| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ডোকরা শিল্পীদের কাহিনি : স্বর্ণাভা কাঁড়ার পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ছমছম পায়েল বাজে’ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শাশ্বত বোস-এর বড়োগল্প এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে নন্দিনী অধিকারী-র বড়োগল্প ‘দুর্গাদালান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নকশালবাড়ি স্থাননামের নকশাল শব্দটির উৎসের সন্ধান : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনয় মজুমদারের কবিতা — বিজ্ঞান ও দর্শনের রসায়নজাত স্বতন্ত্র নির্মাণ : আনন্দগোপাল হালদার উৎসবে মানুষ নতুন হয়ে ওঠে : হাসান আজিজুল হক ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘চার্বাক দর্শন’ দুর্গা যখন মাঠংমা : শ্যামলী কর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার গিরমিটিয়া ভারতীয়দের ইতিহাস — কলকাতা বন্দর থেকে বিশ্বজুড়ে এক সংগ্রামের কাহিনী : কমল ব্যানার্জী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সৃজন-মানসের অন্তর্বয়ন ও লেখাজীবনের প্রেক্ষিত : আনন্দগোপাল হালদার কেতকী কুশারী ডাইসন, রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা ও আমাদের রক্ষণশীল সমাজ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাষ্ট্রের বিধি বনাম মায়ের শেষ ইচ্ছে — চিন্ময়কৃষ্ণের ঘটনা যে প্রশ্ন রেখে গেল : যশোবন্ত রায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার নেপালের পর কি কলকাতা জলের তলায় চলে যাবে — চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি : রিঙ্কি সামন্ত
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৭৫ Views জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

[৭০ পর্বর টিকা চলছে]

২. রাজা দুলভরাম বা রায়দুর্লভ [দুর্লভরাম মহীন্দ্রা]

রাজস্ব আদায়ের কাজে অভিজ্ঞ, নমনীয় স্বভাবের এবং দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন হিন্দু কর্মকর্তা; পলাশীর ষড়যন্ত্রের অন্যতম অংশী – পলাশীর মাঠে রায়দুর্লভ নবাবের বিশাল সৈন্যদলের সেনাপতি থাকা সত্ত্বেও মীর জাফরের নির্দেশে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকেন। তাঁর এই নিষ্ক্রিয়তা ও বিশ্বাসঘাতকতাতেই নবাব সিরাজউদ্দৌলার নিশ্চিত পরাজয় ঘটে এবং বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয় । ক্লাইভ তাঁকে তাঁর প্রশাসনিক সহযোগী নির্বাচন করেছিলেন। গ্রান্টের মিনিটে ক্লাইভের সহযোগী নির্বাচনের যথার্থ স্বীকার করে বলা হয়েছে — হিন্দুস্তানে সম্মানবোধ, বিচক্ষণতা, সংযম ও ন্যায়পরায়ণতার (স্থানীয় প্রেক্ষাপটে বিচার্য গুণাবলী) ক্ষেত্রে রাজা দুলভরামের চেয়ে ভালো হিন্দু পাওয়া যেত না। তবে তা সত্ত্বেও সেই আদি ত্রয়ীর আমলে প্রবর্তিত ব্যবসায়িক রুটিন, দাপ্তরিক নথিপত্র ও প্রথাগত রীতিনীতির কারণে দেশের ন্যায্য রাজস্বের ক্ষেত্রে নিশ্চিত ও অমার্জনীয় ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মিনিটে আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। [সুভাষচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, The Career of Rajah Durlabhram Mahindra (Rai-Durlabh), Diwan of Bengal, 1710-1770, পড়তে পারেন]

৩. রাধা কান্ত সিংহ (Radha Kanta Singh)

গঙ্গাগোবিন্দের বড় ভাই এবং প্রাণকৃষ্ণের পিতা। তিনি ছিলেন সেই যুগের একজন অত্যন্ত ধূর্ত ও গোপনীয়তা রক্ষায় দক্ষ মুৎসুদ্দি বা হিসাবরক্ষক। গ্রান্টের মিনিটে তাঁকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যিনি রাজকোষের পাওনা, জমিদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের অবৈধ আয়, রাজস্বের হিসাব তৈরি বা বিশ্লেষণের কৌশল এবং কর ও ভূ-সম্পত্তির অংশবিশেষ ভাগ করা, উপ-বিভাজন, মিশ্রণ, সংযোজন, হ্রাস বা সম্পূর্ণ গোপন করার কাজে সর্বাধিক দক্ষ ছিলেন। এই ধরনের দক্ষতার কারণে ভারতীয় অর্থব্যবস্থার সাধারণ প্রক্রিয়াগুলো আরও জটিল ও দুরূহ হয়ে পড়ত এবং প্রকৃত রাজস্বের পরিমাণ নির্ণয় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। [চণ্ডীচরণ সেনের দেওয়ান গঙ্গা গোবিন্দ সিংহ পড়তে পারেন]

৪. আদি ত্রয়ী (Original Triumvirate)

গ্রান্টের মিনিটে “আদি ত্রয়ী” বলতে বোঝানো হয়েছে মোহাম্মদ রেজা খান, রাজা দুলভরাম এবং রাধা কান্ত সিংহ — এই তিন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত প্রশাসনিক জোটকে। এরা তিনজনই ছিলেন দেওয়ানি লাভের পর (১৭৬৫-এর পর) কোম্পানির পক্ষে বাংলার রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। গ্রান্টের মতে, এই ত্রয়ীর আমলে প্রবর্তিত ব্যবসায়িক রুটিন, দাপ্তরিক নথিপত্র ও প্রথাগত রীতিনীতির কারণে দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত ও ন্যায্য রাজস্বের ক্ষেত্রে নিশ্চিত ও অমার্জনীয় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দেওয়ানি লাভের সেই স্মরণীয় সময় থেকে কোম্পানির শাসনামলের বিগত বিশ বছরে অন্তত দুই কোটি টাকার এই ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে মিনিটে দাবি করা হয়েছে। দ্রষ্টব্য: বাংলার ইতিহাসে “ত্রয়ী” শব্দটি অন্য একটি প্রেক্ষাপটেও ব্যবহৃত হয় — হাজী আহমদ, দেওয়ান আলমচাঁদ ও জগৎ শেঠ। তারা ছিলেন আলিবর্দি খানের উত্থান (১৭৪০) ও সরফরাজ খানের পতনের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী গোষ্ঠী। কিন্তু গ্রান্টের মিনিটে “আদি ত্রয়ী” বলতে তাদের বোঝানো হয়নি; বোঝানো হয়েছে দেওয়ানি-পরবর্তী প্রশাসনের তিন শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাকে।

৫. ক্লাইভ (Lord Clive)

বাংলায় সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রাথমিক পর্যায়ের অন্যতম প্রধান সামরিক ও প্রশাসনিক নেতা। গ্রান্টের মিনিটে তাঁর প্রশাসনিক সহযোগী নির্বাচনের যথার্থতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি; বরং বলা হয়েছে — তিনি তাঁর সামরিক ব্যক্তিত্বের তেজ, দক্ষতা ও প্রভাবের সহায়তা পেতেন। তবে মিনিটে এটাও স্বীকার করা হয়েছে যে, এমনকি ক্লাইভের মতো প্রতিভাবান ও নিস্বার্থ ব্যক্তির পক্ষেও সেই প্রাথমিক দিনগুলোতে স্থানীয়দের জটিল ও কুটিল আর্থিক কার্যকলাপের রহস্য উন্মোচন করা দীর্ঘ সময়ের বাধার সম্মুখীন হতো।

৬. কানুনগো পদ (Kanungo)

মুঘল শাসনব্যবস্থায় অর্পিত সাময়িক দায়িত্বের ওপর একমাত্র কার্যকর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এই পদটি বংশানুক্রমিকভাবে পরিচালিত হতো এবং বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকেই কায়স্থ সম্প্রদায়ের দুটি ভারতীয় পরিবারের মধ্যে অসমভাবে বিভক্ত ছিল। মূলত ব্যক্তিগত দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারের ওপর নির্ভর করত, নিছক বংশগত দাবির ওপর নয়। একটি সাধারণ হিন্দু রীতি অনুসরণ করা হতো — দত্তক নেওয়া উত্তরাধিকারী (নাবালক নাতি, ভাইপো বা কুড়িয়ে পাওয়া সন্তান) পিতা, মাতা বা গৃহের অভিজ্ঞ ব্রাহ্মণ উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে কাজ করতেন এবং সম্রাটের দরবারে নায়েব বা উকিল উপাধিধারী একজন অনুগত ও প্রশিক্ষিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সেই নাবালক চ্যান্সেলর, নিবন্ধক ও সুবার রাজকীয় নথিপত্রের রক্ষকের প্রতিনিধিত্ব করতেন। আলোচ্য সময়ে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান মুৎসুদ্দি ক্ষুদ্রতর কানুনগোর পক্ষে এই দায়িত্ব পালন করছিলেন; তাঁর পদমর্যাদা নিচু হওয়ায় তিনি মন্ত্রীর উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আরও উপযুক্ত হাতিয়ার হয়ে উঠেছিলেন এবং খালসা দপ্তরের পেশকার পদে নিযুক্ত হন।

৭. খালসা দপ্তর (Khalsa Daftar)

রাজস্ব ও হিসাব সংক্রান্ত সরকারি দপ্তর। এই দপ্তরের প্রাচীন নথিপত্র অনুযায়ী করযোগ্য বিভিন্ন জেলার নির্ধারিত ক্রম, আয়তন ও নামকরণের বিষয়াদি নির্ধারিত হতো। গ্রান্টের মিনিটে বলা হয়েছে — এই দপ্তরের নথিপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত রাজস্বের হিসাব উদ্ঘাটন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আলোচ্য সময়ে একজন বুদ্ধিমান মুৎসুদ্দি খালসা দপ্তরের পেশকার পদে নিযুক্ত হয়ে মন্ত্রীর স্বার্থসিদ্ধিতে সহায়তা করেছিলেন।

৮. উত্তর সরকার (Northern Circars)

ভারতের পূর্ব উপকূলের একটি অঞ্চল (বর্তমান অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার অংশবিশেষ)। গ্রান্টের মিনিটে এই অঞ্চলের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে — সেখানে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে স্থানীয় প্রতিনিধিদের একটি গোষ্ঠীর ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করার সেই একই মারাত্মক ভুল করা হয়েছিল, যা বাংলায় করা হয়েছিল। সেখানেও এই প্রতিনিধিরা প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ গোপন করতে অথবা সার্বভৌমত্বের ন্যায্য ও অনস্বীকার্য অধিকার ও জমিদারি স্বত্বের প্রকৃত প্রকৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করতে গভীর স্বার্থান্বেষী ছিল। ফলে বাংলার মতো সেখানেও রাজস্বের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

৯. সদর সারাংশ (Sudder Abstracts)

রাজস্বের সারসংক্ষেপ বা সারাংশ নথি। গ্রান্টের মিনিটে এই নথির সমালোচনা করে বলা হয়েছে — সম্প্রতি এমন সব বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেখানে ইওরোপের সার্ডিনিয়া রাজ্যের দ্বিগুণ আয়তনের কোনো জমিদারি এলাকার বার্ষিক বন্দোবস্তের হিসাব আর কোনো নগণ্য তালুক বা অখ্যাত গ্রামের হিসাবকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা হয়েছে। অথচ আধুনিক বন্দোবস্তের বিশাল নথিপত্রের নব্বই শতাংশতেই দেশের মোট রাজস্বের এক-শতাংশেরও হদিস পাওয়া যায় না। লেখকের মতে, এই ধরনের খুঁটিনাটি বিষয় বিশাল সাম্রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক চিত্র উপস্থাপনের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়।

১০. তকসীম-হস্তবুদ (Taksim-Hastabud)

রাজস্ব ও আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সংক্রান্ত নথি। গ্রান্টের মিনিটে উল্লেখ করা হয়েছে — কাসিম আলীর ক্ষমতাচ্যুতির সময় রাজকোষের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ধ্বংস বা আত্মসাৎ করে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রচলিত কাহিনী শোনা যায়; তার মূলে হয়তো কিছুটা সত্যতা থাকতে পারে। তবে দেশীয় রাজস্ব কর্মকর্তারা মূলত নিজেদের অতীতের অনিয়ম বা আত্মসাতের ঘটনাগুলো যাতে খতিয়ে দেখা না হয় — এবং সেই অনিয়মের মূল উৎস পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত সংস্কারের পথ যাতে প্রশস্ত না হয় — তা ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই কাহিনীটি বারবার প্রচার করে থাকেন। কাসিম আলীর নিজস্ব শাসনকালের ইতিহাস, কর আরোপের সাধারণ নীতি কিংবা প্রদেশগুলোর তকসীম-হস্তবুদ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সত্যিই হারিয়ে গেছে বা পাওয়া যাচ্ছে না — যেসব নথিতে আমিলদার বা রাজস্ব আদায়কারীদের ব্যক্তিগত বাড়তি আয় বা কেফিয়ত-এর অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার বিষয়টি সুবিধাজনকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

১১. আমিলদার ও কেফিয়ত (Amildar & Kefiyat)

আমিলদার ছিলেন রাজস্ব আদায়কারী বা স্থানীয় রাজস্ব কর্মকর্তা। কেফিয়ত ছিল তাদের ব্যক্তিগত বাড়তি আয় বা সরকারি কোষাগারে জমা করার বিষয় সংক্রান্ত নথি। গ্রান্টের মিনিটে বলা হয়েছে — কাসিম আলীর শাসনামলের কিছু নথিপত্রে আমিলদারদের ব্যক্তিগত বাড়তি আয় বা কেফিয়ত-এর অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার বিষয়টি সুবিধাজনকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল; সেই নথিগুলো হয়তো হারিয়ে গেছে বা পাওয়া যাচ্ছে না।

১২. মুৎসুদ্দি (Mutsuddi)

মুঘল ও ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামোয় মুৎসুদ্দি ছিলেন হিসাবরক্ষক বা কেরানি শ্রেণির কর্মকর্তা। তাঁরা রাজস্বের হিসাব তৈরি, বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণের কাজে নিযুক্ত থাকতেন। গ্রান্টের মিনিটে রাধা কান্ত সিংহ ও খালসা দপ্তরের পেশকার — উভয়কেই মুৎসুদ্দি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লেখকের মতে, এই শ্রেণির কর্মকর্তারাই রাজস্বের প্রকৃত হিসাব গোপন করে ইউরোপীয় তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে সর্বাধিক সক্ষম ছিলেন।

১৩. রায়-রায়ান (Roy Royan)

মোহাম্মদ রেজা খানের হিন্দু সহকর্মী। মুঘল প্রশাসনিক কাঠামোয় মন্ত্রীর লাগামহীন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু নামমাত্র সহযোগীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল; রায়-রায়ান সেই ব্যবস্থার অংশ ছিলেন। কিন্তু গ্রান্টের মিনিটে স্পষ্ট বলা হয়েছে — তাঁর দুর্বল নিয়ন্ত্রণ মোহাম্মদ রেজা খানের স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপকে কেবল ত্বরান্বিত ও সুদৃঢ় করেছিল, কোনোভাবে রোধ করতে পারেনি।

১৪. ব্যাংকার সহযোগী (Banker Associate)

গ্রান্টের মিনিটে উল্লেখ করা হয়েছে — মোহাম্মদ রেজা খানের সঙ্গে একজন ব্যাংকার সহযোগী ছিলেন, যিনি কেবল অর্থ-লেনদেনের লাভেই আগ্রহী বা অভিজ্ঞ ছিলেন এবং যার অর্জিত মুনাফা ছিল দেশ থেকে সংগৃহীত বিপুল নগদ অর্থের অনুপাতে বিশাল। স্বাভাবিকভাবেই সেই অন্যায্য ও কুটিল পথকে তিনি আরও ত্বরান্বিত করেছিলেন।

[কিস্তি ৭০-এর টিকা শেষ; কিস্তি ৭১ শুরু]

আমাদের নিজেদের দেশেরই কিছু অত্যন্ত দক্ষ ও সম্মানিত ব্যক্তি — যাঁরা এ দেশে সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক পদে ছিলেন — একটা ভ্রান্ত ব্যবস্থাকে শুধু চালুই করেননি, বরং জোর গলায় তার সমর্থনও করেছেন। সেই ব্যবস্থা উল্টে ফেলার পথে যে বাধাগুলো আছে, সে সম্পর্কে আমি এখানে কেবল এইটুকু বলব:যদি প্রমাণ করা যায় যে, এই কর চাপানোর ব্যবস্থাটা শুরু হয়েছিল কোম্পানির পক্ষে নিযুক্ত প্রথম দেশীয় প্রশাসনের হাত ধরেই — আর তাদের তত্ত্বের মূল ভুলগুলো ধরা পড়েছিল বহু বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা, গভীর অনুসন্ধান, কিংবা রাজস্বের নথিপত্রের রহস্যময় ভাষা হঠাৎ বুঝে ফেলার মাধ্যমে — তাহলে এই জটিলতার অনেকটাই কমে যাবে। তবুও একটা কঠিন কাজ বাকি থেকে যাবে। সেটা হলো — জনসাধারণের মনে যে ভুল ধারণা বা পক্ষপাত তৈরি হয়েছে, সেটা বদলানো। এই কাজটা হয়তো আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়, আমাদের ক্ষমতার বাইরে। তারপরও চেষ্টা করা দরকার। কারণ এই পক্ষপাতটা এসেছে সম্প্রতি প্রকাশিত একটা বই থেকে। বইটির নাম — “১৭৭৬ সালের গভর্নর জেনারেল ও কাউন্সিলের মূল কার্যবিবরণী” (Original Minutes), সঙ্গে “বাংলার রাজস্ব বন্দোবস্তের একটি পরিকল্পনা” ইত্যাদি। বইটা স্থানীয় তথ্যে ভরপুর। ইউরোপের অর্থব্যবস্থা বা সুশীল সমাজের জন্য এর রাজনৈতিক নীতিমালাগুলোও খুবই উপযুক্ত। কিন্তু সমস্যা হলো — অনেক মৌলিক বিষয়ে এই বইটি এ দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। আমাদের এখনকার আলোচনায় এর কয়েকটি বিষয় স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসবে। তবে এখানে শুরুতে কয়েকটি সবচেয়ে জরুরি বিষয় উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না — যেগুলোতে আমরা ওই বইয়ের লেখকের সঙ্গে গভীরভাবে দ্বিমত পোষণ করি। বিশেষ করে, ভারতের প্রকৃত মানুষ ও বস্তুর পরিস্থিতিতে তাঁর উপস্থাপিত তথ্য ও মতামতের প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে আমাদের মতভেদ অত্যন্ত বিস্তৃত।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev