| | |
এই মুহূর্তে ::
শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ঝন্টু মামা ও তাঁর শিকারের গল্প’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (প্রথম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা — বর্তমান পরিস্থিতিতে একট চ্যালেঞ্জ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘আদমের চোখ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার পার্থ সারথি পাত্র-র ছোটগল্প ‘টাইম-ব্যাঙ্ক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সার্ধশতবর্ষে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শতবর্ষে সুরসম্রাট ভূপেন হাজারিকার স্মরণে : যশোবন্ত রায় মাটির নিচের ইন্টারনেট — অণুজীব ও উদ্ভিদের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক : অন্বেষা গাঙ্গুলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্রম্পটনে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের সমাধি : অসিত দাস শৌনক দত্ত-র ছোটগল্প ‘হোয়েন আই ওয়াজ ডেড’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ডোকরা শিল্পীদের কাহিনি : স্বর্ণাভা কাঁড়ার পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ছমছম পায়েল বাজে’ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শাশ্বত বোস-এর বড়োগল্প এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে নন্দিনী অধিকারী-র বড়োগল্প ‘দুর্গাদালান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নকশালবাড়ি স্থাননামের নকশাল শব্দটির উৎসের সন্ধান : অসিত দাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’

Reporter
শাশ্বত বোস / ৮৮ Views জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শরৎ এসেছে। আকাশে এখন উড়নচন্ডী মেঘ। কখনো আকাশি, কখনো সাদা, কখনো আবার গোলাপি। ছোট্ট ছেলেটার দৃষ্টি কিন্তু তখনও ঘোলাটে! তার চোখের উপর উড়ছেনা কোনো সাদা প্রজাপতি! এইরকম মেঘ-ছায়ার লুকোচুরি দেখে এইটুকু বয়সে যার চোখ জুড়ে, শুধু কল্পনার মায়াজাল আঁকা হয়ে থাকার কথা, পুকুরপাড়ের ভিজে মাটি শ্যাওলা হয়ে দূরের ধানক্ষেত বরাবর, যার চোখে লেগে থাকার কথা দিগন্ত বিস্তৃত শস্যের আশীর্বাদ, সে চোখে এখন দিগ্বিদিক লণ্ডভণ্ড করা এক খিদের বাসর! খিদেটা যেন সর্বগ্রাসী! ছোট্ট শরীরটাকে নিজের বাড়ন্ত ডালপালা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে অসার করে তুলেছে এতক্ষণে!

পাশের পুকুরে তখন পদ্মপাতার ওপর জলফড়িং নাচছে, তাক-কুড়কুড়-তাক তালে তালে। সেটাকে জিভে পোরবার তালে, মস্ত এক লাফ দিল নাদুস নুদুস এক সাবধানী কোলাব্যাঙ! গা ভরা তার জল কলমির ঝাঁক! লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সে পড়লো গিয়ে এক অলস ঢ্যামনা সাপের মুখে! ক্ষুধার রাজ্যে তখন অপটু হাতে চৌকো করে নির্বিবাদী মৃত্যুর এক আনতাবড়ি রূপকথা আঁকা হয়ে চলেছে যেন! চারপাশে প্রকৃতির এই সন্তরণশীল আবর্তের মাঝে, ওই শিশুটিই হয়তো একমাত্র স্থির! প্রতিক্রিয়াহীন! এই মুহূর্তে ওর দুঃখ নেই! শূন্যতা নেই! অতীত নেই! প্রশ্ন নেই! আছে শুধু পেটের ভিতর গজিয়ে ওঠা ক্রমবর্ধমান দারুণ এক সম্মোহক খিদে! পথের ধুলো-কাঁকর ফুটে ঘা ধরে যাওয়া ছোট্ট পাদুটোতে ভর করে, টলতে টলতে কোনোরকমে সে পথচলতি কুকুরগুলোর সঙ্গে এসে দাঁড়িয়েছে এখন, মোড়ের মাথার মিষ্টির দোকানের সামনে। আজ অনেক লোক জড়ো হয়েছে এখানটায়। সামনে বেশ চিৎকার চেঁচামেচি! কয়েকটা লোক এখন খুব চমকাচ্ছে দোকানের মালিককে! বাচ্চা ছেলেটা মনে মনে ভাবে, “ঠিক হয়েছে!” গত দুদিনে যখনই ও খিদের জ্বালায় এই দোকানটার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, ওর চোখমুখ দেখে মায়া দেখানো তো দূর, দোকানের মালিক দূর দূর করে ওকে তাড়িয়ে দিয়েছে! এই দোকানেই কাজ করে ছেলেটা, বয়সে ওর থেকে কয়েক বছরের বড় হবে, হাতে আধলা তুলেছে অবধি ওকে মারবে বলে! এই অসংযত ব্যবহারের বিরুদ্ধে রাস্তার কুকুরগুলো অবধি ঝাউ ঝাউ করে উঠেছে, প্রতিবাদ করেছে, প্রতি আক্রমণ করেছে কিন্তু ছেলেটা বরাবরের মতো শান্তই থেকেছে।

ছেলেটা একবার মুখ তুলে পাশের আকাশটার দিকে চায়। সেখানে তখন টাটকা স্বপ্নের রং লেগে আছে। প্রতিবার এইরকম একটা আকাশের দিকে তাকালে বুঝি সহস্র রঙের জোড় লাগে! ওর শ্রান্ত, নিঝুম চোখের পাতার উপর জড়ো হয়, ঝুরো পাতার রং, ভিজে যাওয়া ঘাস পাতার রং, সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মির রং, ঠিক যেমন বিভিন্ন রঙের মিষ্টিগুলো সাজানো থাকে কাঁচের অস্বচ্ছ দেওয়ালের আড়ালে! বাইরের কোনো জীবাণু কোনো ক্ষুধার্তের সেখানে প্রবেশের অধিকার নেই। ছেলেটার দুটো চোখ বুজে আসে তুলো মেঘের ছায়ায়। চোখ বুজলেই রংগুলো সব হারিয়ে যায়। স্বপ্নের কি আদৌ কোনো রং হয়! নাকি সব স্বপ্নই সাদা কালো?

দোকানটায় চিৎকার আর চাপা গজরানি তখন যেন চরমে উঠেছে! হঠাৎ করেই আজ এতো হৈহল্লা! দোকানের ঘড়ঘড়ে ফ্রিজটার ভেতর দীর্ঘ্দিন ধরে মজুদ করে রাখা সন্দেশগুলো, আজ হঠাৎ করেই দোকানের কর্মচারীটির হাত দিয়ে চালান হচ্ছে, রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা মস্ত নীল ড্রামটার ভেতর। লোকটা এখন নিজেই নিজের মনে গজরাচ্ছে! সকাল থেকে সমানে কাঁধে করে বয়ে এনে ছানাভরা পেল্লাই সাইজের পুঁটুলি গুলো, ওকেই তো ফেলতে হচ্ছে! সাথে কথায় কথায় মালিকের চোখ রাঙানি! তার মেজাজ সপ্তমে আজ! হবারই কথা! অক্লেশে এই সন্দেশগুলো জমিয়ে রাখা যেত আরও মাস তিনেক! তারপর ধীরে ধীরে বাজারে ছানার দাম বেড়ে গেলে প্রায় দ্বিগুণ দামে সন্দেশগুলো চালান করা যেত খদ্দেরের পাতে! তা না! আজ হুট্ করে সরকারের ফুড সেফটি ডিপার্টমেন্ট থেকে এই দলটা আচমকাই হানা দিয়েছে এ চত্বরের সব খাবারের দোকান আর মিষ্টির দোকানে! বাইরে দাঁড়িয়ে লোকটা তখন হাত ঝাড়তে ঝাড়তে, খুব করে গালাগাল করতে থাকে এই দলের লোকগুলোকে! বেশ উচ্চস্বরে! ছেলেটা এতক্ষণ মজা দেখছিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে ডাস্টবিনের ছানা ফুলে উঠছে! বিকট কটূ গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস!

নীল রঙের ড্রামটাকে ঘিরে বুনো মাছিদের একটা ব্যস্ত কোলাহল গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে। ওরা দলে ভারী হতে থাকে। ছেলেটার পায়ের গোড়ালিতে একটা শুকনো ঘা! মাঝে মাঝে কষ গড়াচ্ছে সেখান থেকে! দুএকটা মাছি বারবার যাতায়াত করছে ড্রাম থেকে ওর গায়ের সেই জায়গাটায়। বাধাহীন বাঁধনহীন সেই সংযোগে ঘা, ছানা, দুটোই যেন বিষিয়ে উঠছে আরও! খিদের জ্বালায় ঘায়ের দিকে খেয়ালই নেই বাচ্চাটার! অথচ এই শুকনো চামড়ার উপর খোবলানো মাংস আর তার রেশ ধরে জন্মানো কালো দাগের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে ওর গেল দু তিনদিনের ইতিহাস! পরশু দিনের ক্ষত আজ অনেকটাই ঝিমিয়ে গেছে। তবু তো ও ভোলেনি সেই প্রথম দিন এই মাটির রাস্তায় কুকুরগুলোর তাড়া খেয়ে, ভাঙা খোয়ায় হোঁচট লেগে পরে যাবার কথা! অথচ এই দুদিনে ওরাই কেমন ওর বন্ধু হয়ে গেছে! এই যেমন এখন কিরকম ওর পিছু পিছু এসে নীল ড্রামটার সামনে অল্প অল্প ল্যাজ নাড়ছে। ছেলেটার পায়ের ঘা থেকে উড়ে যাওয়া ডাঁশ মাছিগুলো গিয়ে ওদের চোখে মুখে বসছে! পাগলের মতো ওদের কেউ কেউ দাঁত বার করে মাছিগুলোকে ধরবার চেষ্টা করছে! আসলে ওরা বোধয় বুঝে গেছে ছোট্ট ছেলেটা গায়ের গন্ধে মানুষ হলেও, আসলে এই পরিস্থিতিতে সে ওদেরই দলের!

ড্রামটা এখন ছেলেটার ঠিক সামনে। ওর মাথা ছাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে,বুকের ভেতর ইঁদুর কলের রহস্য নিয়ে! উৎসুক ইঁদুরের মতোই ছেলেটাও ড্রামটার ভিতর উঁকি দিতে চায়, কিন্তু নাগাল পায় না। ওর ভীরু চোখের বাক্যহীনতার ভেতর দিয়ে চলে গিয়ে, পচা ছানার টক টক গন্ধটা তখন যেন ওর মন-মাথায় সহজাত রিফ্লেক্সে, অজ্ঞাত এক রসনার ঢেউ তোলে! আশপাশ থেকে বেশ কয়েকটা আধলা ইঁট জোগাড় করে সেগুলোকে পরপর সাজিয়ে, তার ওপর পা দিয়ে উঠে দাঁড়ায় ছেলেটা। অনেক কষ্টে এবার ড্রামটার মুখের দিকের নাগাল পেয়েছে সে। মাথা ঝুঁকিয়ে সে দেখতে থাকে ড্রামের ভেতরটা। এরই মধ্যে মাঝারি সাইজের একটা কুকুর লাফ দিয়ে ড্রামটার ভেতর চড়ে বসে, মুখে করে সন্দেশের তালগুলো নিয়ে দাপাতে থাকে। পুরো ড্রামটা এবার উল্টে যায়। মিষ্টিগুলো ছড়িয়ে যায় রাস্তাময়। সন্দেশের মণ্ডগুলোর গায়ে ইয়া বড় সাইজের সব পোকা!

ছেলেটার মনে পড়ে যায় অতীতের বর্ষাপ্রবণ কোনো বিকেলবেলায়, ঠিক এই সাইজের কেঁচো বড়শিতে গেঁথে, গেয়ানপোঁতার খালে ওরা বাপ বেটা মিলে চ্যাং-খোলসে শিকার করতো! বাদলঘন আকাশে তখন উঁকি দিত মৌটুসী মেঘ! ছায়া ছায়া সেই বিকেলগুলোয় আঁকাবাঁকা পথে জমা হয়ে থাকতো অনেকখানি জানা আর অজানার সাথে লক্ষ্মী লক্ষ্মী মমতা মেশানো, দীঘল এক কণ্ঠস্বর! সেই স্বর অবিকল যেন ওর মায়ের মতন! সন্ধেবেলা ছেলে ফেরেনি ঘরে! ক্লান্ত অবসন্ন পৃথিবীর বুকে চেনা কোন গন্ডির ওপার থেকে ভেসে আসতো, উতলা কোন মায়ের আর্ত জিজ্ঞাসু ডাক. “র-ত-ন, র-ত-ন, রতইন্যা…রে কনে গেলি বাপ? ফিরিয়া আয়! আইবি না? হইন্ধ্যা হইয়া গেল! কনে লুকাইলি?” লম্বা লম্বা উলু ঘাসের আড়াল থেকে বাবু হয়ে বসে ছেলেটা ওর মাকে দেখতো! চঞ্চল! উদ্ভ্রান্ত! তার আকুল দুটো চোখ এদিক ওদিক খুঁজে বেড়াচ্ছে তার প্রাণের ধনকে! এই সময় মায়েরা কেমন আরও মায়াবী হয়ে যায়! হঠাৎ উলুখাগড়ার আড়াল থেকে কর্কশ স্বরে একটা কুবো পাখি ডেকে উঠতো! তাল কেটে যেত মুহূর্তটায়!

এক হাতের আঙ্গুল দিয়ে পেট মোটা পোকাগুলোকে, ধুলোময় ছানার গা থেকে তুলে নেয় ছেলেটা। তারপর সেটাকে দুহাতের আঙুলের মাঝে সজোরে টিপে ধরে। পট করে পোকাটার পেট ফেটে গিয়ে হলুদ একটা রস ছিটকে এসে লাগে ওর চোখে মুখে! এটা দেখে হয়তো সত্যিই ওর গা গুলিয়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে সংবেদনহীন ক্ষুধার এক ফিরতি পাটাতনে দাঁড়িয়ে, মহার্ঘ্য খাবারের শরীরে বাসা বাঁধা, অবাঞ্ছিত এক পরজীবীকে নির্দ্বিধায় সরিয়ে ফেলতে বেশ লাগে ওর! পেটের ভিতর দড়ি পাকানো ইঞ্চি ছয়েকের পাকস্থলী জুড়ে তখন যেন শুধু ক্ষুধাময় অন্ধত্ব! পোকাটা সরিয়ে ফেলে দুহাতে গোগ্রাসে ও গিলতে থাকে সেই ছাতাধরা ছোপ ছোপ অখাদ্যগুলো! মাঝে মাঝে যার দুএকটুকরো ও ছুঁড়ে দেয় কুকুরগুলোর দিকে। সেগুলো মুখে করে একটু শুঁকে, ফেলে দিয়ে দৌড় দেয় ওরা! ছেলেটা সেদিকে চেয়ে একটু হাসে শুধু! ভারী নির্বোধ সে হাসি!

***

বুড়ো অশ্বত্থ গাছের নীচে, বড় ডোবাটার পাশ দিয়ে ঢালু হয়ে, যে রাস্তাটা নেমে গেছে মাঠের দিকে, একটু নেমে গিয়ে তারপর দুভাগে ভাগ হয়ে পথ হারিয়েছে, যেন জন্মের পাথর বুকে নিয়ে অন্ধকারে ডুব দিয়েছে, হুবহু এমন একটা মানুষের মুখ! শেষ দুপুরে, পেটের খিদে নিভে এলে, চোখ জুড়ে অপার্থিব একটা ঘুম নেমে আসে! সেই ঘুম ঘুম চোখে সামনে অতি চেনা খেঁজুর গাছের পাশ দিয়ে দল বেঁধে পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখলে বোঝা যায়, মানুষটার গালে ফাটা চামড়ায় টান লেগেছে, চোখের পলক খসে পড়ে আছে সেই গালের ওপর! ধোঁয়া ধোঁয়া তার সমস্ত শরীর! ক্ষুধার্ত বেড়ালের মতন লাল লাল চোখে, জমাট বাঁধা নেশার বদ্বীপ! ঠান্ডা স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার শ্যাওলার মত জায়গাটা! ছোট্ট ছেলেটা দেখেছে, রোজ বিকেলের দিকে সেখানে একটা মোটাসোটা মাসি, শুকনো ডালপালা-কাঠ কয়লার আঁচে বিশাল একটা কড়াই নিয়ে কি যেন সব রান্না করে!

পুরোপুরি সন্ধ্যা নামার আগে, পাশের ডোবার সবুজ বাদামী জলে, ঝুপ করে একবার ডুব দেয় অনভিজ্ঞ কোন মাছরাঙা। ডুব দিয়েই নিজের ভুল বুঝতে পারে! প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে সোজা আকাশের দিকে উড়ে যায়! সূর্যের আঁচ ধীরে ধীরে পড়ে গেলে, উনুনের আগুনের আঁচ বাড়ে। কড়াইতে কষা হতে থাকা তেল-ঝাল-মশলার গন্ধটা যেন শান্ত এলাকার আবহে একটা প্রবল অস্থিরতা নিয়ে আসে! সন্ধ্যে ঘনায়! ডোবার পিছনের বাঁশ বাগান থেকে কলহপ্রিয় পাখিদের ডাক, শেষবারের মত বাতাসে ভেসে উঠে, মিলিয়ে যায়। ধানের বীজতলা করে রাখা শূন্য মাঠে জমাট বাঁধা ধোঁয়ার কুণ্ডলীর সামনে দাঁড়িয়ে, ছেলেটা দেখেছে রাত শুরুর এই জাদুকরী সময়ে, একটা দুটো করে কিছু খালি গা লোক এসে জুটতে শুরু করে, মাসিটার উনুনের চারপাশে! রান্না হয়ে এলে ডেচকিটা নামিয়ে রাখে মাসি। উনুনের আঁচ কিন্তু নেবে না!

খোঁড়া মতন, ঢ্যাঙা মতন লোকটা একটা পা টানতে টানতে এগিয়ে এসে দুহাতে ধরে উনুনটাকে নিয়ে গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে রেখে আসে। মাসির সারা শরীরে যেন মাংসের দোকান দিয়েছে কেউ! থলথলে শরীরটা ঘামে ভিজে গায়ের কাপড়টাকে সেঁটে ধরেছে। তার আড়াল থেকে মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে চওড়া পেট, স্ফীত নাভিদেশ! হাত কাটা ব্লাউজের ফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসা মাসির মোটা মোটা হাতগুলোয় তখন যেন চর্বির ঢল নেমেছে! একটা মস্ত গোলগাল শরীরের ওপর বিশাল মাথাটা লেগে রয়েছে, যেন ভাদ্র মাসের পাকা তাল! একটা বিশাল বস্তার উপর বসিয়ে রেখেছে কেউ! এক হাতে ডেচকি থেকে রান্না করা খাবার তুলে শালপাতার ঠোঙায় করে মাসি লোকগুলোর দিকে এগিয়ে দেয়। দূর থেকে দেখে, গন্ধ শুঁকে তো মাংস বলেই মনে হয় ওর! সাথে থাকে একটা করে ছোট্ট প্লাস্টিকের প্যাকেট! তাতে জল জল কি একটা যেন রাখা থাকে! লোকগুলো সেগুলোকে ফুটো করে মুখে পুড়ে, চুষে চুষে খায়, তালফোপড়ের ভেতর থেকে জল টেনে বার করার মত করে! সাথে শালপাতার ঠোঙা থেকে একটু করে রান্না করা মাংস তুলে মুখে পোড়ে! মাসি অন্যহাতে লোকগুলোর থেকে টাকা নিতে নিতে কিছু একটা খোঁজে মুখের ঘামটা মোছার জন্য। কিন্তু তেমন সুবিধার কিছু না পেয়ে মাথাটা সজোরে ঝাঁকিয়ে মাটিতে ফেলে ঘামের ফোঁটাগুলোকে! তার দুয়েক ফোঁটা ছিটকে গিয়ে ডেচকিতেও পরে হয়ত! মাসির মুখের থুতনি থেকে গলা অবধি চর্বির তিনটে ভাঁজ পড়ে। ঠিক যেন ঠাকুমার ঝুলির খোক্কুসী মাসি! রোজ দুপুরে ওর মা ঠিক যে গল্পটা সুর করে করে ওকে শোনাতো,

— “তারপরে হইলো কি, হেই খোক্কুসী মাসিটা লাইলকুমল আর নীলকুমল, দুই রাজার পোলারে লইয়া ডানা মেলিয়া উইড়্যা চইল্যা গেলো, সাইত-সমুদ্দুর পার করিয়া চরকা বুড়ির দ্যাশে!”

— “মা, চরকা বুড়ি কোন দ্যাশে থাকে? চরকা কাইট্যা কাঁথা বানায়? আমাদের শুবার কাঁথাখান ওরে দিলে ভালো হইতো না? সেলাই কইরা দিত, কি হুন্দর নকশা আইক্যা দিত! তুই তো মা নকশা আকন পারস না! ভোরের বেলা ছেঁড়া কাঁথায় হীত করে রে মা! ঘুম বাইংগ্যা যায়!”

— “আচ্ছা সে দিব হনে! এখন তুই ঘুম মার! না হইলে আমি রাক্ষসীরে বাড়িতে ডাকুম! তার ইয়া মোটা হোৎকা পানা মুখ! কুলার মতন কান! নাকে নথ! পায়ে আলতা! আইয়া তোরে চাকুম চুকুম কইরা খাইয়া ফেলাইবে! পাজি! চক্ষে এক ফোঁটা ঘুম নাই! কেবল প্যাঁচাল পারে!”

মায়ের মুখের বকুনি শুনতে শুনতে ছেলেটা যেন ভেসে যেত মায়ার রাজ্যে! চোখ বুজলে তখন খালি আলো আর আলো! নেশা লেগেছে ওই দূরের বাড়িটার গায়েও! যে বাড়িটাকেও দেখতে অবিকল সহজ সরল একটা মানুষের মত! চোখ বন্ধ করে অনেকক্ষণ ঘুমের ভান করে পরে থাকতো ছেলেটা। একমনে সেই খোক্কুসী মাসিকে দেখবার চেষ্টা করতো। কোনো কোনো দিন দেখতেও পেত হয়তো! তার ভাঁটার মতন দুটো চোখ তখন জ্বলছে! কপালের ওপর বিশাল সিঁদুরের টিপ! বিশাল একটা চুলার ওপর রাখা ফুটন্ত কড়াইয়ে সে তখন ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের হাত পা দিয়ে, বাইগুনের ঝোল রাঁধছে! তার সাথে চোখাচুখি হলেই ছেলেটা ঘুমের মধ্যেই চোখ বন্ধ করে নিত। তারপর ভয়ের চোটে চোখ খুলেই পাশে মাকে খুঁজতো। পেয়েও যেত সবসময়। কিন্তু সেদিন ওর পাশে মা ছিল না। পুরো বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ও আর পায়নি ওর মাকে। তারপর থেকে মাকে অনেক খুঁজেছে ও! নবীন বুড়োর দোকানে খুঁজেছে, নারানদের বাড়ির উঠোনে খুঁজেছে, চিতলমারীর খালে খুঁজেছে, একাদশীর রাতে বংশীমাঝির নৌকায় খুঁজেছে, দুপুরের ট্রেন বেরিয়ে যাবার পর রেলের ফাঁকা গুদামঘরে খুঁজেছে, এমনকি নিশুতি রাতে মতিঝিলের পাশের স্মশানেও খুঁজেছে, না কোত্থাও পায়নি! পাড়ার লোকে বলাবলি করেছে, ওর মা নাকি মাছওয়ালা বোলানের সাথে পালিয়ে গিয়েছে ঘর ছেড়ে! ঘর ছেড়ে! সংসার ছেড়ে! ওকে ছেড়ে! এই বোলানকে নিয়েই আগের রাতে ওর বাবা মার মধ্যে প্রবল কথা কাটাকাটি শুনেছিল ও! মারপিট! চিৎকার! চেঁচামেচি! এসব শুনতে শুনতেই সেরাতে ঘুমিয়ে পড়েছিল ছেলেটা।

স্টেশনের ধারে ফাঁকা মাঠটার পাশে ওদের একটা গুমটি দোকান ছিল। ওর বাবা খোড়োগঞ্জের বাজার থেকে ছেলেদের গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া, বারমুন্ডা, মেয়েদের নাইটি, সায়া, ব্রেসিয়ার এসব সপ্তাহান্তে বোঝাই করে দোকানে নিয়ে আসতো। তারপর দোকানের সামনে সেগুলো ঝুলিয়ে রেখে বিক্রি করতো। মূলত ছোট্ট স্টেশনটায় আসা যাওয়ার পথে অল্প কিছু মানুষজনই ছিল ওদের প্রধান খদ্দের। ওর মা চলে যাওয়ার পর থেকে ও ওর বাবার সঙ্গে সঙ্গেই থাকতো। দোকানের বাইরের রাস্তায় নেমে ছোট্ট দুটো হাতে, নাইটি, গেঞ্জি এসব ধরে জোরে জোরে হাঁক দিত, “গেঞ্জি লইবেন দাদা? ও বৌদি নাইটি লইবেন নাকি? আসুন না কি লাগব? হরেকমাল দেড়শো! যা লইবেন দেড়শো! লইয়া যান লইয়া যান, যা লইবেন লইয়া যান! ও দাদা কত দিবা কও না?” অপরিণত বয়সের কচি গলায়, সে স্বর, অকালে ঝরে যাওয়া শৈশবের বুকে ঠিক যেন হালকা দীর্ঘশ্বাসের মতন শোনাতো! তারপর একদিন রেল পুলিশের লোক গাড়ি নিয়ে এসে, ওই চত্বরের সব দোকানগুলো ভেঙে মাঠ করে দিল! ঠিক যেমন বৈশাখী ঝরে আচমকাই পাখিদের বাসা ভেঙে যায়! ওর বাবা তারপর থেকে কেমন যেন পাগল হয়ে গেছিল! সব সময় আবোল তাবোল বকতো! যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াত আর পুলিশ দেখলেই ঢিল মারতো! সেদিন হালকা হালকা বৃষ্টি হয়েছিল সারারাত জুড়ে। মায়ের স্মৃতি জড়ানো ছেঁড়া কাঁথাটা গায়ে টেনে নিয়েছিল ছেলেটা। আপাদমস্তক ভেসে গিয়েছিল ঘুম ঘুম কুয়াশার রাজ্যে!

পরদিন যখন ও চোখ খুললো, তখন দেখলো, ও এই বিশাল অশ্বত্থ গাছটার নীচে শুয়ে আছে! খালি গা! পরনে হাফ প্যান্ট! প্রথমটায় ভীষণ হকচকিয়ে গেছিল ও! ও এখানে কিভাবে এল! কে রেখে দিয়ে গেল ওকে? ওর বাবাই বা কোথায়? কিছুক্ষণ ওর বাবার নাম ধরে ডাকাডাকি করেছিল ছেলেটা। প্রচন্ড ভয়ে আর অজানা জিজ্ঞাসায় চোখ বন্ধ হয়ে এসেছিল ওর! গলা ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছিল খুব, কিন্তু কান্নাও আসছিল না! তারপর একটা সময় উঠে দাঁড়ালো ছেলেটা। জায়গাটাকে ভালোভাবে চেনার জন্য খালি পায়ে নুড়ি কাঁকরের রাস্তাটা ধরে হাঁটা শুরু করলো। পেছনে এ পাড়ার অচেনা কুকুরগুলো তখন প্রচন্ড ঝাউ ঝাউ শুরু করেছে! হাঁটায় কুকুরগুলোর ক্ষীপ্রতার সাথে তাল মেলাতে না পেরে কিছুক্ষণ পর দৌড়াতে শুরু করলো ছেলেটা! হুমড়ি খেয়ে পড়লো এক সময়!

প্রথম দিন সন্ধ্যেবেলা যখন প্রথম মাসিটাকে দেখলো ছেলেটা, তখনি ভীষণ ভয় পেয়েছিলো ও! কাঁচু মাঁচু মুখ করে ও দাঁড়িয়েছিল ডোবার পাশের গাব গাছটার তলায়। পেছনের বাড়িটার দাওয়ায় ঝোলানো হ্যারিকেনটা তখন দপ দপ করছে। অগোছালো সন্ধ্যের মগ্ন বাতাসে তখন ম ম করছে উনুনের গন্ধ, চর্বির গন্ধ, নিভন্ত আঁচে কষা হতে থাকা মাংসের আঁশটে গন্ধ! ওর মুখ দেখে মাসিটা হাত নেড়ে কাছে ডাকলো ওকে। তারপর কালো ডেচকিটার ঢাকনা খুলে একটা হাতায় করে একটু ঝোল আর একটু মাংস তুলে একটা শালপাতা করে দিলো ওর হাতে। ছেলেটার সারা শরীরে তখন ক্লান্তি আর বিবশতার ভারী অক্ষর বোনা হয়ে রয়েছে। শেষ কখন ও কিছু খেয়েছিল সেটা তখন আর ওর মনে নেই। রাস্তার কুকুরগুলোর থেকেও দৃষ্টিকটূ ভঙ্গিতে হাপুস হুপুস করে হাতের গরম খাবারটা মুখে পুড়ে দিয়েছিল ও! সঙ্গে সঙ্গে ওর ঠোঁটটা পুড়ে গেছিল! কি ভীষণ ঝাল ঝোলটা! এত্ত ঝাল মানুষে খেতে পারে! তবু খিদের চোটে এক চুমুকে বাকি ঝোলটুকু শেষ করে, পাতের হাড্ডিটা কামড়াচ্ছিল ছেলেটা! ইয়া মোটা একটা হাড্ডি! তেমনি লম্বা! এতো বড় মাংসের হাড় জন্মে কখনো দেখেনি ও! শেষমেশ সুবিধে করতে না পেরে হাড়টাকে ছুঁড়ে দিয়েছিল ও রাস্তার ওপর। মোটাসোটা মাসির দু চোখে তখন মোটা করে লেপা কাজলের কুসুমকালো অন্ধকার! তবু সে চোখ দেখে তখন ওর আর ভয় লাগছিল না মোটেও। সেই সময়টায় মাসিটাকে দেখলে আর খোক্কুসী মাসি মনে হচ্ছিলো না ওর!

মাসিটার চারপাশে সব সময় যে ঢ্যাঙা মতন, খোঁড়া মতন লোকটা ঘুরঘুর করে, সে ওকে অনেকক্ষণ ধরেই লক্ষ্য করছিলো যদিও, দরমার বেড়ার ফাঁক দিয়ে। খাবারটা খেয়ে খিদেটুকু জুড়ানো তো দূর অস্ত, পেটের ভেতর জ্বালাটা যেন আরও বেড়ে গিয়েছিল ওর! তৃষার্ত দুটো চোখ তখন শুধু জল চাইছিলো! মোড়ের মাথার টিউবওয়েলটায় জল খাবে বলে এগোতে যাবে, এমন সময় অন্ধকারে ওর ছোট্ট মাথায় একটা হাত এসে পড়লো! সেই ঢ্যাঙা মতন, খোঁড়া মতন লোকটা! সারা শরীরটা ভেঙে চুরে এসে কখন ওর পিছু পিছু হাঁটা লাগিয়েছে, টেরই পায়নি ছেলেটা! লোকটার একটা চোখ চামড়ার সাথে জুড়ে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়! মুখের বাম দিকে তৈরী হয়েছে একটা অন্ধকার ক্ষতমুখ! এতো অন্ধকার, যেন লোকটার পুরো মুখের মানচিত্র বেঁকে গিয়েছে সেই শূন্যতার কোটরে! সে ক্ষত স্বৈরাচারী! ধূর্ত! অবলীলায় গিলে খেয়ে ফেলতে পারে এ রাতের সব টুকু রহস্য! কুতকুতে দুটো চোখ নিয়ে লোকটা এখন তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে। ঠোঁটের কোনায় তার বিচ্ছিরি রকমের দাঁত ফাঁক করা হাসি! যেন কালো নৌকার গায়ে খোদাই করা কয়েকটা ফুটো! আর সে ফুটোর আড়ালে লুকিয়ে আছে লোকটার ভেতরের সব আলোহীন, শব্দহীন, ইন্দ্রিয়বিহীন, ক্রূর চেতনা! “ওই মাসির ঠে চাকনা মাঙতে গিছলি?” ছেলেটি গোল গোল চোখে চেয়ে থাকে লোকটার পোড়া মুখের দিকে। ক্রমে উল্টোদিকের নষ্ট হয়ে যাওয়া মুখটা ওপর থেকে নীচের দিকে নামতে নামতে, ওর মুখের আরও কাছে সরে আসতে থাকে। “আর যাইস না কেমন! গেলি পরে ওই রাক্ষসী মাগীটা তোকে চাবায়ে খাইয়া লিবে!” লোকটার ঠোঁটগুলো আবার ফাঁক হয়। সে মুখগহ্বরে তখন খুউব কালো কলুষিত এক মেঘখণ্ড জমা হয়ে আছে!

এখন মধ্যরাত! জানালার বাইরে উল্টোদিকের মাঠে রাতবিরেতে, দুধেল জ্যোৎস্না স্তব্ধ হয়ে আছে! আর সেই জ্যোৎস্নাভর্তি মাঠে জমা হয়ে আছে কত রকমের পাতা! একটা নিশাচর নিম পেঁচার কর্কশ ডাকে ঘুম ভেঙে যায় রতনের। বালিশের নীচে চাপা পরে থাকা লেপ কম্বলের মতো, বিছানার এক পাশে পরে আছে ওর বৌ দুলালী। সর্বাঙ্গ কাপড়ে ঢাকা। কাপড়ের তলায় তাল তাল চর্বি শুধু। শরীর বলে তো কিছু নেই ওর! এমন একটা কোনো শরীর, যা দেখে একটা পুরুষ আকৃষ্ট হয়! কাছে ঘেঁষে! রতনকে সে পাশে নিয়ে শোয় শুধু, ছুঁতে দেয় না, সে আজ বহুদিন হল। অথচ অমাবস্যা পূর্ণিমায় উপোস করে দুলালী, সেই রতনের কল্যাণ হোক চেয়ে। বাইরে এখন যতটা অন্ধকার তার থেকে অনেক বেশী অন্ধকার জমা হয়ে আছে রতন নস্করের মন আর মাথায়, সেই ছোটবেলা থেকে! এদিক ওদিক করে কিভাবে পয়সা কামাতে হয়, তা এই চত্বরে ওর থেকে বেশী কেউ জানে না! ওর মাথায় নেতার হাত আছে! অদৃশ্য সে হাত মিয়োনো আলোর ভেতরেও অন্ধকারই হাতড়ায় শুধু! দরজাটা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে পড়ে রতন। তলপেটটা একটু যেন ভারী ভারী ঠেকে ওর! একটু মুতে হালকা হতে হবে! আজও বেশ কয়েক পেটি চুল্লুর প্যাকেট বিক্রি করেছে ও চড়া দামে! নিজের বাড়িতেই, পিছনের আমবাগানে ভাটি জ্বালিয়ে চোলাই বানাতে কি আর এমন খরচ পড়ে! হাড়ি প্রতি যদি একশো থেকে দুশো টাকা খরচ হয়, এক একটা দেড়শোর পাউচ ও বেঁচে প্রায় চল্লিশ টাকায়! নেতার কল্যাণে এ চত্বরে আর কোনও ঠেকও নেই। একদিক থেকে রতনই এই এলাকার ‘চুল্লু কিং’! দুলালীর চাখনা লোকে খায় ভাল। মালের ঘোরে ঝাল খেয়ে লাল ঝরায় চোখ মুখ থেকে! শুটকো, খেঁকুরে চেহারার মাল যত! তেলাকুচে পাতা বেটে দিলে মালের সাথে তাই খায়! খাক খাক! বেশী করে খেয়ে স্বগ্গে যাক! রতন নস্করের চোলাইয়ের ব্যবসা বন্ধ হবে না তাও! উল্টে দিন দিন খদ্দের আরও বাড়বে!

ডোবার পাশে রাস্তাটায়, দু একটা ভবঘুরে হাওয়া তখন ঘুমানোর জন্য জায়গা খুঁজছে। অধোগামী তরলের ভার শরীর থেকে হালকা করতে করতে, সে হাওয়া রতনের গালের ফুটোটার ভেতর ঢুকে, ঘাড়ের কাছটায় সুড়সুড়ি দিতে থাকে যেন!একটা মোটা শিরা, তার গোপনাঙ্গের কাছে টান মেরে রয়েছে, আজ কয়েক মাস ধরে! হতে পারে খারাপ কিছু! ও পাড়ার জবা শেফালীদের ঘরে যাওয়া আসা আছে ওর! বাইরে সবাই জানে রতনের মাগুর মাছের ব্যবসা। ইয়া ইয়া কোদা কোদা সব মাছ! এক একটা প্রায় দু আড়াই কিলো হবে! ইয়া বড় মাথা! নৌকার মত হাঁ! করাতের মতো দাঁত! রতন মাদারীগঞ্জের হাট থেকে ওদের খাওয়ানোর জন্য মুরগীর ছাট, গরু মোষ ছাগলের নাড়িভুঁড়ি,হাড্ডি কিনে নিয়ে আসে। পেছনের আমবাগানে বসে নিজে হাতে কেটে সাইজ করে, তারপর ছুঁড়ে দেয় ওই মৎস্যরূপী দানবদের মুখে! তাতেই এক একটা ছ মাসে বেড়ে দু কিলো! একটা সময় পর পুকুর ছেঁচে জল কমিয়ে, বেড় জাল দিয়ে ওগুলোকে ধরে, চালান করে দাও বাজারে। সেখান থেকে পাঠিয়ে দাও লাইন হোটেলের খদ্দেরের পাতে, গরম গরম লাল লাল ফিশ ফ্রাই, ফিশ ফিঙ্গার বানিয়ে! খিদের চাকা ঘুরতেই থাকে! আসলে খিদেই তো বেঁচে থাকার আদিমতম অস্ত্র!

এই ছাঁট থেকে যেটুকু মাংস বাঁচে, তাই দিয়েই রোজের চাখনা রান্না করে দুলারী। মাগুর তোলা হলে সেদিন চাখনাতেও মাগুরের লাল ঝোল থাকে। পুকুরের জলে এখন একটা তরঙ্গ খেলে যায়! রতনের পায়ের কাছে এগিয়ে আসতে থাকে শত শত হাঁমুখ! যেন কালচে নোংরা থালায় জেগে উঠছে অগুনতি খিদে! রতনের বুজে যাওয়া চোখটা যেন নড়ে ওঠে, প্রভুত্ত্বের আনন্দে! জলের ওরা টের পেয়েছে, ওদের প্রভু অসময়ে এসে দাঁড়িয়েছে যখন ওদের সামনে, তখন ভালোমন্দ যাহয় কিছু জুটবে আজ!

পা ঘষে ঘষে রতন গিয়ে হাজির হয় পেছনের বাগানে। সেখানে নির্দিষ্ট একটা জায়গায় আগে থেকেই মাটি কমানো ছিল। এবার ওপরের আলগা মাটি বেলচা করে সরিয়ে, গলে যাওয়া বস্তাটা বের করে আনে সে। একটা বিকট পচা গন্ধে আশপাশ ভারী হয়ে ওঠে। এমন একটা গন্ধ, যা গুলিয়ে দেবে যে কোনো সুস্থ মানুষের আগু পিছু তিরিশটা বছর! গলগল করে বমি করে সে বের করে দেবে, জীবনের সব পাপ-ক্ষয়-রোগ! এক হাত দিয়ে মাটিতে ঘষে ঘষে রতন বস্তাটা পুকুরের পাড়ে নিয়ে আসে। তারপর ছুঁড়ে দেয় পুকুরের জমাট বাঁধা কালো জলে! পৃথিবীর বুকের সব থেকে কুৎসিততম রঙের ভাগাড়ের বিপরীত প্রান্তে, ভাদ্রের পোয়াতি আকাশটা তখন যেন একটা আয়না, তাতে কাঁচ পোকার রং লেগেছে। তারই নীচে শত শত প্রগলভ ক্ষুধার্তের উল্লাস চলছে, ঠিক কালো রঙের ঘৃণার মতন!

ছেলেটার আজ যখন ঘুম ভাঙলো, তখন সারা ঘর জুড়ে অসহ্য গুমোট গরম! ঘরের ঝুলকালি মাখা দেওয়ালগুলোয় কোনো জানালা নেই! শুধু ঘরের সামনের ভাঙা দরজাটার একটা পাল্লা খোলা। সেখান থেকে ক্ষীণ অথচ তীব্র সূর্যের আলো এসে ঢুকছে ঘরটায়। ছেলেটার ঠিক সামনে একটা পায়া ভাঙা টুলে বসে আছে সেই লোকটা! জখম পাটা সামনের দিকে লম্বা করে ছড়িয়ে রেখেছে! মুখের বাঁ গালে একটা গভীর ক্ষত! নৌকার মতো ছড়ানো ঠোঁটদুটো ফাঁক করলেই বিচ্ছিরি কালো কালো দাঁতগুলো বেরিয়ে পড়ছে! ছেলেটার বাঁ হাতের কনুই এর তলাটায় ব্যান্ডেজ বাঁধা! অনেকখানি রক্ত জমে শুকিয়ে চ্যাটচ্যাটে হয়ে গেছে জায়গাটায়। হাতটা ওখান থেকে বুঝি আর নেই! অসহ্য যন্ত্রণায় মুখ প্রায় বেঁকে যাচ্ছে ছেলেটার। তারই মধ্যে ও টের পাচ্ছে পেট মোচড়ানো অসম্ভব একটা খিদে! এই শরীর ভাঙা খিদেটা, এই না থাকার যন্ত্রণাটা ওকে যেন অনেকটা হালকা করে দিচ্ছে এখন! চাইলেই যেন উড়তে পারবে ও, ঠিক রূপকথার পক্ষিরাজের মতো!

লোকটা এবার উঠে দাঁড়ায়, লুঙ্গির ভেতর হাত ঢুকিয়ে অসভ্য জায়গায় হাত দেয়! নিজের গোপনাঙ্গটা একবার চুলকে নেয় আলতো নখের ছোঁয়ায়! পেটের খিদের মতো এই চুলকুনিটাও যেন একইসাথে অস্বস্তিকর এবং সহজাত! তারপর একবার ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বিচ্ছিরিভাবে হাসে! ওর দাঁতের ফাঁকে পোড়া গন্ধ লেগে থাকে সন্ধ্যার খুবলে খুবলে যাওয়া ছায়ার মতন! এক পা টানতে টানতে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় লোকটা, দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে। বাইরে থেকে আসা দিনের আলোর শেষতম অংশটুকুও অদৃশ্য হয় এখন! তবু যেন ছেলেটা এই আধো আলো আধো অন্ধকারেই দিব্যি বুঝতে পারে, পুরো ঘর জুড়ে ওর মতোই এরকম আরও অনেক ছেলে মেয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে! কারো হাত নেই! কারো পা নেই! কারো চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা! চাপা গোঙানিতে ঘরটা ভরে উঠেছে, যেন সদ্য ফোঁটা অন্ধকারে আসর জমানো ঝিঁ ঝিঁ পোকার সমবেত কলতান!

কালকের ভেতর বাচ্চাগুলোকে নোয়াগঞ্জ চালান করে দেবে রতন। ছোটা হাতিতে মাগুরের ঝুড়ির আড়ালে, ওপর থেকে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেবে এমন, যে বাইরে থেকে দেখে পুলিশের বাবাটিও টের পাবে না! তারপর হাইব্রিড মাগুরের সেরকম আঁশটে গন্ধ! এমনিতেই একটানা গাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দায় হয়! গালের খোবলানোতে হাত বুলোতে বুলোতে রতন ভাবে যে টাকাটা অ্যাডভান্স নিয়েছে মঙ্কা বিবির থেকে, বাচ্চাগুলোর জন্য, সেগুলো দিয়ে আজ ও পাড়ায় শেফালির ঘরে আসর বসাবে। জবা আর চাঁপাকেও ডেকে নেবে। তারপর তিনজনে মিলে সারারাত ‘জি লালা, জি লালা’ হবে! ছামিয়া নাচবে! কোমর বুক দোলাবে! আর ও মধ্যমণিটি হয়ে গান বাজাবে, “গিননা পরে গিলাস তো পিনা ছোড় দে/ পিনা ছোড়নে সে বেহতার হ্যায় জিনা ছোড় দে!” অনুসারী রাতের বুদবুদ ভাসিয়ে অলংকারী ডিজে বাজবে মধ্যম লয়ে, “ডিগ্গি ডিগ, ডিগ্গি ডিগ!”

পোল্ট্রি ফার্মের মাঝে মাটির তৈরী ঘরটা ছাড়ার আগে, মাথায় করে ঝুড়িটা তুলে নেয় রতন। ঝুড়ির মাথার কাপড়টায় তখনও তাজা রক্ত লেগে আছে! তার ফাঁক দিয়ে স্পষ্ট উঁকি দিচ্ছে ছোট ছোট হাত-পা-আঙ্গুল! বার বার অবাধ্য কিছু বুনো মাছি এসে ভিড় করছে সেখানে, উচ্ছিষ্টের আশায়! এই মাছিগুলোই হয়তো এই এলাকার আদিমতম বাসিন্দা! ময়লা থেকে মানুষ যা কিছু পচতে শুরু করেছে, সবেতেই যেন ওদের একচ্ছত্র অধিকার! ওদিকে ঘরের মধ্যে আধশোয়া অবস্থায় ছেলেটা স্বপ্নে ডুব দেয় এখন! সাদা কালো নয় রঙিন সে স্বপ্ন! মাটি মেরে যাওয়া রক্তের মতো বিবর্ণ লাল সে রঙে, ও তখন দেখে, প্রকান্ড কড়াই পেতে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের হাত পা নাড়িভুঁড়ি দিয়ে, মশলা দেওয়া লাল ঝোল বানাচ্ছে সেই খোক্কুসী মাসীটা! মাঝে মাঝে নিজেই আলগোছে হাতের তালুতে নিয়ে সে ঝোল চেখে দেখে নিচ্ছে! হঠাৎ তার কি মনে হল ফুটন্ত কড়াই থেকে একটা আধসেদ্ধ কচি ছেলের হাত তুলে মুখে পুড়ে চিবোতে লাগলো! কেঁপে উঠলো ছেলেটা! এ যে ওর নিজের হাত! যে হাতটা আর হাত নেই অন্ধকার হয়ে গেছে! এখান থেকে হঠাৎ স্বপ্নটার রং পাল্টাতে থাকে। সে রং এখন কমলাভ হলুদ। কনে দেখা সূর্যের আলোয় ছেলেটা এখন ওর নিজের মাকে দেখতে পায়! কেমন ওর মা জল দিয়ে ভাত মেখে গরস করে ওকে খাইয়ে দিতো! কেমন ভাদ্র সংক্রান্তিতে পান্তা রেখে পুজো দিতো দেবতার পায়ে! তারপর সবাই মিলে সেই পান্তা খেত ওরা! আশ্চর্য্! কোনোবার সে পান্তা পচে যেত না কিন্তু!

ঝুড়িটা মাথায় নিয়ে মাটিতে পা ঘষতে ঘষতে আমবাগানের দিকে এগোয় রতন। পথে হঠাৎ একটা বাঘরোল মরে পরে থাকতে দেখে ও। “ই শালাটোই অ্যাৎদিন ধরে আমার মুরগিগুলো সাবড়েছে!”, ভেবে নিয়ে, মনে মনে তেড়ে গালাগাল দিতে থাকে মৃত জানোয়ারটাকে! তারপর ওটার লেজ এক হাত দিয়ে ধরে টানতে টানতে, এগিয়ে চলে ওর নিকট গন্তব্যের দিকে। আপাতত এই সব গুলোকে কাঠকয়লা আর চুন মাখিয়ে আমবাগানের মাটিতে পুঁতে রেখে দেবে ও! একটু গন্ধ ছাড়বে ঠিকই কিন্তু মাগুরের জলের আঁশটে গন্ধে সেরকম কিছু বোঝা যাবে না। তারপর হেঁসো দিয়ে কেটে ঠিকঠাক সাইজ করে, দুলারীকে দেবে চাখনা রান্না করবার জন্য। কালো দড়ির মতো লোকগুলো পেট ভরে খাবে যা হোক! কিছু পয়সা বেশীই পাওয়া যাবে সেদিন! এমনিতে ধার বাকি বেড়ে যায় যে পেঁচোদের, তাদের এক একটাকে মোটা বাঁশের চটা দিয়ে পিটিয়ে হাত সুখ করে নেয় রতন! একটা একটা বাড়িতে মলিন চামড়াগুলো ফেটে কেমন রক্ত বেরিয়ে আসে! তাজা রক্ত! সে রক্তের গন্ধে নেশা ধরে যায়! মার খেয়ে বুড়ো লোকগুলো কেমন ছোট বাচ্চার মতো কাঁদতে থাকে! দেখে মনে মনে ভীষণ মজা পায় ও! পুকুরের রাক্ষুসে মাছগুলো হঠাৎ তেতে ওঠে যেন! নিষ্ঠুর প্রবৃত্তির স্রোতে হেঁটে মানুষ মাছ হয়ে যাচ্ছে এখন! পুষ্টি-শক্তি-প্রোটিনের এ এক আজব মেটামরফোসিস!

অতীতের ঘৃণা, বর্তমান পার হয়ে ভবিষ্যতের দিকে চলতে থাকে! থামে না! আকাশ বাতাস জুড়ে তখন শুধু পচা ভাতের গন্ধ!

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev