Logo
এই মুহূর্তে ::
সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি — ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশেকে লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার

দিলীপ মজুমদার / ৪৩ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

আদিনিবাস

আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আদি নিবাস ছিল হুগলি জেলার দিগসুই গ্রামে। তাঁদের বংশের আদিপুরুষ ছিলেন রামায়ণের অনুবাদক ফুলিয়া নিবাসী কৃত্তিবাস ওঝার এক ভাই। খন্যান স্টেশন থেকে আনুমানিক ৩/৪ ক্রোশ দূরে দিগসুই গ্রাম। সেই বংশে গঙ্গাপ্রসাদের বাবা অর্থাৎ শ্যামাপ্রসাদের প্রপিতামহ বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৭৮৭ সালের ১৮ অক্টোবর। জন্মের অল্প দিন পরে বিশ্বনাথ পিতৃহীন হন তখন তাঁর মা বিশ্বনাথকে নিয়ে চলে আসেন জিরাট গ্রামে। সে গ্রামেই ছিল তাঁর পিত্রালয়। তখন হুগলি ছিল ফরাসিদের ঘাঁটি। কারও কারও মতে ফরাসি শব্দ ‘জিরায়ৎ’ থেকে ‘জিরাট’ শব্দের জন্ম। জিরাট নামের সার্থকতা সম্বন্ধে যে কথা বলা হয়, তা হল : এই গ্রামে গোপীনাথ জিউর একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার পরের দিন ভোরবেলায় মন্দির চত্বরে প্রভুর পদচিহ্ন দেখা যায়। ‘জিউ’-র ‘জি’, দান করা অর্থে ‘রা’, আর পদ অর্থে ‘টা’ — জিরাট। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের প্রপিতামহ রামজয় মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে প্রপিতামহী সরস্বতীদেবী তাঁর ছোটছেলে বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে চলে আসেন জিরাট গ্রামে। এই বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায় স্যার আশুতোষের পিতামহ।

বিশ্বনাথ প্রতিপালিত হন মামার বাড়িতে। সে বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না। বিশ্বনাথ বড় হয়ে রোজগারের চেষ্টা করেন। তারপর তিনি জিরাট গ্রামে তৈরি করেন নিজের বাসভবন। বর্ধমানের রাজার সভাপণ্ডিত সার্বভৌম চট্টোপাধ্যায়ের দৌহিত্র রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা ব্রহ্মময়ীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পুণ্যশীলা নারী হিসেবে খ্যাতি ছিল ব্রহ্মময়ীর। তিনি গ্রামের কয়েকজন সঙ্গিনীর সঙ্গে পায়ে হেঁটে পুরী যান। তারপর কোন কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তাঁর পুত্র গঙ্গাপ্রসাদের বয়স মাত্র ৬ বৎসর। মাত্র কয়েক বছর বাদে আবার দুর্যোগ নেমে এল গঙ্গাপ্রসাদের জীবনে। ১৮৪৯ সাল। গঙ্গায় স্নান করার সময়ে নৌকার মাস্তুল ভেঙে পড়ে বিশ্বনাথের মাথায়। ১৫ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তাঁর সন্তানরা নিতান্তই শিশু-কিশোর। গঙ্গাপ্রসাদের বয়স ১৩, দুর্গাপ্রসাদের বয়স ১৭, হরিপ্রসাদের বয়স ১১। (বার্তা টুডে, ০৬.০৭.২০২০)

জিরাটের বাড়িতেই আশুতোষের পিতা ডাঃ গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের জিরাটের বাড়িটি সেকালের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়, পঙ্কজ মল্লিক প্রভৃতিদের আগমনে এই বাড়ি মুখরিত হত।

বাবু বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “ শতাধিক বছরেরও বেশ কিছু আগে হুগলি জেলার বলাগড়ের জিরাট থেকে দারিদ্র্যতাড়িত হয়ে দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নামের এক কিশোর শহর কলকাতায় আসেন। মেধাবী হওয়াতে পড়াশুনো শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বৃত্তি পেতে থাকলেন তিনি। সেই বৃত্তির অর্ধেক টাকা দিয়ে অতি কষ্টে নিজের পড়াশুনো চালিয়ে বাকি অর্ধেক টাকা দেশে পাঠাতেন। এইভাবে অতি কষ্টে পড়া শেষ করে একসময় আন্দুল স্কুলে শিক্ষকের চাকরি পান যুবক দুর্গাপ্রসাদ। এ সময় সবটা না হলেও কিছুটা আর্থিক স্বচ্ছলতা আসে। এই সময়ই তিনি জিরাট থেকে পিতৃহীন ছোট তিন ভাই হরিপ্রসাদ, গঙ্গাপ্রসাদ, ও রাধিকাপ্রসাদকে নিজের কাছে আনেন।

“এইভাবে বড়দার হাত ধরে গঙ্গাপ্রসাদের প্রথম এ শহরে আসা। তবে কলকাতাতে প্রথম এসে ঠিক কোন জায়গায় তাঁরা থাকতেন, এটা পরিষ্কার করে জানা না গেলেও ছাত্রজীবনের প্রথম দিকে গঙ্গাপ্রসাদ যে একসময় বউবাজার স্ট্রিটের ‘হিন্দু হস্টেলে’ (প্রেসিডেন্সি কলেজের হিন্দু হস্টেল নয়) থাকতেন, এ ঘটনা জানা যায়। গঙ্গাপ্রসাদ পড়াশুনো করেছেন প্রথমে কলুটোলা ব্রাঞ্চ স্কুলে (বর্তমানে হেয়ার স্কুল), প্রেসিডেন্সি কলেজ, শেষে মেডিকেল কলেজে।

“পড়াশুনো চলাকালীন একসময় গঙ্গাপ্রসাদ হিন্দু হস্টেল ছেড়ে ২৯, মলঙ্গা লেনের (বউবাজার) ভাড়া বাড়িতে চলে আসেন। তিনি যখন মেডিকেল কলেজের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তখন তাঁর বড়দা দুর্গাপ্রসাদ উত্তর কলকাতার কাঁসারিপাড়ার হরিলাল চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে জগত্তারিণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেন। তিনি যখন মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সেই সময় অর্থাৎ ১৮৬৪ সালের ২৮ জুন তাঁর দুই পুত্র ও এক কন্যার প্রথম জন আশুতোষ মলঙ্গা লেনের এই ভাড়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।” (পুরশ্রী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ : ৭৭, রসা রোড : ঐতিহাসিক স্মৃতিধন্য বাসগৃহ, ২০.০৬.২০১৩ )

১৯২৮ সালে তাঁদের পৈতৃক ভিটাতে প্রতিষ্ঠা করা হয় আশুতোষ স্মৃতি মন্দির। পরবর্তীকালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পৈতৃক সম্পত্তিটি নারীশিক্ষার জন্য দান করেন। ১৯৫৯ সালে এখানে গড়ে ওঠে আশুতোষ স্মৃতি মন্দির বালিকা বিদ্যালয়। এখানে স্যার আশুতোষ ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত স্মারক ও গ্রন্থাগার আছে। পৈতৃক ভিটার জমির পরিমাণ এখন ৬/৭ কাঠা।

বর্তমান রাজ্য সরকার স্যার আশুতোষের পৈতৃকবাড়িটি সংস্কার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সাংবাদিক কৌশিক ভট্টাচার্যের মতে, ‘প্রাণ ফিরে পাবে শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিবিজড়িত সেই বাড়ি –সেই আশায় বুক বাঁধছে বলাগড়বাসী।’

শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটায় তৈরি হবে ১২৫ ফুটের বিশাল মূর্তি। বলাগড়ে মিনি বন্দর তৈরি করারও সরকারি পরিকল্পনা আছে। বামাপ্রসাদের বাড়িতে হবে সংগ্রহশালা এবং অডিটোরিয়াম। বামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাতি বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে শোনা যাচ্ছে আমাদের বাড়ি সরকার অধিগ্রহণ করে মিউজিয়াম তৈরি করার চিন্তা-ভাবনা করছেন। শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুটের মূর্তি তৈরি করতে অনেকটা জায়গা প্রবোজন। জিরাট বাসস্ট্যাণ্ড ও অসম লিঙ্ক রোডের পাশে জায়গা দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূর্তির সঙ্গে তৈরি হবে অডিটোরিয়াম। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও আমার দাদু বামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্কুল, পাঠাগার তৈরি করেছেন, আমরাও চাই স্বপ্নপূরণে জিরাট বলাগড়ের উন্নতি হোক।

‘আমি ছাড়াও আমার পিসিমা এখনও জীবিত, তাঁরাও এই বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন আমাদের। বলাগড়ে যেহেতু বন্দর হচ্ছে তাই বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন রইল সামগ্রিক উন্নয়নের। সর্বোপরি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হোক জিরাটের।… আপনারাই (ইটিভি ভারত) প্রথম আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আপনাদের মাধ্যমেই সরকারের কাছে আবেদন জানাই সংস্কার বিষয়ে। তাতেই ভালো সাড়া পাই। এখন শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে এত কিছু চিন্তা ভাবনা করছে, এটাই ভালো লাগছে আমাদের পরিবারের।’

ভবানীপুরের মুখার্জিবাড়ি

স্যার আশুতোষের পিতা ডাঃ গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জিরাট থেকে চলে আসেন কলকাতায়। ১০/১ (এখন তার নম্বর ২৯) মলঙ্গা লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। এই ভাড়াবাড়িতে ১৮৬৪ সালের ২৯ জুন ভোর চারটেতে জন্ম আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের। তারপর তাঁর পিতা ভবানীপুরের রসা রোডে (বর্তমানে আশুতোষ মুখার্জি রোড) তৈরি করেন বাড়ি। তখন বাড়ির ঠিকানা ছিল ৭৭, রসা রোড, এখন ৭৭, আশুতোষ মুখার্জি রোড।

বাবু বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পূর্বোক্ত প্রবন্ধে লিখেছেন :

“দরিদ্র রোগীর সেবা করার ইচ্ছা নিয়ে ১৮৬৬ সালের জুন মাসে উত্তর কলকাতার বউবাজারের মলঙ্গা লেনের ভাড়াবাড়ি ছেড়ে সপরিবারে গঙ্গাপ্রসাদ দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের বর্তমানের জগুবাবুর বাজারের উত্তর দিকে তখনকার কামরাঙাতলা গলির মুখে (এখন অন্নদা ব্যানার্জি লেন) বঁদিকে সেদিনের রসা পাগলা রোডের ওপর একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ডাক্তারখানা খোলেন এবং এই ডাক্তারখানার পাশের পূবদিকে ছিল তাঁর বসবাসের জন্য ভাড়া নেওয়া বাড়িটি। তাঁর দিনলিপি থেকে জানা যায় এই বাড়ির মাসিক ভাড়া ছিল ১৭ টাকা এবং আরও জানা যায় যে ওই ডাক্তারখানাটি খুলতে তিনি তাঁর ছোটভাই রাধিকাপ্রসাদের কাছ থেকে ২৩০ টাকা ধার নিয়েছিলেন। ডাক্তারিতে নাম ও অর্থ হওয়া মাত্র ১৮৭১ সালে বর্তমানের ৭৭ নম্বরের কিছুটা জমি কিনে সেই জমির উপরেই বর্তমানের এই বাড়িটি তৈরি করতে শুরু করেন গঙ্গাপ্রসাদ। এই বাড়ি তৈরিতে প্রতিদিন যত টাকা খরচ হত সেটি বিস্তারিতভাবে লিখে রাখতেন একটি খাতায়। সেই খাতার নাম ‘বাটী প্রস্তুতের খাতা’। পরে এই খাতা দেখে মাসে কত খরচ হল, পরে সেই টাকার অঙ্কটি লেজার বুকে বা জাবেদা খাতায় তুলতেন। এই বাড়িটি তৈরি করার সময় তাঁর ছোটভাই রাধিকাপ্রসাদ ও বন্ধুদের থেকেও কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন গঙ্গাপ্রসাদ।

“বাড়িটির একতলাটি স্ত্রী-পুত্র নিয়ে বাস করার মত হওয়া মাত্রই ভাড়া বাড়ি ছেড়ে ১৮৭৩ সালের ১২ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে এই বাড়িতে গৃহপ্রবেশ করেন গঙ্গাপ্রসাদ। এই গৃহপ্রবেশের সময় আশুতোষের বয়স ছিল মাত্র ৯ বৎসর। বাড়িটিতে বসবাস করার চার বছর পর অর্থাৎ ১৮৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি লোহার রড বা শিক লাগানো কাঠের বড় দরজা বা গেট লাগান বাড়িটিতে। ওই গেটটির দাম পড়েছিল ৬৪ টাকা। ১৮৮২-৮৪ সালে থেকে বাড়িটির পরিবর্তনে এবং দোতলায় ও তিবতলায় ঘর তৈরি করতে শুরু করেন তিনি। এই কাজ চলে ১৮৮৮ সাল পর্যন্ত। এই বাড়িটির পরিবর্তন বা বাড়ানোর সময়েই অর্থাৎ ১৮৮৬ সালেই বাড়িটির দক্ষিণ দিকে পড়ে থাকা জমিও—জমির মালিক চন্দ্র মণ্ডলের কাছ থেকে মৌরসি পাট্টা করে নেন। বর্তমান বাড়িটির (৭৭ নম্বর) গেটের বা সদরের অর্থাৎ উত্তর অংশ গঙ্গাপ্রসাদের তৈরি এবং বাড়িটির ডানদিকের অর্থাৎ দক্ষিণ দিকের পুরো চারতলা বাড়িটিই ১৯১৮/১৯ সালে স্যার আশুতোষ তৈরি করেন। বাড়িটি তৈরি হওয়ার আগে খালি জমির বড় রাস্তার দিকে কতকগুলি পেয়ারা গাছ ও একটা বড় বেলগাছ ছিল। তখন ওই খালি জমিটিকে স্থানীয় মানুষ বলতেন –বেলতলা। এই বাড়ি তৈরি করতে চন্দ্র মণ্ডলকে মৌরসি পাট্টা দেওয়ার জন্য গঙ্গাপ্রসাদের মোট খরচ হয়েছিল ৩৫,৬৩৩ টাকা ১৫ পয়সা (পাই পয়সা)।

“ডাক্তার গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পুত্র আশুতোষের বিবাহ দেন ১৮৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে। কৃষ্ণনগরের পণ্ডিত রামনারায়ণ ভট্টাচার্য (বন্দ্যোপাধ্যায়) –এর মেয়ে যোগমায়া দেবীর সঙ্গে। তবে বিবাহের ৪ বৎসর পরেও আশুতোষের কোন সন্তানাদি না হওয়াতে প্রমাদ গণেন গঙ্গাপ্রসাদ। তিনি ভাবলেন যদি একেবারেই সন্তাদি না হয় তবে হয়তো তাঁর মৃত্যুর পর আশুতোষজননী সেকালের প্রথা মেনে ছেলের আবার বিবাহ দিতে পারেন। তখন যোগমায়ার কি হবে? এই ভেবে ১৩.১২,১৮৮৯ সালে প্রয়াত হওয়ার আগেই তিনি উইল করে এই ৭৭ নম্বর বাড়িটি আশুতোষকে না দিয়ে (তখন দ্বিতীয় পুত্র হেমন্তকুমার প্রয়াত) স্ত্রী জগত্তারাণীদেবী ও কন্যাসমা পুত্রবধূ যোগমায়াদেবীকে দিয়ে যান। স্যার আশুতোষ তাঁর ৬০ বছর জীবনের ৫১টা বছর অর্থাৎ ১৮৭৩ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ১৯২৪ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এই বাড়িতেই কাটিয়েছেন। ”

এই ভবানীপুরে সুদূর অতীতে ছিল কুমোর, তাঁতি, চাষিদের বাস। তারপর এলেন কংসবণিক, শঙ্খবণিক, তৈল ব্যবসায়ী, পটুয়া, মৃৎশিল্পীরা। কৃষিজীবী সভ্যতা থেকে কালের আবর্তনে ভবানীপুর আকৃষ্ট হল বাণিজ্যমুখী জীবনের দিকে। বাজার বসল এখানে যোগেশ্বর লাহার কাছ থেকে এক বাজার কিনে নিলেন রানি রাসমণি। নাতি যদুনাথ চৌধুরীকে তিনি দিলেন সেই বাজার। বাজারের নাম হল যদুবাবুর বাজার। একে একে গড়ে উঠল সীতারাম ঘোষের বাজার, গঙ্গারাম সরকারের বাজার, সুলতান মিস্ত্রির বাজার …।

বর্ধিষ্ণু ব্যবসায়ীদের বাসভূমি থেকে ভবানীপুর ধীরে ধীরে সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত মানুষের বাসভূমিতে পরিণত হতে লাগল। হাইকোর্টের প্রথম ভারতীয় বিচারপতি শম্ভুনাথ পণ্ডিতের (১৮২০-১৮৬৭) বাড়ি ভবানীপুর। বিচারক যেমন আছেন, তেমনি আছেন উকিলও। আমরা বলছি জগদানন্দ মুখোপাধ্যায়ের (১৮২১-১৮৯২) কথা। ওকালতি করতেন তিনি। তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন প্রিন্স অব ওয়েলস, যা নিয়ে সেকালে অনেক রঙ্গ-ব্যঙ্গ হয়েছিল। কাঁসারিপাড়ার চন্দ্রনাথ স্ট্রিটে বাস করতেন নটসূর্য অহীন্দ্র চৌধুরী (১৮৯৫-১৯৭৪)। চলচ্চিত্রনির্মাতা গুরু দত্ত (১৯২৫-১৯৬৪) কিছুকাল ভবানীপুরে বাস করেন। বিশ্ববন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় (১৯২১-১৯৯২) থাকতেন বকুলবাগানে। মুক্তাঙ্গনের পেছনে গঙ্গাপদ মুখার্জি লেনে বাস করেছেন আর একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটক (১৯২৫-১৯৭৬) অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের পিতামহ, ইকমিক কুকারের আবিষ্কর্তা ইন্দুমাধব মল্লিকের (১৮৬৯-১৯১৭) বাড়ি ছিল যদুবাবু বাজারের কাছে মোহিনীমোহন রোডে। লেকরোডে মেনকা সিনেমার হলের পেছনে থাকতেন বিখ্যাত গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের (১৮৭০-১৯২৫) বাড়ি ছিল এলগিন রোডের কাছে কাঁসারিপাড়া রোডে। হিন্দু পেট্রিয়টের সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখার্জি ভবানীপুরে তাঁর মামার বাড়িতে থাকতেন। আর সি পি আইদলের প্রতিষ্ঠাতা সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯০১-১৯৭৪) থাকতেন এলগিন রোডে। এই এলগিন রোডে জানকীনাথ বসু (১৮৬০-১৯৩৪), সুভাষচন্দ্র বসু (১৮৯৭- ১৯৪৫?), শরৎচন্দ্র বসুর (১৮৮৯-১৯৫০) বাস ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( ১৯৫৫-) থাকেন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। এই হরিশ চ্যাটার্জী স্টিটে ছিল বিখ্যাত লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্রের (১৯০৪-১৯৮২) বাস। বিখ্যাত অভিনেতা উত্তমকুমারের (১৯২৬-১৯৮০) বাড়ি ছিল গিরীশ মুখার্জি রোডে।

ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর আশুতোষ মুখার্জি রোডের এই বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। এই বাড়ি স্যার আশুতোষের সমস্ত উল্লেখযোগ্য কাজের সাক্ষী। এখানে ছিল আশুতোষের সুবিশাল গ্রন্থাগার। তাঁর মৃত্যুর পর এই গ্রন্থাগার আলিপুরের জাতীয় গ্রন্থাগারকে দান করা হয়। সংগ্রহের মোট পুস্তকসংখ্যা ৮৬ হাজার। এই বাড়িতে পদার্পণ করেছেন সেকালের বিশিষ্ট মানুষেরা — দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিপিনচন্দ্র পাল, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান, ড. সি ভি রমন, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সুভাষচন্দ্র বসু, ফজলুল হক প্রভৃতিরা। আশুতোষের মৃত্যুর পরবর্তীকালে শ্যামাপ্রসাদের সময়ে এখানে এসেছেন জওহরলাল নেহেরু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, সরোজিনী নাইডু, বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, শরৎচন্দ্র বসু, কিরণশঙ্কর রায়, স্যার হাসান সুরাবর্দী, শাহিদ সুরাবর্দী, প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ প্রভৃতিরা। এই বাড়ি থেকে প্রকাশিত হত ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকা।

১৮৬০ সালে এই বাড়িটি আশুতোষ মুখার্জি মেমোরিয়েল ইন্সটিটিউটকে দিয়ে দেওয়া হয়। এই সংস্থাটি পরিচালিত হয় একটি ট্রাস্ট বোর্ড দ্বারা। সভাপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, সম্পাদিকা ডা. বীণা ভাদুড়ী, কোষাধ্যক্ষ অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়। ৭৭ নম্বর বাড়িতে অন্যান্য যে সব প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলি হল :

১] রমাপ্রসাদ চিলড্রেনস লাইব্রেরি

২] শিবতোষ মুখার্জি সায়েন্স সেন্টার

৩] শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ফাউণ্ডেশন টেক্সট বুক লাইব্রেরি

৫] ভারতীয় বিদ্যাভবন

এই বাড়ির দক্ষিণ দিকে একটি মাঝারি মাপের হল বা সভাঘর আছে, যা আলোচনা সভার জন্য ব্যবহৃত হয়।

এই ইন্সটিটিউটের ওয়েবসাইটের ‘ইনভেন্টরি’ বাড়িটির বিশদ বিবরণ আছে :

1] Premises No & Location : 77, Asutosh Mukherjee Road, Bhowanipore, Kolkata .

2] Ward No. : 72 .

3] Settings / Surroundings : South Kolkata . Nearby Metro Station-Netaji Bhavan . Bus Stop — Jadubabur Bajar .

4] Year of Construction : 1872-73 .

5] Original Owner : Dr, Gangaprasad Mukhopadhyay .

6] Present Owner : Asutosh Mukherjee Memorial Institute .

7] Original Use : Residence .

8] Present Use : Institute .

9] Present User : Asutosh Mukherjee Memorial Institute .

10] Historical Significance : The house at 77, Asutosh Mukherjee Road at Bhowanipore was not only the residence of Sir Asutosh & Dr. Shyamaprasad but an iconic house of Kolkata in respect of education and socio-political scenario of Bengal .

Many eminent personalities of that time were friends of Dr. Gangaprasad (father) used to visit his house regularly like Rashbehari Ghosh, Dwarakanath Mitra, Jadunath Mukherjee, Dr. Mahaendralal Sarkar, Gurudas Chattopadhyay, Iswarchandra Vidyasagar, Acharya Sibnath Shstri etc. Even members of JorasankoThakur family used to come as a family friends .

11] Architectural Style : Hybrid .

12] Typology : Mansion, No. of Stories –3 .

13] Architectural Merit : U-shaped building originally a single house built by Dr, Gangaprasad. At a later date two more stories added by Ashutosh to keep his huge collection of books at southern wing . It had a wooden staircase and a small terrace on the first floor . Significant features are —huge front façade/verandah with rows of Corinthian colums ornamental cast iron ralings and wooden louvers . Separate kitchen house, horse stables, pond, garden etc.were there in the plot . It does not exist anymore .

14] Grade – 11A : As per List of Heritage buildings of KMC .

15] Addition / Alteration : A new two storied lecture hall has come up in the courtyard in place of kitchen house . However the main building remains same as before .

16] Status of Protection : Protected under Heritage Building KMC Act 1980.

17] Present Condition : Partially maintained.

18] Construction Technique : Load bearing Brick wall with brick columns as supporting members . Brick stepped foundation.

19] Construction Materials : Wall – Burnt Clay Bricks / Mortar – Lime-Surki / Plaster – Lime-Sand / Floor — Marble / neat cement / Roof – Flat slab with wooden beams & rafters (kori-barga) with terrocota tiles . Lime terracing as waterproofing compound on roof / Doors—Wooden frame with wooden panels / Windows – Wooden frame with wooden louvers (khor-khori) shutters .

20] State of Preservation – Front block maintained but interior needs more attention to regain its pristine glory .

আশুতোষ মুখার্জি মেমোরিয়েল ইন্সটিটিউটের লক্ষ্য সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে ১৯২৫ সালের ২৫ মে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের সভাপতিত্বে স্যার আশুতোষের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালনের সময় একটি স্মারক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই স্মারক কমিটির সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতাদের এই লক্ষ্যে একীভূত করতে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লেগেছিল। ১৯৬০ সালে পারিবারিক বাসভবনটি খালি করে আশুতোষ মুখার্জি মেমোরিয়ে;ল ইন্সটিটিউটকে দান করা হয়। গঠিত হয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ। এই পর্ষদের সভাপতি বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, উপরাষ্টপতি বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি, সচিব ড. রীণা ভাদুড়ি, সহকারী সচিব ড. দেবব্রত চক্রবর্তী, কোষাধ্যক্ষ সুমন মুখার্জি, বিজ্ঞানকেন্দ্র পরিচালক অধ্যাপক মিহির চক্রবর্তী, সদস্যরা হলেন — রবিপ্রসাদ মুখার্জি, শুভপ্রসাদ মুখার্জি, অধ্যাপক মনোতোষ দাসগুপ্ত।

কলকাতা পুরসভার ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের ৭৭, আশুতোষ মুখার্জি রোডের বাড়িটি গ্রেড ওয়ান তালিকাভুক্ত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন ২০১৯ সালে এটি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আশুতোষ মুখার্জি মেমোরিয়েল ইন্সটিটিউটের সভাপতি, আশুতোষ মুখার্জির নাতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায় আপত্তি জানিয়ে লেখেন, ‘কেন অধিগ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে বলতে পারেন? … বাড়িটি যে সংস্কারের প্রয়োজন এটা কে ঠিক করল? ওই বাড়ি আশুতোষ মুখার্জি মেমোরিয়েল ইন্সটিটিউটকে আমাদের পরিবার দিয়েছে। সম্পত্তি কর দেয় ইন্সটিটিউট। পুরসভার কাছে সংস্কারের কথাও বলা হয় নি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন