| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাষ্ট্রের বিধি বনাম মায়ের শেষ ইচ্ছে — চিন্ময়কৃষ্ণের ঘটনা যে প্রশ্ন রেখে গেল : যশোবন্ত রায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার নেপালের পর কি কলকাতা জলের তলায় চলে যাবে — চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বৈশ্বিক অস্থিরতায় জাতিসংঘের ছয় অগ্রাধিকার : নিকোলাস বিশ্বাস বাম-ব্যানারে শারদোৎসব না দুর্গোৎসব : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গুরুবাবাদের প্রবঞ্চনা-শোষণ-যৌনতা ও রাজনীতির জম-জমাট রঙ্গ : দিলীপ মজুমদার সিরাত : জীবন খুঁজে দেয় : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘টেবিলের নিচে একটি দেশ’ বানভাসি এলাকায় মানুষ ও সাপের সহাবস্থান, দংশনে বাড়ছে মৃত্যু : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘সংকোচ’ পাখণ্ডী শব্দটির অর্থ যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ লাইন অব প্যাসেজ — সংগ্রামী জীবনের দর্পণ : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কেন উত্তম মহানায়ক : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ হড়পা বানের হাড়হিম করা দৃশ্য : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উত্তম কুমার : বাঙালির সমাজভাষ্য, মূল্যবোধ ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকার : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় গৈরিক নয়, ‘গৈরেয়’ শব্দটি থেকেই এসেছে ‘গেরুয়া’ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাঙালিয়ানা ও উত্তম কুমার: সংস্কৃতির দর্পণে এক অনন্য মহাকাব্য : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় বিচিত্র লোক সংস্কৃতি — নন্দোৎসবে নারকেল কাড়াকাড়ি : সুব্রত দত্ত গড়িয়াহাট কি ছিল অলস, অকর্মণ্য বলদের হাট : অসিত দাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ রাখি পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ঢেঁকি নেই, নেই ঢেঁকিশাল, গ্রামের মানুষের কাছে আজ ইতিহাস : মোহন গঙ্গোপাধ্যায়

Reporter
মোহন গঙ্গোপাধ্যায় / ৯০০ Views জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫

গ্রামে গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে একটা সময় ঢেঁকি ছিল। ছিল বড়ো ঢেঁকশালও । ঠাকুমা, মা-কাকিমাদের পায়ের তালে তালে ঢেঁকির আওয়াজ শোনা যেত। ধান থেকে চাল, আর চাল থেকে চালগুঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। ঢেঁকি-ছাটা লাল চালের সুস্বাদু ভাত ও নানান রকম পিঠে আজও লোকমুখে শোনা যায়। তাই বয়স্কদের মুখে মুখে একটাই আফশোস ঢেঁকি নেই, সেই পিঠেও নেই। গ্রামীন সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার তাগিদও কারোর নেই।

প্রসঙ্গত, গাম-গঞ্জের ছোট ছোট ঘটনা আজও স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছে। যতদিন যাচ্ছে সেই সমস্ত ঘটনাগুলি ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিচ্ছে। আজকের প্রজন্মের কাছে ওই সমস্ত ঘটনা গল্প বলে মনে হচ্ছে। কয়েকটি ঘটনা যা আজকের সমাজের মহিলাদের কাছে বানানো গল্প বলে মনে হয়, সেগুলোর কথা তুলে ধরলে বোধহয় বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। তাছাড়া তৎকালীন সমাজের চিত্রটাও ধরা পড়বে। উল্লেখ করতেই হয় ঢেঁকির কার্যকলাপ। একটা সময় প্রতি বাড়িতে ঢেঁকশাল ছিল। আর সেখানেই বসানো থাকত টেঁকি। মা-ঠাকুমা, দিদি, মাসিদের দেখতাম ঢেঁকিতে ধান ভাঙতে। চাল গুঁড়োতে। তালে তালে পা দিয়ে ঢেঁকিতে ছাঁটা হত ধান। সেই ধান থেকে লাল ছাপ মারা চাল বের হত। যখন ওই চালের ভাত হত, দেখতাম আলাদা সুগন্ধ প্রকাশ পেত। ছেলেমেয়েদের দেখতাম সেই সুস্বাদু ফ্যানা-ভাত খেয়ে স্কুল-কলেজে যেতে। এখন সেই চালও নেই, সুস্বাদু ভাতও নেই।

এখন আছে রাইসমিলের চকচকে চাল। পালিশ করা। উপরের লাল খোলাটুকুর চিহ্ন নেই। ফলে এর নাকি ফ্যানা-ভাত হয় না। হলেও মুখে রোচে না, রুচবেই বা কী করে! এখন যে কীটনাশক মাখানো ওষুধের গন্ধ গা থেকে যায়নি। তাই কষ্ট হয়। মনে মনে ভাবি কবে ফিরে পাব সেই ঢেঁকিছাঁটা চাল, গুঁড়ি। যা দিয়ে সুস্বাদু ফ্যানাভাত, পিঠে-পুলি তৈরি হবে। না! এ আশা মনেতেই রয়ে যায়। ঢেঁকিগুলো আর দেখতে পাই না। ঢেঁকশালও নেই। নেই নীলমণি, রাধা, শ্যামাদের মতো বউরা। যাঁরা অনায়াসে বাচ্চা ছেলে কোলে নিয়ে ঢেঁকিতে পা দিতে পারত। সেই দৃশ্যও আর দেখি না। তা হল মায়ের কোলেই বাচ্চা কাঁদছে। সেই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে নীলমণিদের মতো বউয়েরা জামা খুলে বুকের দুধ টানার জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। বাচ্চা দুধ খাচ্ছে, নীলমণি আদর করে, সোহাগ করে বাচ্চার আশা মেটাচ্ছে, আর অপরদিকে রাতে সোয়ামীকে খুশি করতে পিঠের গুঁড়ি তৈরি করছেন। সন্ধ্যা হলে সোয়ামী মাঠ থেকে বাড়ি ফিরবে। তারপর নীলমণি পিঠে করতে বসবে। লম্ফ জ্বেলে। কাঠের আগুনে পিঠে হবে। সেই দৃশ্য আজ অতীত।

আরও একটি ঘটনা উল্লেখ না করে পারছি না। তা হল ঘরে ঘরে পাথরের যাঁতা। যা দিয়ে ডাল শস্য, তিল ভাঙা হয়। আজ আর দেখি না। সে দিনটার কথা আজও মনে পড়ে, যখন দেখতাম হাবুর মা অদ্ভুত কায়দায় হাতের আঙুল দিয়ে তিলের খোসা ছাড়াচ্ছেন, কিংবা খেসারি, মটর, ছোলা, মুসুর, কড়াইয়ের খোসাও ছাড়াচ্ছেন উবু হয়ে। হাবুর মা জানে, কত পাক ঘোরালে তবেই খোসা ছাড়বে। দেখতাম প্রতি ঘরে হাবুর মতো মায়েরা আছেন। ডাল, ডালের বড়ি, তিল ভাজা, তিলের নাড়ু, তিল পোস্ত খাওয়া হত। এখন সেগুলি দোকান থেকে পাই। কিন্তু পাই না সেই স্বাদ। হারিয়ে গেছে হাবুর মতো মায়েরা। এখন অত্যাধুনিক প্রজন্মের মায়েরা আছেন, কিন্তু যাঁতায় পাক দিতে জানেন না। এঁরা জানেন দোকান থেকে প্যাকেট করা খাবার। কষ্ট নেই এঁদের। এঁদের দেখি আর ভাবি সেই দিন কী আর ফিরে আসবে না? অপেক্ষায় আছি সেই স্বাদ, অনুভূতি, পরশের ছোঁয়া পাব বলে।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev