শনিবার | ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:৪৪
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নির্বাচন পরবর্তী মিয়ানমার-রাখাইন পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সমস্যা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শ্রীচৈতন্যদেব গরুড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম বা গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তক : অসিত দাস বাসুদেব ঘোষের পদাবলীতে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মবৃত্তান্ত ও বায়ুপূরাণে অবতারত্ব বর্ণন : প্রবুদ্ধ পালিত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দোলউৎসব : রিঙ্কি সামন্ত পদে পদে বিস্মৃত জনপদে (তৃতীয় পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ প্রসূতি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য বাঁকুড়ায় এলেন রবীন্দ্রনাথ : প্রবুদ্ধ পালিত এসআইআর-এর নামে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাগরিকের নাম বাদ সরব দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ঘন ঘন কেঁপে উঠছে কেন : তপন মল্লিক চৌধুরী জহির রায়হান-এর ছোটগল্প অনমিতা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৫০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নন্দিনী অধিকারী-র ছোটগল্প ‘কান্না হাসির দোলায়’ আ শর্ট ট্রিপ টু ‘জামশেদপুর’ : রিঙ্কি সামন্ত নয় টাকা কেজি দরে বারো লক্ষ টন আলু কিনবে রাজ্য সরকার : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় এআই ইমপ্যাক্ট সামিট নিয়ে প্রশ্ন অনেক উত্তর কম : তপন মল্লিক চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আমার বাবার রসবোধ : সৈয়দ মোশারফ আলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ একটি বই যেভাবে বদলে দিয়েছিল তলস্তয়কে : সাইফুর রহমান কেন্দ্রের দ্বিচারিতায় দীর্ঘ আট বছরেও পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ হল না : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৪৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আলুর পর্যাপ্ত ফলন, প্রান্তিক চাষিদের জন্য হিমঘরে ৩০ শতাংশ আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ম্যাজিক লন্ঠনের খোঁজে : মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর উন্নয়নে শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল মিয়ানমার : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন

হাসান মোঃ শামসুদ্দীন / ৮৫৫ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫

দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে স্থলপথে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা থাকার পরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারনে তা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এই দেশগুলো ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেরও অন্তর্ভুক্ত। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে এই অঞ্চল ভবিষ্যতে বিশ্ব নেতৃত্বে এগিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দেশগুলো সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সুযোগ তৈরি এবং তা ব্যবহার করতে পারলে উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা ত্বরান্বিত হবে। আসিয়ান দেশগুলো সম্মিলিত এবং স্বতন্ত্রভাবে তাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বজায় রেখেছে, কিন্তু দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির মধ্যে একটি কার্যকরী সম্মিলিত প্লাটফর্মের অভাব থাকায় তারা সেই সুযোগ সুবিধা নিতে পারছে না। মিয়ানমার ছাড়া এই অঞ্চলে আভ্যন্তরীণ নানা ধরনের উত্তেজনা থাকা স্বত্বেও দেশগুলো দৃশ্যত শান্তিতেই ছিল ছিল। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মিয়ানমারের চলমান সংঘাত শান্তি ও স্থিতিশীলতায় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

ভারত পাকিস্তান উত্তেজনা

২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ভারত ৭ মে “অপারেশন সিন্দুর” এর মাধ্যমে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পরপরই পাকিস্তান ভারতীয় সামরিক স্থাপনাগুলিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-সহ সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেয়। ১০ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। উভয় দেশ একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করায় সম্পর্কের অবনতি হয়। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক না হওয়ায় এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হচ্ছে।

ভারত

ভারত মিয়ানমারে সাথে সংযোগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির উপর জোর দিয়ে ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ে প্রকল্প এবং কালাদান মাল্টিমডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প সহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নমুলক প্রকল্পগুলিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। ভারত আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা কালাদান প্রকল্পের নির্মাণ কার্যক্রম আবার শুরু করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এটা পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে। ভারত এবং মিয়ানমার সীমান্ত জুড়ে বাণিজ্য সহজতর করার জন্য বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও ভারত উত্তর-পূর্ব ভারতকে মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের সাথে সংযুক্তকারী ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক প্রকল্পসহ অন্যান্য অনেক প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। ভারতের ঋণ সহায়তার আওতায় টেলিযোগাযোগ, রেলপথ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং কৃষির সহায়তা প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি সিতওয়ে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চীন

মিয়ানমারের সাথে চীনের দৃঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান। চীন অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে মিয়ানমারকে সমর্থন করে। রাখাইন রাজ্যে চীনের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। রাখাইনে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চকপিউতে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ একটি গভীর সমুদ্রবন্দর এর অন্তর্ভুক্ত। চীন মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী, চীন মিয়ানমারে তার স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকার এবং বিদ্রোহী উভয়ের সাথেই আলোচনা করে। মিয়ানমার সরকার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বেসরকারী সুরক্ষা পরিষেবা আইন জারি করে, যা চীনা বেসরকারী সুরক্ষা সংস্থাগুলিকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ সম্পর্কিত প্রকল্পগুলি সহ চীনের স্বার্থ রক্ষার জন্য মিয়ানমারে বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার বিষয়ে অনুমতি দেয়। চীন তার সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্রাদারহুড জোটের সাথে আলোচনা করেছে এবং মিয়ানমারের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। চীন এবং ভারত উভয়েরই মিয়ানমারে অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। উভয় দেশই সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করছে।

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ গত আট বছর ধরে মিয়ানমার থেকে আসা ১২ লক্ষ রোহিঙ্গার বোঝা বহন করে চলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বাংলাদেশ এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী সমাধানে পৌঁছাতে পারছে না। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ অঞ্চল আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তার অর্থ হ্রাস পাচ্ছে যা উদ্বেগজনক এবং এর পাশাপাশি নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ — বিদ্যমান মানবিক পরিস্থিতির উপর চাপ সৃষ্টি করছে। রাখাইনে আরাকান আর্মির কাছে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত রয়েছে। রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার পাচার হতে পারে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে। বাংলাদেশ আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মত নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়, এর পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য টানাপোড়েন দেখা দেয় যা এখনও চলমান। ভারত স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে আনুমানিক ৭৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়বে। এটি মোট দ্বিপাক্ষিক আমদানির প্রায় ৪২ শতাংশ। এপ্রিল মাসে, ভারত নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে। চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কিছুটা চাপের মধ্যে থাকলেও তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলমান রয়েছে।

মিয়ানমার

মিয়ানমার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি ভু-রাজনৈতিক ও ভু-কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমৃদ্ধি এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের কারনে মৃত্যু, ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি এবং শরণার্থী পরিস্থিতি বেড়ে চলছে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান সংঘাত, মানবিক সংকট এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। সামরিক জান্তা বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর পরও শান্তির সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ৩৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং আরও অনেকে প্রতিবেশী দেশগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে।

আরাকান আর্মি বাংলাদেশ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা সহ রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রাখাইনের রাজধানী সিতওয়ে এবং চকপিউ বন্দরের মতো কৌশলগত অবস্থানগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং এই আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা এবং স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে প্রায় ৬৩০,০০০ রোহিঙ্গা এখনও নিয়মতান্ত্রিক নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে। প্রায় ১৫০,০০০ রোহিঙ্গাকে খোলা আকাশের নিচে ক্যাম্পে বন্দী রাখা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, তারা ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস এবং বিবৃতি জারি করেছে। শান্তি ও স্থিতিশীতার জন্য জরুরী ভিত্তিতে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।

মিয়ানমার কৃষি, জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। মিয়ানমারের প্রাকৃতিক গ্যাস এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ানমারের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। স্থিতিশীল মিয়ানমার আসিয়ানের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে সক্ষম এবং একই সাথে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিও এই উন্নয়নে সম্পৃক্ত হতে পারে। মিয়ানমারে শান্তি এই অঞ্চলে মাদক ও অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে, বাংলাদেশ, ভারত এবং থাইল্যান্ডে শরণার্থীদের প্রবাহ বন্ধ করবে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গিবাদ এবং বিদ্রোহের বিস্তার রোধ করবে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আঞ্চলিক দুই শক্তিধর দেশ ভারত ও চীনের বিশাল বিনিয়োগ নিরাপদ করতে রাখাইনে শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরী। রাখাইনে রাজনৈতিক সমাধান ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি ছাড়া যেকোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যাবে না। একই সাথে রোহিঙ্গা সংকট চলমান রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। রাখাইনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, চলমান সহিংসতা ও বিদ্বেষ বন্ধে চীন ও ভারত ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারে। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের আভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক সংঘাত থেকে মুক্ত হয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে।

মিয়ানমারে শান্তি ফিরে আসলে, অবকাঠামো ও পরিবহনের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি সম্ভব হবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্যকে আরও সুসংহত করবে, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপত্তা হুমকি হ্রাস করবে। ভারত, পাকিস্তান, চীন, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের এই রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নয়ন হলে তা এই অঞ্চলের স্থলপথ সংযোগকারী দেশ এবং জ্বালানি করিডোর হিসেবে মিয়ানমারের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিবে। এই অঞ্চলের জনগণের উন্নয়ন এবং কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগগুলো খুঁজে বের করার এবং কাজে লাগানোর সময় এসেছে। মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা আসিয়ান ওদক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী করবে এবং শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বিনির্মাণে অবদান রাখবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হাসান মোঃ শামসুদ্দীন, এন ডি সি, এ এফডব্লিউ সি, পি এস সি, এম ফিল মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

পেজফোরনিউজ শারদোৎসব বিশেষ সংখ্যা ২০২৫ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন