খেতের পোকা। এদের কেউ শত্রু। আবার কেউ মিত্র। অবশ্যই তা চাষিদের কাছে। শত্রু পোকাদের নিকেশ করতে গিয়ে মিত্ররাও হারিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ উত্তরোত্তর শত্রু পোকার বৃদ্ধি ঘটছে। চাষিদের কাছে এরাই এখন প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে চিন্তিত কৃষি বিশেষজ্ঞ ও গবেষণারত বিজ্ঞানীরা। সঠিক বাঁচার পথ খুঁজতে দিশাহারা চাষিরা। ফসল উৎপাদন মার খাচ্ছে। লাভের গুড় পিঁপড়েতে খাচ্ছে। দেনার দায় ঘাড়ে এসে চাপছে চাষিদের। প্রসঙ্গত, চাষ করতে গিয়ে নিত্য-নতুন পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে। শত্রুপোকার সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে মিত্রপোকার সংখ্যা কমছে। তার জেরে ফসলের ক্ষতিকারক দিকটা বড় হয়ে উঠছে। প্রতিটি ফসলের উৎপাদনে পোকা তাড়াতে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার বাড়ছে। নিধন করতে গিয়ে অসংখ্য মিত্র পোকা ধ্বংস হচ্ছে। তা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। কৃষি বিশেষজ্ঞরাও এনিয়ে মাঠে নেমেছেন। কীভাবে রক্ষা করা যায় মিত্রপোকাদের তা নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ করা যেতে পারে, শোষক পোকা, জাব পোকা, সাদা মাছি, ল্যাদা পোকা, বাদামি শোষক পোকা, মাজরা পোকা প্রভৃতি ক্ষতিকারক পোকার নিধন করতে গিয়ে মিত্রপোকা বা নিত্রজীব সবুজ ফড়িং, লেডিবার্ড বিটল, মাকড়সা, কেঁচো, হেলে সাপ, ব্যাঙ, শামুক প্রভৃতি মারা পড়ছে। ক্ষতি হচ্ছে ফসলের। এরা চাষিদের ফসল উৎপাদনে পরোক্ষভাবে উপকার করে থাকে। কৃষিবিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র সেতুয়া বলেন, শত্রুংগারা অকালে মারা পড়ছে। চাষিরা নিজেরাই নিজেদের মরণকূপ খুঁড়ছেন। বর্তমানে চাষের পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটছে। মাটি পরীক্ষা না করে জমিতে যথেচ্ছ সার ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে না। চাষিরা এটা না করে অবিবেচকের মতো কাজ করছেন। চাষিদের জানতে হবে জমিতে অসংখ্য পোকামাকড় আছে। এদের মধ্যে যেমন ফসলের শত্রু আছে, তেমনই মিত্রও আছে। মিত্র পোকাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ, মিত্রপোকারাই মাটির উর্বরাশক্তি যেমন বজায় রাখে, আবার এরা শত্রুপোকাদের ডিম ও বাচ্চা খেয়ে নির্মূল করে। বংশবিস্তার করতে দেয় না।

কিন্তু চাষিরা অত্যাধিক পরিমাণে নাইট্রোজেন ঘটিত সার ও কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করার ফলে মিত্রপোকারা নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। কারা মিত্র এবং কারা শত্রুপোকা তা জানা দরকার। আরামবাগ মহকুমার কৃষি আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে অধিকাংশ চাষি জানেন কোনটা মিত্রপোকা, আবার কোনটা শত্রুপোকা। এটা আগে চিনতে হবে। সেইসঙ্গে জমিতে যথেচ্ছহারে সার এবং ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে না। আর তা ব্যবহার হচ্ছে বলে মিত্রপোকারা হারিয়ে যাচ্ছে। এবিষয়ে চাষিদের সচেতন করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। কৃষি বিশেষজ্ঞ, হরষিত মজুমদার বলেন, আগে জলাজমিতে শামুক, হেলে সাপ, ব্যাঙ দেখা যেত। এছাড়া মাটিকে যে কেঁচো থাকে, তাতে উর্বরাশক্তি রক্ষা করে। এর পরিমাণও কমছে। এও দেখা যাচ্ছে সবুজ ফড়িং, লেডিবার্ড বিলে, মাকড়সা আর ফসলের রক্ষাকর্তা হয়ে এগিয়ে আসে না। পোকাদের বাঁচাতে চাষিদেরই এগিয়ে আসতে হবে।