১৯শে এপ্রিল, ১৭৭৪ তারিখে গভর্নর প্রস্তাব করেন, দেশে চলতে থাকা চরম বিশৃঙ্খলা মোকাবিলার লক্ষ্যে নিচে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে : —
১. “অধিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করা, নিজ নিজ এলাকার মধ্যে প্রকাশ্য দস্যুদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিষয়ে যাবতীয় তথ্যের নিয়মিত সংবাদ প্রেসিডেন্সিতে প্রেরণ করার উদ্দেশ্যে — নিচে উল্লিখিত স্থানসমূহে — ফৌজদার নিয়োগ করা হোক।”
২. জমিদার, ইজারাদার এবং অন্যান্য রাজস্ব কর্মকর্তাদের ফৌজদারদের সর্বপ্রকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে; এবং সহায়তা প্রদানে অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে, তজ্জনিত ক্ষতির জন্য তাঁদেরই দায়ী করা হবে।
৩. ইজারাদারদের তাঁদের অধীনস্থ ভূমি-কর্মচারীদের (land-servants) সেবা পুনরায় ফৌজদারদের হাতে ন্যস্ত করতে হবে এবং উক্ত কর্মচারীদের ফৌজদারদের পূর্ণ ও একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অধীনে রাখা হবে।
৪. “চাকরান জমি” — অর্থাৎ থানাদার ও পাইকদের ভরণপোষণের জন্য বরাদ্দকৃত যে জমিগুলো ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করে মূল রাজস্বের (জমা) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে — সেগুলোকে পুনরায় মূল রাজস্বের হিসাব থেকে পৃথক করে তাদের আদি বা মূল উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হোক।
৫. প্রত্যেক ফৌজদারের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা বা সীমানা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হোক; এবং উক্ত সীমানার মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা যথাযথভাবে বজায় রাখার পূর্ণ দায়ভার ফৌজদারের ওপর ন্যস্ত করা হোক। তবে, প্রয়োজনে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্যে উক্ত সীমানার বাইরেও নিজ অধীনস্থ কর্মকর্তাদের প্রেরণের নির্দেশ তাঁকে প্রদান করা যেতে পারে।
৬. ফৌজদারদের নিকট থেকে যাবতীয় প্রতিবেদন গ্রহণ এবং তাঁদের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি জারির উদ্দেশ্যে — প্রেসিডেন্টের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীনে — একটি পৃথক দপ্তর বা কার্যালয় স্থাপন করা হোক।
৭. দস্যুদের (ডাকাতদের) সাথে গোপন আঁতাত বা যোগসাজশে লিপ্ত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত সকল ব্যক্তিকে “দস্যুদের সমতুল্য অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হোক এবং তাঁদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হোক।”


১৯শে এপ্রিল, ১৭৭৪ তারিখে গভর্নর প্রস্তাব করেন যে, দেশে বিরাজমান চরম বিশৃঙ্খলা মোকাবিলার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা উচিত : —
১. “নিবাসীদের সুরক্ষা বিধানের জন্য, নিজ নিজ জেলার সীমানার মধ্যে সরকারি দস্যুদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য, এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে প্রেসিডেন্সিতে নিয়মিত সংবাদ প্রেরণের জন্য — নিচে উল্লিখিত স্থানসমূহে ফৌজদার নিয়োগ করা হোক।”
২. জমিদার, ইজারাদার এবং অন্যান্য রাজস্ব কর্মকর্তাদের ফৌজদারদের প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করতে হবে; এবং সহায়তা প্রদানে অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে, তজ্জনিত সকল ক্ষতির জন্য তাঁদের দায়ী করা হবে।
৩. ইজারাদারদের তাদের অধীনস্থ ভূমি-কর্মচারীদের (land-servants) ফৌজদারদের নিকট প্রত্যর্পণ করতে হবে এবং এই কর্মচারীদের ফৌজদারদের পূর্ণ ও একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে।
৪. “চাকিরান জমি — অর্থাৎ থানা-দার ও পাইকদের ভরণপোষণের জন্য বরাদ্দকৃত যে জমিগুলো ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করে মূল রাজস্ব-তালিকা বা ‘জমা’-র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে — সেগুলোকে পুনরায় উক্ত তালিকা থেকে পৃথক করে তাদের আদি উদ্দেশ্যেই (অর্থাৎ থানা-দার ও পাইকদের ভরণপোষণের কাজেই) ব্যবহার করা হোক।”
৫. প্রত্যেক ফৌজদারের এখতিয়ার বা কার্যসীমা সুনির্দিষ্ট সীমানার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে; এবং উক্ত সীমানার মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা যথাযথভাবে বজায় রাখার পূর্ণ দায়ভার ফৌজদারের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। তবে, প্রয়োজনে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্যে — যখন পরিস্থিতি দাবি করবে — তখন ফৌজদার তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের উক্ত সীমানার বাইরেও প্রেরণ করতে পারবেন বলে তাঁকে নির্দেশ প্রদান করা যেতে পারে।
৬. ফৌজদারদের নিকট থেকে সকল প্রতিবেদন গ্রহণ এবং তাঁদের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি জারির উদ্দেশ্যে — প্রেসিডেন্টের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীনে — একটি পৃথক দপ্তর বা কার্যালয় স্থাপন করা হোক।
৭. দস্যুদের (ডাকাতদের) সাথে গোপন আঁতাত বা যোগসাজশের দায়ে দোষী সাব্যস্ত সকল ব্যক্তিকে “দস্যুদের সমতুল্য অপরাধী হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং তাঁদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করতে হবে।”
৯. “কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, ঢাকা এবং দিনাজপুর — এই থানাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ‘চিফ’ বা প্রধানগণ, ‘রাজস্ব কমিটি’ এবং ‘প্রাদেশিক পরিষদ’-এর ওপর ন্যস্ত করা যেতে পারে; তবে প্রতিটি থানার প্রত্যক্ষ এখতিয়ার ও দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অবশ্যই একক কোনো ব্যক্তির ওপর অর্পণ করতে হবে — কেননা কেবল এই দায়িত্ব পালন করতেই তাঁর সম্পূর্ণ সময় ও মনোযোগ ব্যয়িত হবে।” এই পরিকল্পনার সুপারিশ করার সময় হেস্টিংস উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি তাঁর এই পরিকল্পনায় বিহারকে অন্তর্ভুক্ত করেননি; কারণ তিনি “জানতেন না যে, সেখানকার শান্তি বজায় রাখার জন্য অনুরূপ কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, তিনি তখন পর্যন্ত “বাংলার উত্তরাংশ কিংবা ঢাকার পূর্বাঞ্চলের জন্য উপযুক্ত কেন্দ্র বা ঘাঁটিগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম হননি” — তাঁর এই স্বীকারোক্তিটিই প্রমাণ করে যে, গভর্নরের হাতে থাকা তথ্যগুলো কতটা অস্পষ্ট ও প্রাথমিক পর্যায়ের ছিল।
এমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না যে, এই সমস্ত ফৌজদারি কেন্দ্রগুলো একযোগে বা অবিলম্বে স্থাপন করা হবে; বরং হেস্টিংস কেবল এই সুপারিশ করেই সন্তুষ্ট ছিলেন যে, “কাটওয়া, মির্জানগর এবং ইচাকাউদা — এই কেন্দ্রগুলোতে অবিলম্বে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু করা হোক।” ১৭৭৫ সালের ৯ই নভেম্বরের কাউন্সিল কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সেই নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত কেবল “হুগলি, কাটওয়া, মির্জানগর এবং বুসনা — এই কয়েকটি স্থানেই ফৌজদারি চাকলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।”
১৭৭৪ সালে প্রবর্তিত এই ফৌজদারি ব্যবস্থাটি কাউন্সিলের বিরোধী দলীয় সদস্যদের দ্বারা অত্যন্ত কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল; তাছাড়া, সৈয়দ গোলাম হোসেন তাঁর রচিত ‘সিয়ার-উল-মুতাখখিরীন’ গ্রন্থেও এই ব্যবস্থাকে একটি নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। সেই সমালোচনাগুলোর পুনরাবৃত্তি করা এখানে অনাবশ্যক; কারণ ১৭৮৬ সালের ৬ই এপ্রিল গৃহীত কাউন্সিলের ষষ্ঠ প্রস্তাবেই অকপটে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, ফৌজদার ও থানাদারদের নিয়োগ ও পদসৃষ্টির ফলে “অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, এই প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পেছনে যে সুফল লাভের উদ্দেশ্য ছিল, তা বাস্তবে অর্জিত হয়নি।”
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ