ্ডপ ভেঙে পড়ার হঠাৎ ঘোষণা। হুড়োহুড়ি। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মণ্ডপের নিকাশি ও বেরোনোর গেটের সংকীর্ণ গলিতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু। সরকারি হিসেবে ১৯, প্রত্যক্ষদর্শীদের হিসেবে অনেক বেশি। না, কলকাতার দুর্গাপুজোয় এরকম পদপিষ্ট হবার ঘটনা আগে কোনদিন ঘটেনি।

কারণ কি এই ভয়ানক বিপর্যয়ের?

যাঁরা ব্যাপারটাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন তাঁরা বলবেন প্রতিমার অবস্থানগত পরিবর্তনই বিপর্যয় ডেকে এনেছে। প্রতিমাটি আগে ছিল দক্ষিণমুখী, এবারে সেটি পশ্চিমমুখী করা হয়েছে। বিশ্বজিৎ বসাক লিখেছেন যে মহিষাসুরের বদলে প্রতিমার সামনে যে বিচিত্র প্রাণীটিকে স্থাপন করা হয়েছে তা হল বাআল বা Baal দেবতা। তিনি অশুভ শক্তির প্রতীক। (এক্ষেত্র ভিন্ন মত অবশ্য আছে। শান্তনু দাশগুপ্ত বলেছেন যে প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের, বিশেষ করে প্রাচীন কানানীয়, ফিনিসীয় এবং কার্থেজীয় সভ্যতার প্রধান দেবতা হলেন বাআল। সেমিটিক ভাষায় ‘বা আল’ শব্দের অর্থ প্রভু বা মালিক বা স্বামী । বাআল মূলত ঝড়, বৃষ্টি, উর্বরতা ও কৃষির দেবতা)।

বিপর্যয়ের বাস্তব ও যুক্তিগ্রাহ্য কারণগুলি এই রকম :

১] পুজোর অল্পকিছু আগে কমিটি বদল; দলীয় স্বার্থ পূর্ণ করতে গিয়ে যাঁদের আনা হল, চোরবাগান এলাকার পূজো সম্বন্ধে তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।

২] চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির সাংস্কৃতিক সচিব হিসেবে যে প্রীতম সরকারকে নিয়োগ করা হয় তাঁর যোগ্যতার ভিত্তি কি?

৩] ক্রাউড ম্যানেজমেন্টে দক্ষ কলকাতার পুলিশ কোথায় ছিল সেদিন?

৪] কে হঠাৎ বৃষ্টিমুখর রাতে প্যাণ্ডেল ভেঙে পড়ার ঘোষণা করলেন?

৫] প্যাণ্ডেলে ভিড় বাড়ছিল দেখে বেরুনোর একাধিক রাস্তা রাখা হয় নি কেন?

৬] দুর্গাপুজো কমিটির কতজন স্বেচ্ছাসেবক দর্শকদের মধ্যে ছিলেন?

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “কলকাতায় এমন দুর্গাপুজো দেখিনি তো আগে : দিলীপ মজুমদার”

  1. Abhijit Banerjee says:

    অসাধারণ লাগলো কিন্তু একটু খটকা রইলো একটি বিষয়, ছোট বেলায় উত্তর কলকাতার বাসিন্দা হবার সুবাদে জানতাম যে শোভাবাজার রাজবাড়ীর পুজোয় সাধারণের প্রবেশ অবাধ ছিল না, যদিও নিষিদ্ধ মাংস ভক্ষণ মাদীরা পান এবং ম্লেছ সমাবেশ প্রকাশ্যেই হতো যার প্রতিবাদ স্বরূপ বাগবাজারে প্রথম বারোয়ারি পূজা হয়েছিল একই ছাঁচের প্রতিমা তৈরীর মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev