মনে শান্তি নাই ভোলার, মানে বাবা ভোলেনাথের। দেবী পার্বতীকে নিয়ে ঘর বেঁধেছেন কৈলাশ পর্বতে। ছেলে মেয়ে ভরা সংসার। এ দিকে চাল নেই, ডাল নেই, নিত্য টানাটানি। কিন্ত বাবার সে দিকে খেয়াল নেই। ছাই ভষ্ম মেখে, গাঁজা ভাঙে বিভোর ভূতনাথ। নন্দী ভৃঙ্গী ভূত প্রেত সঙ্গী। এই নিয়ে শুরু সংসারে অশান্তি। নিত্য নানান খোঁটা দেন গৃহিনী পার্বতী। হঠাৎই এক দিন মাথায় রক্ত উঠল ভোলেনাথের। রাগে দু-কথা শুনিয়ে দিলেন দেবীকে। রাগে অভিমানে ঘর ছাড়লেন দেবী। জয়া বিজয়া দুই সখী দেবীকে মন্ত্রণা দিল বাবাকে জব্দ করতে হবে। দেখাতে হবে মহামায়ার মূল্য। দেবী জগতের অন্ন হরণ করলেন।
অন্নের অভাবে জগতে দুর্যোগ ঘনালো। অনাবৃষ্টি দুর্ভিক্ষ দিকে দিকে। হা অন্ন হা অন্ন করে পথে কাঁদছে মর্ত্যের মানুষ। সৃষ্টি রসাতলে। ভাঙের নেশা ভেঙে গেল স্রষ্টা ভোলেনাথের। সৃষ্টি রক্ষা করতে হবে। তাই ভিক্ষের ঝুলি কাঁধে নিয়ে নামলেন পথে। কিন্তু ভিক্ষে দেবে কে! সবাই এখন ভিখিরি। অন্ন নেই কোন ঘরে।

হঠাৎই বাবা দেখলেন, দলে দলে লোক ছুটছে কাশী। সেখানে কোন মহিয়সী নারী নাকি অন্ন দান করেছেন সকলকে। এই অভাবেও অন্নে পূর্ণ তার ভাণ্ডার। চৈত্র মাস, শুক্লাষ্টমী। ‘ভিক্ষাং দেহি মা’ বলে ভোলেনাথ এসে দাঁড়ালেন দেবীর দ্বারে। অন্নে পূর্ণ হল ভিক্ষের ঝুলি। কিন্তু এ কে! দেব তাকিয়ে দেখেন সম্মুখে অন্নপূর্ণা রূপে দাঁড়িয়ে তারই ঘরনী। বুঝলেন মহামায়ার মায়া। তিনি ছাড়া জগৎ সংসার অচল।তিনিই অন্ন যোগাচ্ছেন জগৎকে। তিনিই সংসারের চালিকা শক্তি।দেব তাই দেবীর বন্দনা করলেন। সেই থেকে মর্ত্যে প্রচলন হল দেবী অন্নপূর্ণার পূজা।
পুরাণ কাহিনি থেকে জানা যায় কাশীতেই নাকি দেবী অন্নপূর্ণার প্রথম প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আগে এই পুজো কাশীতে হতো না। এখন প্রশ্ন হল, আদিতে তা হলে অন্নপূর্ণা কোথায় পূজিতা হতেন? আসলেই অন্নপূর্ণা শস্যদেবী। বাঙালি ছিল তার পূজারী। আদিম যুগ থেকেই রাঢ় বাংলায় ধান চাষ আছে। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ কথাটা এমনি আসেনি। নদী মাতৃক বাংলার অষ্ট্রিক ভাষাভাষী মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল ভাত মাছ। অজয় নদ অববাহিকার পাণ্ডু রাজার ঢিবি ও মঙ্গলকোটের প্রত্ন খননে তাদের জীবনযাত্রার অনেক প্রমাণ মিলেছে। তারা ছিল প্রকৃতি উপাসক। সর্প বৃক্ষ নদী পাথরের পূজা করত। তাদের ধর্ম বিশ্বাস ও আচার অনুষ্ঠানের অনেক কিছুই আজও আমাদের মধ্যে টিকে আছে। আমাদের যে কোন অনুষ্ঠানে আজও ধান, ধানের গুচ্ছ, দূর্বা, কলা, হলুদ সুপারি পান সিঁদুর কলাগাছ বড় জায়গা জুড়ে আছে। নবান্ন তাদের কৃষি উৎসব ছিল। সেই সময় পাকা ধানের গুচ্ছ দিয়ে ধান্য লক্ষীর পূজা করত তারা। নবান্নে আজও ঘরে ধানে ঘট ভরে লক্ষীর আসন পাতা হয়। পরে এই লক্ষীই হলেন অন্নপূর্ণা। আজও বাংলার গ্রামে গ্রামে নতুন ফসল তোলার পর দেবীর হাতে ধানের পাকা শিষের গুচ্ছ দিয়ে পুজো হয়। শুনেছি কাশীর মন্দিরেও একই নিয়মে দেবীর পুজো-অর্চনা হয়। সুতরাং কোনও সন্দেহ যে, নেই দেবী অন্নপূর্ণা মূলত রাঢ়-বঙ্গের দেবী। কোন এক সময় এই দেবীর পুজো কাশীতে নিয়ে গিয়েছিলেন বাঙালিরাই। মনে রাখতে হবে এক সময় সমস্ত উত্তর ভারত ছিল গৌড়ের অধীন। বাংলার পাল ও সেন বংশের শাসনে বাঙালি সংস্কৃতি ও দেব দেবতার বিস্তার ঘটেছিল ভারত তথা পূর্ব এশিয়ার নানা দেশে।

দেবী অন্নপূর্ণার মূর্তি পূজা নাকি বাংলায় প্রথম করেন কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। একবার রাজস্ব অনাদায়ে নবাব আলীবর্দী খাঁর কারাগারে বন্দি রাজাকে দেবী দেখা দিলেন স্বপ্নে। বললেন তাঁর পূজা করতে। কেউ কেউ বলেন রাজার পূর্ব পুরুষ ভবানন্দ মজুমদার জমিদারী প্রাপ্তি উপলক্ষে প্রথম দেবীর পূজা করেন। যাইহোক রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে কবি ভারতচন্দ্র অন্নদমঙ্গল কাব্য রচনা করেন। তারপর অন্নপূর্ণা পূজা সমগ্র বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। এক সময় বাংলার কৃষি দেবতার আসনখানা দখল নিয়েছিলেন দেবাদিদেব শিব। অন্তত উচ্চকোটি মহলে তিনিই ছিলেন স্বীকৃত দেবতা।

এখনও নবান্নে তার পূজা হয়। ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ প্রবচন কি সে জন্যই ! দ্রাবিড় ভাষা গোষ্ঠীর মানুষ এই পুরুষ দেবতাটিকে বাংলায় নিয়ে আসে। সভ্যতায় উন্নত ছিল দ্রাবিড়রা। সমাজের দখল নিয়ে তারাই হল শিরোমনি। অনার্য দেবদেবীরা এখন পতিত। তাই নিয়ে সংঘাত। মনসামঙ্গল কাব্যে দেবী মনসাকে তাই পূজার জন্য যেতে হল চাঁদ সওদাগরের কাছে। চণ্ডী মঙ্গল কাব্যেও এক ছবি। ইতিমধ্যেই মঞ্চে উপস্থিত আর্যভাষী আ্যলপো-দীনারীয় ও নর্ডিক আর্য ভাষাভাষীর মানুষ। শুরু হল সমন্বয়ের নতুন পর্ব। শতাব্দীর বিরোধ ও মিলনের ভিতর দিয়ে আর্যভাষী নর্ডিকরা বাংলায় গড়ে তুলল নতুন পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্য ধর্ম। লেখা হল নতুন নতুন শাস্ত্র পুরাণ। খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ-সপ্তম শতকের যাত্রা শেষ হল মধ্যযুগের শেষ পর্বের অন্নদমঙ্গল কাব্যে। এখনকার নবান্ন উৎসব সব বিশ্বাসের সমন্বিত রূপ।

ভাতের কাঙাল বাঙালির ঘরে তখন প্রথম ধান উঠত অগ্রহায়ন মাসে। নবান্ন ধান। তার পর আমন। সোনার ফসলে ভরে উঠত চাষীর ঘর। সারা বছরের পেটের ভাত। যেন অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ। সেই লক্ষী স্বরূপা নতুন ধান্যকে গৃহে স্বাগত জানাতেই নবান্ন উৎসব। গ্রামের বাড়ি বাড়ি দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা। কৃষকদের বিশ্বাস দেবীর পূজা করলে ঘরে অন্নের অভাব হয় না। সব দেব দেবতা ও পিতৃপুরুষদের নব অন্ন উৎসর্গ করা হয় এদিন। বাঙালির বিশ্বাস পূর্ব পুরুষরাও কাক বেশে স্বর্গ থেকে নেমে আসেন নবান্ন গ্রহণ করতে। তাই ‘কাকবলী’ অর্থাত কাককে কলা পাতায় নবান্ন খেতে দেওয়ার প্রথা। সম্ভবত এ এক আদিম অস্ট্রিক আচার। তারপর ব্রাহ্মণ্য যুগে শুরু হল ব্রাহ্মন ডেকে স্বর্গতদের উদ্দেশ্যে ভূর্জ প্রদান। বাড়ির গৃহ পালিত পশু পক্ষীদেরও নবান করানো হয়। সবাইকে উৎসর্গ করে কৃতজ্ঞচিত্তে কৃষক নতুন অন্ন গ্রহণ করেন শেষে। প্রথমে কলা পাতায় নতুন চাল বেঁটে খাওয়া। তাতে মেশানো হয় দুধ ক্ষীর সন্দেশ নানান ফল কুচি। দুপুরে আবার কলা পাতায় এক ভাঁপা নতুন চালের ভাত। সঙ্গে বিবিধ ব্যাঞ্জন,ভাজাভুজি, নলেন গুড়ের পরমান্ন বা পায়স। এ সবই আদিম খাদ্যাভ্যাস ও রীতিনীতির কথা মনে পড়িয়ে দেয়। দিনের রান্নাই খাওয়া হয় রাতেও। পর দিন বাসি নবান্ন বা ‘বাস নবান’। আগের দিনের উদ্বৃত্তের সদ্ব্যবহার হয় এদিন।কোথাও কোথাও তার পর দিনেও চলে খাওয়া দাওয়ার জের। সেদিনটিকে বলা হয় তেশ নবান। সারা বাংলা জুড়েই চলে এই উৎসব। এলাকা ভেদে নানান রীতি ও প্রথার প্রচলন আছে। বর্ধমান বীরভূম মুর্শিদাবাদ, রাঢ অঞ্চলে এই উৎসবে খুব ধুম, নানান অনুষ্ঠান। বর্ধমান জেলাকে বলা হয় বাংলার ‘শস্য গোলা’। অতীতেও ছিল কৃষি সমৃদ্ধ। নবান্ন এই এলাকার কৃষকের নিজস্ব উৎসব। অনেকেই এজন্য একে লোক উৎসব বলেন। উৎসব চলে অগ্রহায়ন মাস জুড়ে। তার পরেই আমন ধান কাটতে মাঠে নামে কৃষকের দল।

পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার দুর্গাগ্রামে আমার বাস। ছোট থেকেই গ্রাম ও আশপাশ এলাকায় দেখছি নবান্ন উৎসব। প্রত্যেক গ্রামের নিজস্ব নবান্নের দিন। এজন্য গ্রামে ঢ্যাড়া পিটিয়ে মিটিং ডাকা হয়। তিথি নক্ষত্র দেখে দিন স্থির করেন ব্রাহ্মণরা। এখন শনি রবিবার পছন্দ। গ্রামে এক দিনেই সবাই নবান্ন করতে চায়। তবে ঐক্যের সুর কাটে মাঝে মাঝেই। মতের অমিলে অনেক গ্রামে একাধিক দিন নবান্ন হয়। যদিও এমনটা কেউ চায় না। অশৌচ বা বিশেষ কারণে কোন পাড়া একদিনের নবান্ন থেকে বাদ পড়লে সবার মন খারাপ করে। এখন গ্রাম ছেড়ে শহরে গেছেন অনেক মানুষ। তারা অনেকেই নবান্নের টানে ফিরে আসেন গ্রামে। কেউ শহরে নিজের মত নবান্ন করেন শিকড়ের টানে। বর্ধমান শহরে দেবী সর্বঙ্গলার পূজা করে নবান্ন হয়। কাটোয়া শহরের লোক নবান্ন করেন গৌরাঙ্গ বাড়ির নবান্ন অনুসারে।
আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের নবান্ন ছিল আনন্দ মুখর উৎসব। বাড়িতেই অন্নপূর্ণা পূজা। ঝি মুনিশ রাখাল আত্মীয় পরিজনে ভরা বাড়ি। মাস খানেক আগে থেকেই আয়োজনের ধুম। নতুন ধান কেটে ঝাড়া,সিদ্ধ করে রোদে শুকানো, তার পর চাল তৈরি হত বাড়ির ঢেঁকি শালে। মেয়েদের কাজের বিরাম নেই। পুরুষরা বাড়ি খামার পরিষ্কার করছেন। সেখানে গোবর লেপা হয়েছে। নিকানো উঠানে আলপনা আঁকবে মেয়েরা। নবান্নের আগের দিন কাটোয়া দাঁইহাট থেকে বাজার করে আনা হত। নবান্নেই শীতের নানান সব্জি আসত প্রথম। ফুলকপি, বাঁধা কপি, নতুন আলু, মিষ্টি আলু, বরবটি, টমেটো তখন বারো মাস মিলত না। এ সব দেখে খুব আনন্দ হত। তবে আয়োজনের বারো আনাই ছিল ঘরের। গ্রামে তখন গোয়াল ভরা গরু,পুকুর ভরা মাছ। কিছু সব্জির চাষও হত বাড়িতেই। যেমন বেগুন, সীম, লাউ, কুমড়ো, পুঁই,পুনকো পালং শাক ইত্যাদি। তখন বাজার বলে কিছু ছিল না এলাকায়। সপ্তাহে দু একদিন হাট বসত কোন কোন গ্রামে। তখনও অধিকাংশ ঘরেই মাটির হাঁড়িতেই রান্না। নবান্নের আগে জমে উঠত হাট। যাইহোক, সন্ধ্যে বেলা মা দিদিরা সব্জি কাটতে বসত বাড়ির উঠানে। কেউ বসত শিল পেড়ে বাটনা বাটতে। যত লোক তত কাজ। আত্মীয় স্বজনরাও কাজে হাত লাগাতেন। চাষী ঘরের কুটুম জনরা আসত নানান জিনিস হাতে নিয়ে। তার পরেই কোমর বেঁধে লাগত কাজে। এখনকার মত সুযোগ সুবিধা যন্ত্রপাতি ছিল না তখন। অনেক ভোরে উঠে স্নান সেরে শুরু হত রান্না। আগের রাতেই রান্নাঘর, মাটির উনান নিকানো হত। ভোরে ধূপ ধূনা দেখিয়ে প্রণাম করে আঁখের খ’এ উনান জ্বালানো হত। রান্নার ঘর সেদিন মা অন্নপূর্ণার মন্দির। তখন রান্নার গ্যাস ছিল না। কাঠ ঘুঁটের জ্বালানি। রান্না চলত অনেক বেলা অবধি। কত কেতার রান্না। পরিমাণও অনেক। দু তিন দিন খাওয়া। আমাদের ছোটদের কাজও কম ছিল না। ডোম পাড়া থেকে খাজুর গুড় আনা, ভাগের পুকুরে মাছ আনা। জমি থেকে আখ কেটে আনা। কলা পাতা কাটা। আমের পল্লব,বেল পাতা, ফুল জোগাড়,বাড়ির ঠাকুর সাজানো। বড়দের ফাই ফরমাস খাটা। খাটনির মজুরি ছিল আনন্দ আর ভুরিভোজ। তবে আনন্দ মাঝে মাঝেই মাটি হত স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার জন্য।তখন পরীক্ষায় পাশ ফেল ছিল। খুব কড়া কড়ি। তাই পরীক্ষার আগেই নবান্ন সেরে নেওয়ার চেষ্টা চলত। তবে তিথি নক্ষত্র বিরূপ হলে নবান্ন মাটি হত আমাদের। এখন গ্রামে একান্নবর্তী পরিবার নেই বললেই চলে। চাষে লাভ নাই,গ্রামে কাজ নেই। দলে দলে মানুষ ছুটছে শহর বা ভিন্ন রাজ্যে। সম্পন্ন পরিবার গুলো শহরে গেছেন জীবিকার তাগিদে বা ছেলের ক্যারিয়ার গড়তে। নবান্নের পুরানো জৌলুশ কমেছে অনেকটাই।

এখন বছরে দু-বার ধান চাষ। অল্প সময়ে অধিক ফলনশীল ধান আসায় বাদ পড়েছে আউশ আমন নবান্ন ধান চাষ। মানুষের অন্নের অভাব নেই। আগে নবান্নের দিন ভিখারির দল আসত দলে দলে। আনন্দের ভাগ পেত তারাও।এখন কেউ আসে না। তবে কার্তিকের ভোরে টহল (হরিনাম কীর্তন) দেওয়া বৈরাগী বা হাড়ি বৌ আসে যজমানী সিধে নিতে। এ সব সেই অতীতের বিনিময় প্রথার স্মরণ।
এখন মিলের কেনা চালে নবান্ন। ঢেঁকি শাল গল্প। ‘তবে সন্ধ্যায় ‘নয় পুরাণো নারিচারি’র মন্ত্রপাঠে নতুনকে আবাহন আছে। ঐতিহ্য আধুনিকতার হাত ধরেছে। ধুমধামও কম নেই। এ সময় পরিযায়ী শ্রমিকরা ধান কাটতে ফিরে আসেন অনেকেই। তাদের ঘাম ঝড়ানো টাকা ঝড়ে গ্রামের উৎসবে। মাইক, ডিজের দুম দুম শব্দে জেগে ওঠে ঝিমিয়ে পড়া গ্রাম। আগে গ্রামে গ্রামে যাত্রাপালা, কবিগান হত। এখন মানুষের সময় নেই। টি টুয়েন্টি ম্যাচের মতোই আনন্দ আয়োজন।

একদা বাংলার কবি হৃদয়েও ঠাঁই নিয়েছিল এই নবান্নের। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, —
‘ঘ্রাণে ভরা অঘ্রানে শুভ নবান্ন’।
কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের কথা,
‘ক্ষমা কর সখা,বন্ধ করিনু তুচ্ছ ধানের গল্প’।
পৃথিবী বদলে গেছে, তবুও বাংলার গ্রাম আছে গ্রামেই। অঘ্রানে নবান্নের সুঘ্রানে ভরা এই বাংলাকে ভুলি কেমন করে? কবি জীবনানন্দ দাশের মত আমারও মনের আশা।

“আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়ি’টির তীরে, এই বাংলায়।
মানুষ নয়, হয়ত বা শঙ্খ চিল শালিখের বেশে।
হয়ত ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে।”
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই পেজ ফোর’এর সম্পাদক মশাইকে লেখাটিকে সজ্জা বিন্যাসে সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য। সুধী পাঠক বৃন্দের ভালো লাগলে ধন্য হব।
Dada Tomar protiva Dirghajiji hauk