| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘এক টুকরো ভোর’ আশ্বিনের শারদপ্রাতে : যশোবন্ত রায় আমার ছেলেবেলার মহালয়ার সকাল : পীযূষ কান্তি দাস পর্দার দাপুটে নায়ক, বাস্তব জীবনে মানবতাবাদী — নানা পাটেকরের জীবন ও অবিনশ্বর কীর্তি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সসীমকুমার বাড়ৈ-এর ছোটগল্প ‘প্রকৃতি বিভাজন খেলা’ মিরকাশিমের বীরকুল, হেস্টিংসের ব্রাইটন, জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ-এর দীঘা : সুব্রত গুহ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (শেষ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা কৌশল বাস্তবায়নের রোডম্যাপ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন কলকাতার নব্য কাজিয়ার দুর্গা : অসিত দাস SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (সপ্তম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নয়া পুঁজিবাদ : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (ষষ্ঠ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (পঞ্চম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার হাসানের ইতিহাস ও বর্তমান ছুঁয়ে : নন্দিনী অধিকারী গান্ধীজী : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কবরের ইতিহাস : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (চতুর্থ কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার ছেলে বেলার পুজো : সুব্রত দত্ত SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (তৃতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৭৯ Views জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

[সংক্ষিপ্তসার – এই কিস্তিতে গ্রান্টের প্রস্তাবের যে অংশ অনুবাদ করছি সেটা আদতে জমা তুমারী তশখিসের অবশিষ্ট জমিদারি আর সায়ের মহলের চূড়ান্ত হিসাব। জালালপুর ও অন্যান্য (মোহাম্মদ শরীফের অধীনে): জাহাঙ্গীরনগর চাকলার সমস্ত খাস ভূমি এবং ভূষণা, যশোর ও ঘোড়াঘাটের কিছু অংশ নিয়ে — রেনেলের জরিপ অনুযায়ী আধুনিক ঢাকা প্রদেশের শুরু। প্রাথমিক রাজস্ব ২১,৮৩,০০০ টাকা; জায়গির, ত্রিপুরা ও রাজশাহীর অংশ বাদ দেওয়ার পর খাস ভূমির জন্য অবশিষ্ট ৮,৯৯,৭৯০ টাকা (১৫৫ পরগনা)। শেরপুর-দলমাপুর: পূর্ণিয়া প্রদেশের খাস জমি; সইফ খানের গোমস্তার অধীনে; জায়গির বাদে ৯৮,৬৬৪ টাকা (১৩ পরগনা)। ফকিরকুন্ডি: কোচবিহার সরকারের খাস জমি; রংপুর প্রদেশ গঠন করে; জায়গির বাদে ২,৩৯,১২৩ টাকা (২৪৪ পরগনা)। কাঁকজোল: রাজমহল প্রদেশের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ; জায়গির বাদে ৭৪,৩১৭ টাকা (১০ পরগনা)। তমলুক: গোয়ালপাড়া সরকারের পরগনা ও ওড়িশার জেলা নিয়ে গঠিত; জাফর খান সুখদেব নামক ব্রাহ্মণকে প্রদান করেন; হিজলি প্রদেশের খাস অংশ ও লবণ উৎপাদনের জমিসহ ১,৮৫,৭৬৪ টাকা (১৬ পরগনা)। সিলেট: চাকলার খাস জমি; জায়গির বাদে ৭০,০১৬ টাকা (৩৬ পরগনা)। ইসলামাবাদ (চট্টগ্রাম): জাফর খানের আমলে সম্পূর্ণভাবে জায়গির হিসেবে প্রদত্ত। সুহেন্ত: বালেশ্বর বন্দরের চাকলা ও খন্তাঘাট; ১,২৯,৪৫০ টাকা। সায়ের (Sayer): লাইসেন্স, শুল্ক, আবগারি ও অন্যান্য কর। তিনটি খাতে বিভক্ত —

১. চুনাখালি: মুর্শিদাবাদ শহরের বাড়ি, দোকান, বাজার ও মদের কর এবং রেশম-বস্ত্র রপ্তানি শুল্ক — ৩,১১,৬০৩ টাকা;

২. হুগলি: সাতগাঁওয়ের ৩৭টি বাজার ও গঞ্জ এবং বিদেশি বাণিজ্যের শুল্ক — ২,৯৭,৯৪১ টাকা (কলকাতার ৪৪,৭৬৭ বাদ দেওয়ার পর);

৩. মুর্শিদাবাদের শুল্ক — ৩,০৪,১০৩ টাকা। সর্বমোট ৯,১৩,৬৪৭ টাকা। ৯টি খাতের মোট ৫০৫ পরগনা, ২৬,১০,৭৭২ টাকা। মাঝকুড়ি: বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট জমিদারি ও ক্ষুদ্র[ছিট] মহল — ১১৩৫ বঙ্গাব্দে ২১টি হিসাব-খাতে বিভক্ত। এগুলোর বিবর্তন এত জটিল যে প্রতিটির বর্তমান রাজস্ব নির্ভুলভাবে উল্লেখ করা শ্রমসাধ্য। গ্রান্ট ২১টি শীর্ষক তুলে ধরেছেন — যার মধ্যে বিরোল, মন্ডলঘাট, আরসা, চুনাখালি, আসাদনগর, জাহাঙ্গীরপুর, আতিয়া কাগমারী, শীলবাড়ি, তাহেরপুর, চান্দলাই, পাতিলাদহ, সন্তোষ, আলাপসিং, সাতসৈকা, মোহাম্মদ আমিনপুর, পাটাসপুর, পুখুরিয়া, মাহাট্টা, তালুকদারান হুজুরি, সায়ের ও ক্ষুদ্র মহল উল্লেখযোগ্য। মজকুরি জমিদারির মোট ১৩৬ পরগনা, ৭,৮৫,২০১ টাকা। সর্বমোট: জমা তুমারী তশখিস — ১১৩৫ ফসলি বঙ্গাব্দে খালসা ভূমি, মহল ও সায়ের; ৪৭টি হিসাবের শিরোনাম; ২৫টি বৃহৎ ও একক জমিদারিতে জুড়ে রাখা; ১,২৫৬ পরগনা, ১,০৯,১৮,০৮৪ টাকা।]

এহতিমাম (জমিদারি এলাকা)।

১৬। জালালপুর ও অন্যান্য জমিদারি (মোহাম্মদ শরীফের অধীনে): এর মধ্যে ছিল ছিল জাহাঙ্গীরনগর চাকলার সমস্ত খাস ভূমি এবং ভূষণা, যশোর ও ঘোড়াঘাটের কিছু অংশ। রেনেলের জরিপ আর মানচিত্র অনুযায়ী এগুলি একযোগে আধুনিক ঢাকা প্রদেশ গঠন করে (আলেপসিং, ময়মনসিংহ, সেরাইল, তরফ ইত্যাদি এবং পাশের চাকলা থেকে পরে জুড়ে যাওয়া কিছু এলাকা ছাড়া)। এর মোট প্রাথমিক নির্ধারিত রাজস্ব ছিল ২১,৮৩,০০০ টাকা; এখান থেকে জায়গিরের পরিমাণ এবং ত্রিপুরা ও রাজশাহীর একাংশের (ইত্যাদি) ভাড়া বা রাজস্ব — যার পৃথক হিসাব ১২,৮৪,২০০ টাকা — বাদ দিলে খাস ভূমির জন্য অবশিষ্ট রাজস্ব দাঁড়ায়।।। ।।।১৫৫টি পরগনা।।। ৮,৯৯,৭৯০ (টাকা)।

১৭। শেরপুর-দলমাপুর ইত্যাদি — রেনেলের মানচিত্র অনুযায়ী আধুনিক পূর্ণিয়া প্রদেশের সমস্ত খাস (রাজস্ব-নিয়ন্ত্রিত) জমি, যা তখন সইফ খানের গোমস্তার অধীনে ছিল; ১,৮০,১৬৬ মূল্যের জায়গির বাদে (পরগনা সংখ্যা ১৩) ।।। ৯৮,৬৬৪

১৮। ফকিরকুন্ডি ইত্যাদি — কোচবিহার সরকারের (প্রশাসনিক বিভাগের) অন্তর্গত খাস জমি, যা জরিপকরা রংপুর প্রদেশ গঠন করে; ৯০,৫৪৮ মূল্যের জায়গির বাদে (পরগনা সংখ্যা ২৪৪) ।।। ২,৩৯,১২৩

১৯। কাঁকজোল ইত্যাদি — আধুনিক রাজমহল প্রদেশের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ এর অন্তর্ভুক্ত; জায়গির বাদে (পরগনা সংখ্যা ১০) ।।। ৭৪,৩১৭

২০। তমলুক — গোয়ালপাড়া সরকারের অন্তর্গত এই পরগনা এবং ওড়িশা থেকে গৃহীত জেলাসমূহ (যেমন — জলামুঠাদুরদুমনান, সুজামুঠা আর মহিষাদল) নিয়ে গঠিত; জাফর খান প্রথমে এটা সুখদেব নামক ব্রাহ্মণকে প্রদান করেছিলেন; হিজলি প্রদেশের খাস অংশ এবং লবণ উৎপাদনের জমিসহ এর মূল নিরূপিত মূল্য ।।। (পরগনা সংখ্যা ১৬) ।।। ১,৮৫,৭৬৪

২১। সিলেট — এই চাকলা বা প্রদেশের খাস জমি; জায়গির বাদে (পরগনা সংখ্যা ৩৬) ।।। ৭০,০১৬

২২। ইসলামাবাদ বা চট্টগ্রাম — জাফর খানের আমলে সম্পূর্ণভাবে জায়গির হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল; এটা পরে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৩। সুহেন্ত ইত্যাদি — যা বালেশ্বর বন্দরের চাকলা গঠন করে (মূল্য ৯২,৮৭৫ টাকা) এবং কারি বাড়ি-র অন্তর্ভুক্ত কুন্টা-ঘাট (যা অতি সম্প্রতি বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে) — এগুলোকে এখানে একত্রে তালিকাভুক্ত করা হলো। ২৮ ১,২৯,৪৫০

২৪। সায়ের (Sayer) — অর্থাৎ লাইসেন্স, শুল্ক, আবগারি ও অন্যান্য কর বাবদ সংগৃহীত অর্থ। এটা মহাল (Mhals)-এর তিনটি পৃথক খাতের অধীনে ব্যক্তিগত অস্থাবর সম্পত্তির ওপর ধার্য করা হয় (ঢাকার শাহবন্দর বা বন্দর-শুল্ক এর অন্তর্ভুক্ত নয়)। এতে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনশীল কর বা শুল্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা পূর্বোল্লিখিত কিছু জমিদারির রাজস্বের (জমা) অংশ। বেশ কয়েক বছরের গড় হিসাবের ভিত্তিতে এগুলোর পরিমাণ নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:

(১) চুনাখালি (CHUNACAHLY) — মুর্শিদাবাদ শহর ও তার আশেপাশের এলাকায় বাড়ি, দোকান, বাজার ও মদের ওপর ধার্য কর এবং উৎপাদিত রেশম বা বস্ত্র রপ্তানির ওপর শুল্ক; তবে শহরটি যে মূল্যবান পরগনার ওপর অবস্থিত তার ভূমি-রাজস্ব এর অন্তর্ভুক্ত নয়। ১১৩০ বঙ্গাব্দ থেকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী এর মোট পরিমাণ।।। ৩,১১,৬০৩

(২) হুগলি (HOUGHLY) — সাতগাঁও চাকলার অন্তর্গত ইওরোপিয় বসতিগুলোর সন্নিকটে ও সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল ৩৭টি বাজার ও গঞ্জের ভূমি-রাজস্ব এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের সেই প্রধান কেন্দ্রস্থল দিয়ে পরিবাহিত পণ্যের ওপর ধার্য শুল্ক; সর্বমোট ৩,৪২,৭০৮। :-এ থেকে কলকাতা খাতের অধীনে ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত ৪৪,৭৬৭ টাকা বাদ দিলে নিট পরিমাণ দাঁড়ায়।।। ২,৯৭,৯৪১

(৩) মুর্শিদাবাদের শুল্ক (MINr-duties) ।।। ৩,০৪,১০৩

সর্বমোট, ৩টি পরগনা — ৯,১৩,৬৪৭

উপরে উল্লিখিত ৯টি খাতের অন্তর্ভুক্ত বৃহত্তর জরিপকরা প্রদেশ এবং বাংলার সায়ের মহল (sair mhals)-এর সর্বমোট পরিমাণ।।। ।।। ৫০৫টি পরগনা।।। ২৬,১০,৭৭২

২৫। মাসকুরি (Muscoory) — অর্থাৎ বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট বা একক পরগনা-ভিত্তিক জমিদারী, বিভিন্ন এলাকা এবং ক্ষুদ্র মহল — যা ১১৩৫ বঙ্গাব্দের বার্ষিক বন্দোবস্তে ২১টি হিসাব-খাতের আওতায় বিভিন্ন ভূ-স্বামীর সাথে সম্পন্ন হয়েছিল; এই ভূ-স্বামীরাই ছিলেন সেই সময় সরকারের কাছে রাজস্ব প্রদানকারী বা সরকারের নথিতে স্বীকরা দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তবে পরবর্তীকালে ভূখণ্ডের এই ক্ষুদ্রতর বিভাগগুলোর সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নাম, আয়তন বা মালিকানা স্বত্বের ক্ষেত্রে নানাবিধ পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে, এদের বিবর্তনের ধারা অনুসরণ করা এবং প্রতিটি এলাকার বর্তমান রাজস্বের পরিমাণ যথেষ্ট নির্ভুলভাবে উল্লেখ করে বিভিন্ন শাসনকালে পাওয়া রাজস্বের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা এখন অত্যন্ত শ্রমসাধ্য একটা কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা কেবল উল্লিখিত সময়ে নির্ধারিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্রতর এলাকাগুলোর বিবরণ প্রদান করব এবং তুলনার সুবিধার্থে কেবল মোট অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করব; যথা: —

(১) বিরোল (Bherole): শরীফাবাদ সরকারের অন্তর্ভুক্ত; ১১৩৫ সনে রিয়ান কিশেনের জমিদারি হিসেবে অধিকৃত, কিন্তু পরবর্তীতে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন এবং এর বড় অংশ রাজশাহীতে সংযুক্ত; ১৩ পরগনা … ২,৪১,৩৯৭ টাকা।

(২) মণ্ডলঘাট (Mundelghaut): সাতগাঁও সরকারের অন্তর্ভুক্ত; পুদ্দেম নাথের অধিকৃত; পরে বর্ধমানে সংযুক্ত; ৫ পরগনা … ১,৪৬,৩৬১ টাকা।

(৩) আরসা (Arseh) ইত্যাদি: একই সরকারের অন্তর্ভুক্ত; রঘুদেবের জমিদারির একটি অংশ; পরে বর্ধমানে সংযুক্ত; ১১ পরগনা … ১,২৫,৩৫১ টাকা।

(৪) চুনাখালি (Chunacally) ইত্যাদি: মুর্শিদাবাদ শহর সহ; বর্তমানে খাস তালুকের বড় অংশ গঠন করেছে, তবে তখন রাজশাহীতে সংযুক্ত অংশটি ব্যতীত; ৩ পরগনা … ৯৫,৪০৭ টাকা।

(৫) আসাদনগর (Assidnagur) ইত্যাদি: মহলুন্দ সহ, শরীফাবাদ সরকারে; রাজশাহীর অধীনস্থ তালুক ব্যতীত; ৩ পরগনা … ৬২,৭৯৮ টাকা।

(৬) জাহাঙ্গীরপুর (Jehangeerpoor) ইত্যাদি: ঘোড়াঘাট চাকলায়; মূলত রামদেবকে প্রদত্ত এবং পরে একই পরিবারের তিন শাখার মধ্যে বিভক্ত; ১১ পরগনা … ৬৪,২৪৯ টাকা।

(৭) আতিয়া কাগমারী — হুসেন শাহী: ঘোড়াঘাট চাকলায়; মূলত তিনটি জমিদারি নিয়ে গঠিত; ১০ পরগনা … ৬৭,৮৮৩ টাকা।

(৮) শীলবাড়ি (Silberries): বাজুহা সরকারের সম্পূর্ণ পরগনা; ১ পরগনা … ৫৭,৪২১ টাকা।

(৯) তাহেরপুর (Tahirpoor): সম্পূর্ণ পরগনা; বারবেকপুর ও মসীদাহ; ঘোড়াঘাট চাকলায় পৃথক ও উপবিভক্ত জমিদারি; ৩ পরগনা … ৫৫,৭৯১ টাকা।

(১০) চন্দলাই (Chundlai) ইত্যাদি: মুর্শিদাবাদ, ঘোড়াঘাট, আকবরনগর ও জাহাঙ্গীরনগর চাকলায় ছড়িয়ে থাকা জমিদারি; তাই অনুমান করা হয় যে, প্রদানের সময় এটি কোনো হিন্দু সরকারি কর্মকর্তার অধীনে ছিল; ২৪টি তালুক সহ; ৭ পরগনা … ৫৫,৭২৯ টাকা।

(১১) পাতিলাদহ ও কুণ্ডি (Pitladeh and Koondy): ঘোড়াঘাট চাকলায়; পরে বড় অংশ রাজশাহীতে সংযুক্ত; ৭ পরগনা … ৬৭,৬৩২ টাকা।

(১২) সন্তোষ (Suntose) ইত্যাদি: ঘোড়াঘাটে; মূলত রঘুনাথকে প্রদত্ত; পরে দিনাজপুর ও রংপুরে সংযুক্ত; ২ পরগনা … ৯৪,৮০৭ টাকা।

(১৩) আলাপসিং ও মোমেনসিং (Alapsing and Momensing): ঘোড়াঘাটে; মূলত টিকরার মোহাম্মদ মেহেন্দির অধীনে; পরে ঢাকা প্রদেশে সংযুক্ত; ২ পরগনা … ৭৫,৭৫৫ টাকা।

(১৪) সাতসৈকা (Satsykeh): মুর্শিদাবাদ চাকলায়; মোহাম্মদ আকবর চৌধুরীকে প্রদত্ত; ৩ পরগনা … ৫১,১৬৭ টাকা।

(১৫) মোহাম্মদ আমিনপুর (Mahomed Ameenpoor): সাতগাঁও সরকার ও চাকলায় সম্প্রতি সৃষ্ট এখতিয়ারের জেলা; মূলত জায়গির ব্যতীত মূল্যায়িত; ১৪ পরগনা … ১,৪০,০৪৬ টাকা।

(১৬) পাটাসপুর, কেরদাহ ও ফতেহ-জঙ্গপুর (Pettass, Kerdeah and Futteh-Jungpour): ঘোড়াঘাট চাকলায়; মূলত তিনটি জমিদারি; পরে প্রায় সম্পূর্ণভাবে দিনাজপুরে সংযুক্ত; ৯ পরগনা … ১,০০,৮৭৮ টাকা।

(১৭) পুখুরিয়া ও জফর শাহী (Pookerah and Zuffer Shahy): বাজোয়া সরকারে; প্রথমটি রাজশাহীতে, দ্বিতীয়টি জাহাঙ্গীরনগর বা ঢাকায় সংযুক্ত; ৫ পরগনা … ৫৪,৫১৯ টাকা।

(১৮) মাহাট্টা (Myhetty): সাতগাঁও সরকারে; মূলত সুতারামকে প্রদত্ত; ১৫ পরগনা … ২৮,৮৩১ টাকা।

(১৯) তালুকদারান হুজুরি (Talockdaran Huzzoory): ৯৮ জন ছোট ভূস্বামী — তালুকদারি সূত্রে; মুর্শিদাবাদ ও হুগলি চাকলায় দুই শিরোনামে; খালসা শরীফায় সরাসরি নির্দিষ্ট খাজনা প্রদান; ২ পরগনা … ৯৫,৮৫৫ টাকা।

(২০) সায়ের (Sayer): আকবরনগরের পরিবর্তনশীল শুল্ক; পরে কাঁকজোল বা রাজমহল প্রদেশে সংযুক্ত; ২ পরগনা … ৫৪,৪৩২ টাকা।

(২১) ক্ষুদ্র মহল (Petty Mhals): সমগ্র সুবা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন জেলা বা গ্রাম; একত্রিত হলে পরগনা গঠন করত; ৮ পরগনা … ৪৮,৯৯২ টাকা।

মজকুরি জমিদারির মোট — ২১টি শিরোনামে উপবিভক্ত: ১৩৬ পরগনা … ৭,৮৫,২০১ টাকা।

মোট জমা তুমারী তশখিস — ১১৩৫ ফসলি বঙ্গাব্দে বাংলা সুবার খালসা ভূমি, মহল ও সায়ের; ৪৭টি হিসাবের শিরোনামে বিতরণকৃত; অসংখ্য জমিদার সমধর্মী কাঠামো বা ভূখণ্ডীয় এখতিয়ারের অধিকারী; ২৫টি বৃহৎ ও একক জমিদারিতে জুড়েরাখা; বিভিন্ন সময়ের রাজস্বের পরিমাণ ঠিকভাবে তুলনা করার উপযোগী জরিপকৃত আয়তন: ১,২৫৬ পরগনা … ১,০৯,১৮,০৮৪ টাকা।[২৭১]

টিকা ১

গ্রান্ট এই অংশে মজকুরি জমিদারি ও মোট জমা তুমারী তশখিস-এর চূড়ান্ত হিসাব উপস্থাপন করেছেন। এটি তার রাজস্ব প্রস্তাবের তৃতীয় পর্যায়ের অংশ — যেখানে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় দেশীয় প্রশাসন প্রকৃত রাজস্বের হিসাব গোপন করেছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তা কমিয়ে দেখিয়েছিল।

প্রথমত, গ্রান্ট দেখান — মজকুরি জমিদারি ২১টি শিরোনামে বিভক্ত ছিল, যা বাংলার বিভিন্ন চাকলায় ছড়িয়ে ছিল। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ভিরোল: ১৩ পরগনা, ২,৪১,৩৯৭ টাকা; মুন্ডেলঘাট: ৫ পরগনা, ১,৪৬,২৬১ টাকা; আর্শা: ১১ পরগনা, ১,২৫,৩৫১ টাকা; চুনাখালি: ৩ পরগনা, ৯৫,৪০৭ টাকা; আসিদনগর: ৩ পরগনা, ৬২,৭৯৮ টাকা; জাহাঙ্গীরপুর: ১১ পরগনা, ৬৪,২৪৯ টাকা; তালুকদারান হুজুরি: ২ পরগনা, ৯৫,৮৫৫ টাকা

দ্বিতীয়ত, মজকুরি জমিদারির মোট পরগনা ১৩৬ এবং মোট রাজস্ব ৭,৮৫,২০১ টাকা। এই জমিদারিগুলো ছিল ছোট, বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্র — যেগুলো ১১৩৫ বঙ্গাব্দের বার্ষিক বন্দোবস্তে ২১টি হিসাব-শিরোনামে বিভক্ত ছিল। গ্রান্টের মতে, এই জমিদারিগুলোর আয়তন ও মালিকানা এতটাই পরিবর্তনশীল ছিল যে সঠিক রাজস্ব নির্ণয় করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

তৃতীয়ত, গ্রান্ট মোট জমা তুমারী তশখিস-এর চূড়ান্ত হিসাব দেন — ৪৭টি হিসাব-শিরোনামে ১,২৫৬ পরগনা, মোট রাজস্ব ১,০৯,১৮,০৮৪ টাকা। তিনি দেখান — এই বিশাল রাজস্বের মধ্যে ২৫টি বড় ও একক জমিদারি ছিল, যা থেকে বিভিন্ন সময়ের রাজস্বের তুলনামূলক বিশ্লেষণ সম্ভব। বাকি ২২টি শিরোনাম ছিল ছোট জমিদারি, তালুক ও পরগনা — যেগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন।

চতুর্থত, গ্রান্টের মূল বক্তব্য হলো — ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় দেশীয় প্রশাসন প্রকৃত রাজস্বের পরিমাণ (১,০৯,১৮,০৮৪ টাকা) গোপন করেছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তা কমিয়ে দেখিয়েছিল। এই বিকৃতির মাধ্যমেই বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। এই তথ্যই পরবর্তীতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রাজস্ব সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে।

পঞ্চমত, গ্রান্টের এই হিসাব শোরের সংশয়ের বিপরীত — শোর বলেছিলেন প্রকৃত আদায়ের গড় ভিত্তিতে বন্দোবস্ত করা উচিত; গ্রান্ট বলেছিলেন ১৭৬৫ সালের চূড়ান্ত মূল্যায়ন (highest Mughal assessment) ভিত্তিতে বন্দোবস্ত করা উচিত। এই দুই প্রস্তাবের মধ্যে দ্বন্দ্বই পরবর্তীতে কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পথ প্রশস্ত করে।

টিকা ২

ভিরোল: এর শুদ্ধ উচ্চারণ বিরোল (Pargana Birol)। এটি বর্তমান বাংলাদেশের দিনাজপুর অঞ্চলের একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক পরগনা।

মন্ডলঘাট: এর উচ্চারণ মণ্ডলঘাট। এটি হুগলি এবং মেদিনীপুর অঞ্চলের একটি সুপরিচিত ঐতিহাসিক পরগনা ও জমিদারির অংশ।

আর্শা: এর শুদ্ধ উচ্চারণ আরশ্যা বা আরসা (Pargana Arsha)। এটি হুগলি ও বর্ধমান সংলগ্ন অঞ্চলের একটি বিখ্যাত মোঘল রাজস্ব পরগনা।

চুনাখালি: এর উচ্চারণ চুনাখালি (Chunakhali)। এটি মুর্শিদাবাদ শহরের নিকটবর্তী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পরগনা ও রেশম বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল।

আসাদনগর: এর উচ্চারণ আসাদনগর (Asadnagar)। এটিও মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম সংলগ্ন অঞ্চলের একটি রাজস্ব মহালের নাম।

জাহাঙ্গীরপুর: এর উচ্চারণ জাহাঙ্গীরপুর। মোঘল আমলে এটি একটি বড় পরগনা ও প্রশাসনিক অঞ্চল (চাকলা) ছিল, যা বর্তমান মুর্শিদাবাদ ও মালদহ এলাকায় বিস্তৃত ছিল।

আতেহ কাগমারি: এর প্রকৃত উচ্চারণ আতিয়া কাগমারী (Atia Kagmari)। এটি বর্তমান বাংলাদেশের টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের অত্যন্ত বিখ্যাত দুটি ঐতিহাসিক পরগনা (আতিয়া এবং কাগমারী), যা নথিতে যৌথভাবে এসেছে।

সিলবেরি: এর প্রকৃত ঐতিহাসিক উচ্চারণ শিলবরি বা সেলবরি (Pargana Selbaria/Sherpur Silberi)। এটি বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া ও পাবনা অঞ্চলের একটি প্রাচীন পরগনা।

তাহেরপুর: এর উচ্চারণ তাহেরপুর। এটি রাজশাহীর অন্তর্গত একটি বিখ্যাত প্রাচীন জমিদারি ও পরগনা।

চুন্দলাই: এর শুদ্ধ উচ্চারণ চান্দলাই বা চান্দলাইল (Pargana Chandlai)। এটি রাজশাহী ও মালদহ অঞ্চলের একটি পরগনা।

পিটলাদেহ: এর প্রকৃত উচ্চারণ পাটিলাদহ বা পাতিলাদহ (Pargana Patiladah)। এটি বর্তমান বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, রংপুর ও জামালপুর অঞ্চলের একটি বিখ্যাত বৃহৎ পরগনা।

সন্তোস: এর উচ্চারণ সন্তোষ (Pargana Santosh)। এটি দিনাজপুর ও জয়পুরহাট (প্রাচীন বারবকাবাদ সরকার) অঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান পরগনা।

আলাপসিং: এর প্রকৃত উচ্চারণ আলাপসিংহ (Alapsingh)। এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের অত্যন্ত বিখ্যাত একটি ঐতিহাসিক পরগনা।

সত্যাশেখ: নথির বিকৃতিভেদে এর প্রকৃত উচ্চারণ সতশৈকা বা সাতসৈকা (Pargana Satsaika)। এটি বর্ধমান ও কালনা অঞ্চলের একটি প্রাচীন পরগনা।

মোহাম্মদ আমিনপুর: এর উচ্চারণ মুহাম্মদ আমিনপুর। এটি নদীয়া ও হুগলি অঞ্চলের একটি প্রাচীন পরগনা।

পেটাস: এর প্রকৃত উচ্চারণ পটুয়াস বা পাটাসপুর (Pataspur)। এটি মেদিনীপুর ও ওড়িশা সীমান্তের একটি সুপরিচিত ঐতিহাসিক পরগনা।

পুকারেহ: এর প্রকৃত ঐতিহাসিক উচ্চারণ পোখোরিয়া বা পুখুরিয়া (Pargana Pukhuria)। এটি ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের একটি বৃহৎ পরগনা।

মাইহেট্টি: এর প্রকৃত উচ্চারণ মহাট্টি বা মাহাট্টা (Mahihati / Mahatta)। এটি মূলত যশোর বা নদীয়া অঞ্চলের একটি প্রাচীন রাজস্ব মহাল

তালুকদারান হুজুরি (Talockdaran Huzzoory): ৯৮ জন ছোট ভূস্বামী — যারা তালুকদারি সূত্রে খালসা শরীফায় সরাসরি খাজনা দিত।

সায়ের (Sayer): আকবরনগরের পরিবর্তনশীল শুল্ক — যা পরে কাঁকজোল বা রাজমহল প্রদেশে সংযুক্ত হয়।

ক্ষুদ্র মহল (Petty Mhals): সমগ্র সুবা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন জেলা বা গ্রাম — যা একত্রিত হলে পরগনা গঠন করত।

২৫টি বড় ও একক জমিদারি: মজকুরি র ২১টি শিরোনাম এবং অন্যান্য খাত মিলিয়ে ২৫টি বড় জমিদারি — যা থেকে তুলনামূলক রাজস্ব বিশ্লেষণ সম্ভব।

মোট রাজস্ব ১,০৯,১৮,০৮৪ টাকা: খালসা ভূমি, মহল ও সায়ের মিলিয়ে ৪৭টি শিরোনামে মোট রাজস্ব — যা প্রমাণ করে ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় এই প্রকৃত হিসাব গোপন করা হয়েছিল।

হস্তবুদ (Hustabood): জমির প্রকৃত আয়-ব্যয় ও উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত জরিপ।

আবওয়াব (Abwab): মূল রাজস্বের অতিরিক্ত কর — যা পরে স্থায়ী হয়ে যায়।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement): ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা।

ফার্মিং সিস্টেম: ইজারাপ্রথা। ১৭৭২ সালে চালু হওয়া রাজস্ব আদায় পদ্ধতি — যেখানে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে জমিদারি ইজারা দেওয়া হতো।

গ্রান্টের মূল বক্তব্য ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় দেশীয় প্রশাসন প্রকৃত রাজস্বের হিসাব গোপন করেছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তা কমিয়ে দেখিয়েছিল — যার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছিল।

গ্রান্টের এই বক্তব্য প্রমাণ করে — বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থা কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি ২১টি মজকুরি জমিদারি, ৪৭টি হিসাব-শিরোনাম ও ১,২৫৬ পরগনা জুড়ে বিস্তৃত একটি জটিল কাঠামো। মজকুরি জমিদারিগুলোর পরিবর্তনশীলতা ও অনির্দিষ্টতা গ্রান্টের মূল অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করে — স্থানীয় প্রশাসন এই জটিলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃত রাজস্ব গোপন করেছিল। শোরের সংশয় সত্ত্বেও গ্রান্টের এই তথ্যই পরবর্তীতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ভিত্তি তৈরি করে।

টিকা৩

জেমস গ্রান্টের Analysis of the Finances of Bengal-এ তমলুক প্রসঙ্গে উল্লিখিত ‘Gualparah’ অসমের বিখ্যাত গোয়ালপাড়া জেলা নয়, বরং ওড়িশা ও মেদিনীপুর সীমান্ত অঞ্চলের তৎকালীন ‘সরকার জলেশ্বর’-এর অধীনে উপ-সরকার (Sub-Sarkar)।

ঐতিহাসিক রাজস্ব বিন্যাস অনুযায়ী এই নামকরণের কারণসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

মুঘল আমলে ও ব্রিটিশদের প্রথম দিকের রাজস্ব নথিতে মেদিনীপুর, হিজলি ও জলেশ্বর সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে কয়েকটি প্রশাসনিক বিভাগে (সরকার ও উপ-সরকার) ভাগ করা হয়েছিল। এই ব্যবস্থার অধীনে ‘সরকার জলেশ্বর’ মোট ৪টি উপ-সরকারে বিভক্ত ছিল — গোয়ালপাড়া (২৮টি মহল), জলেশ্বর (২২টি মহল), মালঝিঠা (২১টি মহল) এবং মসকুরি (১১টি মহল)। তমলুক পরগনা প্রশাসনিক ও রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য এই উপ-সরকার গোয়ালপাড়ার (Sarkar of Gualparah) ভৌগোলিক বা রাজস্ব এক্তিয়ারভুক্ত ছিল। বলা হয়েছে যে, হিজলি ও তমলুকের এই এলাকাগুলো পূর্বে ওড়িশা সুবার অংশ ছিল, যা পরবর্তীতে জাফর খাঁ (মুরশিদ কুলি খাঁ)-এর আমলে বাংলার রাজস্ব কাঠামোর খাস (Khalsa) অংশের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুতরাং, এটা সম্পূর্ণ মেদিনীপুর ও জলেশ্বর অঞ্চলের স্থানীয় একটি ঐতিহাসিক প্রশাসনিক নাম (পরগনা/মহল বিভাজন), যার সাথে বর্তমান অসম রাজ্যের গোয়ালপাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev