শনিবার | ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৩৭
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তারাশঙ্করের উপন্যাসে সমাজগতির ধারা : ড. অলোক রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘নিউরাল কারেন্সি’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কালীঘাট পটচিত্রের ইতিকথা : মনোজিৎকুমার দাস খোলাখাম : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ জামা, জামি, জামাইষষ্ঠী : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আবশ্যক : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পলাশীর যুদ্ধ ও একটি সিদ্ধান্ত (শেষ পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পলাশীর যুদ্ধ ও একটি সিদ্ধান্ত (প্রথম পর্ব) : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজুরিকা চক্রবর্তী-র ছোটগল্প ‘একাকিনী’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী-র ছোটগল্প ‘আবহমান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্বাদু ও রসালো আলুবোখারা–প্রকৃতির এক অনন্য উপহার : রিঙ্কি সামন্ত প্রবাস বাংলা কালচারাল সোসাইটির অনবদ্য সুরঞ্জলি রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী : ফারজানা নাজ শম্পা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৯ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

[১। ১৭৮৪তে বর্ধমানের রাণী বিষ্ণুকুমারীর সম্পত্তির অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা অর্থাৎ বাংলায় মহিলাদের পাবলিক স্পেস থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার সরকারি নীতি ১৭৯০তে মহিলাদের জমিদারির অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং [ফ্রান্সিস-হেস্টিংসের নীতি অনুযায়ী) ১৭৯১-এর ১৫ই জুলাই, গভর্নর-জেনারেল আর তাঁর পরিষদ অযোগ্য জমিদারদের সম্পত্তি তত্ত্বাবধান করতে ‘কোর্ট অফ ওয়ার্ডস’ প্রতিষ্ঠা করে সে সব জমিদারি দখলি বিধিতে রূপান্তরিত হবে [এর পরেও প্রমান করা হবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যই মহিলা মুক্তির দিশারী]

২। প্রতিটি সুশৃঙ্খল সরকারের শাসনব্যবস্থার মূলনীতি হলো, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের ভরণপোষণ নির্বাহ করবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের শ্রমের বিনিময়ে”  —  ফিলিপ ফ্রান্সিস।

এ সবই উপনিবেশিক জাতিরাষ্ট্রের ভিত্তি। আজও  —  অনুবাদক ]

বড় জমিদারীগুলোকে ভাগ করে ছোট করা এবং ছোট জমিদারীগুলোকে অখণ্ড রাখা অথবা সংরক্ষণ করার যৌক্তিকতায় ফ্রান্সিস, হেস্টিংসের নীতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, “উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন বিধি আনা উচিত; যা দিয়ে বড় জমিদারীগুলো সব ছেলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে, আর ছোট জমিদারীগুলো বড় ছেলের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই শর্তে, তাকে ছোট ভাইদের ভরণপোষণ করা নিশ্চিত করতে হবে। এই বিধির ক্রমিক প্রয়োগ ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত রাখা যাবে, যতক্ষণ না বড় জমিদারীগুলোর প্রত্যেকটা থেকে সরকারের প্রাপ্য রাজস্বের পরিমাণ কমে দুই লক্ষ টাকায় এসে দাঁড়ায়।” আর যেখানে রক্তের সম্পর্ক সূত্রে উত্তরাধিকারী পাওয়া যায় না — সেক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হিসেবে কাউকে দত্তক নেওয়ার প্রচলিত হিন্দু প্রথা (“সাধারণত পরিবারের পুরোহিতকেই দত্তক নেওয়া হতো”) লুপ্ত করা উচিত কি না; যাতে বড় জমিদারীগুলো সরকারের খাসদখলে চলে আসার পর তার আয়তন বা রাজস্ব কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজতর হয়। ফ্রান্সিস ‘কোর্ট অফ ওয়ার্ডস’ বা ‘প্রতিপালন দরবার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন (১৭৯১-এর ১৫ই জুলাই, গভর্নর-জেনারেল আর তাঁর পরিষদ অযোগ্য জমিদার এবং তাঁদের ভূসম্পত্তির তত্ত্বাবধানের জন্য ‘কোর্ট অফ ওয়ার্ডস’ প্রতিষ্ঠার বিধি অনুমোদন করেন। ১৭৯৩-এর ১০ নম্বর রেগুলেশনে ১৭৯১-এর সেই প্রস্তাবনা কিছু সংশোধনীসহ নতুন করে বিধিবদ্ধ করা হয়) — “এই দরবারের কাজ হবে এমন সব ভূসম্পত্তির তত্ত্বাবধান করা, যার বর্তমান মালিক বা অধিকারীগণ নাবালক, মানসিক বিকারগ্রস্ত কিংবা নারী; এবং একই সাথে নাবালক সন্তানদের শিক্ষার ভার গ্রহণ করা — যে শিক্ষার দায়িত্ব বর্তমানে সাধারণত এমন সব ভৃত্য বা আত্মীয়স্বজনের ওপর ন্যস্ত থাকে, যাদের সন্তানদের অজ্ঞ বা নির্বোধ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে সুস্পষ্ট স্বার্থ নিহিত থাকে।”

জমিদারদের পুলিশি এখতিয়ার বা ক্ষমতা পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়েও ফ্রান্সিস গভর্নর-জেনারেলের সাথে একমত পোষণ করেন।

প্রজাদের (রায়তদের) সুরক্ষার নিয়ে ফ্রান্সিস ‘লিজা-ফেয়ার’ (laissez-faire) বা অবাধ নীতিতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি মনে করতেন, কৃষকদের তুষ্ট রাখা বা তাদের মন জয় করাই জমিদারের স্বাভাবিক স্বার্থ। তিনি লিখেছেন, “আমি এমন দাবি করতে শুনেছি যে — অতীতে, যখন প্রজা, জমিদারের জমি ছেড়ে চলে যেত, সেই জমিদার তার পিছু নিতেন এবং তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভাব্য সব ধরণের প্ররোচনা ও অনুরোধ করতেন; এমনকি জমিদাররা একে অপরের প্রজাদের ঘুষ দিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের জমিতে নিয়ে আসাতেও অভ্যস্ত ছিলেন। প্রতি বিঘা জমির জন্য দেয় খাজনার পরিমাণ জমিদার আর তাঁর প্রজার (রায়ত) পারস্পরিক সম্মতিতে নির্ধারিত হতে হবে। সরকার কখনোই সরাসরি রায়তদের স্তরে নেমে এসে তাদের ওপর সাধারণ বা সর্বজনীন কর হার নির্ধারণ করতে পারে না; কারণ জমির খাজনার হার বহু অনিশ্চিত পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।” পরের কার্যবিবরণীতে (৫ই নভেম্বর, ১৭৭৬), ফ্রান্সিস, গভর্নর-জেনারেল [হেস্টিংস] আর বারওয়েলকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন — কারণ তাঁরা “রায়তদের জমির ওপর চিরস্থায়ী, নিরবচ্ছিন্ন দখলস্বত্বের” প্রস্তাব করেছিলেন। ফ্রান্সিস পাল্টা বললেন, “রাষ্ট্র কেবল শাসক ও রায়তদের সমষ্টি নয়; কিংবা এটাও সত্য নয় যে, রায়তরাই জমির প্রকৃত মালিক। এমনকি রায়ত যে জমির মালিক হবে — তা তার নিজের স্বার্থের জন্যই হোক কিংবা সরকারের স্বার্থেই হোক — এমন কোনো আবশ্যকতাও নেই। প্রতিটি সুশৃঙ্খল সরকারের শাসনব্যবস্থার মূলনীতি হলো, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের ভরণপোষণ নির্বাহ করবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের শ্রমের বিনিময়ে; আর এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাদের শ্রমের প্রতিদান হিসেবে লাভ করবে সেই শান্তি ও নিরাপত্তা — যা কেবল ন্যায়পরায়ণ শাসনকর্তৃত্ব ও সুশৃঙ্খল আনুগত্যের মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়ে থাকে।” [The scheme of every regular Government requires that the few should be supported by the labour of the many, who receive their retribution in the peace, and security, which accompanies just authority and regular subordina-tion.”] যদি জমিদার আর রায়তদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যদি তাদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তারা এমন এক সমঝোতায় উপনীত হবে, যার মধ্যে উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ খুঁজে পাবে। আর এই স্বেচ্ছা সমঝোতারই প্রমাণ, নিশ্চয়তাই ‘পাট্টা’।”

এখানে আবারও সেই প্রশ্ন — ”রায়ত কি তার দখলে থাকা জমির মালিক?” — সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। যদি জমিদারদের তাদের নিজস্ব জমিজমা পরিচালনার অধিকার থেকে থাকে; তবে অন্যদিকে রায়তদেরও জমিতে দখলস্বত্ব বা ভোগদখলের অধিকার ছিল — যার কোনোই স্বীকৃতি বা উল্লেখ ফ্রান্সিস তাঁর আলোচনায় রাখেননি। (প্রজাস্বত্বভোগী এবং এমনকি অপ্রজাস্বত্বভোগী রায়তও নিজের বসতবাড়ি নির্মাণ করেন, নিজের উপকরণ নিজেই জোগাড় করেন, নিজের সরু বেড়া দেন, নিজের জমি থেকে প্রতিবেশীর জমিতে অতিরিক্ত জল নিষ্কাশনের জন্য নালা কাটেন, সমতল ভূমিতে যোগাযোগের মাধ্যম ও জমির সীমানা নির্ধারণকারী ছোট ছোট মাটির বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ করেন, উৎকৃষ্ট ও অধিক লাভজনক ফসলের জন্য সময় ও অর্থ ব্যয় করেন এবং সংক্ষেপে, ঊর্ধ্বতন জমিদারের কোনো পরামর্শ, নির্দেশনা বা বাধা ছাড়াই নিজের জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করেন। এগুলো জমিতে স্থায়ী স্বত্বের সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ, এবং তা সত্ত্বেও এগুলো অন্যদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার অস্তিত্বের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই স্মৃতিকথার পূর্ববর্তী অংশে বলা হয়েছে যে, রায়তের কাছ থেকে আশা করা হতো তিনি তার নিজের স্বত্বের কোনো বিক্রয় বা হস্তান্তরের বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতনকে অবহিত করবেন। রায়তের ‘জোত’ বা ‘জমা’-র নিজস্ব বাজারমূল্য ছিল। আদালতের কোনো ডিক্রি পূরণের জন্য এটি প্রায়শই প্রকাশ্য নিলামে তোলা হতো এবং ক্রেতারা সামান্যতম উল্লেখ ছাড়াই দর হাঁকে কিনে নিতেন। জমিদারের কাছে জমি হস্তান্তর হতো এবং প্রায়শই ব্যক্তিগত চুক্তির মাধ্যমেও জোত হাতবদল হতো। কখনও কখনও একজন রায়ত তার জোত ছেড়ে দিয়ে কেবল চাষী হিসেবে পুনর্বহাল হতেন। কখনও তিনি তা নিজের জমিদারের কাছে হস্তান্তর করতেন, আবার কখনও কখনও জমিদার ভয় দেখানো, জমি আদায় এবং প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বীর জমির মধ্যে অবস্থিত জোত দখল করতেন। বহু ক্ষেত্রে, জমিদার নিজেই রায়তদের জোত খোলাখুলি ও ন্যায্যভাবে এবং সম্পূর্ণ বৈধ উদ্দেশ্যে ক্রয় করতেন। যদি জমিদারের প্রয়োজনীয় শ্রেণীর অতিরিক্ত জমি না থাকত এবং তিনি বাগান করা, মন্দির নির্মাণ বা পুকুর খননের জন্য একটি ছোট জমি চাইতেন, তবে তিনি সেই উদ্দেশ্যে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিজের রায়তের সাথে দর কষাকষি করতে বাধ্য হতেন। ক্ষতিপূরণ বা সমতুল্য কিছু ছাড়া রায়তের জমি জোরপূর্বক দাবি করার ক্ষেত্রে তিনি আইন, প্রথা বা জনমত দ্বারা সমর্থিত হতেন না। Seton-Karr: Cornwallis (“Rulers of India”), pp. 57-58) । বিধিবদ্ধ আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে হয়তো এমনটা হতে পারে যে, ‘খুদকশত’ রায়তদের (স্থায়ী প্রজা – ফার্সি ‘খুদ’ (অর্থ ‘নিজ’) এবং ‘কশত’ (অর্থ ‘চাষ’) থেকে এসেছে। ঐতিহাসিক ভারতীয় ভূমি ব্যবস্থা এবং কৃষি খাতের পরিভাষা, যা দিয়ে জমির মালিক নিজের জমিতে চাষাবাদকর্ম বোঝায় – অনুবাদক) তাদের দখলস্বত্ব বিক্রির সুনির্দিষ্ট আইনি অধিকার ছিল না; কিন্তু প্রথাগতভাবে তারা সাধারণত তা বিক্রি করতে পারত। তাছাড়া, যদি তারা তাদের প্রাপ্য খাজনা বা বকেয়া পরিশোধ করত, তবে জমিদার তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারতেন না। রায়তদের সুরক্ষা প্রদানে লর্ড কর্নওয়ালিসের ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’-এর ব্যর্থতা এবং তার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিই হলো — সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার পক্ষে ফ্রান্সিসের যে যুক্তি ছিল — তার সর্বোত্তম জবাব। পারস্পরিক স্বার্থের অনুমানভিত্তিক যে পূর্বধারণালব্ধ যুক্তি (a priori argument) উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার জবাবে হেস্টিংস বলেন: “এই সিদ্ধান্তটি যথার্থ হতো, যদি জমিদারদের সবাই নিজেদের প্রকৃত হিত বা সুবিধা কী — তা বিচার করার সক্ষমতা রাখতেন। কিন্তু একটি সত্য বিষয় হলো — যা ইংল্যান্ডে হয়তো সহজে বিশ্বাসযোগ্য হবে না, যদিও এখানকার সর্বজনবিদিত বাস্তবতাই আমাকে তা জোর দিয়ে বলার অধিকার দিচ্ছে — যে, বাংলা ও বিহারের জমিদারদের এক বিশাল অংশই নিজেদের পক্ষে স্বাধীনভাবে বিচার-বিবেচনা বা কাজ করতে অক্ষম; কারণ তারা হয় নাবালক, নয়তো দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি, কিংবা একেবারে নির্বোধ। এই পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট সেইসব অত্যাচার-নিপীড়ন — যা জমিদারির সমৃদ্ধির প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহহীন তাদেরই প্রতিনিধি বা কর্মচারীদের দ্বারা চালানো হয় — রায়তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ বা প্রবিধান প্রণয়নকে অপরিহার্য করে তোলে। এ বিষয়টিও লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, রায়ত বা প্রজা মূলত দুই প্রকারের – অধিকতর মূল্যবান বা গুরুত্বপূর্ণ প্রজা হলো তারা, যারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে; যেখানে তারা নিজেদের জন্য মজবুত ও টেকসই ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে, কিংবা পৈতৃক সূত্রে সেসব ঘরবাড়ি লাভ করেছে। এই শ্রেণীর মানুষ তাদের ভিটেমাটি বা বাসস্থান ত্যাগ করার আগে চরম দুর্ভোগ সহ্য করে; আর ঠিক এই কারণেই তাদের ওপর অশেষ নির্যাতন চালানো হয়। কিন্তু একবার যদি তারা তাদের বাসস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তখন তারা ‘ভবঘুরে রায়ত’-এ পরিণত হয়। মিস্টার ফ্রান্সিস যেমন উল্লেখ করেছেন, এই ভবঘুরে রায়তদের হাতেই জমিদারদের সাথে নিজেদের শর্তে জমি বন্দোবস্ত করার ক্ষমতা থাকে। তারা প্রচলিত হারের চেয়ে কম খাজনায় জমি গ্রহণ করে এবং তা মাত্র এক মৌসুমের জন্য ভোগ করে; এরপর জমিদার যখন তাদের খাজনা বাড়িয়ে দেন কিংবা চুক্তিতে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করেন, তখন রায়তরা হয় জমি ছেড়ে পালিয়ে যায়, অথবা — যদি তারা সেখানে থেকে যায় — তবে তারা দেশের প্রচলিত নির্ধারিত হারের চেয়েও কম খাজনায় জমি ভোগ করতে থাকে। এভাবেই প্রাচীন ও পরিশ্রমী প্রজারা যেখানে জমিদারদের অন্যায় ও অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়, সেখানে ভবঘুরে রায়তরা অর্ধেক মূল্যে জমি ভোগ করার সুযোগ পায়; আর এই বিষয়টিই প্রজাদের জমি ছেড়ে পলায়ন এবং দেশের জনসংখ্যা হ্রাসের (জনশূন্য হয়ে পড়ার) প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করে তোলে।”

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন