| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘এক টুকরো ভোর’ আশ্বিনের শারদপ্রাতে : যশোবন্ত রায় আমার ছেলেবেলার মহালয়ার সকাল : পীযূষ কান্তি দাস পর্দার দাপুটে নায়ক, বাস্তব জীবনে মানবতাবাদী — নানা পাটেকরের জীবন ও অবিনশ্বর কীর্তি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সসীমকুমার বাড়ৈ-এর ছোটগল্প ‘প্রকৃতি বিভাজন খেলা’ মিরকাশিমের বীরকুল, হেস্টিংসের ব্রাইটন, জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ-এর দীঘা : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (শেষ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা কৌশল বাস্তবায়নের রোডম্যাপ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন কলকাতার নব্য কাজিয়ার দুর্গা : অসিত দাস SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (সপ্তম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নয়া পুঁজিবাদ : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (ষষ্ঠ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (পঞ্চম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার হাসানের ইতিহাস ও বর্তমান ছুঁয়ে : নন্দিনী অধিকারী গান্ধীজী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কবরের ইতিহাস : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (চতুর্থ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ছেলে বেলার পুজো : সুব্রত দত্ত SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (তৃতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই পিতৃ পক্ষের শেষ, মাতৃপক্ষের সূচনা শুভ মহালয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

সবুজ বিল্পব কতটা সবুজ (প্রথম কিস্তি)

Reporter
অনুপম পাল / ১১৪৮ Views জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রাক কথন : আচ্ছা আপনারা কি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেন উৎপাদন বাড়লেই সবাই খেতে পাবেন? খাবারের অভাব হলেই দূর্ভিক্ষ হবে? এটাই সবার মনে হয় খাবারের অভাব হলেই দূর্ভিক্ষ হবে? সত্যি কী তাই? অধ্যাপক অর্মত্য সেন প্রমাণ করে দিয়েছেন পৃথিবীর কোন দূর্ভিক্ষই খাদ্যের অভাবের জন্য হয় নি এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির সংগে খেতে পাওয়ার সম্পর্ক সরল রৈখিক নয়। উৎপাদন বাড়লেই সবাই যে খেতে পাবেই এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই বলে উৎপাদন কমানোর কথা বলা হচ্ছে না বরং উৎপাদনশীলতা ধরে রাখাটাই বড় কাজ। আফ্রিকার দেশসমূহ ও ভারতের কথা নয় বাদই দেওয়া গেল। অন্যদিকে ব্যাপক উৎপাদন হওয়া সত্বেও আমেরিকাতেও না খেতে পাওয়া মানুষের সংখ্যা কম নয়। মনে করুন কয়েক বছর আগে বাজারে পিয়াঁজের দাম ৭০-৮০ টাকা কেজি হলেও বাজারে পিয়াঁজের অভাব ছিল না। ১৯৪৩-এর (বাংলায় ১৩৫০ সাল) দূর্ভিক্ষেই তাই ঘটেছিল। ৬ টাকা মনের চাল ৬০ টাকায় দাড়িয়েছিল। বাজারে চালের অভাব ছিল না। ওই বছর উৎপাদনও বেশী হয়েছিল। ইংরেজরা অপপ্রচার করেছিল ধানের খুব কম ক্ষতিকারক একটি রোগ বাদামি দাগ রোগের জন্য চালের উৎপাদন কম হয়েছিল। তাছাড়া যুদ্ধের দামামায় সৈন্যদের জন্য খাবার যোগান নিশ্চিত করা বেশী জরুরী ছিল। আর প্রজাদের জন্য কল্যানকর ভূমিকা নেওয়ার জন্য ইংরেজদের কোন দায় ছিল না। উল্লেখ্য দূর্ভিক্ষ কিন্তু বাংলার সব জেলাতে হয় নি এবং যে সমস্ত মানুষ জঙ্গল নির্ভর, চাষ না করা জঙ্গলে হওয়া খাদ্য ও ফলমূল খেয়ে জীবন কটাতেন তাঁদের দূর্ভিক্ষের আঁচ গায়ে লাগেনি। এখনো ভারতে প্রচুর খাদ্য উৎপাদন হওয়া (প্রায় ২৫০ মিলিয়ন টন) সত্বেও প্রায় ৪০ কোটি মানুষ ২ বেলা খেতে পাচ্ছেন না। যদি বন্টন ও গুদামে অপচয় না হয় দেখা যাবে বেশ কয়েক বছর চাষ ব্যহত হলেও ভাতের অভাব হবে না।

সবুজ বিল্পব: ১৯৬৫-৬৬ সালে বিশেষ করে পূর্ব ও উত্তর ভারতে খাবারের ঘাটতি একদিনে দেখা হয়নি। ২য় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কৃষির উপর জোর কমতে থাকে বিশেষ করে সেচ ব্যবস্থার। ধীরে ধীরে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী মহাশয় সবুজ বিল্পব চুক্তিতে সই করার পক্ষপাতী ছিলেন না। তিনি আশাবাদী ছিলেন বিদেশী প্রযুক্তি ছাড়াই ভারতীয় কৃষি বিজ্ঞানীরাই খাদ্য সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।  ঘটনা চক্রে তাঁর মৃত্যুর পরই সবুজ বিপ্লব চুক্তিতে ভারত সই করে। লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সমালোচনা আমেরিকনরা ভালো চোখে নেয় নি।  পি এল ৪৮০-এর বরাদ্দ খাদ্য সরবারাহ কমিয়ে দেয়। আবার তীব্র খাদ্য সংকট। যে ভারত সবুজ বিল্পব চুক্তিতে সই করবে এই শর্তে আমেরিকান পররাষ্ট্র দপ্তর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে। পরে সেই অসম্মানজনক চুক্তিতে সই হল । অন্যদিকে সবুজ বিল্পবের জন্য প্রচুর প্রচার চালানো হয়। কে আর ভাববে এর খারাপ কিছু হতে পারে! ধরে নেওয়া হল এত ভালো উন্নয়নের মডেল আর হতে পারে না। দূর্ভিক্ষের ভয়, দ্রুত খাদ্য উৎপাদন, শহরে খাবার যোগান নিশ্চিত করা ও গোডাউনে খাদ্য মজুত করবার জন্য মার্কিন প্রযুক্তি নির্ভর নতুন এক কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে আসা হল। সবুজ বিল্পব ব্যবস্থায় কৃষির সব উপকরণ বাইরের থেকে কিনতে হবে। সবুজ বিল্পবে শেখানো হল সব দেশী বীজের উৎপাদনশীলতা কম তাই এমন ম্যাজিক উচ্চফলন বীজের ব্যবহার করতে হবে। হাজার হাজার বছরের বংশানুক্রমিক পরীক্ষিত কৃষি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বদলে এল ম্যাজিক বীজ, রাসায়নিক সার ও বিষ। বাজার থেকে তা কিনতে হবে। তিন বছর অন্তর অন্তর বীজ পাল্টাতে হবে সেই সঙ্গে লাগবে বেশী করে রাসায়নিক সার ও বিষ। এই কৃষি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে সহজ ও পরিবেশ ও কৃষক বান্ধব দেশী ধানের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন কটকে অবস্থিত কেন্দ্রিয় ধান গবেষনা কেন্দ্রের অধিকর্তা ড. আর এইচ রিছারিয়া। বেটে জাতের জ্যাপোনিকা ধান থেকে এদেশের ইন্ডিকা ধানে রোগ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলন। তিনি বলেছিলেন কেন্দ্রিয় ধান গবেষনা কেন্দ্রই বেশী ফলনের ধানের জাত তৈরী করতে সক্ষম। এতে খরচও কম হবে। বিনিময়ে জুটেছিল লাঞ্ছনা, অপবাদ ও চাকুরি থেকে বরখাস্ত হওয়া। অথচ তাঁর গবেষনা নিয়ে পূর্নমূল্যায়নের কথা বলা হয় না পাছে সত্যিটা উদঘাটিত হয়ে যায়!

দেশজ ফসলের কোন মূল্যায়ন না করেই আমরা পাশ্চাত্ত্য প্রযুক্তি অন্ধের মত অনুসরন করলাম। চাষের সব প্রাকৃতিক ও সহজ লভ্য উপাদানকে উপেক্ষা করে কৃষি উপকরনেকে বাজার নির্ভর করা হল। প্রচার চলল সব পাশ্চাত্ত্য কৃষি ব্যবস্থাই ভালো। ধীরে ধীরে সার বিষ ও বীজ কোম্পানীর স্লোগান নীতিনির্ধারকদেরও স্লোগানে পরিনত হল। দ্রত ফলন বৃদ্ধি জন্য সবুজ বিল্পবের জয়গান এমনভাবে চালানো হল যাতে সবাই ধরে নেয় এই বিপ্লব না হলে মানুষ খেতে পেত না। নৈতিকতা হার মানে কৃষি রাসায়নিক ও বাজারী বীজের বানিজ্যের কাছে। ওই বিল্পবের প্রায় ৪৮ (১৯৬৮-২০১৬) বছর পরে আমাদের চাওয়া পাওয়ার হিসেবটা করা যেতে পারে। জংগল কেটে আবাদী জমি করা হয়েছিল। পাঞ্জাবে গম বিল্পবের (সবুজ বিল্পব) সাফল্য পাওয়ার অন্যতম কারন ছিল ভালো বাজার ব্যবস্থাপনা। সেই বাজার ব্যবস্থাপনা সর্বত্র গড়ে উঠে নি, ইদানিং অবশ্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পূর্ব ভারতে ধান বিল্পব: ১৯৮০ দশকের লালস্বর্ন ধানের ফলন ছিল বিঘায় ২২ মন। এখন আগের থেকে প্রচুর সার ও কীটনাশক দিয়েও আগের মত ফলন পাওয়া যায় না। গড় ফলন ১৫ মন।এই রকম ভাবে অনেক আধুনিক জাতের চাষ প্রথম দিকে বাড়লেও তা বন্ধ হয়ে যায়; আবার নতুন বীজ আসে। এদিকে চাষের খরচ বাড়েছে। মাটি, জল, খাবার-দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ফল সব কিছুতেই বিষের অবশেষ পাওয়া যাচ্ছে। বোরো ধান চাষের জন্য মাটির তলার জল অতিরিক্ত তোলার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ১২৫টির বেশী ব্লকের জলে এখন মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যাচ্ছে।

সবুজ বিল্পবের লীলাক্ষেত্র পাজ্ঞাবের অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। ভাতিন্দা জেলার তুলো চাষে ব্যাপক কীটনাশক ব্যবহার হয় সঙ্গে রাসায়নিক সার। জলে ফ্লোরাইড পাওয়া যাচ্ছে। ভাতিন্দা জেলার ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেদনাদায়ক। ওখান থেকে বিকানীর গামী এক্সপ্রেস ট্রেনে বেশীর ভাগ যাত্রীরাই ক্যান্সার রোগী। তাই ট্রেনের নাম বদলে গিয়ে স্থানীয় ভাবে বলা হয় ক্যান্সার এক্সপ্রেস।

মানুষের খেতে পাওয়ার হিসাব দেখা যাক! সবুজ বিল্পবের উদ্দেশ্য ছিল সব মানুষকে খাওয়ানো। অনেক মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব হলেও সবাইকে খাওয়ানো সম্ভব হয় নি। সরকারী তথ্য অনুযায়ী ৩৭ কোটি মানুষ দু বেলা খাবার জোগাড় করতে পারেন না। কারনটা আগেই উল্লেখ করেছি।অবশ্য আমেরিকাতেও প্রচুর খাবার উৎপাদন হওয়া সত্বেও প্রায় ২কোটির বেশী মানুষের খাবারের নিশ্চয়তা নেই।

উচ্চ ফলনশীল ধানের তাৎক্ষনিক চমক ও ফলনের ম্যজিকে দেশী ধান বিগত ৩০ বছরেই ৯৫% লোপ পেযে গেল। সেই সঙ্গে রাসায়নিক কৃষির প্রচার প্রাবল্যে অন্যন্য দেশজ ফসল, কম খরচের চাষাবাদ, দেশজ প্রযুক্তিগত জ্ঞান সবই কুসংস্কারে পরিণত হল। অবজ্ঞা ও অবহেলার বিষয়।

আমাদের ফসল বৈচিত্র্য: ভারতবর্ষ জৈব সম্পদে সমৃদ্ধশালী দেশ। ব্রাজিল, আফ্রিকা মহাদেশের বহু দেশও বিপুল ফসল বৈচিত্রের দেশ। যে দেশে যত ফসল বৈচিত্র সেই দেশে খাবারের অভাব কম অনুভূত হবে। দক্ষিণ ভারতে বহু বার পর্যটনের নাম করে বিদেশীরা মশলা লুঠ করে। শুধু মশলা নয়, অনান্য ফসলের প্রভুত বৈচিত্র্য ছিল। নীচের সারনীটি দেখলেই বোঝা যাবে। বিশ্ব বানিজ্য চুক্তির পর বহুজাতিক সংস্থারা প্রান সম্পদের পেটেন্ট নেওয়ার জন্য ঝাপিয়ে পড়েছে। ভারতের উপর শ্যেন দৃষ্টি রয়েছে।

ভারতীয় জৈব সম্পদ

ফসল

সংখ্যা

মন্তব্য

ধান

৮২৭০০ (ভারতে)

৫৫০০(পশ্চিমবাংলায় )

পৃথিবীর খুব কম দেশে এই বিপুল জৈব সম্পদের অধিকারী। কিন্ত পরিতাপের বিষয় ৯০% এর বেশী জৈব সম্পদ কৃষকের মাঠ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। আবার দিল্লীর জিন ব্যাঙ্কে কত সংখ্যক জীবিত আছে তা অজানা। উল্লেখ্য এই জৈব সম্পদের কোন মূল্যায়ন হয় নি। ফলন, অনান্য পুষ্টি ও ঔষধি গুন এখন নিয়ে এখনো পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যায়ন হয়েছে। এই সংক্রান্ত প্রামান্য প্রকাশনা নেই।

 

 

সূত্র: ন্যাশনাল ব্যুরো অফ প্ল্যান্ট জেনেটিক রিসোর্সের বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০০৭-০৮, নতুন দিল্লী।

গম

৩৮০০০

ভুট্টা

৭২৬১

জোয়ার

১৮৮৩৪

ছোলা

১৬৪২৭

মুসুর

৭৭১২

অড়হর

১০৯৮৮

মুগ

৩৫৫৯

বাদাম

১৩৪৪৯

সরিষা

৯৩২২

তুলো

৪৮৩২

নটে

৪৯৩২

বেগুন

৩৮৬৮

পাট

২৮৬৪

ধনে

৪৮৫

আম

১০০০

গরু

৬১

ভেড়া

২৬

 

পরিতাপের বিষয় এই সমস্ত ফসলের ৯০% এর বেশী কৃষকের জমি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। পৃথিবী থেকে অমূল্য জৈব সম্পদ নিশ্চিহ্ন হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দল ও নীতি নির্ধারকরা এখনো মৌন অবলম্বন করেছেন। তাছাড়া ভোট রাজনীতিরও বিষয় হতে পারেনি। বিপুল ফসল ও প্রানী সম্পদের কোন মূল্যায়ন ছাড়াই আরে নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন হয়। সেই ফসলে অবশ্যই রাসায়নিক সার ও কীট নাশক লাগবে: বীজটাও বাজার থেকে কিনতে হবে। কৃষকরাও নতুন ফসলের জাত চান কারন তাঁরা দেখছেন একই জাতের ফসল কয়েক বছর পরে ভালো ফলন দিচ্ছে না। তাঁরা ভুলে গিয়েছেন দেশজ ফসল হাজার বছর পরেও একই ফলন দেয়। আধুনিক ও শংকর জাতের ধানের বীজ যেমন চালু করানো হয়েছে তেমনি ভুট্টার ও বিভিন্ন সবজির শংকর জাতের বীজ বাজারে ছেয়ে গেছে। নতুন একটি জাত (ধরা যাক বেগুন) বাজারে বিক্রির জন্য ছাড়ার সময় কখনো বলা হয় না যে ভারতের ৩৬৮৬ রকম বেগুনের মধ্যে “এই” ধরনের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জাতটি ছিল না। অনুরূপ ভাবে যদি কোন ধানের নতুন জাত বাজারে নিয়ে আসার সময় বলা হয় না যে এই জাতের বিশেষ বৈশিষ্ট ভারতের ৮২৭২৬ জাতের কোনটিতেই নেই। এটা যদি সব ফসলের নতুন জাতের বাজারজাত করনের সময় জন্য এটা দাবী করা হয়! সবজির মধ্যে বেগুন বহুল প্রচলিত একটি সবজি। এখনো কিছু ভালো জাতের দেশী বেগুন টিকে আছে। যেমন বেনারসের এক কেজি ওজনের সাদাটে গোল বেগুন যা কাশীর বেগুন বলে পরিচিত, উত্তর দিনাজপুরের বিগোরের ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের হালকা সবুজ বেগুন, মালদার লম্বাটে সবুজ বেগুন, নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বড় জাতের মাকড়া বেগুন। রোগ পোকা কম লাগে আবার সব জায়গায় ভালো হয়ও না। অথচ এখনকার শংকর জাতের বেগুনে প্রচুর রোগ পোকা লাগে, প্রচুর কীটনাশক ও স্প্রে করতে হয়, বেগুন হয় বিষময়।শুধু বেগুন কেন ধান, ডাল ও অনান্য শাক সবজিরও ফলন ভালো ছিল, রোগ-পোকাও কম লাগত। এখন প্রচুর রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও শংকর (হাইব্রিড) বীজ ব্যবহার করেও আগের থেকে চাষের খরচ ও বেড়েছে সেই সঙ্গে পোকা মাকড়ের সংখ্যা ও বাড়ছে। এই ব্যবস্থা কি চলতে থাকবেই? বিষযুক্ত খাবার খেয়ে মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও বেড়েছে। অন্যদিকে দেশজ ফসলের পুষ্টি গুন বেশী।

কম খরচে আজোলা দিয়ে ধান চাষ

প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্যকারী গুজরাটের গরু গির। রেড সিন্ধ্রি, সাহিওয়াল, থারপারকার, ওঙ্গল জাতের গরুর কথাও মানুষ ভুলতে বসেছে। গির জাতের গরুও কম দুধ দেয় না, পোষার খরচ কম। আমরা খবর রাখিনা ব্রেজিলের প্রথম শ্রেনীর গুরু হল ভারতীয় গরু গির। যেকোন গরু বা মোষের জাতের মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বিশেষ নির্বাচিত প্রজনন। মোষের মুর্রা জাত ছাড়া ভারতে এই নিয়ে খুব একটা কাজ হয়নি। দেশের গরুর কোন মূল্যায়ন করে বরং অবহেলা করে শুধু মাত্র দুধের জন্য বিদেশী হলস্টিন ফ্রেসিয়ান ও জার্সি গরুর দুধ এখন ভরসা।

সাহিওয়াল

গির

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev