১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দের ২১ জুন, মঙ্গলবার গভীর রাত। সুখ নিদ্রায় অচেতন ভারত। আর তখনই লেখা হচ্ছে এই উপমহাদেশের দুশত বর্ষের ললাট লিখন। কি হয়েছিল সেই রাতে! কোথা নেওয়া হয়েছিল এমন এক এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যার ফলে বদলে যায় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের অভিমুখ! কে নিয়েছিলেন এই সিদ্ধান্ত! কজন জানে সেই সুষুপ্ত রাতে কি ঘটেছিল কাটোয়ায়? এদেশের মানুষ চিরকাল ইতিহাস বিমুখ। তাই বারবার বিদেশী শাসকের পদানত হয়েছি আমরা! আঞ্চলিক ইতিহাস বিষয়েও আমরা বড়ই উদাসীন। ইতিহাসের কত গৌরব কাহিনী লেখা আছে নিজের পায়ের নিচে! কিন্ত খবর রাখি নাই। কাটোয়ার তেমনই এক ইতিহাস শোনাই আজ।
১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দের ১৭ই জুন। মধ্য রাতের গভীর আঁধার। সদ্য আগত বর্ষার বৃষ্টি ঝড়ছে ঝিরঝির। শুনশান গঞ্জ মুর্শিদপুরে শোনা গেল গোরা ফৌজের ভারি বুটের আওয়াজ। শব্দ শুনে তাদের অভ্যর্থনা জানালো রাত জাগা পথের কুকুর। ফৌজ আসছে শুনেই মানুষ ইতিমধ্যেই গঞ্জ ছাড়া। ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’। বর্গী হামলার দগদগে ঘা তখনও কাটোয়ার গায়ে। ফাঁকা বাড়ি ঘরের দখল নিল ইংরেজ সৈন্য। উচ্চ পদস্থদের জন্য অবশ্য বিশেষ তাঁবুর ব্যবস্থা করা হল। জায়গাটা সম্ভবত কাটোয়া কলেজের পিছনে এখনকার পাবনা কলোনি। একটু দূরেই অজয় নদ। তার অপর পারেই বাংলার নবাবের শাঁখাই দুর্গ।

অজয় আর ভাগীরথী নদীর সঙ্গম স্থলের ঠিক দক্ষিণ পশ্চিম কোনে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহর। প্রথমে ছিল একটি বৈষ্ণব তীর্থ ক্ষেত্র। এখানেই কেশব ভারতীর কাছে সন্ন্যাসদীক্ষা গ্রহণ করেন যুগাবতার শ্রী শ্রী চৈতন্যদেব (১৫০৯-১০ খ্রীষ্টাব্দ)। সেই কেশব ভারতীর নির্জন নিরিবিলি আশ্রমে সাধন ভজন দর্শনে আসতেন বৈষ্ণব সাধক ও ভক্তের দল। ১৭০৪ খ্রীষ্টাব্দে মুর্শিদকুলি খান ঢাকা’র বদলে মুর্শিদাবাদকে সুবে বাংলার রাজস্ব আদায় কেন্দ্র বা রাজধানী করলেন। তখনই হঠাৎই কাটোয়ার গুরুত্ব বাড়ল। কাটোয়াকে বলা হত মুর্শিদাবাদের প্রবেশ দ্বার। নবাব কাটোয়ার উত্তরে অজয়ের ওপারে শাঁখাই গ্রামে একটি মাটির দুর্গ স্থাপন করেন। বর্গী সেনাপতি ভাষ্কর পণ্ডিত দাঁইহাটে ঘাঁটি গাড়লে নবাব সৈন্য তাদের প্রতিহত করত এখান থেকেই। একবার বর্গীদের হাত থেকে বাঁচতে নবাব আলিবর্দী এখানেই আশ্রয় নেন। এপারে কাটোয়া তখনও বন জঙ্গলে ঘেরা। চারপাশে চোর ডাকাত ঠ্যাঙারে ঠগীদের উৎপাত। নবাব মুর্শিদকুলি খান তাই এখানে একটি থানাচৌকি স্থাপন করেছিলেন। তিনি জায়গাটার নাম দেন মুর্শিদপুর। এখানকার ফৌজদার মহঃ জান দুর্বৃত্তদের শায়েস্তা করার জন্য সর্বদা সঙ্গে কুঠারী বা কুড়ালী নিয়ে এলাকা টহল দিতেন। এমনই ছিল পরিস্থিতি। কাটোয়া তখনও বানিজ্য কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি। বর্গী হামলায় স্থানীয় বাণিজ্য কেন্দ্র ইন্দ্রানীনগর বা দাঁইহাট বিদ্ধস্ত হলে ও গঙ্গা নদী শহর থেকে দূরে সরে গেলে ধীরে ধীরে কাটোয়া দাঁইহাটের স্থান নেয়। গড়ে ওঠে বনিকদের পাকা কুঠী ও নগর (এখন কাটোয়ার নিচুবাজার)।
দিনে বাণিজ্যের আমদানি রপ্তানি, লেনদেনের নানা কাজে মুখর থাকে গঞ্জ। রাতে সব স্তব্ধ। শুধু নগরনটীরা বিনিদ্র। তাদের আসরে আসরে চলে নাচা গানা, স্ফূর্তির ফোয়ারা। দেশী ভিনদেশী বণিকেরা আসে কাঁচা টাকা ওড়াতে। এমন করেই দিন কাটছিল বেশ। ১৭৫৭ সালে এমনই এক আষাঢ় মাস। আশমানে কখন কালো মেঘ জমেছে কেউ দেখেনি। সেই মেঘ যে দুশো বছরের পরাধীনতার তখন কে জানত!

১৯শে জুন ১৭৫৭। তখনও রাতের রেশ কাটেনি। শাঁখাই দুর্গে নবাবী সেনা তখনও সুরা ও সুরের মদির নেশায় তন্দ্রাচ্ছন্ন। হঠাৎই গুম গুম তোপের গুরু গর্জনে ঘুমঘোর কেটে গেল তাদের। ইংরেজ সৈন্য দুর্গ আক্রমণ করেছে। নেতৃত্বে মেজর আয়ারকুট। সঙ্গে দুই শত গোরা ও পাঁচ শত দেশীয় সিপাই। ওদিকে কেল্লায় নবাবের পদাতিক ও গোলন্দাজ সৈন্যের সংখ্যা দশ হাজার। ১৪টি বৃহৎ কামান। আক্রমণের আগে ইংরেজ পক্ষ স্বেত পতাকা উত্তোলন করে কেল্লাদারকে আত্মসমর্পণের আদেশ দিয়েছিল। প্রত্যুত্তর এসেছিল তোপ গর্জনে। কিন্ত তেমন গর্জন তেমন বর্ষন হল না। অচিরেই কেল্লাদারের দূত এল পত্র নিয়ে। কিছুটা সময় প্রার্থনা করছেন তিনি। অনুরোধ অগ্রাহ্য করা হল।এবার ইংরেজের পদাতিক বাহিনীও পথে নেমেছে। পদব্রজে অজয় অতিক্রম করে তারা কেল্লা ঘিরে ফেলেছে। তাদের হাতে হাতে বন্দুক। দুর্গ সন্নিহিত ঝোঁপ ঝাড়, মাটির ঢিপির আড়াল থেকে গুলি বর্ষন করছে। কেল্লাদার পিতৃ প্রদত্ত প্রাণ বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নিলেন বীর বিক্রমে পলায়নের আগে কেল্লায় অগ্নিসংযোগ করলেন। কিন্ত বর্ষা তার বিপক্ষে। আগুনের গুণ প্রকাশ সম্ভব হল না। দুর্গের দশ হাজার সৈন্যের বৎসরাধিক কালের খাদ্য, চোদ্দটি কামান সহ বিস্তর রণ সম্ভার হস্তগত হল ইংরেজ পক্ষের। নিন্দুকরা বলেন পলাশীর মত এ যুদ্ধও ছিল প্রহসন। তবে ইংরেজ ঐতিহাসিকরা মেজর কুট’এর বীরত্বে ফাঁকি পাননি। মেজর কুট এই যুদ্ধ জয়ের রিপোর্ট পাঠালেন সর্বাধিনায়ক রবার্ট ক্লাইভকে। তিনি তখন ছয় ক্রোশ পিছনে পাটুলি শিবিরে। মীরজাফর পক্ষের প্রতি তখনও তিনি সন্দিহান।
পলাশীর যুদ্ধ আর রবার্ট ক্লাইভের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত কিন্তু আশ্চর্য! ১৭৫৬ সালের অক্টোবর মাসের আগে রবার্ট ক্লাইভের নাম কেউ শোনেনি বাংলায়! তিনি তখন ইংরেজ কুঠিয়ালদের সামান্য এক কর্ণেল। কিন্ত তার ক্ষুরধার বুদ্ধি,দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় তিনিই যে একদিন বাংলার ভাগ্য বিধায়ক হবেন কে জানত! ১৭৬৭ সালে শেষ বারের মত যখন তিনি ভারত ত্যাগ করেন তখন উত্তর ভারতে ইংরেজ এক অপ্রতিহত শক্তি। আশ্চর্য! দেশে স্কুল পলাতক, বাউণ্ডুলে এই ক্লাইভ ভারতে এসেছিলেন (১৭৪৩) নিজের ভাগ্যের খোঁজে। তারপর বুদ্ধি কৌশল জেদী যুদ্ধবাজ গুণে বাজিমাত করলেন ভারতে। আর্কটে তার অদ্ভুত রক্ষাকার্য, কর্ণাটকে দুর্ধর্ষ আংগ্রীয়া ডাকাত দমন,দেবীকোটে দুর্গ দখল,নিজামের দুর্গ দখল ইত্যাদি দুর্ধর্ষ সাফল্যে তিনি অচিরেই ইংরেজদের নায়ক হলেন। ১৭৫৬ সালের আগস্ট মাসে হঠাৎই ইংরেজের মাদ্রাজ কুঠীতে কলকাতায় ইংরেজের বিপর্যয়ের খবর এল। বাংলার নবাব ইংরেজের কলকাতা কুঠি দখল করেছে। দৈবক্রমে তখন সেখানে হাজির ক্লাইভ। তার স্কন্ধেই অর্পিত হল কলকাতার পুনরুদ্ধারের ভার। তারপর তিনি নতুন ইতিহাস রচনা করলেন ভারতবর্ষে।

সাত সমুদ্র তের নদীর পাড়ে কয়েকটি ছোট খাট দ্বীপ নিয়ে ইংল্যান্ড। সামান্যই সম্পদ। বাণিজ্য, বোম্বেটেগিরি করে খেত একদল মানুষ। ষষ্ঠ দশ শতকে ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি। ১৬০০খ্রীঃ ৩১ডিসেম্বর রানী প্রথম এলিজাবেথ তাদের সনদ দিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করার। ভারতে তাদের নাম ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী। ১৬০৮ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাদের অনুমতি দিলেন সুরাটে কুঠী স্থাপনের। ক্রমেই ছড়ালো নানা শাখা। ১৬৫৮ সালে বাংলায় কোম্পানীর প্রতিনিধি হিসাবে প্রথম পদার্পণ করেন জেমস হার্ট। হুগলিতে প্রথম কুঠী স্থাপন। তারপরে কলকাতা। ১৬৯০ সালে কুঠী বিস্তারে জব চার্ণক বরিশার সাবর্ণ রায় চৌধুরীদের তিনটি গ্রাম কেনেন। ক্রমেই ভারতে বাণিজ্য ও নিজেদের সুরক্ষার নামে সৈন্য ও দুর্গ স্থাপনের অনুমতি আদায় হল মুঘল সম্রাটের। ১৭০৬ সালে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন হল। একই ভাবে পতুর্গীজ ফরাসী ওলন্দাজ বণিকরাও বাণিজ্য করতে এসে ভারতের রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে এই সময়ে। কিন্ত সবাইকেই পর্যুদস্ত করে ভারতের রাজদন্ডের দখল নিল ইংরেজ।
উচ্চাকাঙ্খী ইংরেজকে বিশ্বাস করতেন না বাংলার নবাব আলিবর্দি। তাই মৃত্যুর আগে (৯-৪-১৭৫৬) সতর্ক করে যান দৌহিত্র সিরাজদৌল্লাকে। মসনদে বসেই সিরাজ তাই নজর দিলেন ইংরেজের উপর। এ সময় ঢাকার সহকারী শাসক রাজা রাজবল্লভ তার বেহিসাবি বিপুল ধনসম্পদ নবাবের কুদৃষ্টি থেকে দূরে রাখতে তার পুত্র রাজা কৃষ্ণবল্লভ’ কে পাঠিয়েছিলেন কলকাতার ইংরেজ কুঠীতে। তার সন্দেহ ঘসেটি বেগমের মত তার ধন সম্পদও বেহাত হতে পারে।এ সংবাদ সিরাজের কর্ণ গোচর হতেই তিনি কলকাতার কুঠী প্রধান ড্রেক সাহেবকে কৃষ্ণবল্লভ ও উমিচাঁদকে স’ধন প্রত্যর্পনে আদেশ দিলেন। উদ্ধত ড্রেক তা অস্বীকার করলেন। শুরু হল ইংরেজ নবাব দ্বন্দ্ব। সিরাজ ইংরেজদের শিক্ষা দিতে কলকাতা আক্রমণ করে দখল করলেন। ইংরেজের বিপুল ক্ষয় ক্ষতি হল। প্রান গেল অনেকের। বাকি সব প্রাণ ভয়ে আশ্রয় নিল ফলতায়। সেখানে খাদ্য পানীয় নাই। সেই চরম দুর্গতির খবর গেল কোম্পানির মাদ্রাজ কুঠীতে।

দীর্ঘ দিন ভারতে বাণিজ্য করার সুবাদে ইংরেজরা ভারতীয় শাসকদের চরিত্রের সম্যক ধারনা পেয়েছেন ইতিমধ্যেই। অর্থ নারী সুরা ও ক্ষমতার লোভে তারা সব কাজ করতে পারে। প্রজারা থাকে কুঁড়ে ঘরে, আধপেটা খায়, এমনকি অভাবে নিজেদের বন্ধক রাখে বা বিক্রি করে হাটে। তখনও রমরমা দাস ব্যবসা। আর প্রজার রক্ত ঘামে নবাব বাদশাহের সাত মহলা প্রাসাদ, মতিঝিল, হীরাঝিল ঝলমলে মঞ্জিল। রাতের রঙমহলে বাইজীর নৃত্য, সুর আর সুরার তুফান ওঠে নিত্য। মুসলিম হেরেম, হিন্দুর অন্দর মহলে শত সুন্দরীর ভীড়। এই বিলাস বৈভব ছেড়ে মরন যুদ্ধ কে করে! এমনকি যুদ্ধ ক্ষেত্রেও পিছু নিত নাচ গান স্ফূর্তি। যুদ্ধ হত প্রহসন। নবাবের সৈন্য সংখ্যাকে তাই ভয় পেল না ইংরেজ। ক্লাইভ জেনেছেন সদ্য নবাব হয়েছেন সিরাজদৌল্লা। আলিবর্দির আদুরে নাতি। উদ্ধত খামখেয়ালী, রাজনীতির কূট কলায় নেহাতই অপক্ক। নানান বদনাম। অভিজ্ঞ প্রবীন আমাত্যদের অপমান করে বিরাগভাজন হয়েছেন অনেকের। হোসেন কুলি খাঁ ও তার ভাইয়ের হত্যা, প্রকাশ্য দরবারে ধনকুবের জগৎশেঠ, মীর জাফরকে অপমান, বড় মাসি ঘসেটি বেগমের ধনসম্পদ লুঠ করেছেন। কাউকেই বিশ্বাস করেন না। তাই আলিবর্দি আমলের উজিরদের বাদ দিয়ে এনেছেন নতুন মুখ। মীর জাফর খাঁ ছিলেন দেওয়ান-ই-তন অর্থাৎ প্রধান সেনাপতি, তাকে নামে মীর বক্সী রেখে মীর মদনকে করা হল প্রধান সেনাপতি। দুর্লভরামের স্থলে মোহনলালকে করা হল দেওয়ান-ই-আলা, মোদার-উল-মোহন অর্থাত প্রধানমন্ত্রী। তাকে মহারাজা উপাধি সহ নানান বাদশাহী অধিকার প্রদান করা হল। তার হাতেই সব মন্ত্রকের ভার তুলে দেওয়া হল। আঙুল ফুলে কলাগাছ হল মোহনলাল,মীর মদনের। তারা এখন সবার হর্তাকর্তা। আগের আমীর ওমরাহরা ইর্ষার আগুনে পুড়ছেন। শুরু হল ষড়যন্ত্র। তাদের ঘাঁটি ঘঁসেটি বেগমের মতিঝিল মঞ্জিল। ইংরেজরাও যোগ দিয়েছেন সেই পক্ষে। নবাব সব জানেন কিন্ত অভিজাতদের ঘাঁটাতে পারছেন না। ধন জন বাহুবলে কম নয় তারা। তাদের গুজব সিরাজের আর বেশিদিন নয়। কিন্ত সরাসরি বিদ্রোহের সাহস নেই কারও। তাই ইংরেজকে শিখণ্ডী খাড়া করা হল।
১৭৫৬ সাল ১৬ অক্টোবর, মাদ্রাজ থেকে কলকাতা উদ্ধারে বের হল ইংরেজ বাহিনী। নেতৃত্বে কর্ণেল রবার্ট ক্লাইভ ও এডমিরাল ওয়াটসন। সঙ্গে পাঁচটি রনপোত, পাঁচটি সৈন্য বোঝাই জাহাজ। নয় শত গোরা ও পনের শত সিপাহি। কি দুঃসাহসিক যাত্রা! ১৬ই অক্টোবর ১৭৫৬ ইংরেজ বাহিনীর ফলতায় আগমন। তারপর নবাবকে একটা পত্র পাঠানো হল কিন্তু উত্তরের অপেক্ষা করা হল না। ইংরেজদের আক্রমণে প্রান ভয়ে পালালেন নবাব সেনাপতি মানিকচাঁদ (১লা জানুয়ারি, ১৯৫৭)। তারপর ইংরেজরা হুগলি লুন্ঠন করল।খবর পেয়ে নবাব এলেন জবাব দিতে। কিন্তু ব্যার্থ ও পর্যুদস্ত হয়ে আলিনগরের চুক্তি (৯ ফেব্রুয়ারি ) করতে বাধ্য হলেন। এদিকে বাঘ রক্তের স্বাদ পেয়েছে। ইংরেজ নবাবকে অগ্রাহ্য করে বাংলা থেকে তাদের পথের কাঁটা ফরাসীদের উচ্ছেদে আগ্রাসী হল। নবাব বিরোধিতা করতেই তারা চুক্তি ভঙ্গের অজুহাতে ফের যুদ্ধ ঘোষণা করল নবাবের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই গোপনে নবাবের বিরোধী পক্ষ তথা মীর জাফরের সঙ্গে ইংরেজ নবাবীর গোপন চুক্তি সুসম্পন্ন হয়েছে (২রা জুন ১৯৫৭) ।
বাকি অংশ আগামীকাল