প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শিবরাত্রি ব্রত পালন করতে বাবা তারকনাথের মাথায় দুধ-জল ঢেলে মনস্কামনা পূর্ণ করতে চায় ভক্তরা। স্থানীয় পুরুষ ও মহিলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অসংখ্য ভক্ত মনোবাসনা পূরণের জন্য ছুটে আসেন এই দিনটিতে। কেবল মহিলারা নন, পাল্লা দিয়ে ভিড় জমান পুরুষেরাও। ভিড় সামলাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভা।
প্রসঙ্গত, এদিন ভক্তদের বিশ্বাস বাবা তারকনাথের কাছে নিষ্ঠাভরে মানত করলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। ভালো বর পাওয়ার আশায় এদিন শিবকে তুষ্ট করতে সারাদিন উপোসের পর অবিবাহিত মেয়েরা ছুটে আসেন বেলপাতা, আকন্দ ফুলের মালা, ধুতুরা ফুল ও ফল নিয়ে তারকনাথের মন্দিরে। দুধ পুকুরে স্নানের পর বাবার মাথায় দুধ ও জল ঢেলে তুষ্ট করেন শিবকে। এখানে শিবরাত্রি উপলক্ষে মেলাও বসে। মেলায় উপচে পড়া ভিড় হয়।

উল্লেখ্য, শিবরাত্রিতে হাজার হাজার ভক্ত গঙ্গা থেকে জল এনে তারকেশ্বরের এই জাগ্রত শিবলিঙ্গে ঢেলে পুণ্য অর্জন করেন।এই পবিত্র স্থানটি বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার একটি অনন্য কেন্দ্র। ‘বাবা তারকনাথ’ ও ভক্তের বিশ্বাস
বাংলার শিবচর্চার কথা বললেই সবার আগে আসে তারকেশ্বরের নাম। আঠারো শতকে রাজা ভারামল্ল এই মন্দির নির্মাণ করেন। এখানকার শিবলিঙ্গটি ‘স্বয়ম্ভূ’ (নিজেই উদ্ভূত)। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বাবা তারকনাথের কাছে নিষ্ঠাভরে মানত করলে কোনো ভক্তই খালি হাতে ফেরে না। শিবরাত্রিতে এখানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়, অধিকাংশ ভক্ত গঙ্গা থেকে জল এনে বাবার মাথায় ঢালেন। সারাদিন উপবাস থেকে ভক্তরা শেওড়াফুলি থেকে পায়ে হেঁটে এসে দুধপুকুরে স্নান করে শিবলিঙ্গে জল, ফুল ও বেলপাতা নিবেদন করেন। এ প্রথা আজও চলে আসছে। এই বিশেষ দিনে মন্দির সারারাত খোলা থাকে এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন দূরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় ও মনোস্কামনা পূরণের আশায় এখানে আসেন।

তারকেশ্বরে শিবরাত্রি পুজোর বিশেষ দিক হল — জল ঢালা ও পূজা।
ধর্মীয় বিশ্বাস আজও হৃদয়কে ঋদ্ধ করে। বিশ্বাস করা হয়, শিবরাত্রিতে তারকেশ্বরে পুজো দিলে পরিবারের সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং মনস্কামনা পূর্ণ হয়।
এদিকে পুলিশ প্রশাসন ও তারকেশ্বর পুরসভা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি বাড়িয়েছে। এই সময় কোনও ধরনের ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারকেশ্বর পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান শৈবতীর্থ এবং শিবরাত্রির দিন এখানে উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন আঁটসাঁটো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে কৃষ্ণ চতুর্দশীতে হয় শিবরাত্রি। এই উপলক্ষে বিশেষ পুজার্চনা হয় তারকেশ্বেরে। এবার রবিবার বিকালে ৪-৪৮ মিনিটে শিব চতুর্দশী শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৫-৩২ মিনিট পর্যন্ত চতুর্দশী থাকবে৷ এই সময়ের মধ্যে ভক্তরা সারা দিনরাত মন্দিরে ঢুকে মহাদেবের মাথায় জল ঢালতে ও পুজো দিতে পারবেন বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।মহাশিবরাত্রিতে জল ঢালতে শনিবার থেকেই ভক্তদের ভিড় তারকেশ্বরে। চার প্রহরে বিশেষ পুজো হবে তারকেশ্বর মন্দিরে৷ সেই পুজো করবেন মন্দিরের মহন্ত মহারাজ। এদিন কোনও ভোগ দেওয়া হবে না মন্দিরে।

অপরদিকে, হাওড়া ও তারকেশ্বরের মধ্যে ইএমইউ স্পেশাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিল ইস্টার্ন রেলওয়ে।
শিবরাত্রির সময়ে অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতেই পূর্ব রেলের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি হাওড়া থেকে শিবরাত্রি উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। আপ ট্রেন রবি ও সোমবার হাওড়া স্টেশন থেকে দুপুর ২ টো বেজে ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সেটি তারকেশ্বরে পৌঁছবে বিকেল ৪টে বেজে ১৪ মিনিটে। সেটি শেওড়াফুলি জংশনে পোঁছবে ৩টে বেজে ২২ মিনিটে। এই রুটে ট্রেনটি সব স্টপেজেই থামবে। ডাউন স্পেশাল ট্রেনটি তারকেশ্বর থেকে ছাড়বে বিকেল ৪টে বেজে ৪৫ মিনিটে। সেটি শেওড়াফুলি জংশনে থামবে বিকেল ৫টা বেজে ৩৩ মিনিটে। এরপর হাওড়া জংশন পৌঁছবে সন্ধ্যে ৬টা বেজে ১৫ মিনিটে। এই রুটেও ট্রেনটি সব স্টেশনেই থামবে।