ভারতের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। কেমন করে জড়ালেন জানেন না নিজে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ছবি ভাইরাল। ফোন আসছে ঘন ঘন। ভারতের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিখ্যাত করে দিয়েছেন তাঁকে। কিন্তু এ যে খ্যাতির বিড়ম্বনা। বিড়ম্বনা, কেননা ব্যাপারটা হয়েছে ব্যাজস্তুতি অলঙ্কারের মতো। ওই প্রশংসার ছলে নিন্দা আর কি।
চেনা-জানা মানুষ তাঁকে প্রশ্ন করছেন, ১৪ হাজার ৭৮৪ মাইল উজিয়ে কবে গেলি তুই ইণ্ডিয়ার হরিয়ানায়। গেলি তো গেলি, ভুয়ো ভোট দিলি সেখানে? দিলি তো দিলি, নাম বদলে বার বার দিলি কেন?
এসব প্রশ্ন শুনে চমকে চমকে উঠছেন ২৯ বছরের লারিসা নেরি। প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, এটা একটা তামাশা — ‘I thought it was a prank’. তারপর দেখলেন না, তামাশা তো নয়।
লারিসা দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের বাসিন্দা। থাকেন দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরিস স্টেট-এর রাজধানী বেলো হরিজোনতেতে। একটি স্যালোঁ চালান তিনি। জীবনে কোনদিন ইণ্ডিয়া যান নি। ভোট দেওয়া তো দূরের কথা। ভোট-ফোটে তাঁর আগ্রহও নেই। নিজের দেশেও নির্বাচন নিয়েই কোন উন্মাদনা নেই তাঁর।
তাহলে ভারতের বিরোধী দলনেতা যে বলছেন ১০টি পৃথক বুথে তাঁর নামে পড়েছে ২২টি ভোট। তবে বদলে গিয়েছে নাম। কখনও তিনি ‘সুইটি’. কখনও ‘সীমা’, আবার কখনও ‘বিমলা’। কিন্তু বিরোধী দলনেতা সাংবাদিক সম্মেলনে যে ফটো দেখাচ্ছেন, সেটা তাঁরই ফটো। তবে কম বয়েসের। বিস্ময়বিমূঢ় লারিসা বলছেন, হ্যাঁ, ফটো তাঁরই। জাল ফটো নয়। তখন তাঁর বয়েস ছিল কুড়ি। ‘Yes it is me, Much younger, but it is me. I am the person in the images.’
ছবিটার কথা মনে পড়ল লারিসার। আরে, এ ছবি তো তুলেছিলেন ম্যাথিউস ফেরেরো। তখন তিনি কুড়ি বছরের সুন্দরী যুবতী। ফটোগ্রাফার ‘thought I was pretty and asked to take photos of me’. ফেরেরো ছবি তুলে বিনামূল্যে ছবি সংগ্রহের ওয়েবসাইট Unsplash এবং Pexels-এ আপলোড করে দিয়েছিলেন। এত বছর পরে সেখান থেকে ছবি সংগ্রহ করে ভারতের কোন বদ-বুদ্ধিমান হরিয়ানার ভোটার তালিকায় সেঁটে দিয়েছেন?
তবে হ্যাঁ, ভারতের বিরোধী দলনেতা তাঁর ছবির কথা বললেও তাঁর জীবিকার কথা ভুল বলেছেন। মডেল নন তিনি, হেয়ারড্রেসার।
খ্যাতির বিড়ম্বনায় লারিসার জীবিকার বারোটা বাজতে বসেছে। ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না। ছুটে আসছে ঝাঁক ঝাঁক প্রশ্ন। তিরের মতো। ইনস্টাগ্রাম আর ফেসবুকে লোকে তাঁকে খুঁজছে। বিস্ময়বিমূঢ় ফটোগ্রাফার ম্যাথিউস ফেরেরোও। কোন কোন ওয়েবসাইটে তাঁর ছবির পাশে নেরির ছবি রেখে রসালো মন্তব্য করা হচ্ছে।
আকস্মিক খ্যাতির বিড়ম্বনায় হতচকিত লারিসা নেরি বলেন, ‘আমাকে ভারতীয় বানিয়ে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে ওরা। এ কেমন উন্মাদনা! এ কোন দুনিয়ায় বাস করছি আমরা।’
কি বলছেন লারিসা!
‘মানুষকে বোকা বানাচ্ছে ওরা’।
এই ‘ওরা’ আসলে কারা? কারা আছেন এই সর্বনাম পদের আড়ালে? কেন জানি না, মনে পড়ে যাচ্ছে সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই প্যারোডিটি : ‘আমি শ্রী শ্রী অমিত মালব্য/ফেসবুকে টুইটারে বাঁদরামি করে করে হয়েছি এমন অসভ্য’। জানেন তো অমিত মালব্য একটি দলের আই.টি.সেল-এর হর্তা-কর্তা-বিধাতা। তিনি দিনকে রাত, রাতকে দিন করতে পারেন বলে জনশ্রুতি।
এখন কি করবেন লারেসা? ভারতে এটা এখন জমজমাট বিষয়। ব্রাজিলে সে ঢেউ পৌঁছায় নি। তবে পৌঁছাবে। বদ মতলবে কারোর ছবি ব্যবহার করা তো অপরাধ। তখন উকিলের দ্বারস্থ হতে হবে — ‘It has just happened. I’m still figuring out how this changes my reality. It was big, but it was big in India. It has not reached Brazil yet. If it does, then I will have to take some action. I’ve been in touch with my lawyear, trying to get advice. Because improper use of someone’s picture is a crime, right?’
আমাদের সর্ববিদ্যাবিশারদ সি বি আই কি তদন্ত করে এই রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজটা শেষ করতে পারবেন?
সিবিআই তো স্যার নিজের দেশেই নাকানি চুবানি খাচ্ছে আবার এতো সুদূর ব্রাজিলের ব্যাপার!