বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, “বাঙলার ইতিহাস চাই, নইলে বাঙালির ভরসা নাই। কে লিখিবে? তুমি লিখিবে, আমি লিখিব, সকলেই লিখিবে। যে বাঙালি, তাহাকে লিখিতে হইবে। মা যদি মরিয়া যান, তবে মা’র গল্প করিতে কত আনন্দ। আর এই আমাদিগের সর্বসাধারণের মা জন্মভূমি বাঙ্গালা দেশ, ইহার গল্পে কি আমাদিগের আনন্দ নাই? আইস, আমরা সকলে মিলিয়া বাঙ্গালার ইতিহাসের অনুসন্ধান করি। যাহার যতদূর সাধ্য, সে ততদূর করুক; ক্ষুদ্র কীট দ্বীপ নির্মাণ করে।-একের কাজ নয়, সকলে মিলিয়ে করিতে হইবে।”
ব্রিটিশ জমানায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্রিটিশ প্রশাসনের কাঁথি মহকুমার ম্যাজিস্ট্রেট বা মহকুমা শাসক ছিলেন। কাঁথির ম্যাজিস্ট্রেট বা মহকুমা শাসক থাকাকালীন কাঁথির দারিয়াপুর কে অবলম্বন করে ‘কপালকুন্ডলা’ নামক কালজয়ী উপন্যাস লিখেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিধন্য কাঁথিতেও ইতিহাস রচিত হয়েছিল দেশজুড়ে চলা গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনে তৎকালীন বঙ্গদেশের দ্বিতীয় জাতীয় বিদালয় হিসেবে কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপনের কৃতিত্বে। ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের সেই গৌরবজ্জ্বোল ইতিহাস জানতে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে উনিশশো শতকের বিশের দশকে।

একশো বছরেরও একটু বেশি আগে ১৯২১ সালে বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকায় সফল অহিংস প্রতিবাদী আন্দোলনের সত্যাগ্রহী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ভারতে ফিরে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদ উচ্ছেদের লক্ষ্যে ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলে সেই ডাকে উত্তাল হয়ে উঠে দেশের আসমুদ্র হিমাচল। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মত তৎকালীন বঙ্গদেশও উত্তাল হয়ে উঠে। বিপ্লবতীর্থ মেদিনীপুরের কাঁথিও উত্তাল হয়ে উঠেছিল সেই ডাকে। ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত ও অনুমোদিত স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত বর্জন করে সম্পূর্ণ অসহযোগ করে ব্রিটিশ শাসনকে অচল করার জন্য দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের উদাত্ত আহ্বানে তা আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠে কাঁথি সহ গোটা মেদিনীপুর জেলা। কাঁথি শহরের কাঁথি হাইস্কুল, কাঁথি মডেল ইনস্টিটিউশন সহ মহকুমার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্ররা নিজেদের স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে এসে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন।ইংরেজদের তৈরি স্কুলের বদলে স্বদেশী ভাবনায় লেখাপড়ার জন্য কাঁথিতে জাতীয় বিদ্যালয় তৈরির চিন্তা করা হয়। ১৯২১ সালের ৭ মার্চ কাঁথিতে দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের বাড়িতেই শুরু হয় বঙ্গদেশের দ্বিতীয় জাতীয় বিদ্যালয়। তার আগে ১মার্চ খেজুরী থানার কলাগেছিয়াতে দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ ‘জাতীয় বিদ্যালয়’ নামকরণ করে দেশের প্রথম জাতীয় বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। ১৯২৫ সালে কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হরিপদ পাহাড়ি জাতীয় বিদ্যালয়ের জন্য কাঁথি ক্যানাল পাড়ের কাছে ব্যক্তিগত দু’বিঘা জমি দান করলে সাধারণ মানুষের অর্থ সাহায্যে এখানেই স্থায়ীভাবে টিনের চাল দেওয়া মাটির দেওয়ালের নতুন কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয় গৃহ গড়ে উঠেছিল। মহাত্মা গান্ধী অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে দু’দুবার এসেছিলেন। ১৯২৫ সালে প্রথমবার ও দ্বিতীয়বার ১৯৪৫ সালে। দু’বারই কাঁথিতে এসে গান্ধীজী অবস্থান ও রাত্রিযাপন করেছিলেন কাঁথির জাতীয় বিদ্যালয়ে। স্বাধীনতা আন্দোলনের দিনগুলিতে বিপ্লবতীর্থ মেদিনীপুরের কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয় ই হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান। ১৯২৫ সালে কাঁথি শহরে প্রথমবার এসে কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়েই উঠে রাত্রিবাস করেছিলেন গান্ধীজী। সঙ্গী হিসেবে সঙ্গে ছিলেন বিহারের জননায়ক ও স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ, বিশিষ্ট খাদিকর্মী সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত, দক্ষিণ কলকাতা কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক পরিতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মথুরা প্রসাদ প্রমুখ। পরের দিন ২৫ জুলাই জাতীয় বিদ্যালয়েই গান্ধীজী সকাল থেকে দিনভর আয়োজিত প্রার্থনা সভা, চরকা কাটা প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, অস্পৃশ্যতা বর্জন সভা ছাড়াও জাতীয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে চরকায় সুতো কাটা, ছাত্রসভা ও জাতীয় বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণ সভায় অংশ নেন। ১৯৪৫ সালে গান্ধীজী দ্বিতীয়বার কাঁথিতে এসে জাতীয় বিদ্যালয়েই ছাত্র ও স্বেচ্ছা সেবকদের নিয়ে সাফাই সহ পায়খানার বর্জ্যপদার্থ পরিস্কার করেন। গান্ধীজি স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদের উদ্দেশে গান্ধীজী বলেন, “পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রকৃত সুস্থতাও সভ্যতা। স্বাধীনতা বোধের একটা শিক্ষা ও একটি জাতির পরিচ্ছন্নতাবোধ”।

১৯৩০ সালে কাঁথির ‘পিছাবনী’ খাল কে কেন্দ্র করে লবণ সত্যাগ্রহ ভয়াবহ আকার নিলে বাঁকশাল, পিছাবনী, জুনপুট, দীঘা, রসুলপুর, মীরগোদা, খেজুরী প্রভৃতি সমুদ্র সৈকতে লবণ আইন ভঙ্গ সত্যাগ্রহ আন্দোলন তীব্র আকার নেয় ও কাঁথির জাতীয় বিদ্যালয় হয়ে উঠে লবণ আইন অমান্য সত্যাগ্রহীদের অন্যতম শিবির বা ঘাঁটি। কাঁথি মহকুমা সহ অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে লবণ সত্যাগ্রহে অংশ নেওয়া সত্যাগ্রহীরা শিবিরে আশ্রয় নিয়ে লবণ সত্যাগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শিবিরে সরকার বিরোধী কাজের জন্য ১৯৩০ সালের ৭ মে ব্রিটিশ পুলিশ জাতীয় বিদ্যালয়ে হানা দিয়ে সত্যাগ্রহীদের গ্রেফতার করা ছাড়াও কাঁথির মহকুমা শাসক জাতীয় বিদ্যালয়কে বেআইনী বলে ঘোষণা করে জাতীয় বিদ্যালয় বন্ধ করে দেন।
১৯৩৮সালে জাতীয় কংগ্রেসের তৎকালীন সর্ব ভারতীয় সভাপতি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুও কাঁথিতে এসে দুদিন জাতীয় বিদ্যালয়ে ছিলেন। সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্যোগে বেআইনি ঘোষিত হয়ে বন্ধ থাকা কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয় ফের চালু হয়। কিন্তু ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় ফের জাতীয় বিদ্যালয়ে বিপ্লবীদের শিবির গড়ে ওঠায় ব্রিটিশ সরকার স্কুলটিকে বেআইনী ঘোষণা করে। দেশ স্বাধীন হলে জাতীয় বিদ্যালয় মাধ্যমিক স্কুলের স্বীকৃতি পায়।
উদাসীনতা, অবহেলা আর গৌরবময় ইতিহাসের তোয়াক্কা না করে স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পীঠস্থান ও জাতির জনক গান্ধীজী, নেতাজী সহ দেশের বহু বরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পদার্পণ আর অবস্থানের স্মৃতিধন্য কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যময় টিনের চালের দোতলা স্কুল ভবন ভেঙে সেখানে নতুন ভাবে দাঁড়িয়েছে জাতীয় বিদ্যালয়ের নতুন শতবর্ষ ভবন। স্বাধীনতা সংগ্রামের অসহযোগ আন্দোলনের গৌরবজ্জ্বোল ইতিহাসের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সংস্কার করার বদলে উদাসীনতা অবহেলা আর চরম উপেক্ষায় গান্ধীজী ও নেতাজী স্মৃতি বিজড়িত শতবর্ষের প্রাচীন টিনের চালের ভবনটি দীর্ঘদিন আগেই না জরাজীর্ণ অবস্থা হয়ে পড়েছিল।কয়েক বছর আগে ২০২১ সালে জাতীয় বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সেই জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের বলে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে কাঁথির সাংসদ তহবিলের অর্থে সেখানে শতবর্ষ ভবন নামে নতুন ভবন তৈরি হয়ে সেখানে বিদ্যালয়ের ইংরেজি মাধ্যম চালু করা হয়। শুধু তাই নয়,সাংসদ তহবিলের টাকায় বিদ্যালয়ের নবরূপে সজ্জিত করণ নিয়ে নির্মিত ফলকেও জাতীয় বিদ্যালয়ে গান্ধীজীর প্রথম আগমন ১৯৩০ সাল বলে লেখা হয়েছে। গান্ধীজীর কাঁথি শহরে ও জাতীয় বিদ্যালয়ে প্রথম আগমন হয়েছিল ১৯২৫ সালে। ফলকেও সেই তথ্য বিকৃত। এব্যাপারে কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা কাবেরী সাহা ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে কোন কথাই বলতে চাননি। ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃত ফলক কেন আজও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি সেটাও বিস্ময়ের। নাকি গান্ধী স্মৃতিধন্য জাতীয় বিদ্যালয়ে আজ স্বয়ং জাতির জনক গান্ধীজী অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত ভাবে উপেক্ষিত?

গান্ধীজী নেতাজী স্মৃতি বিজড়িত কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়ের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে স্কুলের এক কোণে একটি স্মারক গৃহ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়ে কাঁথি পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার ও জাতীয় বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির প্রাক্তন সম্পাদক শুভাশিস পণ্ডার আক্ষেপ, “তারপরে স্কুলের ভাগ্যে আর শিকে ছেঁড়েনি।” কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়ের আর এক প্রাক্তন সম্পাদক ও প্রাক্তন কাউন্সিলার জগদীশ দীণ্ডার কথায়, ‘জাতীয় বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে কাঁথির সাংসদ তহবিলের অর্থে ‘শতবর্ষ ভবন’-টি তৈরি হয়। বিদ্যালয়ে জায়গার অভাব আর গান্ধীজী, নেতাজী স্মৃতিধন্য টিনের চালের পুরনো আদি স্কুল ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে সেখানেই সাংসদ তহবিলের অর্থে শতবর্ষ ভবন তৈরি হয়েছে।’
গান্ধীজী, নেতাজী স্মৃতিধন্য প্রাচীন বিদ্যালয় ভবন কাউকে কিছুই না জানিয়ে এভাবে বিলুপ্ত করে দেওয়া হল তা নিয়ে কাঁথির বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ রীতিমত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ।
জাতীয় বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা স্বাধীনতা সংগ্রামী হরিপদ পাহাড়ির পৌত্র ও বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির প্রাক্তন সদস্য মহীতোষ পাহাড়ি কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যমন্ডিত গান্ধী ও নেতাজী স্মৃতিধন্য শতাব্দী প্রাচীন স্কুলগৃহটি ভেঙে ফেলা নিয়ে বর্তমান স্কুল কর্তৃপক্ষ ভূমিদাতা পরিবারকে কোন কিছুই না জানিয়ে তাদের অজ্ঞাত সারে একতরফা ভাবে প্রাচীন স্কুল ভবনটি ভেঙে ধুলিসাৎ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। কাঁথি শহরের বাসিন্দা তথা রাজ্যের প্রাক্তন সমবায় মন্ত্রী ও হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জ্যোতির্ময় কর জানান, ‘কাঁথির জাতীয় বিদ্যালয়ে গান্ধীজী ও নেতাজী স্মৃতিধন্য প্রাচীন বিদ্যালয় ভবন সংরক্ষণ ও সংস্কার করে ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখার বদলে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাচীন স্কুল ভবনটি যারা ভেঙে ধুলিস্যাৎ করে দিলেন তারা হয় ইতিহাস সম্বন্ধে অজ্ঞ আর নাহলে বর্তমান ও ভাবী প্রজন্মকে ইচ্ছাকৃত ভাবেই অতীতের ইতিহাস নিয়ে অজ্ঞ রাখতে চাইছেন।’

মুগবেড়িয়া কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও ‘মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস’ গ্রন্থের অন্যতম লেখক হরিপদ মাইতি এই ঘটনায় রীতিমত বিস্মিত। অধ্যাপক হরিপদ মাইতির কথায়, ‘জাতীয় বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনটি অবহেলা,অনাদর আর উপেক্ষায় দীর্ঘদিন আগেই জীর্ণ হয়ে পড়েছিল। জাতীয় বিদ্যালয়কে হেরিটেজ ঘোষণা করে সেটির সংস্কারের ও সংরক্ষণ করে মেদিনীপুর জেলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ও বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের নামে একটি সংগ্রহশালা তৈরি করার দাবী কাঁথির মানুষ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিলেন। সেই দাবীকে মান্যতা দেননি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। বদলে কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়ের গান্ধীজী, নেতাজীর ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজরিত পুরনো ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলায় আগামী নতুন প্রজন্মকে দেশের ও কাঁথির স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গৌরবজ্জ্বোল অধ্যায় চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা থেকে চিরতরে বঞ্চিত করা হল।’

কাঁথির আর এক প্রাক্তন বিধায়ক ও জেলার বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা শৈলজা দাস জাতীয় বিদ্যালয়ের শতবর্ষে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য মন্ডিত প্রাচীন স্কুল ভবন ভেঙে ফেলা ও বিদ্যালয়ে জাতির জনকের প্রথম আগমনের সাল বিকৃত করার ঘটনাটিকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, ‘যে বিদ্যালয়ে জাতির জনক ও দেশের জাতীয়তাবোধ জড়িত সেখানে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাদের লজ্জায় মাথা হেঁট করে দিয়েছে।’