| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কবিদের লেখনীতে শরৎ ঋতু : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নিঝুম রাতের পাড়ি : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ জলবায়ূ দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না : নিকোলাস বিশ্বাস জিয়াউর রহমানের বিএনপি গঠন ও ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ : অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গপুঙ্গবের রাখী : অসিত দাস কবরের মানুষ : সোহেল আর রানা (তরু) আজ রাখী বন্ধন…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নিম্নচাপের বৃষ্টিতে নষ্ট সবজি, আকাশ ছোঁয়া দামে নাজেহাল মানুষ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় রামযাত্রার মাঠ ফাঁকা : অয়ন মুখোপাধ্যায় যাদবপুরের যাদবদের গোপালনের ইতিহাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাম নামে কাম নাই, আমিই তো রাম : দিলীপ মজুমদার তৃষিত মাঠের খসড়া : বিশ্বজিৎ মণ্ডল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মাঠের মাছ ও একটি ঢ়োড়া সাপের গল্প : সুব্রত দত্ত রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর — সমস্যা সমাধানে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ যাদবপুর নামটি এল কোথা থেকে : অসিত দাস ইতিহাস গড়ে নারী, ইতিহাস ধরা থাকে অক্ষরে : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজেপির দুর্ধর্ষ আই টি সেল থেকে মালব্য বিদায় : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ রাখি পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫৫ Views জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪৬৩. এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতির দিকে যথাযথ মনোযোগ দিতে হবে এবং একই সাথে মুঘল আমলের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সর্বজনস্বীকৃত রীতিগুলোর কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে; আমাদের সরকারের নীতি ও কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সেই রীতিগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে। একবারে একটা নিখুঁত ব্যবস্থা গড়ে তোলা অসম্ভব; তবে আমাদের বিধিব্যবস্থায় সেই লক্ষ্যটিই থাকা উচিত। অস্থায়ী পদক্ষেপ ও স্থায়ী ব্যবস্থার সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে অস্থায়ী ব্যবস্থাগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে হবে যাতে সেগুলো স্থায়ী ব্যবস্থার কার্যকারিতায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করে, বরং সেগুলোর পথ প্রশস্ত করে ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৪৬৪. টোডরমল-এর তকসীম (রাজস্ব বিভাজন তালিকা), দীর্ঘকাল ধরে অনুসরণ করা হচ্ছিল, সেই কাঠামো তৎকালীন সরকার ও দেশের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এই নামের প্রচলন আজও রয়েছে, যদিও এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, আমাদের দেওয়ানি লাভের অনেক আগেই বাস্তবে একটা নতুন তকসীম বা রাজস্ব বিভাজন তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।

৪৬৫. পূর্বে বাংলাকে নির্দিষ্ট সংখ্যক সরকার-এ বিভক্ত করা হয়েছিল; প্রতিটি সরকারকে কয়েকটি পরগনায় এবং সেগুলোকে আবার তরফ, কিসমত ও গ্রামে ভাগ করা হয়েছিল। প্রতিটি উপ-বিভাগের রাজস্বের পরিমাণ তকসীম-এ লিপিবদ্ধ করা হতো।

৪৬৫ টিকা

[টোডরমল বাংলাকে ভাগ করলেন নির্দিষ্ট সংখ্যক সরকারে। প্রতি সরকার ভাগ হল কয়েকটা পরগনায়। পরগণার অধীনে রইল তরফ, কিসমত, গ্রাম [বাংলা জুড়ে তরফ, কিসমত উপসর্গ ওয়ালা স্থান নাম আছে — মেদিনীপুরে কিসমত বাজকুল। তরফ তো বিখ্যাত জমিদারি]। উপ-বিভাগগুলোর রাজস্বের পরিমাণ তকসীমে [tukseem =ভাগ] লেখা হতো। তকসিম মুঘল রাজস্ব নথি বা বিবরণী। এখানে নির্দিষ্ট পরগনা, তরফ, কিসমত, গ্রামভিত্তিক আবাদি জমির পরিমাণ, ফসলের ধরণ এবং আনুমানিক বা নির্ধারিত রাজস্ব (জমা) বিস্তারে লেখা থাকত।]

৪৬৬. আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই রকম একটা হিসাব বা বিবরণী সংগ্রহ করা। তবে আমার মতে, প্রাচীন সেই হিসাবের কাছে ফিরে গিয়ে এবং যে পার্থক্যগুলো সৃষ্টি হয়েছে সেগুলোর তুলনা করে এই বিভাজন নতুন করে তৈরি করতে হবে — কারন প্রাচীন বিবরণী বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না; বরং আমাদের উচিৎ প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর দেশকে কালেক্টরশিপ বা জেলা-প্রশাসনিক এলাকায় যেভাবে ভাগ করা হয়েছে তাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা এবং বিভিন্ন কালেক্টরের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত পরগনা ও গ্রামগুলোর ওপর রাজস্বের বণ্টনের হিসাব সংগ্রহ করা।

৪৬৭. এটা বাস্তবায়নের জন্য, আমাদের প্রথমে প্রতিটি জমিদারির অন্তর্গত পরগনাগুলোর সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে এবং সেগুলোর জন্য একটা বিন্যাস-পদ্ধতি বা কাঠামো ঠিক করতে হবে, যা আইন সূত্রে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং যার কোনো অননুমোদিত পরিবর্তনের জন্য শাস্তির বিধান থাকবে। এর মাধ্যমে আমি কোনো জমিদারকে পরগনার উপ-বিভাগ পরিবর্তনের কাজে বাধা দিতে চাইছি না; বরং আমি কেবল এটাই নিশ্চিত করতে চাইছি যে, গঠনকারী উপ-বিভাগগুলো সর্বদা সেই একই পরগনার অধীনে থাকবে যেখানে সেগুলো মূলত অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সেগুলোকে অন্য কোনো পরগনায় স্থানান্তর করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো পরগনাকে পাঁচটি বা ততোধিক তরফ (terf) বা কিসমত-এ (kismut) ভাগ করা হয় — যা পুরো এলাকাটিকে অন্তর্ভুক্ত করে — তবে হিসাবের খাতায় সেটিকে কেবল একটা একক বিষয় বা আইটেম হিসেবেই গণ্য করা হবে, যার মধ্যে ওই একাধিক বিভাগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই বন্দোবস্ত বা রাজস্ব-নির্ধারণ, জমিদারদের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাবে না, কারণ সেই কার্যক্রমকে জমির নির্ধারিত বিন্যাসের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

৪৬৮. দ্বিতীয়ত। যখন এই হিসাব সম্পন্ন হবে, তখন আরেকটা হিসাব প্রস্তুত করতে হবে যেখানে পরগনাগুলোর অধস্তন অংশের বিবরণ থাকবে; পরগনাকে কিসমত আর তরফে ভাগ করার বিষয়টা ইচ্ছাধীন এবং এতে প্রায়শই পরিবর্তন ঘটতে পারে, কিন্তু গ্রামগুলো অনেক বেশি স্থায়ী। তাই দ্বিতীয় হিসাবেতে গ্রামের বিস্তারিত বিবরণ থাকতে হবে এবং সেগুলোর নাম এমনভাবে নির্দিষ্ট করতে হবে যাতে তাতে কোনো পরিবর্তন না করা যায়।

৪৬৯. এই প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে আমি কোনো উল্লেখযোগ্য আপত্তি দেখছি না; তবে এগুলো একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের অবতারণা করে — আর তা হলো, তকসীম বা রাজস্ব-বণ্টনের হিসাবে কি জমিদারির উপ-বিভাগগুলোর ওপর ধার্যকরা প্রকৃত রাজস্বের পরিমাণ উল্লেখ থাকবে, নাকি সরকারের সমগ্র জমিদারির ওপর ধার্যকরা মোট রাজস্বের অনুপাতে প্রতিটি অংশের হিস্যা বা আনুপাতিক হার উল্লেখ থাকবে?

৪৭০. এই প্রশ্নের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রস্তুতি হিসেবে, জমির প্রতিটি অংশে ধার্যকরা রাজস্বের হিসাব সংগ্রহের ফলে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে এবং এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যেসব আপত্তি থাকতে পারে, সেগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং অন্য কোনো উপায়ে একই সুবিধা পাওয়া সম্ভব কি না তা বিবেচনা করা সমীচীন হবে। সেগুলোকে উপেক্ষা করলে কী ধরনের অসুবিধা দেখা দিতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে, এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিগুলোর তুলনায় সেগুলোর গুরুত্ব বা উপযোগিতা বেশি কি না।

৪৭১. এর ফলে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে, সেগুলো হলো :

প্রথমত। সময়ের সাথে সাথে সরকার দেশের সম্পদ বা সামর্থ্য সম্পর্কে আরও নির্ভুল হিসাব এবং দেশের উন্নতি বা অবনতি বিষয়ক ধারাবাহিক তথ্য লাভ করবে।

দ্বিতীয়ত। যদি শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থাটি গ্রহণ করা সুবিধাজনক বলে মনে হয়, তবে নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে রাজস্ব আদায়কর্ম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান তাদের থাকা উচিৎ; এছাড়া কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা বৈষম্য দেখা দিলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতাও তাদের হাতে থাকবে।

তৃতীয়ত। বকেয়া রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজনে জমি বিক্রির সময় তার মূল্যমান নির্ধারণের জন্য একটা মানদণ্ড তাদের কাছে থাকবে।

চতুর্থত। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমিদারদের ক্ষতির দাবির সত্যতা যাচাই করার উপায় এবং ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা ও পরিমাণ নির্ধারণের নিয়ম তাদের জানা থাকবে।

পঞ্চমত। সীমানা, হাট-বাজার বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে যদি পূর্ববর্তী তকসীম (জমির বিভাজন ও রাজস্বের তালিকা) বা নথিপত্র দেখার প্রয়োজন হয় — অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে — তবে প্রস্তাবিত হিসাব তুলনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এবং সময়ের সাথে সাথে তা দেশের জন্য একটা নতুন তকসীম বা নথিতে পরিণত হবে।

ষষ্ঠত। প্রয়োজনীয় হিসাবগুলো রাজস্ব আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির আচরণ ও কর্মদক্ষতা সম্পর্কে তথ্য দেবে; পাশাপাশি চুক্তিভঙ্গ ও জোরকরে অর্থ আদায় (অত্যাচার) রোধের উপায়ও এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

৪৭২. এখন আমি এই যুক্তিগুলোর প্রতিটির বিপরীতে উত্থাপিত আপত্তিগুলো সেই একই ক্রমানুসারে তুলে ধরব। [২১২]

৪৭৩. প্রথমত। এমন যুক্তি দেওয়া হতে পারে যে, সরকার যদি ভবিষ্যতে জমির রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা না করে, তবে জমির মূল্যমান সম্পর্কে বর্তমানে আমাদের যা জানা আছে তার অতিরিক্ত কোনো তথ্যের প্রয়োজন নেই; আর এ সংক্রান্ত হিসাব তলব করলে জমিদারদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে যে, বর্তমান কর নির্ধারণ ব্যবস্থাটি হয়তো স্থায়ী হবে না। কোর্ট অফ ডিরেক্টরস (পরিচালক পর্ষদ) এ বিষয়ে নিশ্চিত এবং তারা জমির মূল্যমান যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত চালানোর ধারণাকে নিরুৎসাহিত করেন। তাদের নির্দেশ হলো — একবার কোনো জমিদারের প্রদেয় রাজস্ব বা কর নির্ধারিত হয়ে গেলে, তার জমিদারির প্রশাসন ও ভোগ-দখলের ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তাকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, নির্ধারিত রাজস্ব নিয়মিত পরিশোধ করা পর্যন্ত তাকে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো কঠোর তদারকি বা হস্তক্ষেপের সম্মুখীন হতে হবে না; অবশ্য যদি তার সাথে প্রজা, তালুকদার বা একই জমিদারির অংশীদারদের কোনো দাবির নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়, তবেই কেবল এর ব্যতিক্রম হতে পারে।

৪৭৪. যদি দশ বছর মেয়াদ শেষে বন্দোবস্তের পরিমাণ পুনর্বিন্যাস বা পুনর্নির্ধারণ করতে হয়, তবে এই হিসাবগুলোর প্রয়োজন হবে; কিন্তু যদি তা চিরস্থায়ীভাবে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে এগুলোর আর প্রয়োজন থাকবে না।

৪৭৫. বোর্ড সম্প্রতি অত্যন্ত জোরালো কিছু দাবি বা অভিমত বিবেচনা করেছে যে, এই দেশ থেকে এক কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। আমি ইতিমধ্যেই এর বিপক্ষে আমার মত জানিয়েছি এবং তার সপক্ষে যুক্তিগুলোও তুলে ধরেছি। তাই আমার কাছে এই দাবিগুলোর বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই; এবং যেহেতু সোয়ালো (Swallow) জাহাজে প্রেরিত চিঠিতে তাদের অপেক্ষাকরা সংযত মতামত অত্যন্ত বিশদ ও সুনির্দিষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছিল এবং এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো নতুন নির্দেশ আসেনি, তাই ধরে নেওয়া যায় যে তারা তাদের সেই পূর্ববর্তী অবস্থানেই অটল রয়েছে। সুতরাং, মিস্টার গ্রান্ট বা অন্য কারও যুক্তি বা দাবির ভিত্তিতে সেই চিঠির নির্দেশনার মূল চেতনার পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো কারণ আমি দেখি না।

৪৭৬. তাঁর যুক্তি মেনে নিয়েও আমরা জমির আরও উপযুক্ত মূল্যায়নের লক্ষ্যে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের ধারণা যৌক্তিকভাবেই বর্জন করতে পারি, যা আমাদের গৃহীত মূল নীতির জন্য ঝুঁকি সাপেক্ষ হতে পারে; কারণ, এই ধরনের তদন্ত থেকে পাওয়া সুবিধার ওপর ভিত্তি করে যে যুক্তি দাঁড় করানো হয়, তা তখন অনেকটাই তার জোর হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে, প্রজাদের সন্দেহ দূর বা হ্রাস করে সরকারি পদক্ষেপের স্থায়িত্বের ওপর তাদের আস্থা গড়ে তোলার বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তবে আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে, কেবল আশ্বাস বিতরণ করেই সন্দেহ দূর করা সম্ভব নয় — সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থায় অবিচল আনুগত্য ছাড়া তা কখনোই পুরোপুরি নির্মূল করা যাবে না।

৪৭৭. আরও উল্লেখ করা যেতে পারে যে, জমিদার বা তাঁদের অধীনস্থ প্রজারা কেউই স্বেচ্ছায় তাদের আয়ের বা সুবিধার প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করবে না; এবং তাদের বিভিন্ন চুক্তির প্রকৃত হিসাব সংগ্রহের জন্য তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা আবশ্যক।

৪৭৮. অন্যদিকে, এটাও নিশ্চিত যে মুঘল সরকার তাদের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জমির বিভিন্ন বিভাগের জমা (রাজস্বের পরিমাণ) এবং তাতে সময়ের সাথে আসা পরিবর্তনগুলো লিপিবদ্ধ করত; এবং এই প্রস্তাবটি সেই প্রাচীন রীতির সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪৭৯. দেশের ক্রমাবনতি বা ক্রমোন্নতির বিষয়টিও বিবেচনার দাবি রাখে; যদিও প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে হিসাবের প্রয়োজন ছাড়াই আমরা এ বিষয়ে একটা সাধারণ ধারণা পেতে পারি, তবুও এসব ক্ষেত্রে পাওয়া তথ্যের নির্ভুলতা কম হবে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এ ব্যাপারে সরকারের জন্য কালেক্টরদের দেওয়া সাধারণ তথ্যই কি যথেষ্ট নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে? যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগের সাথে বিবেচনা করলে, আমার মনে হয় তা সম্ভব।

৪৮০. আমি হয়তো পরিচালকদের আদেশের উপর ভিত্তি করেই এই যুক্তি উপস্থাপন করে সন্তুষ্ট থাকতে পারতাম, যা পালন করা আমাদের কর্তব্য, যদি না এর থেকে বিচ্যুতির জন্য অকাট্য কারণ দেখানো যায়; কিন্তু আমার অনুমান, তারা নীরব আনুগত্যের চেয়ে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনায় অনেক বেশি সন্তুষ্ট হবেন।

৪৮১. দ্বিতীয়ত, এই অনুমানের উপর ভিত্তি করে যে, বন্দোবস্ত স্থায়ী হবে; এবং জমিদারদের অর্থপ্রদানের ঘাটতি অবশ্যই তাদের সম্পত্তির একটা অংশ বিক্রি করে পূরণ করতে হবে, যা সেই ঘাটতির সমপরিমাণ হবে; এবং এ থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, এমন কোনো পরিস্থিতি কখনও আসবে না যেখানে সরকারকে তাদের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কর আদায়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হবে। যখন কোনো জমিদারির জুম্মা একবার নির্ধারিত হয়ে যায়, তখন মালিক তার সম্পত্তির উন্নতি করাকে এতটাই নিজের স্বার্থে মনে করবেন যে, তিনি এই নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই কর নির্ধারণে বিদ্যমান অনিয়ম ও বৈষম্য সংশোধন করবেন।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev