| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘আদমের চোখ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার পার্থ সারথি পাত্র-র ছোটগল্প ‘টাইম-ব্যাঙ্ক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সার্ধশতবর্ষে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শতবর্ষে সুরসম্রাট ভূপেন হাজারিকার স্মরণে : যশোবন্ত রায় মাটির নিচের ইন্টারনেট — অণুজীব ও উদ্ভিদের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক : অন্বেষা গাঙ্গুলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্রম্পটনে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের সমাধি : অসিত দাস শৌনক দত্ত-র ছোটগল্প ‘হোয়েন আই ওয়াজ ডেড’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ডোকরা শিল্পীদের কাহিনি : স্বর্ণাভা কাঁড়ার পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ছমছম পায়েল বাজে’ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শাশ্বত বোস-এর বড়োগল্প এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে নন্দিনী অধিকারী-র বড়োগল্প ‘দুর্গাদালান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নকশালবাড়ি স্থাননামের নকশাল শব্দটির উৎসের সন্ধান : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনয় মজুমদারের কবিতা — বিজ্ঞান ও দর্শনের রসায়নজাত স্বতন্ত্র নির্মাণ : আনন্দগোপাল হালদার উৎসবে মানুষ নতুন হয়ে ওঠে : হাসান আজিজুল হক ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘চার্বাক দর্শন’ দুর্গা যখন মাঠংমা : শ্যামলী কর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৭৬ Views জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খালসা ভূমি — যা ১৯টি সরকার ও ৬৮২টি পরগনায় বিভক্ত ছিল এবং যার রাজস্ব দাম বা টাকায় (যেখানে প্রতিটি টাকার মান ছিল ৪০ দামের সমান) নির্ধারিত হয়েছিল; তার বিবরণ নিম্নরূপ:

বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থার তিন স্তর

১. গঙ্গার পূর্বে ১১ সরকার – বাংলার প্রাচীন রাজস্ব-কেন্দ্র

গ্রান্টের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে গঙ্গার পূর্বে অবস্থিত ১১ সরকার। এগুলোর মধ্যে জন্নতাবাদ (গৌড়) ছিল বাংলার প্রাচীন রাজধানী — গঙ্গার উত্তর-পূর্বে, মালদার কাছে। এর রাজস্ব ছিল ৪,৭১,১৭৪ টাকা এবং পরগনার সংখ্যা ৬৬। এরপর পূর্ণিয়া (৯ পরগনা, ১,৬০,২১৯ টাকা), তাজপুর (২৯ পরগনা, ১,৬২,০৯৬ টাকা), পিঞ্জরাহ (২১ পরগনা, ১,৪৫,০৮১ টাকা) — যা দিনাজপুর জমিদারির অংশ ছিল এবং তিস্তা নদীর শাখায় অবস্থিত।

ঘোড়াঘাট ছিল সবচেয়ে বড় সরকারগুলোর একটি — ৮৪ পরগনা, রাজস্ব ২,০৯,৫৭৭ টাকা। এটি তিস্তা থেকে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং কুচবিহারের দক্ষিণে রংপুরের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বারবাকাবাদ (৩৮ পরগনা, ৪,৩৬,২৮৮ টাকা) জেন্নেতাবাদের দক্ষিণে গঙ্গার উভয় তীরে বিস্তৃত ছিল। বাজোয়া ছিল আরও বড় — ৩২ পরগনা, রাজস্ব ৯,৮৭,৯২১ টাকা; এটি ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে সিলেট সীমান্ত পর্যন্ত এবং দক্ষিণে ঢাকা শহর সহ বিস্তৃত ছিল।

সিলেট (৩ পরগনা, ১,৬৭,০৪০ টাকা) ছিল বাংলার পূর্ব সীমান্তে, সুরমা নদীর ওপারে, কাছাড়ের কাছে — আভা ও চীনের সীমান্তের মাত্র ৩০০ মাইল পশ্চিমে। সোনারগাঁও (৫২ পরগনা, ২,৫৮,২৮৩ টাকা) ছিল ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব তীরে, মেঘনা নাম ধারণের পর; ত্রিপুরার পশ্চিমে। ফতেহাবাদ (৩১ পরগনা, ১,৯৯,২৩৯ টাকা) মেঘনার পূর্বে সাগর উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল — সন্দ্বীপ, ডেকান, শাহবাজপুর দ্বীপ সহ।

সবশেষে চট্টগ্রাম (৭ পরগনা, ২,৮৫,৬০৭ টাকা) — যা ইসলামাবাদ নামে পরিচিত ছিল, ফেনী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। গ্রান্ট এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন: আকবরের অধীনে চট্টগ্রাম অত্যন্ত অসম্পূর্ণভাবে জয় করা হয়েছিল, তাই এর রাজস্ব সম্ভবত অনুমানভিত্তিক (estimation), প্রকৃত জরিপ নয়। এই ১১টি সরকারের মোট রাজস্ব ছিল ৩৪,৮২,৫২৯ টাকা এবং মোট পরগনা ৩৭৭।

২. গঙ্গার পশ্চিমে ৪টি সরকার: রাজধানী ও প্রতিরক্ষা অঞ্চল

গঙ্গার পশ্চিমে অবস্থিত ৪টি সরকার ছিল বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। উদুম্বর (৫২ পরগনা, ৬,০১,৯৮৫ টাকা) — যা তাণ্ডা, রাজমহল বা আকবরনগর নামেও পরিচিত। গৌড়ের পর এটিই ছিল বাংলার রাজধানী; টেরিয়া ও সিকলা ঘাটের কাছে, মুর্শিদাবাদের কাছে অবস্থিত। শরীফাবাদ (২৬ পরগনা, ৫,৬২,২১৮ টাকা) পূর্বের সরকারের দক্ষিণে, গঙ্গার ছোট শাখার পশ্চিমে; বর্ধমান শহর ও পরগনা সহ। সেলিমাবাদ (৩১ পরগনা, ৪,৪০,৭৪৯ টাকা) আরও দক্ষিণে সাগরের দিকে, ছোট গঙ্গার পাশে। মন্দারন (১৬ পরগনা, ২,৩৫,০৮৫ টাকা) ছিল শেষ দুটি সরকারের পশ্চিমে বিচ্ছিন্ন সীমান্ত; দামোদর ও রূপনারায়ণের সঙ্গমের কাছে, হুগলি নদী প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করত। এই ৪টি সরকারের মোট রাজস্ব ছিল ১৮,৪০,০৩৯ টাকা এবং মোট পরগনা ১২৫।

৩. ডেল্টার ভেতরে ৪টি সরকার: বাণিজ্য, বন্যা ও জনশূন্যতা

ডেল্টার ভেতরে অবস্থিত ৪টি সরকার ছিল বাংলার বাণিজ্যিক ও কৃষি-সমৃদ্ধ অঞ্চল। সাতগাঁও (৫৩ পরগনা, ৪,১৮,১১৮ টাকা) ছিল বাংলার প্রাচীন বিদেশি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র — হুগলির কাছে, পলাশী থেকে কসিমবাজার হয়ে মুন্ডেলঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। মাহমুদাবাদ বা বুসনাহ (৮৮ পরগনা, ২,৯০,২৫৬ টাকা) ডেল্টার উত্তর কোণে, গঙ্গার পূর্ব ও পশ্চিম শাখায় অবস্থিত ছিল। খলিফেতাবাদ বা যশোর (৩৫ পরগনা, ১,৩৫,০৫৩ টাকা) সুন্দরবনের কাছে লবণাক্ত জলাভূমিতে, গঙ্গার ধারা পরিবর্তনে গঠিত হয়েছিল।

সবচেয়ে করুণ পরিণতির শিকার হয় বোকলাহ (বাকলা) বা ইসমাইলপুর (৪ পরগনা, ১,৭৮,২৬৬ টাকা) — পদ্মার পশ্চিম তীরে, রাবনাবাদ (পদ্মার পশ্চিম তীরে, রাবনাবাদ দ্বীপের কাছে।) দ্বীপের কাছে। গ্রান্ট লিখছেন, ১৫৮৯ সালে — অর্থাৎ টোডরমলের আর্থিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার দুই বছর পর — সমগ্র সরকারটি বন্যায় প্লাবিত ও জনশূন্য হয়ে পড়ে। এরপর মগদের আক্রমণে এটি আজও জনবিরল। অথচ এই ভূমি কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল — প্রতি বছর গঙ্গার জলে প্লাবিত হয়ে পলিমাটি বহন করে এনে উর্বরতা বাড়াত। এই ৪টি সরকারের মোট রাজস্ব ছিল ১০,২১,৭৯৩ টাকা এবং মোট পরগনা ১৮০।

সামগ্রিক চিত্র

বিভাগ             সরকার            পরগনা            রাজস্ব (টাকা)

গঙ্গার পূর্বে        ১১                 ৩৭৭               ৩৪,৮২,৫২৯

গঙ্গার পশ্চিমে      ৪                  ১২৫               ১৮,৪০,০৩৯

ডেল্টায়            ৪                  ১৮০               ১০,২১,৭৯৩

মোট               ১৯                 ৬৮২              ৬৩,৪৪,২৬০

এই ১৯টি সরকার, ৬৮২টি পরগনা ও ৬৩,৪৪,২৬০ টাকা রাজস্ব — এটাই ছিল বাংলার প্রকৃত খালসা রাজস্ব। গ্রান্টের মূল অভিযোগ – ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় দেশীয় প্রশাসন এই প্রকৃত হিসাব গোপন করে, আসিল তুমার জমা-র সঙ্গে আবওয়াব যোগ করে এবং তা কমিয়ে দেখিয়ে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিল। এই তথ্যই পরবর্তীতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রাজস্ব সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করে।

টীকা

সরকার (Sarkar): মুঘল প্রশাসনিক বিভাগ — আধুনিক জেলার অনুরূপ। ইংরেজিতে “Circar” বা “Sircar” লেখা হলেও এর প্রকৃত ফারসি রূপ “সরকার”। গ্রান্টের তালিকায় ১৯টি সরকার ছিল।

পরগনা (Pergunnah): সরকারের উপবিভাগ — মহল বা তালুকের সমতুল্য। মোট ৬৮২টি পরগনা ছিল।

খালসা (Khalsa): সরকারের শাসনাধীন ভূমি — যার রাজস্ব সরাসরি রাজকোষে যেত।

আসিল তুমার জমা (Ausil Toomar Jumma): বাংলার প্রকৃত রাজস্ব-নির্ধারণ বা মূল রাজস্ব-তালিকা — যা ১৭২২ সালে জাফর খানের সংস্কারের পর চূড়ান্ত রূপ পায়।

টোডরমল (Todar Mal): আকবরের রাজস্বমন্ত্রী — ১৫৮২ সালে তাঁর প্রবর্তিত তুমার জমা মুঘল ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি।

আবওয়াব (Abwab): মূল ভূমি-রাজস্বের অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করা নানা ধরনের কর — যা পরে স্থায়ী হয়ে যায়।

সিক্কা রুপি (Sicca Rupees): মুঘল আমলে প্রচলিত রুপি — যার মান মুদ্রার ওজন ও খাঁটিটি ধাতুর ভিত্তিতে নির্ধারিত হতো।

গ্রান্টের তালিকায় ১৯টি সরকারের যেসব অঞ্চল চিহ্নিত, সেগুলোর ঐতিহাসিক নাম ও সীমানা বাংলাদেশের ২৭টি জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বেশ কয়েকটি জেলাজুড়ে ছড়িয়ে আছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে — মুঘল আমলের সরকার বা পরগনা ছিল মূলত রাজস্ব ও প্রশাসনিক বিভাগ, যা বর্তমান জেলা বা উপজেলার সীমানার সাথে হুবহু মেলে না। কালের বিবর্তনে নদী-ধারা পরিবর্তন, ভূমিক্ষয়, নতুন জেলা গঠন — এসব কারণে অনেক ঐতিহাসিক পরগনার আজ অস্তিত্ব নেই।

১. গঙ্গার পূর্বে ১১টি সরকার

জেন্নেতাবাদ (গৌড়): প্রাচীন রাজধানী গৌড় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার অন্তর্গত। এই অঞ্চলের ধ্বংসাবশেষ রামকেলি থেকে লুকোচুরি মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত।

পূর্ণিয়া: বর্তমানে বিহারের পূর্ণিয়া জেলা এবং বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর জেলার বিস্তীর্ণ অংশ।

তাজপুর: এই সরকারের বড় অংশ ছিল দিনাজপুর জেলার পশ্চিমাঞ্চলে। এছাড়াও সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় তাজপুর নামে একটি ইউনিয়ন আজও আছে। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কিল্লা তাজপুর নামে একটি ঐতিহাসিক স্থানও রয়েছে।

পিঞ্জেরাহ (পিঞ্জেরা হাভেলি): দিনাজপুর জেলার উত্তরাঞ্চলীয় অংশ। দিনাজপুরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে তাজপুর নামে একটি পরগনা ছিল।

ঘোড়াঘাট: রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

বারবেকাবাদ: দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল। মাহীসন্তোষ অঞ্চল যা “বারবকাবাদ” নামে পরিচিত ছিল।

বাজোয়া (বাজুহা): ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলার কিছু অংশ।

সিলেট: বর্তমান সিলেট বিভাগ। সুরমা নদীর ওপারে কাছাড়ের কাছে অবস্থিত।

সোনারগাঁও: বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলা। মুঘল আমলে এটি ছিল বাংলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র।

ফতেহাবাদ: বাগেরহাট জেলার খানজাহান আলীর সমাধিস্থল এলাকা। সুলতানি আমলে খানজাহান আলীকে “ফতেহাবাদ পরগণা”-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

চট্টগ্রাম: বর্তমান চট্টগ্রাম জেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। ফেনী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন ছিল।

টেরিয়া ও সিকলা ঘাটের কাছে — তেলিয়াগড়ি আর সকরি গলি। ১৭৮০-এর দশকে উইলিয়াম হজেসের আঁকা ছবিতেও একে Pass of Sicri Gully বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তেলিয়াগড়ি — তেলিয়াগড়ি ছিল বাংলার প্রবেশদ্বার — উত্তরে গঙ্গার খাড়া তীর, দক্ষিণে রাজমহল পাহাড়। একে মুঘলেরা বেঙ্গলের চাবি Key of Bengal বলত। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলায় রাজমহল পাহাড়ের উত্তর-পূর্ব কোণে, গঙ্গার তীরে। সকরি গলি – সাহেবগঞ্জ জেলার রাজমহল সাবডিভিশনে, গঙ্গার তীরে। রাজমহল পাহাড়ের পাদদেশে।

২. গঙ্গার পশ্চিমে ৪টি সরকার

উদুম্বুর (রাজমহল/আকবরনগর): পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলার সংযোগস্থলে। রাজমহল পাহাড়ের পাদদেশে।

শরীফাবাদ: বীরভূম জেলার অংশ। এই নামে একটি শহর ছিল যা বর্তমানে বীরভূমের অন্তর্গত।

সেলিমাবাদ: পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম ও বর্ধমান জেলার কিছু অংশ। ইতিহাসে উল্লেখ আছে সেলিমাবাদ পরগণার চতুঃসীমা।

মন্দারন (বা গড় মন্দারন): পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার সংলগ্ন অঞ্চল, দামোদর ও রূপনারায়ণের সঙ্গমের কাছে।

৩. ডেল্টার ৪টি সরকার

সাতগাঁও: এর বড় অংশ হুগলি জেলার সাতগাঁও এলাকা। তবে সিলেটের শ্রীমঙ্গলেও “সাতগাঁও” নামে একটি ঐতিহাসিক বাজার ও রেলস্টেশন রয়েছে, যা একই নামের ভিন্ন অবস্থান।

মাহমুদাবাদ: বর্তমানে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলা। সরকারটির বিস্তৃতি ছিল উত্তর নদীয়া, বৃহত্তর যশোরের উত্তর, কুষ্টিয়া, মাগুরা এবং ফরিদপুরের পশ্চিমাঞ্চল।

খলিফেতাবাদ (যশোর): বর্তমানে যশোর ও খুলনা জেলা। এই সরকারের ৮টি পরগনায় আফগানদের বসতি ছিল।

বোকলাহ (ইসমাইলপুর): এর অবস্থান ছিল পদ্মা নদীর পশ্চিম তীরে। বর্তমানে এই অঞ্চলের বড় অংশ রাজবাড়ী, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

সংক্ষেপে

গ্রান্টের এই ১৯টি সরকার আজকের মানচিত্রে তবে মুঘল “সরকার” ছিল মূলত একটি রাজস্ব-আদায়ের ইউনিট — ব্রিটিশ আমলে জেলা সৃষ্টি, ১৯৪৭-এর দেশভাগ, এবং স্বাধীনতার পর জেলা পুনর্গঠনের ফলে এই প্রাচীন বিভাগগুলোর অনেক নাম মুছে গেছে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev