গোটা দেশ জুড়ে চলছে মোবাইলের মাধ্যমে জালিয়াতি কিংবা প্রতারণা। জামতারা গ্যাংদের কথা অনেকেরই জানা। একের পর এক নিত্যনতুন মোবাইলের মাধ্যমে অপরাধ করে যাচ্ছে, দেশের সাইবার ক্রাইম দফতরও নাস্তানাবুদ হচ্ছে। চিন্তা বাড়াচ্ছে সকলের। সম্প্রতি আরামবাগের এক কলেজের অধ্যাপক অরূপ ঘোষালের মোবাইল হ্যাক করে লক্ষাধিক টাকা তুলে নিল। আবার খানাকুলের ধামলার জনৈক ব্যক্তির একইভাবে মোবাইলের মাধ্যমে দু-লক্ষাধিক টাকা জালিয়াতি করে অপরাধীরা বহাল তবিয়তে আছে। যত দিন যাচ্ছে এই অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধী মোবাইল সেটে নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করে ১০ ডিজিটের আইএমইআই পালটে ফেলছে। তাই আইএমইআইয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আইএমইআই ব্লক করে দেওয়ার পরেও প্রযুক্তি বদলে তা করছে জালিয়াতরা। একদিকে গ্যাংস্টার, সুপারি কিলার অন্যদিকে সাইবার প্রতারকরা প্রযুক্তি বদলে ব্লক করছে মোবাইল। চিন্তায় ফেলেছে সাইবার বিশেষজ্ঞদের। জালিয়াতরা যাতে না সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে সেজন্য কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্যভান্ডার তৈরি করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যেখানে অপরাধ করা বা নতুন উৎপাদন হওয়া সমস্ত মোবাইলের আইএমইআইয়ের তথ্য রাখা থাকবে। সমস্ত তথ্য একটি পোর্টালে আপলোড করতে হবে। বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রয়োজনে এই পোর্টাল থেকে সাহায্য নিতে পারবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, দেশজুড়েই বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে সাইবার জালিয়াতির পরিমাণ বিগত কয়েকবছরে হু হু করে বেড়ে গিয়েছে। যে-সমস্ত মোবাইল নম্বর থেকে জালিয়াতরা ফোন করছে তার সূত্রে চিহ্নিত করা হয় হ্যান্ডসেটগুলিকে। সেগুলিকে ব্লক করতে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। তদন্তকারীদের নজরে আসে ওই সেটগুলির সফটওয়্যার বদলে আবার ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু হ্যান্ডসেট ব্লক করার তথ্য রাখার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও ডেটাবেস ছিল না। এই ফাঁক গলে অন্য রাজ্যে মোবাইলের সেটগুলি ব্যবহার হতো। বেশকিছুদিন পর এই সংক্রান্ত তথ্য এসে পৌঁছাত পুলিশের কাছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা চাইছেন অপরাধ বা জালিয়াতির পর প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাতে ওই হ্যান্ডসেট ব্যবহার না করা যায় সেটি পাকাপাকিভাবে ঠেকাতে। এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই দিল্লি কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটাবেস তৈরির পথে হেঁটেছে। যাতে কোনও অপরাধ ঘটলে এই ডেটাবেস ধরে সংশ্লিষ্ট মোবাইলকে চিহ্নিত করে পাকাপাকিভাবে অকেজো করে দেওয়া যায়। জালিয়াতি কিংবা প্রতারণার শিকার থেকে রক্ষা পাবার। উচিত হল অচেনা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল বা মেসেজের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। শক্তিশালী এবং স্বতন্ত্র পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত পরিবর্তন করুন। আপনার মোবাইল ডিভাইস এবং অ্যাপগুলোতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখুন। অপরিচিত বা সন্দেহজনক অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করবেন না।