
পূর্ববর্তী নথিতে উল্লিখিত যুক্তি থেকে পাওয়া প্রস্তাবসমূহ : —
বন্দোবস্তের মেয়াদ।
১ম। — বাংলা ১১৯৭ সালের ১লা বৈশাখ থেকে কার্যকর হবে এমন একটা নতুন রাজস্ব বন্দোবস্ত দশ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সম্পন্ন করা হবে, যা করার জমা দশসালা (Karar jumma debsala) নামে অভিহিত হবে।
জমিদার ও স্বাধীন তালুকদারদের সাথে বন্দোবস্ত।
২য়। — নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, বর্তমানে নির্ধারিত নিয়মাবলী অনুযায়ী জমিদার ও স্বাধীন তালুকদারদের সাথে এই বন্দোবস্ত করা হবে। স্বাধীন (independent) শব্দটি সেইসব তালুকদারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের সাধারণত হুজুরি (huzzoory) বলা হয়; কারণ তারা কোনো মধ্যবর্তী জমিদারের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি সরকারের কাছে রাজস্ব প্রদান করেন — যদিও তাদের তালুকগুলো কোনো জমিদারের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
লিঙ্গ বা নাবালকতা।
৩য়। — যেসব জমিদার বা তালুকদার নাবালক বা নারী, তাদের সরাসরি সরকারের কাছে রাজস্ব প্রদানকারী জমির ব্যবস্থাপনার কোনো কাজে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে এবং এই শ্রেণীর জমিদার বা তালুকদারদের সাথে রাজস্ব প্রদানের জন্য কোনো চুক্তি করা হবে না। হিন্দুদের ক্ষেত্রে নাবালকতা নির্দিষ্ট বছরের সমাপ্তি পর্যন্ত এবং মুসলমানদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বছর পর্যন্ত গণ্য হবে।
নাবালক ও নারীদের জমির জন্য ব্যবস্থাপক নিয়োগ।
৪র্থ। — নাবালক বা নারী জমিদার ও স্বাধীন তালুকদারদের জমির ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার কর্তৃক একজন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা হবে, যিনি সরবরাহকার (Serberakar) বা ব্যবস্থাপক (manager) হিসেবে অভিহিত হবেন। দায়িত্ব গ্রহণের বা কমিশন পাওয়ার আগে তাঁকে একটা মুচলেকা বা অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করতে হবে, যাতে তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সাথে পালনের নিশ্চয়তা দেবেন।
ব্যবস্থাপক নিয়োগ ও কালেক্টর কর্তৃক অনুমোদন।
৫ম। — ব্যবস্থাপককে কালেক্টর কর্তৃক নির্বাচন করা হবে (যা বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর অনুমোদন সাপেক্ষে হবে) এবং তাঁর নিয়োগপত্র কালেক্টরের দাপ্তরিক সিলমোহর দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে। এই দায়িত্বের জন্য ব্যক্তিদের সুপারিশ করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত, অন্য সবার চেয়ে জমিদার ও তালুকদারদের নিকটাত্মীয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে; অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে — দ্বিতীয়ত পরিবারের একজন বিশ্বস্ত কর্মচারী এবং শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনে পরিবারের বাইরের কোনো ব্যক্তিকে বিবেচনা করা যেতে পারে; তবে এক্ষেত্রে কাজের উপযুক্ততা একটা অপরিহার্য যোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে এবং বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মাবলী; কাজের উপযুক্ততা বিবেচনা করতে হবে।
মানসিক ভারসাম্যহীনতা, অবাধ্যতা এবং চরিত্রের কুখ্যাত অসদাচরণের কারণে অতিরিক্ত ব্যতিক্রমী বিধান; এগুলি উপরের নিয়ম অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে।
৬ষ্ঠ। মানসিক ভারসাম্যহীনতা, অবাধ্যতা বা চরিত্রের কুখ্যাত অসদাচরণকে অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হবে; নাবালক ও নারীদের জমির ক্ষেত্রে বন্দোবস্তের নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে; তবে এই ধারায় উল্লিখিত কোনো অযোগ্যতার কারণে কোনো জমিদার বা তালুকদারকে গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ছাড়া বাদ দেওয়া যাবে না।
৭ম। বন্দোবস্তের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে, বর্তমান বছরের জমা (রাজস্ব)-কে ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে। কালেক্টরদের সরবরাহকরা হিসাব ও তথ্যাদি এবং তার ভিত্তিতে বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর সুপারিশের সাথে এটা মিলিয়ে দেখতে হবে এবং নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে:
গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিলের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া বর্তমান বছরের জমার ওপর কোনো মওকুফ (রাজস্ব ছাড়) দেওয়া যাবে না।
রাজস্ব মওকুফ।
ইজারার তৃতীয় বছরের পরবর্তী সময়ের জন্য কোনো রসদ বা ক্রমবর্ধিষ্ণু রাজস্ব বৃদ্ধি কার্যকর করা যাবে না।
রসদ (ক্রমবর্ধিষ্ণু রাজস্ব বৃদ্ধি)।
একটা নিট অঙ্কে বন্দোবস্ত সম্পন্ন করা।
বন্দোবস্তটি যথাসম্ভব একটা নিট অঙ্কে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে মোশাইরা (জমিদারের ভাতা), আমলা খরচ, পুলবন্দী (সেতু ও বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ), কাছারি খরচ বা অনুরূপ কোনো ব্যয়ের বোঝা না থাকে। উদ্দেশ্য হলো, রাজস্ব আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় খরচ (সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যয় ব্যতীত) জমিদাররা তাঁদের জমির আয় থেকেই বহন করবেন।
জমিদারি সংক্রান্ত ব্যয় (যেমন — পেনশন, দাতব্য ভাতা ইত্যাদি) কীভাবে বহন করা হবে। রাজস্ব-সংক্রান্ত নথিপত্রে উল্লিখিত জমিদারির ব্যয়-খাতভুক্ত বিভিন্ন বিষয় — যেমন পেনশন, দাতব্য ভাতা বা অন্য কোনো অর্থপ্রদান যা অব্যাহত রাখা সমীচীন বলে বিবেচিত হবে — সেগুলোর অর্থ কালেক্টর কর্তৃক প্রদান করা হবে; এতে জমিদারের কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। তবে বিশেষ কোনো সুবিধাজনক কারণে যদি কোনো ক্ষেত্রে এই অর্থ বিতরণের দায়িত্ব জমিদারের ওপর ন্যস্ত করা অধিকতর শ্রেয় বলে মনে করা হয়, কেবল তখনই এর ব্যতিক্রম হতে পারে।
জমিদার-পরিবারবর্গের জন্য ভাতা।
সম্ভবপর প্রতিটি ক্ষেত্রেই জমিদারদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য প্রদত্ত পৃথক সব ভাতা বাতিল করতে হবে এবং তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জমিদারকেই বহন করতে হবে। ৮ম। ঋতু বা আবহাওয়াজনিত কোনো আকস্মিক কারণে রাজস্বের (জমা) পরিমাণ হ্রাস পেলে, তা রসদ (ক্রমবর্ধমান রাজস্বহার)-এর মাধ্যমে সমন্বয় করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
জমা (রাজস্ব) নির্ধারণের সময় জমিদার ও তালুকদারদের জন্য জীবিকা বা আয়ের সংস্থান বিবেচনা করা।
৯ম। জমিদার ও তালুকদারদের প্রদেয় জমার পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন তা স্থায়ী রূপ পায় এবং সরকারি পাওনা পরিশোধের পরেও তাঁরা নিজেদের ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত আয় (প্রায় ১০ শতাংশ হারে) করতে পারেন; এই হিসাবের মধ্যে নানকার বা অন্যান্য করমুক্ত জমির আয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে যথাযথ যত্ন ও মিতব্যয়িতার মাধ্যমে তাঁদের আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই হিসাবের ভিত্তি হিসেবে যেসব তথ্য ও হিসাবের প্রয়োজন হবে, তা সপ্তম ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে; এছাড়া নিম্নলিখিত বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।
জমা নির্ধারণের সময় যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে।
পুলবন্দি (বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ) ও আমলা (কর্মচারী) সংক্রান্ত ব্যয়ভার — যা জমিদার বা তালুকদারদের বহন করতে হয় — সেগুলোর জন্য কোনো পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না, অথবা সরকারি রাজস্বের বাইরের কোনো উৎস থেকে তা মেটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। জমা নির্ধারণের সময় এই ব্যয়গুলো হিসেবে ধরা হবে কি না, তা এই তথ্যের ওপর নির্ভর করবে। যেসব ক্ষেত্রে জমিদার বা তালুকদাররা সরকারি পাওনার বাইরেও এই ব্যয়ভার বহন করে আসছেন এবং কোনো মোশাইরা (ভাতা)-র শর্ত ছাড়াই জমা নির্ধারিত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য এ বাবদ কোনো বাড়তি সংস্থান রাখা হবে না। পক্ষান্তরে, যখন সরকার এই ব্যয়ের জন্য পৃথক কোনো ভাতা বা অর্থ বরাদ্দ করেছে, তখন জমা নির্ধারণের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে; অর্থাৎ, এই ব্যয় মেটানোর জন্য যদি পৃথক ও সুনির্দিষ্ট তহবিল না থাকে, তবে জমার পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমাতে হবে। তবে মোশাইরা বা ভাতার বিষয়ে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যেসব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জমিদারি বা তার কোনো বিচ্ছিন্ন পরগনা ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ইজারাদাররা যে আয় বা সুবিধা ভোগ করেন, তার একটা অংশ শেষ পর্যন্ত জমিদারদের কাছেই ফিরে আসে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।
১০। জমিদার ও তালুকদারদের জন্য আনুমানিক সংস্থান বা আয়ের হার সাধারণত ১০ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়েছে; তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির কারণে যদি বৃহত্তর কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন বলে মনে করা হয় — বিশেষত স্বল্প বার্ষিক রাজস্ব (জমা) প্রদানকারী জমিদারী বা তালুকদারীর ক্ষেত্রে — তবে গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
মোট আয় বা সম্পদ (gross assets) নিরূপণের মাধ্যমে রাজস্ব নির্ধারিত হলে যে ভাতা বা ছাড়ের ব্যবস্থা করতে হবে
১১। যখন জমিদার ও তালুকদারদের রাজস্ব (জমা) মোট আয় বা সম্পদ নিরূপণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, তখন উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি — রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণের হিসাবের ক্ষেত্রে — মফস্বল পর্যায়ের যাবতীয় খরচও (যেমন — দেহাতী, পরগনাতি বা অন্যান্য) বিবেচনায় নিতে হবে।
রাজস্ব সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয় নথিবদ্ধ করতে হবে।
১২। রাজস্ব নির্ধারণকে প্রভাবিত করে এমন প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নথিবদ্ধ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে রাজস্বের পরিমাণ পরিবর্তন বা কমানোর বিষয়ে জমিদারদের পক্ষ থেকে কোনো দাবি উত্থাপনের সুযোগ না থাকে।
জমিদার ও তালুকদারদের সাথে রাজস্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল-কে যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে
১৩। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজস্বের পরিমাণ যথাসম্ভব নির্ধারণ করার পর কালেক্টরগণ বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমিদার ও তালুকদারদের তা অবহিত করবেন এবং উক্ত রাজস্ব পরিশোধের জন্য তাদের একটা চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করতে বলবেন। বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে জমিদার বা তালুকদার তাদের সম্মতি বা আপত্তি জানানোর সুযোগ পাবেন। কোনো আপত্তি উত্থাপিত হলে কালেক্টর তা নিজের মতামতসহ বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর কাছে পেশ করবেন; এরপর বোর্ড অফ রেভিনিউ সমগ্র বিষয়ের ওপর নিজস্ব মতামতসহ তা গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল-এর কাছে উপস্থাপন করবেন এবং কাউন্সিল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
এমন সিদ্ধান্তের পর, জমিদার ও তালুকদারদের নির্ধারিত রাজস্বের চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হবে এবং এ কাজের জন্য তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হবে। যদি তারা এই নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানান — যার কথা তাদের নিজ স্বাক্ষরে স্বীকার করতে হবে — তবে তাদের জমি ব্যবস্থাপনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে এবং ৫ শতাংশের একটা ব্যবস্থার।।। তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য, তাদের দখলে থাকা কোনো ননকার (nankar) বা খাজনা-মুক্ত জমি-সহ সংশ্লিষ্ট সদর জমার (sudder Jumma) ওপর ভিত্তি করে তাদের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।
যে ক্ষেত্রে কোনো জমিদার তার জমি খাস (সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায়) রাখার বিষয়ে অসম্মতি জানান।
১৪। কোনো জমিদার বা তালুকদার জমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে, কালেক্টরকে সেই জেলার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং উক্ত বছরজুড়ে জমিগুলো খাস ব্যবস্থাপনায় রাখতে হবে; এবং গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিল-এর বিশেষ অনুমোদন ছাড়া জমিগুলো নতুন করে সেই তালুকদার বা জমিদারদের কাছে ফেরত দেওয়া যাবে না।
জমির মালিকের (জমিদার) সাথে তার জমিদারির অন্তর্ভুক্ত তালুকদারদের বন্দোবস্ত সংক্রান্ত নিয়মাবলি।
১৫। জমিদারের সাথে বন্দোবস্ত সম্পন্ন হওয়ার পর, তাকে তার জমিদারির অন্তর্ভুক্ত তালুকদারদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী তালুকদাররা জমিদারকে খাজনা প্রদান করবেন এবং চুক্তির মেয়াদে সেই খাজনার পরিমাণ হ্রাস বা বৃদ্ধি করা যাবে না; এই মেয়াদ জমিদারের নিজস্ব ইজারার মেয়াদের সমান হতে হবে। কালেক্টরের সাথে বন্দোবস্ত চূড়ান্ত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে জমিদারকে তালুকদারদের সাথে সম্পাদিত বন্দোবস্তের একটা বিবরণী কালেক্টরের কাছে জমা দিতে হবে, যাতে তালুকদারদের নাম, তালুকের বিবরণ এবং প্রত্যেকের প্রদেয় জমার (খাজনার) পরিমাণ উল্লেখ থাকবে।
১৬। অন্যায্য অর্থ আদায় বা লুঠ রোধকল্পে নিম্নলিখিত নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে: কোনো জমিদার তার এখতিয়ারভুক্ত তালুকদারদের থেকে খাজনা বৃদ্ধির দাবি করতে পারবেন না — এমনকি যদি তাকে নিজেও বর্তমান বছরের জমার ওপর অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের বাধ্যবাধকতার সম্মুখীন হতে হয় — যতক্ষণ না তিনি কালেক্টরের কাছে প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি তা করার অধিকারী। এই অধিকার প্রমাণের জন্য তাকে দেখাতে হবে যে, হয় তার জেলার কোনো বিশেষ প্রথা অনুযায়ী তিনি তা করতে পারেন, অথবা তালুকদার তার জমার ওপর ছাড় (আবাতমেন্ট) গ্রহণের শর্ত হিসেবেই ভবিষ্যতে খাজনা বৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়ার দায়বদ্ধতা স্বীকার করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট জমি থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের মতো আয় বা উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে।
যদি কোনো ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয় যে, কোনো জমিদার কোনো তালুকদারের থেকে তার প্রাপ্য সীমার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন বা তালুকদারের ওপর কোনো প্রকার নির্যাতন বা নিপীড়ন চালিয়েছেন, তবে সেই তালুকদারকে জমিদারের এখতিয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে তার খাজনা সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিতে হবে।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ