| | |
এই মুহূর্তে ::
কলকাতার নব্য কাজিয়ার দুর্গা : অসিত দাস SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (সপ্তম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নয়া পুঁজিবাদ : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (ষষ্ঠ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (পঞ্চম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার হাসানের ইতিহাস ও বর্তমান ছুঁয়ে : নন্দিনী অধিকারী গান্ধীজী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কবরের ইতিহাস : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (চতুর্থ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ছেলে বেলার পুজো : সুব্রত দত্ত SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (তৃতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ঝন্টু মামা ও তাঁর শিকারের গল্প’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (প্রথম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা — বর্তমান পরিস্থিতিতে একট চ্যালেঞ্জ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘আদমের চোখ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার পার্থ সারথি পাত্র-র ছোটগল্প ‘টাইম-ব্যাঙ্ক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সার্ধশতবর্ষে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শতবর্ষে সুরসম্রাট ভূপেন হাজারিকার স্মরণে : যশোবন্ত রায়
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ২০৬ Views জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৫২৯। আমি এই যুক্তিগুলোকে যৌক্তিক সীমার বাইরে নিয়ে যাব না। এগুলোর বিপরীতে ইতিমধ্যে এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারের রাজস্ব দাবির পরিমাণ পরিবর্তনশীল ছিল; জমিনদাররা তাঁদের এস্টেট বা ভূসম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ফলে পাওয়া সুফল ভোগের ক্ষেত্রে কোনো নিশ্চিত নিশ্চয়তা পাননি; ফলে বর্তমান ব্যবস্থাটি যে ধরনের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে প্রবর্তিত হয়েছে, তা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। সম্ভবত এর কারণেই তাঁরা এমন সব কার্যকলাপে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, যা একটা স্থায়ী ব্যবস্থার অধীনে হয়তো পরিহার করা সম্ভব হতো।

৫৩০। তবে জমিনদারদের অজ্ঞতা ও অযোগ্যতার বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। কারণ, এই উৎস থেকেই হোক কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে — এর পরিণাম সরকার ও প্রজাসাধারণ — উভয়ের জন্যই সমানভাবে ক্ষতিকর।

৫৩১। জমিদারদের এখন যে নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব করা হচ্ছে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিকতর সুদৃঢ়; আর আমরা যখন দেওয়ানি লাভ করি তখনই যদি প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি গ্রহণ করা হতো এবং ধারাবাহিকভাবে তা মেনে চলা হতো, তবে সরকার ও প্রজাসাধারণ — উভয়ই এর সুফল ভোগ করত। জমিদারদের এটা বোঝাতে কিছুটা সময় লাগবে যে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল; এবং নিজেদের স্বার্থ ও তা পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে বা তা বাস্তবায়নে তাদের আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে। আজীবন লালিত অভ্যাস ও বদ্ধমূল ধারণাগুলো নির্মূল করা বর্তমান প্রজন্মের পক্ষে সম্ভব হবে বলে আশা করা যায় না। শুরুতে অভিজ্ঞতাই তাদের শিক্ষা দেবে এবং আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর স্থায়িত্বই তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করবে। সরকার তাদের সামনে সততা ও সদিচ্ছার দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়ার সূচনা করছে। সুতরাং, আমরা যে নীতিটি গ্রহণ করেছি তার কার্যকারিতার ওপর আস্থা রাখলেও, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন অজ্ঞতা ও অক্ষমতাপ্রসূত খামখেয়ালিপনা বা অবিচারের হাতে রায়তদের (কৃষকদের) ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। উপযুক্ত জ্ঞান বা তা অর্জনের সুযোগ থাকলে আমরা উভয় সমস্যারই কুফল সংশোধন করতে পারি; আর বর্তমানে জমিদারদের পাশাপাশি রায়তদেরও সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করা আবশ্যক। এটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় যে, অন্য কোনো পরিকল্পনার খাতিরেও এর সাথে আপস করা উচিত নয়।

৫৩২। দ্বিতীয়ত, যদি এই পরিকল্পনা বিশ বছর ধরে অব্যাহত থাকে, তবে সেই সময়সীমা শেষে দেশের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আমাদের হাতে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নাও থাকতে পারে। বর্তমান গ্রামগুলো স্থানান্তরিত বা পরিত্যক্ত হতে পারে; নতুন গ্রাম গড়ে উঠতে পারে; এবং বন্যার ফলে জমি তলিয়ে যাওয়া কিংবা চাষাবাদের মাধ্যমে নতুন জমি যুক্ত হওয়ার ফলে কোনো জমিদারির অন্তর্গত বিভিন্ন পরগনার অবস্থা বা মূল্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে। বর্ধমানের মতো এলাকায়, যেখানে অনাবাদী জমির পরিমাণ কম — এবং অনুরূপ পরিস্থিতিতে থাকা অন্যান্য স্থানেও — এই পরিবর্তন হয়তো তুলনামূলকভাবে কম হবে; কিন্তু নদীয়া, দিনাজপুর বা রাজশাহীর মতো এলাকায় জমির দৃশ্যপট আমূল বদলে যেতে পারে। বিদেশি শাসনাধীন ব্যবস্থায় এমন পরিস্থিতি সহজেই অনুমান করা যায় যা সামগ্রিক মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। আমি কেবল মূল্য হ্রাসের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি; কারণ প্রজাদের কঠোর পরিশ্রম ও সফল উদ্যোগের অনুপাতে তাদের ওপর কর আরোপের ধারণাটি আমি সম্পূর্ণ বর্জন করছি। দেশের তৎকালীন প্রশাসন ভিন্নভাবে কাজ করত; কিন্তু তাদের কর্মপদ্ধতির নীতিটি যদি আমরা বর্জন করি, তবে কেবল সেই কারণে তা অনুকরণযোগ্য কোনো নজির হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত যথাযথভাবে রাজস্ব পরিশোধ করা হচ্ছে, ততক্ষণ প্রকৃত উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে অনুসন্ধান চালানো আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, অথচ এর বিনিময়ে সমতুল্য কোনো সুবিধাও পাওয়া যাবে না।

৫৩৩। তৃতীয়ত — যদি জমির খাজনা বা ভাড়া সংক্রান্ত যাবতীয় অনুসন্ধান পুরোপুরি পরিত্যাগ করা হয়, তবে হস্তান্তরিত বা মূল তালুক থেকে বিচ্ছিন্ন জমিগুলোর (alienated lands) বিষয়ে তথ্য জানা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ১৭৮৮ সালের ২০ আগস্ট সোয়ালো (Swallow) জাহাজে প্রেরিত রাজস্ব বিষয়ক সাধারণ চিঠিতে কোর্ট অফ ডিরেক্টরস উল্লেখ করেছেন যে, জমিদারদের সাথে সাধারণ ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিষয়টি বর্তমানে হস্তান্তরিত অবস্থায় থাকা কোনো জমি পুনরুদ্ধার বা সংরক্ষণের মাধ্যমে কোম্পানির সম্ভাব্য রাজস্ব প্রাপ্তির ওপর মোটেও নির্ভরশীল নয়; কিন্তু আমার আশঙ্কা, সরেজমিন অনুসন্ধান ছাড়া এগুলোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা সম্ভব নয়। আমি যদি সম্ভব হয় তবে এই অনুসন্ধান এড়াতে চাই; এবং বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন পদক্ষেপগুলোর ফল জানা না যাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা যেতে পারে।

৫৩৪। যা-ই হোক, বর্তমানে নির্ধারিত বন্দোবস্তের নীতির ওপর ভিত্তি করে জমি হস্তান্তর বা বিচ্ছিন্নকরণ রোধে অবশ্যই আইন প্রণয়ন করতে হবে। জমিদারদের নিজস্ব স্বার্থই এ কাজ থেকে তাদের বিরত রাখবে — এমনটা বলা মানে প্রমাণিত অভিজ্ঞতার বিপরীতে যুক্তি দেওয়া; কারণ অজ্ঞতা ও কুসংস্কার ব্রাহ্মণদের চাপিয়ে দেওয়া দাবির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়।

৫৩৫। চতুর্থত — বিস্তারিত হিসাব-নিকাশ তলব না করে কেবল সাধারণ কর-নির্ধারণের (simple assessment) শর্তে জমিদারদের সাথে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার মাধ্যমে আমরা প্রাচীন ও প্রতিষ্ঠিত প্রথা থেকে সরে আসছি।

৫৩৬। সুস্পষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত এবং যার পরিধি বা প্রভাব সম্পর্কে জানা সম্ভব — এমন নতুন ব্যবস্থার প্রতি আমার কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু আমাদের পূর্বসূরিদের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম থেকে হঠাৎ সরে আসার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত, এমনকি যখন সম্ভাব্য কুফলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান নয়, তখনও।

৫৩৭। রাজস্ব সংক্রান্ত দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ স্থানীয় ব্যক্তিরা সবাই সেই সব হিসাব সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হবেন যা একসময় মুসলিম সরকার তলব করত — যদিও জমিদার বা তালুকদার হিসেবে তারা এর বিপরীত মতামত দিতে দ্বিধা করবেন না। তারা মূলত সেই প্রথা বা পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই যুক্তি দেন যা তারা শিখেছেন।

৫৩৮। যে নীতির ভিত্তিতে এ ধরনের হিসাব-নিকাশ বা বিবরণী তলব করা হতো, তা মূলত ভূমির খাজনা বা আয়ের একটা নির্দিষ্ট অংশের ওপর শাসকের অধিকার এবং সেই আয় বৃদ্ধির দাবির সাথে সম্পর্কিত বলে মনে হয়; তবে রাজস্বের (জমার) পরিমাণ যাতে কোনোভাবে কমে না যায়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মফস্বল এলাকার হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থাটি চালু রাখার পেছনে এ অঞ্চলের মানুষের স্বভাব-চরিত্রও হয়তো একটা কারণ হিসেবে কাজ করেছিল। কারণ, কেবল স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের ভয় দেখিয়েই সবসময় রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব হতো না। বাংলায় জাফর খানের আগমনের পর থেকে এ পর্যন্ত কেবল অর্থ আত্মসাৎ বা বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতার কারণেই দেশের অন্তত অর্ধেক ভূ-সম্পত্তি হাতবদল হয়ে গেছে। বর্ধমান, রাজশাহী, নদীয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের জমিদারির পত্তন বা গঠনপ্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলেই এই সত্যটি প্রমাণিত হবে।

৫৩৯। এর বিপরীতে, আমরা মূল নীতিটি বজায় রাখছি — যদিও এর সম্ভাব্য সব পরিণতির দিকে আমরা যাচ্ছি না; এবং এই সংশোধিত রূপেই বিষয়টি দাবি করা যেতে পারে, যা আমাদের পূর্বসূরিদের কার্যপদ্ধতির হুবহু অনুকরণ নয়।

৫৪০। কিন্তু রাজস্বের পরিমাণ কমে যাওয়া রোধ করতে আমরা একটা নিয়ম প্রবর্তনের প্রস্তাব করছি — যা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং কেবল চরম বিপর্যয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেই এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে — তা হলো, বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থদের (খেলাপকারীদের) জমি আবশ্যিকভাবে বিক্রি করে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে; এবং জমি বিক্রির সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে যদি আমরা সর্বদা এই নিয়ম মেনে চলতে পারি, তবে রাজস্ব খুব একটা কমবে না বলে আশা করা যায়। [২১৮]

৫৪১। এই যুক্তিতেই প্রাচীন প্রথা থেকে সরে আসাটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়; তবে একই সাথে, আমি যেসব পরিণতির কথা উল্লেখ করেছি তার বাইরেও এর এমন কিছু ফল দেখা দিতে পারে যা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়।

৫৪২। বর্তমানে সরকারের কাছে এমন কোনো নথিপত্র নেই যা থেকে প্রধান জমিদারীগুলোর গঠন ও উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ১৭৮৬ সালের রায়-রায়ানের (Royroyan) একটা প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, এমন কিছু গ্রাম ছিল যা সরকারকে কোনো রাজস্ব দিত না এবং কোনো জমিদারীর অন্তর্ভুক্তও ছিল না। হস্তান্তরিত বা মূল তালিকার বাইরে থাকা এসব জমির পরিমাণ ও অবস্থা সম্পর্কে আমাদের খুব কমই জানা আছে। প্রতি বছর এ-সংক্রান্ত উপযুক্ত তথ্য তলব না করা হলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আমাদের অজ্ঞতা আরও বাড়বে; তবে একই সাথে, যদি দেশের উন্নয়ন এবং স্থায়ী বন্দোবস্তের আওতায় নিয়মিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে এই তথ্যের অভাব পুষিয়ে নেওয়া যায়, তবে তা নিয়ে কোনো আক্ষেপ থাকবে না।

৫৪৩। এই যুক্তিগুলো উপস্থাপনের পেছনে আমার উদ্দেশ্য হলো শুরুতেই বিষয়টিকে এমন সব জটিলতা থেকে মুক্ত করা যা আমাদের পরিকল্পিত কার্যক্রমের সফলতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে; তবে এসব যুক্তি থেকে যে সিদ্ধান্তই উঠে আসুক না কেন, আমার আশঙ্কা, তা হয়তো আপত্তি বা সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবে না।

৫৪৪। প্রকৃত বন্দোবস্তের বিস্তারিত হিসাব তলব করার বিষয়ে যে মৌলিক ও জোরালো আপত্তি রয়েছে, তার মূলে রয়েছে জমিদারদের এই আশঙ্কা যে, আমরা সেই তথ্যের সুযোগ নিয়ে তাদের ওপর ধার্যকরা রাজস্বের পরিমাণ বাড়িয়ে দেব; এবং যদি দেখা যায় যে দেশটির উৎপাদনক্ষমতা আমাদের বর্তমান ধারণার চেয়েও বেশি — যদিও তা মূলত কঠোর পরিশ্রমেরই ফল — তবে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি না যে, এই তথ্য জানার পর সরকারের লোভ সেই বাড়তি আয়ের একটা অংশ দাবি করার জন্য প্রলুব্ধ হবে না; এমন সন্দেহ — আমি নিশ্চিতভাবে বলছি না যে তা ঘটবেই — প্রস্তাবিত পরিকল্পনার ভিত্তিকেই হয়তো নড়বড়ে করে দিতে পারে; অথচ আমার মতে, দেশের সমৃদ্ধি ও রাষ্ট্রের সুবিধার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।

৫৪৫। অবশ্য এই যুক্তিটিকে যদি চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে জমিদারদের কাছে কোনো হিসাবই চাওয়া উচিত নয়; কারণ কেবল সরকারি পাওনা বা রাজস্বের হিসাব চাওয়াটাও তাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে। কিন্তু উপরে বর্ণিত কারণগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না যে সরকার এ বিষয়ে তাদের কাছে নতি স্বীকার করবে।

৫৪৬। আবার প্রচলিত প্রথা থেকে এতটা সরে আসা বা বিচ্যুত হওয়াও আমি সমীচীন মনে করি না যে নতুন গ্রামগুলোর হিসাব চাওয়া হবে না; কারণ এমন অবহেলার ফলে সময়ের সাথে সাথে এমন অনেক গ্রাম গড়ে উঠতে পারে — যা হয়তো কোনো জমিদারির মোট রাজস্বের এক-চতুর্থাংশের সমান আয় করবে — অথচ সরকারের কোষাগারে কোনো রাজস্বই জমা দেবে না। আর যদি সেগুলো স্বাধীন মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়, তবে অবশিষ্ট জমিদারির মূল্যও সেই অনুপাতে কমে যেতে পারে।

৫৪৭। একবার বন্দোবস্ত চূড়ান্ত হয়ে গেলে তার অর্থের পরিমাণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব ইচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি যে সম্ভাব্য সব নিয়মের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত, তা আমি একান্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করি; তবে ইংল্যান্ডের সরকারকেও একই ধরনের বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত হতে হবে কি না, সে বিষয়ে আমার মনে সংশয় রয়েছে। এখানে উপস্থাপিত যুক্তি এবং ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে, তাদের বিবেচনার জন্য পেশ করা এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের খুব একটা অসুবিধায় পড়ার কথা নয়। তবে এই দেশে আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, তার মাধ্যমে জাতীয় প্রতিশ্রুতি বা মর্যাদার বিষয়টি জড়িত করার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev