৯৯. দেশের রাজস্ব বা খাজনার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাদের কার্যক্রমের এই সংক্ষিপ্ত বিবরণ সেই এক সমস্যার কথাই তুলে ধরে, যার মুখোমুখি আমাকে বারবার হতে হয়। আমার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যে কোনো জেলার উদাহরণ নেওয়া যেতে পারে। রংপুর জেলার কথাই ধরা যাক—যার অধিকাংশই ছিল অনুমাননির্ভর; সেই জেলার বিভিন্ন সময়েরাজস্বের পরিমাণ কমা-বাড়ার মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট বছরগুলোতে যা দাঁড়িয়েছিল, তা নিচের সারণীতে উল্লেখ করা হলো:

১০০. ১১৭৮ সালে রংপুরের রাজস্ব বন্দোবস্ত মূলত ‘হস্তবুদ’ বা জেলার সম্পদ ও আয়ের উৎসের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই করা হয়েছিল বলে জানা যায়; এতদ সত্ত্বেও ১,৮৭,১২৮ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি। কারণ, এই কর নির্ধারণের অনেক উপাদানই ছিল কেবল অনুমাননির্ভর; বিশেষ করে ৮১,৯৬০ টাকার এক অংশকে তো সরাসরি ‘অনুমাননির্ভর বৃদ্ধি’ (conjectural increase) হিসেবেই দেখানোই হয়েছিল।
১০১. যদি কেউ প্রশ্ন করে, রংপুরের রাজস্ব নির্ধারণের জন্য ওই বছরগুলোর মধ্যে কোন বছরকে মানদণ্ড ধরা উচিত, তাহলে একজন হয়তো সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের বছরটিকে বেছে নেবেন, অন্যজন হয়ত বাছবেন সবচেয়ে কম আদায়ের বছরটিকে। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্ভবত দুজনেই ভুল করবেন। বরং উপযুক্ত উত্তর পেতে হলে দরকার—বছরের পর বছর রাজস্ব কেন বাড়ছে বা কমছে, তার কারণগুলো খতিয়ে দেখা; নির্ধারিত রাজস্বের সঙ্গে প্রকৃত আদায়ের অঙ্ক মিলিয়ে দেখা; কোন জেলার রাজস্ব আদায় কতটা নির্ভর করে ওই বছরের আবহাওয়া ও ফসলের অবস্থার ওপর, তা যাচাই করা অন্যান্য বছরের অবস্থার সঙ্গে তার তুলনা করা; এবং শেষ পর্যন্ত, সেই বছরে ঠিক কী পদ্ধতিতে রাজস্ব আদায় সম্পন্ন করা হয়েছিল, সেটা জানা। তাহলেই সত্যের কাছাকাছি একটা উত্তর দেওয়া সম্ভব (অর্থাৎ রাজস্ব নির্ধারণের জন্য শুধু সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন কোনো এক বছর আদর্শ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। উপযুক্ত অনুমান করতে হলে বছরভেদে রাজস্ব বৃদ্ধি-হ্রাসের কারণ, আবহাওয়া, ফসলের অবস্থা, আদায়ের পদ্ধতি—এসব বিষয় বিস্তারিত বিবেচনা করা জরুরি — অনুবাদক)।
১০২. ১১৯৩ সালের (১৭৮৬-৮৭ খ্রিস্টাব্দ) রংপুরের রাজস্ব নির্ধারণ হল সমগ্র বাংলার মোট রাজস্বের প্রায় আটত্রিশ ভাগের এক ভাগ। এবং যদিও প্রতিটি জেলায় এই হারে তারতম্য নাও থাকতে পারে, তবুও এই তারতম্যগুলো সামগ্রিক পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত কতটা ভ্রান্ত হতে পারে, তা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট। আর এই কারণেই এই বিষয়ে অনুমানের আশ্রয় নেওয়া যুক্তিযুক্ত (অর্থাৎ ১১৯৩ সালে রংপুরের রাজস্ব ছিল সমগ্র বাংলার রাজস্বের মাত্র ১/৩৮ ভাগ। এর মানে এই নয় যে সব জেলার অবস্থা একই রকম। বরং এই তারতম্যই প্রমাণ করে যে শুধু মোট বা গড় পরিসংখ্যান দেখে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়—প্রতিটি জেলার নিজস্ব অবস্থা ও প্রেক্ষাপট বুঝে আলাদাভাবে বিচার করতে হবে। আর যেহেতু উপযুক্ত পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, সেহেতু অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হবে — অনুবাদক)।
১০৩. মনে হয়, মি. গ্র্যান্টের এই মতের প্রধান ভিত্তি ছিল কাশিম আলির (মীর কাশিম) বন্দোবস্ত; গ্রান্ট বলেন দেশের রাজস্ব অত্যন্ত কম মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে তিনি অন্য যুক্তিও তুলে ধরেছেন। সেগুলোর কয়েকটা আমি এখন আলোচনা করব, কিন্তু তিনি যে ক্রমে সেগুলো উপস্থাপন করেছেন, আমি ঠিক সেই ক্রমে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব না।
১০৪. প্রথমত, কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পর থেকে রায়তদের দেওয়া মূল খাজনার (আসল) ওপর আরও অনেকগুলো খাজনা চাপানো হয়েছে। এই ঘটনা থেকে বলা হয় যে, জমিদাররা রায়তদের থেকে যে খাজনা আদায় করছে, তা সরকারের দাবির চেয়ে অনেক বেশি—অথচ সরকারি রাজস্ব দাবি তেমন একটা বাড়েনি।
১০৫. এই খাজনা আদায়ের যে পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে, তা এতটাই আংশিক আর অসম্পূর্ণ যে, এ থেকে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আমি মনে করি না যে, সম্পূর্ণ সত্য স্বীকার করলেও এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো আদৌ সম্ভব হবে। এটা অন্য নীতির ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, রাজশাহী জমিদারির ওপর পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটা গণনায় দেখা গেছে যে, ওই অঞ্চলের বার্ষিক আদায় প্রায় ৬৩ লক্ষ টাকা। কিন্তু এই অঙ্ক ওই জমিদারির ওপর আরোপিত সর্বোচ্চ রাজস্বের চেয়েও অনেক বেশি — এবং এটি ওই অঞ্চল থেকে কখনও আদায় হওয়া সর্বোচ্চ অর্থের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই অসংগতিই প্রমাণ করে যে, ওই গণনা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। আমার কাছে এই প্রমাণই চূড়ান্ত (অর্থাৎ শোর বলছেন, এই চরম অসংগতিই প্রমাণ করে যে সেই হিসাব ভিত্তিহীন ও ভ্রান্ত — অনুবাদক)।
১০৬. আসল কথা হলো, মফস্বল বা স্থানীয় পর্যায়ের নথিপত্র ও হিসাবের কাঠামো ও নীতিতে এত বেশি পরিবর্তন এসেছে যে, বর্তমান সময়ের হিসাবের সাথে পঁচিশ বছর আগের হিসাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। খাজনা বা আবওয়াবের সংখ্যা যত বেড়েছে, ‘আসল’ বা মূল খাজনার হার তত কমেছে; এমনকি কোনো কোনো জায়গায় অতিরিক্ত কর বা ‘সেস’-এর মাধ্যমেই মূলত রাজস্বের বড় অংশ আদায় হয়। তুলনার জন্য বিবেচিত দুটি সময়ের জনসংখ্যা ও কৃষিকাজের অবস্থা, অর্থের আপেক্ষিক মূল্যমান, অতীতে ধার্য করা খাজনা এবং প্রতি বছর আদায় করা অতিরিক্ত দাবির উপযুক্ত তথ্য জানা থাকলে তবেই এ ধরনের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই উপযুক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। লবণ-শুল্কসহ সামগ্রিক রাজস্বের পরিমাণ দেওয়ানি লাভের পর থেকে কমেনি। সুতরাং প্রদত্ত তথ্যাদি থেকে আরেকটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব — যদিও আমি নিজে সেই মত প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি না যে, কর বা রাজস্বের বোঝা এতটাই ভারী ছিল যে তা রাজ্যের প্রজাদের চরম শোষণের শিকার হতে বাধ্য করেছিল।
১০৭. মিস্টার গ্রান্ট তাঁর বিশ্লেষণের একটা অংশে বাংলার ভূমির মোট উৎপাদনকে (gross produce) ২০ কোটি টাকা বলে ধরে নিয়েছেন। আমি তাঁর এই ধারণার সাথে একমত নই।
১০৮. এমন কোনো সর্বজনগ্রাহ্য মানদণ্ড নির্ধারণ করা কঠিন যার ভিত্তিতে মোট উৎপাদনকে অযৌক্তিক বলে গণ্য করা যেতে পারে।
১০৯. এই উদ্দেশ্যে, আমি একটা বিষয়কে সত্য বলে ধরে নিচ্ছি: রায়তরা তাদের জমির মোট উৎপাদনের অর্ধেক অংশ খাজনা হিসেবে প্রদান করে [অর্থাৎ জমির মোট ফসল উৎপাদনের অর্ধেক নিয়ে যায় কোম্পানি সাম্রাজ্য — অনুবাদক]। এবং আমি ধরে নিচ্ছি যে বাংলা প্রদেশে সরকারের সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ ২ কোটি টাকা। আমি আরও স্বীকার করতে রাজি যে, আদায়ের খরচ—যার মাধ্যমে আমি কেবল জমিদার, ইজারাদার এবং নানা স্তরের ভূস্বামী আর প্রজাদের দেওয়া খরচ বোঝাই — তা এই অঙ্কের ১৫ শতাংশ, এবং সরকার আর রায়তদের মধ্যবর্তী মুনাফা আরও ৩৫ শতাংশ বেশি। সামগ্রিকভাবে এই ছাড় দেওয়া অত্যন্ত উদার, যা মোট তিন কোটি টাকা দাঁড়ায়। যদি এটিকে মোট উৎপাদনের অর্ধেক হিসেবে ধরা হয়, তাহলে মোট উৎপাদন হবে ছয় কোটি টাকা। এর সাথে যদি আমরা হস্তান্তরকরা বা বিশেষ সুবিধাপাওয়া জমির (alienated lands – অর্থাৎ যে জমিতে রাজস্ব ধার্য হত না — যেমন লাখিরাজ — অনুবাদক) খাজনা — সর্বোচ্চ সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী — যোগ করি এবং সেই হিসাবটাকেও মোট উৎপাদনের অর্ধেক ধরি, তবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ৮,৫১,২৭,৮২৬ টাকার বেশি হবে না। এই পরিমাণ মিস্টার হলওয়েলের হিসাবের চেয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা কম; এবং মি. গ্র্যান্টের মতে প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম, যেমন এটা রাষ্ট্রের কাছে প্রকৃতপক্ষে পাওয়া রাজস্বের চেয়ে বেশি। আমি এই হিশেবে সুচিন্তিত নির্ভুলতার দাবি করছি না, যা কেবলই অনুমাননির্ভর; কিন্তু যারা খাজনা আদায়ের অভিজ্ঞতা রাখেন, তারা নিশ্চই আমার এই হিসেবকে অন্যায্য মনে করবেন না। তাদের খাজনার দাবিকে মোট উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশে সীমাবদ্ধ রাখাই যথেষ্ট উপযুক্ত, যা মিঃ গ্রান্ট সার্বভৌম শাসকের মালিকানাধীন অংশ বলে মনে করেন; সমস্ত হস্তান্তরিত জমি পুনরুদ্ধারের অনুমানের ভিত্তিতে (যা আমি অসম্ভব বলে মনে করি) প্রকৃত আদায় কেবল তার বর্তমান পরিমাণের সমান হবে।
১১০. দ্বিতীয়ত, হস্তান্তরিত জমির বিষয়টি — যা থেকে মিস্টার গ্রান্ট এক কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে অনুমান করেছিলেন। এই হিসাব ‘সিডেড ল্যান্ডস’ বা হস্তান্তরিত অঞ্চলের নিশ্চিত হিসাব থেকে পাওয়া আনুপাতিক হারের ভিত্তিতে এবং ‘দেওয়ানি ল্যান্ডস’ বা দেওয়ানি অঞ্চলের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করে তৈরি করা হয়েছে।
৯৯ স্তবক আর সারণীর টিকা ৯৯ নম্বর স্তবকে এই সারণীটি ব্যবহার করা হয়েছে রংপুর জেলার রাজস্ব আদায়ের ধারাবাহিক পতন প্রমাণ করার জন্য। এটা জন শোরের (স্যার জন শোর) বক্তব্যের একাংশ, যা দিয়ে তিনি জেমস গ্র্যান্টের ‘আন্ডার-অ্যাসেসমেন্ট’ তত্ত্ব খণ্ডন করতে চেয়েছেন।
সারণীতে রংপুর জেলার বিভিন্ন বছরের রাজস্ব বন্দোবস্ত দেখাচ্ছে :
বঙ্গাব্দ খ্রিস্টাব্দ রাজস্ব বন্দোবস্ত (টাকা)
১১৬৯ ১৭৬২-৬৩ ১১,২৯,৩২৪
১১৭১ ১৭৬৪-৬৫ ৫,০৯,১৮২
১১৭৫ ১৭৬৮-৬৯ ৯,১১,৭৮৯
১১৭৮ ১৭৭১-৭২ ১১,০১,৭৪৩
১১৮১ ১৭৭৪-৭৫ ৭,৯৫,২৯৮
১১৮৮ ১৭৮১-৮২ ৯,৪৭,১৮৮
১১৯৩ ১৭৮৬-৮৭ ৭,৩৯,২৪৪
কেন শোর এই সারণী ৯৯ নম্বর স্তবকে উল্লেখ করেছেন? শোর, মিনিটে এই সারণী ব্যবহার করে দুটো মূল বক্তব্য তুলে ধরেছেন প্রথমত. রাজস্বের অস্থিরতা আর পতন — ১৭৬২-৬৩ সালে রংপুরের রাজস্ব বন্দোবস্ত ছিল ১১,২৯,৩২৪ টাকা। ১৭৮৬-৮৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭,৩৯,২৪৪ টাকায় — প্রায় ৩৫% কমল। এই কম আদায় প্রমাণ করে কৃষকরা রাজস্ব দিতে পারছিল না, এবং এই সমস্যার মুখে দাঁড়িয়ে বারবার রাজস্ব কমানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত তিনি গ্র্যান্টের ‘আন্ডার-অ্যাসেসমেন্ট’ তত্ত্ব সরাসরি খণ্ডন করলেন। জেমস গ্র্যান্ট বলেছিলেন বাংলার রাজস্ব আদায় আরও বাড়ানো সম্ভব (আন্ডার-অ্যাসেসড)। শোর এই সারণী দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে রংপুরের মতো জেলায় রাজস্ব কমানো হয়েছে — অর্থাৎ, কৃষকরা আরও রাজস্ব বহন করতে পারছিল না। তার প্রশ্ন হল যদি রাজস্ব আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকত, তাহলে রংপুরের মতো জেলায় রাজস্ব কেন বারবার কমেছে?
শোর এই সারণী রংপুরের কৃষক-বিদ্রোহ ও দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করেছেন – ১৭৭০-এর মন্বন্তরের পর রংপুরের মতো জেলাগুলোতে জনসংখ্যা ও উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পায়। ১৭৮৩ সালের রংপুর কৃষক বিদ্রোহ প্রমাণ করে কৃষকরা রাজস্বের বোঝা আর বহন করতে পারছিল না। শোর দেখাতে চেয়েছেন রাজস্ব কমানো মানে ‘জনস্বার্থ’ রক্ষা করা, আর গ্র্যান্টের প্রস্তাবিত রাজস্ব বৃদ্ধি মানে কৃষক-শোষণ বাড়ানো। শোর এই সারণী দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন — রাজস্ব কমানো হয়েছে কারণ কৃষকরা তা দিতে পারছিল না। গ্র্যান্টের যুক্তি ভুল — কারণ রাজস্ব বাড়ানোর কোনো ঐতিহাসিক বা বাস্তব ভিত্তি নেই। ব্রিটিশ শাসন ‘সংযত’ — তারা কৃষকদের ওপর চাপ কমিয়েছে (যদিও বাস্তবে তা শোষণের নতুন রূপ ছিল)।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ