| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘টেবিলের নিচে একটি দেশ’ বানভাসি এলাকায় মানুষ ও সাপের সহাবস্থান, দংশনে বাড়ছে মৃত্যু : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘সংকোচ’ পাখণ্ডী শব্দটির অর্থ যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ লাইন অব প্যাসেজ — সংগ্রামী জীবনের দর্পণ : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কেন উত্তম মহানায়ক : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ হড়পা বানের হাড়হিম করা দৃশ্য : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উত্তম কুমার : বাঙালির সমাজভাষ্য, মূল্যবোধ ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকার : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় গৈরিক নয়, ‘গৈরেয়’ শব্দটি থেকেই এসেছে ‘গেরুয়া’ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাঙালিয়ানা ও উত্তম কুমার: সংস্কৃতির দর্পণে এক অনন্য মহাকাব্য : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় বিচিত্র লোক সংস্কৃতি — নন্দোৎসবে নারকেল কাড়াকাড়ি : সুব্রত দত্ত গড়িয়াহাট কি ছিল অলস, অকর্মণ্য বলদের হাট : অসিত দাস চলচ্চিত্র অভিনয়ের সংজ্ঞা ছিলেন উত্তম : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আমার প্রিয় গল্পগুলো : নুসরাত সুলতানা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কবিদের লেখনীতে শরৎ ঋতু : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নিঝুম রাতের পাড়ি : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ রাখি পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৯৩ Views জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৭। জমিদার তার জমিদারির অবশিষ্ট জমিগুলো নিজের বিবেচনা অনুযায়ী বন্দোবস্ত দিতে পারবেন; তবে নির্ধারিত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে, অধীনস্থ প্রজাদের (আন্ডার-টেন্যান্ট) সাথে সম্পাদিত প্রতিটি চুক্তিতে খাজনার পরিমাণ ও শর্তাবলী সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। চুক্তিতে উল্লিখিত অর্থের অতিরিক্ত কোনো অর্থ যদি কোনো জমিদার বা ইজারাদার আদায় করেন, তবে তা জোরকরে বা অন্যায়ভাবে আদায়করা (extorted) বলে গণ্য হবে এবং সেই অতিরিক্ত অর্থ দ্বিগুণ জরিমানাসহ ফেরত দিতে হবে।

১৮। জমিদার বা তালুকদারের সাথে চুক্তিবদ্ধ বা রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থাপনায় তাদের দ্বারা নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি জমিদার বা তালুকদারের স্বাক্ষরিত আমলনামা বা লিখিত অনুমোদনপত্র ছাড়া আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না; এ ধরনের সকল অনুমোদনপত্রের অনুলিপি কালেক্টরেটের সদর কাছারিতে জমা দিতে হবে।

জমিদারি ও তালুকদারির ব্যবস্থাপনার রূপরেখা।

১৯। কবুলিয়ত বা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের পূর্বে জমিদার ও তালুকদারদের কালেক্টরের কাছে সেই পরগনাগুলোর হিসাব জমা দিতে হবে যা বর্তমানে তাদের জমিদারি বা তালুকদারির অন্তর্ভুক্ত; এছাড়া পরগনার বিস্তারিত বিবরণের বাইরে থাকা অথচ স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান তরফ, তালুক, কিসমত, গ্রাম বা ভূমির অন্যান্য বিভাগের হিসাব এবং সেগুলোর ব্যবস্থাপনার প্রস্তাবও জমা দিতে হবে। কালেক্টর সেই প্রস্তাবিত ব্যবস্থা বিবেচনা করবেন এবং এটাকে যথাসম্ভব পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ তা কার্যকর করবেন। এভাবে চূড়ান্তকরা হিসাবটি একটা নির্দিষ্ট কাঠামো বা রূপরেখা হিসেবে জমিদারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যা কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না।

২০। নির্ধারিত নথিতে বর্ণিত জমিদারি বা তালুকদারির অন্তর্ভুক্ত পরগনা, তরফ, তালুক ও কিসমতগুলোর কোনো বিভাগের নাম পরিবর্তন করা কিংবা সেগুলোর বিন্যাস বা সীমানায় কোনো রদবদল (পরবর্তীকালে কোনো অংশ সংযোজন বা বিয়োজনের মাধ্যমে) করার অনুমতি জমিদার ও তালুকদারদের দেওয়া হবে না। তবে এই আদেশের ফলে জমিদার ও তালুকদাররা তাদের বিবেচনা অনুযায়ী বিভিন্ন পরগনাকে উপ-বিভাগে বিভক্ত করতে পারবেন; কিন্তু সাধারণ সারসংক্ষেপ বা তালিকায় প্রতিটি উপ-বিভাগকে অবশ্যই তার মূল পরগনার অধীনেই দেখাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো পরগনা পাঁচটি উপ-বিভাগে ইজারা দেওয়া হয়, তবে সারসংক্ষেপে ওই পরগনার নামেই সমগ্র হিসাবটি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং সাথে উপ-বিভাগগুলোর সংখ্যার উল্লেখ বা স্মারকলিপি যুক্ত করতে হবে।

২১। প্রথম বছরে সরকার কর্তৃক যে সকল জমিদার, তালুকদার ও অন্যান্যদের ওপর কর বা রাজস্ব ধার্য করা হয়েছে, তাঁদেরকে নিজ নিজ জমিদারী, তালুকদারী বা অন্যান্য ভূমির ওপর ধার্যকরা মোট রাজস্বের পরিমাণ — সেসব ভূমির অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে — সেখান থেকে পাওয়া খাজনার অনুপাতে সমান ও নিরপেক্ষভাবে বণ্টন করতে হবে। পরবর্তী বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে এই বণ্টনের বিবরণী দাখিল করতে হবে এবং প্রতি বছরের জন্য ধারাবাহিকভাবে তা করতে হবে। এই বিবরণীতে প্রতিটি গ্রামের নাম, সীমানা এবং মালগুজারি (রাজস্ব-প্রদেয়) ও লাখেরাজি (করমুক্ত) হিসেবে পৃথকীকরা জমির আনুমানিক পরিমাণ উল্লেখ থাকতে হবে। এর সাথে একটা সারসংক্ষেপও যুক্ত করতে হবে, যাতে প্রতিটি পরগনা, তরফ, টুপ্পা, কিসমত বা অন্যান্য বিভাগের ওপর সদর জমা (মূল রাজস্ব)-র বণ্টনের উল্লেখ থাকবে — যা পরগনাগুলোর নির্ধারিত বিন্যাস অনুযায়ী লিপিবদ্ধ। এছাড়া, একটা পৃথক শিরোনামের অধীনে বিচ্ছিন্ন বা স্বতন্ত্র লাখেরাজি গ্রামগুলোর সংখ্যা, নাম ও সীমানাও এই বিবরণীতে উল্লেখ করতে হবে।

২২। কোনো গ্রামের অবস্থার উন্নতি বা অবনতি কিংবা নতুন গ্রাম আবাদের ফলে সদর অ্যাসেসমেন্ট বা মূল রাজস্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, তা সংশোধনের লক্ষ্যে — উপরে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী — প্রতি বছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে গ্রামের নথিপত্র ও তার সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে।

২৩। যদি দেখা যায় যে কোনো ভূস্বামী উক্ত নথিতে কোনো গ্রামের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বাদ দিয়েছেন, তবে সেই গ্রামটি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া, রাজস্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে যদি ইচ্ছাকরাভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হয়, তবে দোষী ভূস্বামীকে জরিমানা দিতে হবে; এই জরিমানার পরিমাণ গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত হবে।

২৪। এই বণ্টনের উদ্দেশ্য ভূস্বামীদের নির্ধারিত অংশের চেয়ে বেশি খাজনা আদায় থেকে বিরত রাখা বা প্রকৃত রাজস্বের হিসাব তলব করা নয়। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো — বিক্রয় বা অন্য কোনো উপায়ে হস্তান্তরিত জমির ওপর সরকারি রাজস্ব নির্ধারণের একটা মানদণ্ড তৈরি করা; কারণ এটা ছাড়া প্রকৃত মালিক বা ক্রেতা — কেউই ওই জমির মূল্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা করতে পারবেন না।

২৫। এই উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হলো : —

বকেয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে সরকারি নিলামে জমি বিক্রির ক্ষেত্রে, বিক্রিত জমিটিকে তার পূর্ববর্তী জমিদারী বা তালুকদারী থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বলে ঘোষণা করা হবে এবং এর ভবিষ্যৎ রাজস্ব ক্রেতাকে পরিশোধ করতে হবে; এছাড়া জমি বাজেয়াপ্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট জমিদারকে ওই জমির যাবতীয় হিসাবপত্র হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হবে।

এ ধরনের বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, যদি কোনো জমির সম্পূর্ণ অংশ (যা পূর্বে পৃথকভাবে কর-নির্ধারিত ছিল) বিক্রি করা হয়, তবে বর্তমান বন্দোবস্তের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ওই রাজস্ব অপরিবর্তিত থাকবে। যদি ওই অংশের কেবল একটা অংশ বিক্রি করা হয়, তবে সর্বশেষ জমা দেওয়া গ্রামের নথিপত্র অনুযায়ী তার ওপর ধার্যকরা রাজস্বই বর্তমান বন্দোবস্তের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ওই জমির জন্য নির্ধারিত রাজস্ব হিসেবে গণ্য হবে।

সরকারি আদেশে বিক্রিত জমি কোনো ব্যক্তি ক্রয় করলে, বিক্রয়ের সময় নির্ধারিত রাজস্ব তাকে অবশ্যই অন্তত এক বছরের জন্য পরিশোধ করতে হবে।

জমিদার ও তালুকদারদের তাঁদের জমি বিক্রয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করার অনুমতি দেওয়া হলো; তবে নির্দিষ্ট পরিমাণের (বিঘা) বেশি জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো ব্যক্তিগত হস্তান্তর কালেক্টরের অফিসে নিবন্ধিত না হলে তা বৈধ বলে গণ্য হবে না।

হস্তান্তরের সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ঠিক করতে হবে যে ভবিষ্যতে সরকারি রাজস্ব কে পরিশোধ করবেন; আর যদি ক্রেতা তা পরিশোধ করার বিষয়ে সম্মত হন, তবে সরকারি নিলামের ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত নিয়মাবলিই এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। যদি বিক্রিত জমিটি পূর্বের অন্তর্ভুক্ত জমিদারী বা তালুকের অংশ হিসেবেই থেকে যায় এবং ক্রেতা পূর্বতন জমিদার বা তালুকদারকে এর জন্য খাজনা প্রদানের শর্ত মেনে নেন, তবে সেই খাজনার পরিমাণ উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত হবে। হস্তান্তরিত জমিটির জন্য সাধারণ রাজস্বের আনুপাতিক অংশ পরিশোধের দায়ভার — জমিদারী বা তালুকদারীর অবশিষ্ট অংশের সাথে যৌথভাবে — সরকার সংশ্লিষ্ট জমির ওপরই বহাল রাখবে।

৩য় বা ৬ষ্ঠ বিধিমালার আওতায় বাদ পড়া নাবালক, নারী বা অন্যদের মালিকানাধীন জমিদারীগুলোকে খাস হিসেবে গণ্য করতে হবে; তবে এ ধরনের জমির জমা (রাজস্বের পরিমাণ) অন্যান্য জমির মতোই নির্ধারণ করা হবে এবং যাবতীয় খরচ মেটানোর পর নির্ধারিত রাজস্বের অতিরিক্ত মুনাফা মালিকের প্রাপ্য হবে।

২৬। ৩য় ও ৬ষ্ঠ বিধিমালার আওতায় বাদ পড়া নাবালক, নারী বা অন্যদের মালিকানাধীন জমিদারীগুলোকে খাস হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং মফস্বল ও পরগনা সংক্রান্ত খরচ বাদ দেওয়ার পর ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) ও উপ-ইজারাদারদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির প্রকৃত পরিমাণকেই সরকারি রাজস্ব বা অ্যাসেসমেন্ট হিসেবে নথিবদ্ধ করতে হবে। ব্যবস্থাপক ও তাঁর দপ্তরের যাবতীয় ব্যয় কালেক্টর কর্তৃক পরিশোধিত হবে এবং তা কালেক্টরের দপ্তরের ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে; এছাড়া ব্যবস্থাপকদের জন্য নির্ধারিত নিয়মাবলিই এক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

রায়তদের সুরক্ষার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নিয়মাবলি।

২৭। যেহেতু জমিদারদের অজ্ঞতা, অমনোযোগিতা ও নিপীড়নের ফলে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং রায়তরা নানাবিধ অবৈধ আদায়ের শিকার হয়েছে, তাই অবিলম্বে নির্দেশনা ও পরিচালনার জন্য সকল জমিদার, তালুকদার এবং রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতি নিম্নোক্ত নিয়মাবলি জারি করা হলো। রায়তদের প্রদেয় খাজনার পরিমাণ — তা যে নিয়ম বা প্রথা অনুসারেই দাবি করা হোক না কেন — সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যদি পাট্টার মাধ্যমে খাজনা ধার্য করা হয়, তবে তাতে আসল (মূল খাজনা) ও আবওয়াব-এর পরিমাণ উল্লেখ থাকতে হবে; এবং কিরচা, সালামি বা অন্য কোনো খাতের নামে পাট্টায় উল্লিখিত পরিমাণের অতিরিক্ত কোনো অর্থ রায়তের থেকে আদায় করা যাবে না।

যদি টিকাপাট্টা (ticcaputtah)-র মাধ্যমে বন্দোবস্ত করা হয়, তবে তাতে রায়তদের দেয় মোট অর্থ উল্লেখ করতে হবে; যদি কোনো নিয়ম বা প্রথা অনুযায়ী — যেমন বিগত ও তার আগের বছরের অর্থপ্রদান, গ্রাম বা পরগনার প্রচলিত হার কিংবা অন্য কোনো স্থানের হার — অনুসারে বছরের শুরুতে একটা হিসাব প্রস্তুত করতে হয় (যেখানে উক্ত নিয়ম বা হার অনুযায়ী রায়তদের দেয় অর্থের পরিমাণ দেখানো থাকবে) এবং তার একটা অনুলিপি তাদের দিতে হয়, তবে সেভাবেই তা করতে হবে; আর যেখানে ফসল ফলানোর পর জমি পরিমাপের ভিত্তিতে খাজনা নির্ধারণ করা হয়, সেখানে হার ও অর্থপ্রদানের শর্তাবলি পাট্টায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

যদি কোনো প্রতিষ্ঠিত ও নথিবদ্ধ জমাবন্দি (jummabundy) থাকে, তবে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে সেটিই নিয়ম হিসেবে গণ্য হবে।

যদি খাজনা শস্য বা পণ্যের আকারে (kind) পরিশোধ করা হয়, তবে রায়তকে কী অনুপাতে তা দিতে হবে, তা কোনো হিসাববিবরণী বা লিখিত চুক্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

প্রতিটি মফস্বল কাছারিতে জমির হার বা নের্কবন্দি (nerkbundy) সর্বসমক্ষে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে; এবং এই নিয়ম কার্যকর করার জন্য জমিদার দায়ী থাকবেন; অবহেলার ক্ষেত্রে সরকারের বিবেচনানুযায়ী জরিমানা বা দণ্ড আরোপ করা হবে।

প্রতিটি গ্রামের রায়তদের হিসাব নথিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে জমিদারকে একজন পাটোয়ারি (putwarree) নিয়োগ করতে হবে; এবং এই ধরনের পাটোয়ারিদের একটা তালিকা কালেক্টরেটের সদর কাছারি ও সংশ্লিষ্ট গ্রামটি যে পরগনায় অবস্থিত সেখানকার কাছারিতে জমা দিতে হবে। জমিদারের অনুমতি ছাড়া কোনো ইজারাদার বা কৃষক কোনো পাটোয়ারিকে অপসারণ করতে পারবেন না। বছর শুরুর ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে কোনো গ্রামের হিসাব যাচাইকালে যদি দেখা যায় যে কোনো পাটোয়ারি নিয়োগ করা হয়নি, তবে এই অবহেলার জন্য কালেক্টর জমিদারের ওপর জরিমানা আরোপ করবেন; আর যেখানে জমির কোনো নের্কবন্দি বা হার নির্ধারিত নেই, সেখানে কালেক্টর কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমিদার তাঁর সমগ্র জমিদারি অথবা যে অংশে প্রয়োজন সেখানে জমির হার নির্ধারণ করতে বাধ্য থাকবেন। কোনো জমিদার, ইজারাদার বা তাঁদের পক্ষে কর্মরত কোনো ব্যক্তি খোদ-খুস্ত রায়তদের (নিজ গ্রামবাসী স্থায়ী কৃষক) পাট্টা বাতিল করতে পারবেন না — যদি না এটা প্রমাণিত হয় যে, পাট্টাটি প্রতারণামূলক আঁতাতের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, অথবা গত তিন বছরে তাঁদের প্রদেয় খাজনা পরগনার নির্ধারিত হার (নিরখ-বন্দী)-এর চেয়ে কমিয়ে আনা হয়েছে, অথবা তাঁরা অন্যায্য ছাড় পেয়েছেন, কিংবা কর বা খাজনা নির্ধারণের সমতা ও সংশোধনের লক্ষ্যে পরগনাব্যাপী কোনো সাধারণ জরিপ চালানো হয়েছে। [২৩৬]

কোনো রায়তের প্রদেয় খাজনার পরিমাণ (জমা) নিশ্চিত ও নির্ধারিত হওয়ার পর, তিনি জমিদার বা তাঁর পক্ষে কর্মরত কোনো ব্যক্তির (যেমন — ইজারাদার, গোমস্তা বা অন্য কেউ) কাছে পাট্টা দাবি করার অধিকারী হবেন; এবং পাট্টা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে, তা পেতে রায়তের যে খরচ ও ভোগান্তি হয়েছে তার অনুপাতে জরিমানা করা হবে। নির্ধারিত খাজনার জন্য পাট্টা প্রস্তুত করে রায়তকে প্রদান করাও জমিদারের আবশ্যিক কর্তব্য। পাট্টাটি কে প্রদান করবেন — স্বয়ং জমিদার, ইজারাদার, গোমস্তা নাকি অন্য কেউ — তা নির্ধারণের এখতিয়ার জমিদারের থাকবে। জমিদারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো উপ-ইজারাদার তাঁর ইজারার মেয়াদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য পাট্টা প্রদানের ক্ষমতা পাবেন না; এবং জমিদারের বা তালুকদারের (যখন তাঁরা জমির দখলে থাকেন) অথবা ব্যবস্থাপকের (যখন জমিদার বা তালুকদার জমির দখল থেকে বাইরে থাকেন) অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিনিধিও পাট্টা প্রদান করতে পারবেন না।

উপ-ইজারাদার ও রায়তদের সাথে সম্পাদিত বিদ্যমান সকল ইজারা চুক্তি তাদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে — যদি না প্রমাণিত হয় যে, সেগুলো প্রতারণামূলক আঁতাতের মাধ্যমে অথবা এমন কোনো ব্যক্তির থেকে নেওয়া হয়েছে যার তা প্রদানের কোনো বৈধ ক্ষমতা ছিল না।

জমিদার থেকে শুরু করে রায়ত পর্যন্ত খাজনা আদায়কারী প্রতিটি স্তরের কালেক্টর, ইজারাদার বা খাজনা গ্রহণকারীকে তাঁদের গৃহীত সকল অর্থের জন্য রসিদ প্রদান করতে হবে এবং সমস্ত দায়-দায়িত্ব বা বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধের পর পূর্ণাঙ্গ রসিদ দিতে হবে; আর কোনো ব্যক্তি যদি রসিদ না পাওয়ার অভিযোগ করেন এবং তা প্রমাণ করতে পারেন, তবে তিনি যে অর্থ প্রদান করেছিলেন তার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট গ্রহণকারীর থেকে পাওয়ার অধিকারী হবেন। স্বত্ব-সংক্রান্ত রসিদগুলোতে সেই জমির পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে যার জন্য খাজনা প্রদান করা হচ্ছে এবং জমিটি খুদ-কাশত (নিজ চাষাধীন), পাই-কাশত (বহিরাগত চাষি কর্তৃক চাষকরা) নাকি কোমার (জমিদারের খাস জমি) — তাও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে; পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণির জমির জন্য পৃথকভাবে পাওয়া খাজনার পরিমাণও এতে উল্লেখ করতে হবে।

যদি কোনো গ্রাম বা অঞ্চল বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগের কবলে পড়ে এবং তার ফলে রায়তরা (চাষিরা) এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তবে কোনো জমিদার, ইজারাদার বা খাজনা আদায়কারীর পক্ষে পলাতক রায়তদের বকেয়া খাজনা অবশিষ্ট রায়তদের থেকে দাবি করা আইনত বৈধ হবে না।

কোনো অজুহাতেই জমিদার রায়তদের ওপর নতুন কোনো আবওয়াব (অতিরিক্ত কর) বা মুঠোট (বিশেষ চাঁদা বা লেভি) আরোপ করতে পারবেন না; এ ধরনের যেকোনো অবৈধ আদায়ের ক্ষেত্রে চাপানো অর্থের তিনগুণ পরিমাণ জরিমানা করা হবে। যদি ভবিষ্যতে কখনো এমন নতুন আবওয়াব বা মুঠোট আরোপের বিষয়টি ধরা পড়ে, তবে ওই কর চালু থাকার পুরো সময়কালের জন্য জমিদারকেই জরিমানার দায়ভার বহন করতে হবে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev