উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়া। আমরা ভারতের জনতা। এই কথাটা ইদানীং সিজেপির কোন কোন তরুণ নেতার মুখে শুনছি। বিশেষ করে শুনছি নেহা বোরার মুখে। নেহার দৃপ্ত অথচ আবেগঘন উচ্চারণে জীবন্ত হয়ে উঠছে কথাগুলি। আর সেই আবেগের টানে আসুমদ্র হিমাচল আমার ভারতের জনতার ছবি ভেসে উঠছে আমার মনে। সে জনতার মধ্যে মিশে আছে হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান আর দলিত, তফশিলি, আদিবাসী মানুষের মুখচ্ছবি। একশো চল্লিশ কোটি সেই জনতাই ভারতের শক্তি, ভারতের গর্ব।
অথচ একশো চল্লিশ কোটির অন্ন, বস্ত্র, জীবিকা ছিনিয়ে নিয়েছে শতকরা একভাগ বা তারও কম মানুষ। আর সেই একভাগ বা তারও কম মানুষের পাহারায় আছে আমাদের দেশের শাসকেরা। কিন্তু এই শাসকেরা তো একশো চল্লিশ কোটি মানুষের ভোটে জিতে এসে গণতন্ত্রের বড়াই করে। গণতন্ত্রের নামে এরা দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানে কায়েম করেছে নিজেদের আধিপত্য। অকেজো করে দিয়েছে গণতন্ত্রের সমস্ত স্তম্ভগুলি। বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা নেই, সংবাদ মাধ্যমের নিরপেক্ষতা নেই, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নেই, নিরপেক্ষতা নেই আইনের। বাইরের গণতন্ত্রের কাঠামোটা বজায় রেখে ভেতরের থেকে তাকে নিঃসার করে দিচ্ছে শাসকেরা। ভয় দেখাচ্ছে বিরোধীদের। কিনে নিচ্ছে বিধায়ক আর সাংসদদের।
উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়ার কি কোন দায় নেই? তাঁরা কি চুপ করে বসে থাকবেন? অদৃষ্টের উপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে মৃত্যু আর অবক্ষয়ের দিন গুনবেন? আসল ভগবান তো তাঁরাই, কেন তাঁরা নকল ভগবানের অবিচার মেনে নেবেন চুপচাপ?
সিজেপির তরুণ বিদ্রোহীরা তুলেছেন সেই প্রশ্ন। তাঁরা বলে দিয়েছেন, দল আমরা গড়েছি; কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে অন্য দলের মতো গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাবো না। আমরা পালন করব প্রহরীর ভূমিকা। ভাঙনের জয়গান আমরা গাইব, সে কেবল নব-নবীনের পথ-প্রস্তুতির জন্য।
অনেকদিন বাদে নটরাজের আবির্ভাবে চোখে আমাদের পুলক ঘনায়। অনেকদিন বাদে আমরা শুনছি : তাতা থই থই তাতা থই থই/নাচে জন্ম নাচে মৃত্যু তালে তালে। গতানুগতিকতার জাড্যে, এলিটিসিজমের ফাঁদে, শপথের কোলাহলে, নিশ্চেষ্টতায় আবিষ্ট ছিলাম আমরা। সিজেপির তরুণ ছেলে-মেয়েরা আমাদের মনে জাগিয়ে তুলেছে ‘দুরন্ত আশা’।
অত্যাচারে মত্ত-পারা
কভু কি হও আত্মহারা?
তপ্ত হয়ে রক্তধারা
ফুটে কি দেহ মাঝে?
অ্র্হর্নিশি হেলার হাসি
তীব্র অপমান,
মর্মতল বিদ্ধ করি
বজ্রসম বাজে?
দাস্যসুখে হাস্যমুখ,
বিনীত জোড়কর,
প্রভুর পদে সোহাগ–মদে
দোদুল কলেবর।
উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়ার চোখ খুলে দিচ্ছে সিজেপির তরুণেরা। বলছে : তোমরাই কিং মেকার, অথচ সেই কিংএর আজ্ঞাবাহক হয়ে আছ তোমরা। প্রশ্ন করার অধিকার নেই তোমাদের, প্রতিবাদ করার সাহস নেই। সর্বাঙ্গে যে দাসত্বের আবরণ, তাকে ছিন্ন করো, পরিত্যাগ করো মোহমুগ্ধ দৃষ্টি। চোখ খোলো, বলো :
হেলায়ে মাথা, দাঁতের আগে
মিষ্ট হাসি টানি
বলিতে আমি পারিব না তো
ভদ্রতার বাণী।
উচ্ছ্বসিত রক্ত আসি
বক্ষতল ফেলিছে গ্রাসি,
প্রকাশহীন চিন্তারাশি
করিছে হানাহানি।