এক বছর পরে আবার আবির্ভাব সুশান্ত দাসের। গত বছর আমি আর পেজ ফোরের সম্পাদক জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় দেখতে গিয়েছিলাম সুশান্তের চিত্র প্রদর্শনী। সুনয়নী আর্ট গ্যালারিতে। অবাক কাণ্ড, প্রথম প্রদর্শনীতে এসেছিলেন নামকরা শিল্পীরা। সুশান্তের ছবি তাঁদের মনোহরণ করেছিল। কে বলবে সুশান্তের চিত্র বিষয়ে প্রথাগত শিক্ষা নেই! উৎসাহিত হয়ে জ্যোতিবাবু সেবার তাকে দিয়ে পেজ ফোরের শারদ সংখ্যার প্রচ্ছদ আঁকিয়েছিলেন। সে প্রচ্ছদে ছিলেন দুর্গা।

সেই থেকে দুর্গা মাথায় ঘুরছিল সুশান্তের। এই এক বছরের সময় সীমার মধ্যে সে অনেক ছবি এঁকে ফেলেছে দুর্গার। তাই নিয়ে এবারের প্রদর্শনী। সেই সুনয়নী আর্ট গ্যালারির চারুবসনায়। আরম্ভ হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। চলবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সুশান্তের একক চিত্র প্রদর্শনী। নাম ‘আমার দুর্গা’।

প্রদর্শনীতে আছে মোট ২৪টি ছবি। কোনটি কন্টি, কোনটি কালি কলম, কোনটি আক্রিলিক আবার কোনটি বা মিশ্রমাধ্যম। দেওয়ালজোড়া দুর্গা। নানা ধরনের। না, এই দুর্গা রণং দেহী নন। তাঁর মুখে ক্রোধ বা বিদ্বেষের ছাপ নেই। নেই অকারণ হত্যার পৈশাচিক উল্লাস। মাতৃস্নেহের সঙ্গে দৃঢ়তার সংমিশ্রণে এই দুর্গা দুর্গতিনাশিনী, বরাভয়দাত্রী। সন্তানের আঘাতে অমঙ্গলে উদ্বিগ্ন মা যেমন প্রতিরোধ করেন আততায়ীকে। সন্তানকে, শুভকে রক্ষা করার জন্য তাঁর চেষ্টা।

ছবিগুলি অধিকাংশ অবয়বের মাধ্যমে সঞ্চিত। প্রতীক আর আদল দিয়ে সুশান্ত তার দুর্গাকে বিনির্মাণ করেছে। হ্যাঁ, বিনির্মাণই। অনুষঙ্গে এসেছে পশু, পাখি, গাছ, লতা-পাতা এইসব। দুর্গা জড়িয়ে আছেন প্রকৃতির সঙ্গে। পুরাতন ভারতের দুর্গা মূর্তির আদলকে গঠন করেছে চারকোলের ড্রয়িং দিয়ে। আকার দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে আকৃতির।

তবু আপশোশ আমার। সুশান্তকে বললাম সে কথা। আমাদের সমাজের চারপাশে তো আছেন অনেক দুর্গা। তাঁরা সাধারণ, তাঁরা প্রান্তিক। কেউ লেখে না তাঁদের কথা। কেউ আঁকে না তাঁদের ছবি। স্বামী সন্তানের জন্য তাঁদের লড়াই-এর কথা প্রকাশ পায় না মেইন স্ট্রিমে। এর পরের বারে সুশান্ত আঁকুক তাঁদের ছবি। না, তার জন্য নারীবাদী হবার দরকার নেই।