Logo
এই মুহূর্তে ::
সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি — ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশেকে লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৬ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

১৮৩. এ প্রসঙ্গে রাজশাহীর কালেক্টরের নির্দিষ্ট বক্তব্যের উদ্ধৃতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলেই তুলে দেওয়া গেল; বিশাল সেই জমিদারি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন :

১৮৪. এ দেশের মানুষের মুখে ‘সদর’ আর ‘মফস্বল’-এর মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজনীয়তার কথা সারাক্ষণই শোনা যায়; এই দুটো বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের অভিপ্রায় হলো — শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো সাধারণ তথ্যের সাথে বাস্তব পরিস্থিতির খুঁটিনাটি তথ্যের পার্থক্য বোঝানো। কোনো ডেপুটি যদি তাঁর পরগনা-দরবার (পরগণা-কোর্ট) ছেড়ে কখনোই বাইরে না যান, তবে তিনি তাঁর এলাকার গ্রামগুলোর অবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ধারণা পোষণ করবেন; একইভাবে, কোনো জমিদার তাঁর জমিদারির কাকর্ম সম্বন্ধে ডেপুটি বা দেওয়ানের দেওয়া তথ্যের ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করেন, তবে তিনিও তাঁর পরগনাগুলো সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানবেন না।

১৮৫. একই সঙ্গে তিনি আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, যা হয়তো ঠিক এই প্রসঙ্গের সাথে সরাসরি জুড়ে নেই, কিন্তু সেটা উপেক্ষা করার মতোও নয় : ‘রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত একজন অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক যতই পরিশ্রম করুন না কেন, তিনি কতটা তুলনামূলক জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, তা আর বলে বোঝাতে হবে না; ‘তিনি হয়তো দিন-রাত অত্যন্ত ভুল নীতি অনুসরণ করে কাজ করে চলেছেন এবং প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পরিবর্তে কেবল ভ্রান্ত ধারণাকেই আরও বদ্ধমূল করছেন।’

১৮৬. জমিদারদের অক্ষমতা আর মনোযোগের অভাবকেই আমি তাদের বর্তমান অবস্থার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি, অথচ অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে আরও খারাপ উদ্দেশ্যর কথা বলা হয়ে থাকে; তবে আমার বিশ্বাস, তাদের বোকামি বা দোষ-ত্রুটি যা-ই হোক না কেন, এর ফলে মূলত তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন — এটা তারা বোঝেন না। অতিরিক্ত বিলাসিতা বা সরকারের অত্যধিক দাবির কারণে তারা যে বর্তমানে দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত — তা কিন্তু নয়। অজ্ঞতা আর নিষ্ক্রিয়তাতেই তাদের ওপর এমন সব দায়-দায়িত্বের বোঝা চেপেছে, যা হয়তো সামান্য যোগ্যতা ও মনোযোগ দিলেই এড়ানো সম্ভব ছিল।

১৮৭. আগের বর্ণনা একটা পুরনো পর্যবেক্ষণকে স্পষ্ট করবে: কোনো জমিদারকে তার জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ন্যায়সংগত মনে হলেও, তা সবসময় মানবিকতার বিচারে উপযুক্ত প্রমাণিত হয়নি। বলদাখাল (Baldacaul) জমিদারের সর্বস্বান্ত হওয়ার ঘটনা এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ — জমিদার নাবালক বা নারী কোনোটিই ছিলেন না; এই পদক্ষেপের ফলে প্রকৃত দুর্দশার আরও অনেক উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল এই পদক্ষেপের ন্যায়সংগত দিক বজায় রাখার পাশাপাশি জমিদারের সম্পত্তির সুরক্ষার বিষয়টাকে নিশ্চিত করা। অনেক সময় সর্বোচ্চ বিবেচনা ও শ্রম দিয়েও এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে; এবং কখনও কখনও দেখা গেছে যে, এই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র উপায় হলো জমি ইজারা দেওয়া এবং জমিদারের ভরণপোষণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা। এমনকি সেক্ষেত্রেও, মূল উদ্দেশ্য নস্যাৎ করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে; জমিদারের জীবিকার জন্য নির্ধারিত অর্থ তার কর্মচারীরা নামমাত্র কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের ব্যর্থ ষড়যন্ত্রে অপচয় করেছে। এছাড়া, প্রকৃত ক্ষমতার নাগাল পাওয়া বা ক্ষমতার দোহাই দিয়ে তারা নিজেদের জালিয়াতি আড়াল করার কাজে তা ব্যবহার করেছে।

১৮৮. সরকারি কালেক্টর এবং জমিদারের মধ্যে প্রায়শই যে বিরোধ দেখা দেয়, তা অসংখ্য ঘটনায় জনসমক্ষে উঠে এসেছে; উভয়ের লক্ষ্য অভিন্ন হওয়া উচিত হলেও তাদের মধ্যে খুব কমই মিল দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে জমিদারের অজ্ঞতা এবং প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে লিপ্ত জমিদারির কর্মচারীদের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করা যেতে পারে — উভয়ই মূলত ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকেই ধাবিত হয়। কালেক্টরের কর্তৃত্ব এবং একে অপরের ক্ষমতার বিষয়টি।

১৮৯. যখন কোনো কালেক্টর অনিয়ম বা অপব্যবহার রোধের চেষ্টা করেন, তখন জমিদারকে বিশ্বাস করানো হয় যে তাঁর কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ বা বিলুপ্ত করা হচ্ছে; কালেক্টর যদি জমিদারি কর্মচারীদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করেন, তবে প্রচার করা হয় যে তিনি নিজেই জমিদারি পরিচালনার ভার নিজের হাতে তুলে নিতে চাইছেন। এর ফলে একদিকে যেমন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পালা চলে, অন্যদিকে চলে নানা ষড়যন্ত্র; অভিযোগকারী হিসেবে রায়তদের (কৃষকদের) সামনে আনা হয় এবং কালেক্টরের সততা ও আচরণ নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়। জেলায় আইনি কর্তৃত্বকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে গোপনে নানা প্রভাব খাটানো হয় এবং সর্বত্র এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কালেক্টর অভিযোগ করেন যে তাঁর ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে, আর জমিদার অভিযোগ করেন যে তিনি নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। সরকার যে ধৈর্যসহকারে তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়ে থাকে, উভয় পক্ষই সেই নিরপেক্ষতাকে অপর পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কৌশল হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করে।

১৯০. যেসব জমিদারির দায়িত্বে নাবালক বা নারীরা থাকেন, সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালনার কর্তৃত্ব নিয়ে কর্মচারীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব প্রায়শই থামতে চায় না। বর্ধমানে জমিদার ও তাঁর মায়ের মধ্যকার বিরোধ; দিনাজপুরে যথাক্রমে রাজমাতা ও নাবালক জমিদারের পক্ষে পারিবারিক কর্মচারীদের বিভিন্ন নিবেদন; এবং বিষ্ণুপুরে প্রয়াত জমিদারের বিধবা পত্নীর অভিযোগ — কখনও তাঁর পুরনো কর্মচারীদের বিরুদ্ধে, আবার কখনও তাঁর নিজের সুপারিশে নিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে — এসবই নথিবদ্ধ বহু ঘটনার মধ্যে কয়েকটি উদাহরণ মাত্র। একজন অজ্ঞ বা অলস জমিদারের অবস্থাও প্রায় একই রকম। যদি কোনো সরকারি আদেশের মাধ্যমে ব্যবস্থাপক নিয়োগ করে এই সমস্যার সমাধান করা হয়, তবে তিনি প্রায়শই সেই প্রভাবশালীদের ওপরই বেশি নির্ভর করেন যাঁরা তাঁকে এই পদে বসিয়েছেন; অথচ যে জমিদারের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁর প্রতি তিনি কোনো ভ্রুক্ষেপই করেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি সাধারণত ঈর্ষা ও অভিযোগের পাত্র হয়ে ওঠেন — ঈর্ষা প্রশমিত করা এবং অভিযোগ দমন করা তাঁর জন্য জরুরি হয়ে পড়ে; আপাতদৃষ্টিতে তিনি কিছু ছাড় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, প্রকৃতপক্ষে তা মূল জমিদারের স্বার্থের বিনিময়েই করা হয়। তাঁর আচরণ এবং তাঁকে বহাল রাখা বা বরখাস্ত করার যৌক্তিকতা বিচার করা মোটেও সহজ নয়; কারণ এর জন্য প্রয়োজন দূরবর্তী স্থানে — সরাসরি তদারকির আওতার বাইরে — সম্পাদিত কাজকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা।

৩৩ কিস্তি ১৮৭ আর ১৯০ স্তবকের টিকা

১৮৭ স্তবকে Baldacaul জমিদারির অবস্থান — শোর যে Baldacaul জমিদারির কথা বলছেন, হয়ত সেটা ঐতিহাসিক বলদাখাল (Buldakhal / Baldakhal) পরগনাই; আজকের বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, পূর্ব সময়ের ত্রিপুরা জেলা Zillah Tipperah অঞ্চলের জমিদারি। মেঘনা নদীর তীরের প্রাচীন, গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব এলাকা বলদাখাল। মুঘল আমলের আইন-ই-আকবরিতেও বলদখাল (Buldakhal) পরগনার উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন সুবাসরঙ্গ জেলার অধীনে ছিল এই জমিদারি।

এবারে মহিলা জমিদার সংক্রান্ত ইস্যুতে যৌথভাবে ১৮৭ আর ১৯০ স্তবকের টিকা — ফিফথ রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ডের শোরের মিনিটের করা গুরুত্বপূর্ণ কারন প্রথমটায় আলগোছে পরেরটায় জোরালোভাবে শোর, পুরুষ জমিদারদের ক্ষমতার তুলনায় মহিলা জমিদারদের জমিদারি পরিচালনায় মহিলাদের অক্ষমতার কথা তুলেছেন, অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করেছেন। এই দুই টিকার সমাজতত্ত্ব বিস্তারে আলোচনা করা গেল। আমি এখানে জন শোরের প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণকে শুধু সাধারণ একটা ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে দেখছি না, বরং ঔপনিবেশিক শাসনের লিঙ্গ-ভিত্তিক শোষণ-আর লুঠ-কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছি — এই দুটো স্তবক রচনার মধ্যে দিয়ে শোর বাংলার শক্তিশালী মহিলা জমিদারদের সম্পত্তি আর জমিদারির অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য ইংরেজ আইনি দর্শন আর সামাজিক মনস্তত্ত্ব ব্যবহার করেছিলেন। স্তবক দুটোর কৌশলী বিন্যাস হল মহিলা জমিদার ইস্যুতে শোরের ‘আলগোছা’ থেকে শুরু করে ‘জোরালো’বক্তব্যে উপনীত হওয়া। শোর ১৮৭ স্তবকে বলদাখাল জমিদারের উদাহরণ দিচ্ছেন — যে জমিদার ‘নাবালক ছিলেন না, নারীও ছিলেন না’। তাঁর এই বক্তব্য আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ মনে হলেও এর মধ্যেই নারী জমিদার নিয়ে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি লুকিয়ে আছে। শোর বলতে চেয়েছেন, যদি সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ জমিদারও পুনর্বহাল নীতিতে ধ্বংস হন, তাহলে নারী আর নাবালক-প্রধান জমিদারির অবস্থা আরও দুর্বল হবে। কারন এই সময়ে তো বাংলায় অন্তত ২৫ মহিলার নাম পাচ্ছি — মহিলা জমিদার তো ব্যতিক্রম নন — যেআালাদা করে মহিলা জমিরাদের কথা উল্লেখ করতে হবে। আমরা জানি মাত্র ৩ জন মহিলা জমিদার ব্রিটিশ কোষাগারে বছরে ৭৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব জমা দেন। অথচ একটা স্তবক পরেই ১৯০ স্তবকে তিনি সরাসরি তিন মহিলা জমিদারের জমিদারি — বর্ধমান, দিনাজপুর আর বিষ্ণুপুরের উদাহরণ দিয়ে নারী জমিদারদের ‘অযোগ্যতা’ প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেসব জমিদারির দায়িত্বে নাবালক বা নারীরা থাকেন, সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালনার কর্তৃত্ব নিয়ে কর্মচারীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব প্রায়শই থামতে চায় না। বর্ধমানে জমিদার ও তাঁর মায়ের মধ্যকার বিরোধ; দিনাজপুরে যথাক্রমে রাজমাতা ও নাবালক জমিদারের পক্ষে পারিবারিক কর্মচারীদের বিভিন্ন নিবেদন; এবং বিষ্ণুপুরে প্রয়াত জমিদারের বিধবা পত্নীর অভিযোগ — কখনও তাঁর পুরনো কর্মচারীদের বিরুদ্ধে, আবার কখনও তাঁর নিজের সুপারিশে নিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে — এসবই নথিবদ্ধ বহু ঘটনার মধ্যে কয়েকটি উদাহরণ মাত্র’। এই বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত — কারণ ব্রিটিশ প্রশাসনই এই ‘দ্বন্দ্ব’ তৈরি করেছিল নারী জমিদারদের ‘অযোগ্য’ প্রমাণের জন্য।

যারা মনে করেন ১৮০০ পর্যন্ত মহিলা জমিদার ব্যতিক্রম ছিলেন, তাদের জন্য বাংলাজোড়া জমিদারি প্রশাসন পরিচালনা করা রাণীবর্গের নামোল্লেখ করা গেল —

মন্নুজান বেগম (হুগলি ও যশোর) সন্তোষপ্রিয়া দেবী (তমলুক অঞ্চল) কৃষ্ণপ্রিয়া দেবী (মহিষাদল রাজপরিবার) রাণী শিরোমণি (মেদিনীপুরের কর্ণগড়); গৌতম কুমার দাসের গবেষণায় দেবীচৌধুরাণী পরম্পরায় রংপুরের জয়মণি দেবী চৌধুরাণী, অনঙ্গ মঞ্জরী দেবী চৌধুরাণী, গঙ্গা সুন্দরী দেবী চৌধুরাণী, সারদাময়ী দেবী চৌধুরাণী, চণ্ডী দেবী চৌধুরাণী, পবিত্র দেবী চৌধুরাণী, জগদীশ্বরী জয়দুর্গা দেবী চৌধুরাণী, শ্যাম সুন্দরী দেবী চৌধুরাণী, দু’জন জয়দুর্গা দেবী চৌধুরাণী, ভবতারিণী দেবী চৌধুরাণী; ইতিহাসে অতি বিখ্যাত রাণীবর্গ রাণী ভবানী (নাটোর/রাজশাহী), রাণী জানকী দেবী (মহিষাদল), রাণী সরস্বতী এবং লক্ষ্মী (দিনাজপুর) রাণী জয়দুর্গা দেবী (দিনাজপুর রাজপরিবার) মহারাণী বিশ্বেশ্বরী দেবী (নাটোর), রাণী সারদা সুন্দরী দেবী ও রাণী ভুবনময়ী দেবী (পুঠিয়া) রাণী ব্রজসুন্দরী দেবী (নলডাঙ্গা) রাণী ত্রিপুরা সুন্দরী (দিনাজপুর); রানি সত্যভামা রায় (দিনাজপুর রাজপরিবার) রানি ভবানী দেবী (নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম অঞ্চল), রানি জয়কালী দেবী (ভাওয়াল বা মধ্যবঙ্গ অঞ্চল), রানি কমলেশরী দেবী (নদিয়া রাজপরিবার), রানি শঙ্করী দেবী (সুজানগর ও পাবনা অঞ্চল)।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন