“বাহুতে তুমি মা শক্তি,
হৃদয়ে তুমি মা ভক্তি।
তোমারই প্রতিমা গড়ি
মন্দিরে মন্দিরে।”
রাস্তা থেকে তুলে আনা এক কিশোরকে নিয়ে ১৯৯৫ সালে নিজের বাড়িতেই বলরাম করণ যে অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম চালু করেছিলেন সেই আশ্রমের পরিচিতি আজ রাজ্য ছেড়ে দেশ, দেশ ছেড়ে বিদেশের সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, রাশিয়া, বাংলাদেশ ও মার্কিন মুলুকে পৌঁছে গেছে। তিরিশ বছরের পথ পরিক্রমায় ন’টি শাখায় বিস্তৃত অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম। সেই অনাথ আশ্রমের মূল শাখা পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমে প্রতি বছরের মত বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আর আন্তরিকতার মিশেলে এবছরও দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার মাতৃ আরাধনা আয়োজিত হচ্ছে।

বর্ষণ বিঘ্নিত চতুর্থীর সন্ধ্যায় ঢাক, শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে ফিতে কেটে, মঙ্গলদীপ প্রজ্জ্বলন করে অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের আবাসিকদের ১৭তম মাতৃ পুজোর উদ্বোধন করেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা জজ প্রিয়ব্রত দত্ত। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য ছাড়াও বিশ পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের মেয়েদের নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। দুর্গাষষ্ঠীর দিন থেকে মূল পুজো শুরু হলেও মহালয়ার দিনে পিতৃপক্ষের অবসান আর দেবী পক্ষের সূচনাতেই শারদোৎসবের সূচনা হয়ে যায় আশ্রমে। প্রতি বছর মহালয়ার সকালে পাঁউশি সহ এলাকার কয়েকশো নারী পুরুষ ও অনাথ আশ্রমের আবাসিক ও আশ্রম কর্মীদের হাতে নতুন জামাকাপড় ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ভোর থেকে এলাকার দূর দূরান্ত থেকে শয়ে শয়ে মানুষজন উপহার নেওয়ার জন্য আশ্রম প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। নতুন জামা কাপড়ের উপহারের ডালি নিয়ে বলরাম করণের শুভানুধ্যায়ী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।

অনাথ, ধনী, নির্ধন সকলে একসঙ্গে নতুন জামাকাপড় পরে মাতৃ আরাধনা ও মাতৃ দর্শনে মাতৃমন্ডপে উপস্থিত হোক বলরাম করণের এই ভাবনায় সামিল বিভিন্ন সহৃদয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের উপহারের শাড়ি ধুতি আর জামা কাপড়ের ডালি মুখভর্তি হাসি নিয়ে গ্রামীণ এলাকার মানুষজন যখন বাড়ি ফিরে যান তখন গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষদের হাতে উপহার তুলে দিতে পেরে বলরামের মুখ ভর্তি চওড়া হাসির সঙ্গে চোখের কোনে আনন্দঅশ্রু চিকচিক করে উঠে। পুজোর প্রতিদিন পুজোয় উপস্থিত দর্শনার্থী ও গ্রামবাসীদের মধ্যাহ্ন ভোজনে আপ্যায়িত করা হয়।

ইতিমধ্যেই ২০১৯ সালের শারদ উৎসব উপলক্ষে শালিমার সমাজ কল্যাণ সম্মান প্রতিযোগিতায় সারা রাজ্যের আনুমানিক তিন হাজার দুর্গোৎসব আয়োজকদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম স্থান অর্জন করে অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম। শালিমার এর পক্ষ থেকে মহানগর কলকাতার বড় বড় জাঁকজমকপূর্ণ বিশাল বাজেটের পুজোগুলিকে অতিক্রম করে প্রত্যন্ত পাঁউশির মত এক গ্রামের অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের পুজো মণ্ডপে এসে আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করণের হাতে রাজ্যের সেরা পুজোর সম্মান ট্রফি ও সেই সঙ্গে পুরস্কারের এক লক্ষ টাকা তুলে দেন। ১৭তম বর্ষে সারা জেলায় অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের উৎসাহ উদ্দীপনা আর আন্তরিকতার মিশেলে দুর্গোৎসব আজ এক অন্যতম আকর্ষণ।
অনুভূতির পাঞ্চজন্যে মুর্ছিত সুন্দরের সুর
অন্তরের অর্চনায় মুখরিত অঙ্গণ, স্বর্গ নয় তো সে দূর।
বলরাম বাবু আর তাঁর সৃষ্ট অন্ত্যদয় অনাথ আশ্রমের প্রতিটি আবাসিক শিশু, মহিলার উপর বর্ষিত হোক মায়ের আশীর্বাদ, এই প্রার্থনা করি।
The USP of Antyodoy Anath Ashram Paunsi is cordiality.
অন্ত্যদয় অনাথ আশ্রমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আন্তরিকতা।
সত্যি স্যার অনেক কিছু জানলাম জানার পড় একটু আগ্রহ বেরে গেল। অবশ্যই সময় করে ঘুরে আসব। অনেক অজানা বিষয় তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে প্রণাম নেবেন।