রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে আরামবাগ জেলা ও কামারপুকুর পুরসভা ঘোষণায় এলাকায় খুশির হাওয়া। ঠাকুর রামকৃষ্ণ এলেন পঞ্চায়েত ছেড়ে পুরসভায়। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দ মহারাজ জানালেন, পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা হল। আনন্দের খবর। কিন্তু যেটা জরুরি তাই হল কাজ। সত্যিকার কাজের মানুষ দরকার। পুরসভা এলাকা থেকেও বালতি,ত্রিপল ও অন্যান্য সামগ্রী মিলেছে কাজের লোকের বাড়ি থেকে। এ ধরনের লোক আমরা চাই না। আমরা চাই কাজের মানুষ। সে পঞ্চায়েত হোক কিংবা পুরসভা।
প্রসঙ্গত, কামারপুকুর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিল বিজেপি সরকার। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কামারপুকুরকে পুরসভা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার। গোঘাটের বিধায়ক হওয়ার পর প্রশান্তবাবু এই দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কামারপুকুর সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহ করে জমাও দেন তিনি।শেষ পর্যন্ত বাজেটে কামারপুকুরকে নতুন পুরসভা গঠনের কথা ঘোষণা করা হল। বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, কামারপুকুরকে পুরসভা করাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। এজন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনের পাশাপাশি বিষয়টি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছিলাম। এখানকার মানুষের আবেদনে সরকার সাড়া দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পবিত্র আবির্ভাবভূমি কামারপুকুর। এখানে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন আছে। ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত নানা স্থান ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ উৎসব-অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই এখানে দেশবিদেশের ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে। পুণ্যার্থীরা বিভিন্ন হোটেলে ওঠেন। অনেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যও কামারপুকুরকে বেছে নেন। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম, ভিনজেলার মানুষও কামারপুকুরে বসতি গড়ায় এলাকার জনসংখ্যা বাড়ছে। জমিজট কাটিয়ে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথ কামারপুকুরকে সংযুক্ত করছে। এখানে গ্রামীণ হাসপাতাল, বিডিও অফিস সহ একাধিক সরকারি কার্যালয় রয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে কামারপুকুরে বাস টার্মিনাস তৈরি হয়। যান চলাচল বেশি হওয়ায় হুগলি গ্রামীণ পুলিশ কামারপুকুরে ট্রাফিক গার্ডও রেখেছে। এই এলাকার উপর দিয়ে বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে যাতায়াতের রাস্তা রয়েছে।এই মহকুমায় এখন একমাত্র পুরসভা আরামবাগ। কামারপুকুরকে পুরসভার স্বীকৃতি দেওয়ায় এলাকার মানুষ যারপরনাই খুশি।