বাংলার ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাস রচনায় দীর্ঘকাল ধরে দুটি বিপরীতমুখী পদ্ধতির টানাপোড়েন বিদ্যমান। একদিকে রয়েছে ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের শুরুর লেখক নগেন্দ্রনাথ বসু (বসু, ১৯৯৯), শ্রীমহিমাচন্দ্র মজুমদার (মজুমদার, ১৯০০) ও হরিলাল চট্টোপাধ্যায়ের (চট্টোপাধ্যায়, ১৯০০) কুলপঞ্জি-নির্ভর বৃত্তান্ত, যার কেন্দ্রে রয়েছে আদিশূরের কিংবদন্তি ও বল্লাল সেনের কৌলীন্য প্রথার মতো ‘স্মৃতি-নির্ভর’ ঘটনাপ্রবাহ। অন্যদিকে রয়েছে প্রখ্যাত অভিলিখনবিদ দীনেশ চন্দ্র সরকারের (সরকার, ১৯৬৫, ১৯৬৭, ১৯৭৩) তাম্রশাসন ও শিলালিপির পাঠোদ্ধার-নির্ভর সমালোচনামূলক ইতিহাস, যা প্রমাণ করে যে পালযুগেই বরেন্দ্র-রাঢ় অঞ্চলে ব্রাহ্মণ সমাজ সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল এবং সেন রাজাদের কাজ ছিল সেই প্রাচীন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস ও মর্যাদা-উন্নয়ন (সরকার, ১৯৬৫: ১২৫-১৩০)।
এই প্রতিবেদনে রিচার্ড স্যালোমনের Indian Epigraphy (স্যালোমন, ১৯৯৮) ও দীনেশ চন্দ্র সরকারের Indian Epigraphy ও Select Inscriptions-এর তাত্ত্বিক কাঠামো ও পদ্ধতিকে কুলপঞ্জি তিনটির বিবরণের সঙ্গে সমন্বিত করে বরেন্দ্র ও গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সমাজের বংশানুক্রমিক, সামাজিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি সমালোচনামূলক ও সমন্বিত পুনঃপাঠ উপস্থাপন করা হবে। স্যালোমনের মতে, ভারতীয় অভিলিখনগুলি “প্রায়শই অ-ঐতিহাসিক উৎসের অন্তর্নিহিত কালানুক্রমিক ও ভৌগোলিক কাঠামো প্রদান করে” (স্যালোমন, ১৯৯৮ : ৩)। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলার ব্রাহ্মণ ইতিহাসের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের মধ্যে মৌলিক পদ্ধতিগত পার্থক্য বুঝতে হলে স্যালোমনের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “ঐতিহ্যগত ভারতীয় সাহিত্যকর্মগুলি কালানুক্রমিক শূন্যতায় বিদ্যমান; অন্যদিকে অভিলিখনগুলি স্পষ্ট তারিখ বা প্রত্নলিপিমূলক অনুমানের মাধ্যমে অন্তর্নিহিতভাবে তারিখনির্ধারণযোগ্য” (স্যালোমন, ১৯৯৮: ৪)। এই বৈশিষ্ট্যই কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের মধ্যে বিরোধের মূল কারণ।
কুলপঞ্জিকাররা ‘কিংবদন্তি-নির্ভর ইতিহাস’ রচনা করেছেন, যেখানে আদিশূর ও বল্লাল সেনের মতো চরিত্রগুলি কেন্দ্রীয় স্থান অধিকার করে। নগেন্দ্রনাথ বসু লিখেছেন, মহারাজ আদিশূর কান্যকুব্জ থেকে পাঁচজন সাদ্বিক ব্রাহ্মণকে আহ্বান করেন: শাণ্ডিল্য গোত্রীয় ক্ষিতীশ, ভরদ্বাজ গোত্রীয় মেধাতিথি, কাশ্যপ গোত্রীয় বীতরাগ, বাৎস্য গোত্রীয় সুধানিধি ও সাবর্ণ গোত্রীয় সৌভরি (বসু, ১৯৯৯: ২০-২১)। মজুমদারের মতে, আদিশূর কেবল পাঁচজন ব্রাহ্মণই আনেননি, বরং তাঁদের পরিবার ও পরিচারক-সহ মোট ৫৬টি পরিবার গৌড়ে এসে বসতি স্থাপন করে (মজুমদার, ১৯০০: ৫৮-৫৯)।
অন্যদিকে, সরকার তাঁর অভিলিখনিক পদ্ধতিতে দেখান যে পাল রাজা দেবপাল (৮১০-৮৫০ খ্রি.) শুধু বৌদ্ধ বিহারেই নয়, বরং বৈদিক ব্রাহ্মণদেরও অগ্রহার দান করতেন, যেমনটি মুঙ্গের তাম্রশাসনে দেখা যায় (সরকার, ১৯৬৭: ১০৫)। স্যালোমনের ভাষায়, অভিলিখনগুলি “ঐতিহ্যগত ভারতীয় সংস্কৃতির অ-ঐতিহাসিক অভিমুখিতার শূন্যস্থান পূরণ করে” (স্যালোমন, ১৯৯৮: ৩-৪)। এই ক্ষেত্রে, তাম্রশাসনগুলি কুলপঞ্জির কালানুক্রমিক সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করে।
স্যালোমন উল্লেখ করেছেন যে, “ভারতীয় অভিলিখনগুলি প্রায়শই দান, মন্দির স্থাপন বা রাজকীয় বংশাবলির বিবরণ দিয়ে শুরু হয়” (স্যালোমন, ১৯৯৮: ১১৫)। এই প্রথার প্রতিফলন বাংলার তাম্রশাসনেও দেখা যায়। নিধানপুর তাম্রশাসনে ৫৬টি গোত্রের ২০০-এর অধিক বৈদিক ব্রাহ্মণকে ভূমিদানের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, যা সেনযুগের পূর্বেই ব্যাপক ব্রাহ্মণ বসতির প্রমাণ (সরকার, ১৯৬৭: ১০৫)।
বল্লাল সেনের কৌলীন্য প্রথা ছিল এই প্রাচীন কাঠামোর উপর একটি সামাজিক পুনর্বিন্যাস। নগেন্দ্রনাথ বসুর মতে, রাজা বল্লাল সেন ব্রাহ্মণদের কুলীন, সিদ্ধশ্রোত্রীয়, সাধ্যশ্রোত্রীয় ও কষ্টশ্রোত্রীয় — এই চার ভাগে বিভক্ত করেন (বসু, ১৯৯৯: ৪৬-৪৭)। কুলীন নির্ধারিত হতেন নয়টি গুণের ভিত্তিতে: আচার, বিনয়, বিদ্যা, প্রতিষ্ঠা, তীর্থদর্শন, নিষ্ঠা, শান্তি, তপ ও দান (পৃ. ৪৬)। সরকার এই কৌলীন্য প্রথাকে “পশ্চিমী ব্রাহ্মণদের সঙ্গে আসীন ব্রাহ্মণদের মর্যাদার প্রতিযোগিতার ফল” বলে ব্যাখ্যা করেন (সরকার, ১৯৬৭: ৯২)।
স্যালোমনের মতে, “অভিলিখনগুলি প্রায়ই সাহিত্যিক উৎস থেকে জানা না-যাওয়া ব্যক্তি ও ঘটনার তারিখনির্ধারণের ভিত্তি প্রদান করে” (স্যালোমন, ১৯৯৮: ৪)। শিলিমপুর তাম্রশাসনে উল্লিখিত ব্রাহ্মণদের “আদিবাসী” বা দীর্ঘকালের বসতি স্থাপিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আদিশূরের আকস্মিক অভিবাসনের কিংবদন্তির বিপরীতে যায় (সরকার, ১৯৬৫: ১৩২)। মজুমদার তার গ্রন্থেই স্বীকার করেছেন যে “কান্যকুব্জ হইতে ব্রাহ্মণ আগমন একবারে হয় নাই, বহু শতাব্দী ধরিয়া ঘটিয়াছে” (মজুমদার, ১৯০০: ৬৮)।
সরকারের মতে, মুসলমান শাসনের অধীনে ব্রাহ্মণরা রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারিয়ে ফেললে সমাজের ভিতরে আচার-আচরণের দেয়াল তুলে নিজেদের অভিজাত অবস্থান রক্ষার চেষ্টা করেন। তিনি এটিকে “অস্তিত্ব-রক্ষার কৌশল” (strategy of survival) হিসেবে অভিহিত করেছেন (সরকার, ১৯৬৫: ১৪০)। স্যালোমনও উল্লেখ করেন যে, “মধ্যযুগের দক্ষিণ ভারতের মতো বাংলায়ও মন্দির ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিবরণ অভিলিখনে সুরক্ষিত ছিল” (স্যালোমন, ১৯৯৮: ২৩১-২৩২)।
এই চাপের ফলে সৃষ্টি হয় ‘আঘাত’ (অবসাদ বা দোষ) ও ‘পটি’ (উপ-সমাজ)। নগেন্দ্রনাথ বসু তার গ্রন্থের দশম অধ্যায়ে ৬৮টির অধিক অবসাদের নাম ও বিবরণ দিয়েছেন, যেমন আলমখানী, শুভরাজখানী, কালাপুরা, চড়িয়া-দোষ, ভগাঁএ-দোষ (বসু, ১৯৯৯: ৮০-৯৭)। হরিলাল চট্টোপাধ্যায় ১৩টি আঘাত ও ৪৩টি অবসাদের তালিকা দিয়েছেন (চট্টোপাধ্যায়, ১৯০০: ১১৭)।

যেসব কুলীন আঘাতগ্রস্ত হন, তাঁদের নিয়ে গঠিত হয় ‘কাপ’ নামক নিম্নতর শ্রেণি। উদয়নাচার্য ভাদুড়ী এই প্রক্রিয়ায় ‘পরিবর্ত মর্যাদা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা কুলীন ও কাপের মধ্যে সম্পর্কের জটিল নিয়ম তৈরি করে (বসু, ১৯৯৯: ৬২-৬৩)। স্যালোমনের মতে, “অভিলিখনগুলি প্রায়শই প্রচলিত মতবাদকে সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে” (স্যালোমন, ১৯৯৮ : ২৪২)। এখানে কুলপঞ্জির বিবরণ অভিলিখনের পরোক্ষ সমর্থন পায় — যদিও ঘটক ও কুলজ্ঞদের কার্যকলাপের প্রত্যক্ষ প্রমাণ তাম্রশাসনে বিরল, তবে এদের অস্তিত্বের সামাজিক প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
স্যালোমন উল্লেখ করেন যে, “তাম্রশাসনগুলি প্রায়ই ভূ-দানের বিবরণ সংরক্ষণ করে এবং এগুলি আইনি দলিল হিসেবে কাজ করত” (স্যালোমন, ১৯৯৮: ১১৩-১১৪)। বাংলার প্রেক্ষাপটে, ফরিদপুর তাম্রশাসন (৪৩৩ খ্রি.)-এ বরাহস্বামী নামে এক ব্রাহ্মণকে ভূমিদানের উল্লেখ আছে এবং কাশ্যপ, ভরদ্বাজ, শাণ্ডিল্য প্রভৃতি গোত্রের ব্রাহ্মণদের উপস্থিতি প্রমাণিত হয় (সরকার, ১৯৬৫: ১৪০)।
মুঙ্গের তাম্রশাসন ও খালিমপুর তাম্রশাসন-এর প্রমাণ দেখায় যে পাল রাজা দেবপাল (৮১০-৮৫০ খ্রি.) শুধু বৌদ্ধ বিহারেই নয়, বরং বৈদিক ব্রাহ্মণদেরও অগ্রহার দান করতেন (সরকার, ১৯৭৩: ৮৯)। হরিলাল চট্টোপাধ্যায় আদিশূর কর্তৃক প্রদত্ত ৫৬টি গ্রামের আংশিক তালিকা দিয়েছেন, যেমন বন্দাঘটী, কুশারী, মাসচটক, কুশুমকুলী, ঘোষালী ইত্যাদি (চট্টোপাধ্যায়, ১৯০০: ২২৫-২২৮)।
মুসলমান শাসনকালে অনেক ব্রাহ্মণ জমিদারিতে রূপান্তরিত হন। নাটোরের রাজবংশ, হরিপুরের চৌধুরী বংশ, পাবনার মথুরার ঠাকুর বংশ, ঢাকার রোয়াইল রায় বংশ, বর্ধমানের কাটোয়ার চৌধুরী বংশ এবং কলিকাতার ঠাকুর বংশের উত্থান এই প্রক্রিয়ার বড় উদাহরণ (বসু, ১৯৯৯: ১৬০-১৬৩; চট্টোপাধ্যায়, ১৯০০: ১৯১, ২১৬-২১৭, ২২৯-২৩০)। সরকার এই পরিবর্তনকে “স্থানীয় ব্রাহ্মণ অভিজাততন্ত্রের মুঘল ও ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাহিনি” হিসেবে অভিহিত করেছেন (সরকার, ১৯৬৫: ১৫২)।
রিচার্ড স্যালোমন উল্লেখ করেছেন যে, “ভারতে ইতিহাস নির্মিত হয় মূলত অভিলিখন থেকে পুনর্গঠিত কাঠামোর উপর, যখন সাহিত্যিক উৎসগুলি সাধারণত এখানে-ওখানে কিছু মাংস যোগান দেয়” (স্যালোমন, ১৯৯৮ : ৪)। বাংলার ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও এই পর্যবেক্ষণ প্রাসঙ্গিক। কুলপঞ্জি-নির্ভর বৃত্তান্ত এবং সরকারের অভিলিখন-নির্ভর সমালোচনামূলক ইতিহাস — এই দুটি পদ্ধতি পরস্পরের পরিপূরক, বিকল্প নয়।
সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, স্যালোমনের “অভিলিখনের অন্তর্নিহিত তারিখনির্ধারণযোগ্যতা” (স্যালোমন, ১৯৯৮: ৪) সরকারের তাম্রশাসনের প্রমাণকে বৈধতা দেয়। আদিশূরের কিংবদন্তি একটি পরবর্তী কুলজি-নির্মাণ হলেও, পালযুগেই বরেন্দ্র-রাঢ় অঞ্চলে ব্রাহ্মণ সমাজ সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। বল্লাল সেনের কৌলীন্য প্রথা সেই প্রাচীন কাঠামোর উপর একটি গভীর সামাজিক পুনর্বিন্যাস ঘটায়। মুসলমান শাসনের চাপে সৃষ্ট ‘আঘাত’, ‘কাপ’ ও ‘পটি’ ছিল ব্রাহ্মণ সমাজের “অস্তিত্ব-রক্ষার কৌশল” (সরকার, ১৯৬৫: ১৪০)। স্যালোমনের পর্যবেক্ষণ — “অভিলিখনগুলি প্রায়শই প্রচলিত মতবাদকে সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে” (স্যালোমন, ১৯৯৮ : ২৪২) — এই প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিক, কারণ কুলপঞ্জির বিবরণ অভিলিখনের পরোক্ষ সমর্থন পায়। স্যালোমনের বর্ণনা অনুযায়ী, “তাম্রশাসনগুলি ভূমিদানের আইনি দলিল হিসেবে কাজ করত” (স্যালোমন, ১৯৯৮: ১১৩)। পালযুগের ভূমিদান থেকে শুরু করে মুঘল ও ব্রিটিশ যুগের জমিদারি পর্যন্ত বরেন্দ্র ব্রাহ্মণরা ভূমিকেই কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে ধরে রেখেছিলেন।
গ্রন্থপঞ্জি
বসু, নগেন্দ্রনাথ। (১৯৯৯)। বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (বরেন্দ্র ব্রাহ্মণকাণ্ড)। কলকাতা: পুস্তক বিপণি (প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি ১৯৯৯)।
চট্টোপাধ্যায়, হরিলাল। (১৯০০)। ব্রাহ্মণ ইতিহাস। কলকাতা: হিন্দু মেশিন প্রেস।
মজুমদার, শ্রীমহিমাচন্দ্র। (১৯০০)। গৌড়ে ব্রাহ্মণ (দ্বিতীয় সংস্করণ)। কলকাতা: হিন্দু মেশিন প্রেসে প্রীহরিদাস ঘোষ ছার মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সরকার, দীনেশ চন্দ্র। (১৯৬৫)। Indian Epigraphy. দিল্লি : মতিলাল বনারসিদাস।
সরকার, দীনেশ চন্দ্র। (১৯৬৫)। Select Inscriptions Bearing on Indian History and Civilization, Vol. I & II. কলকাতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস।
সরকার, দীনেশ চন্দ্র। (১৯৬৭)। Studies in the Society and Administration of Ancient and Medieval India. কলকাতা: ফার্মা কে. এল. মুখোপাধ্যায়।
সরকার, দীনেশ চন্দ্র। (১৯৭৩)। Some Epigraphical Records of the Medieval Period from Eastern India. নতুন দিল্লি: অভিনব পাবলিকেশনস।
Salomon, Richard. (1998). Indian Epigraphy : A Guide to the Study of Inscriptions in Sanskrit, Prakrit, and the Other Indo-Aryan Languages. New York : Oxford University Press.