| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার পার্থ সারথি পাত্র-র ছোটগল্প ‘টাইম-ব্যাঙ্ক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সার্ধশতবর্ষে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শতবর্ষে সুরসম্রাট ভূপেন হাজারিকার স্মরণে : যশোবন্ত রায় মাটির নিচের ইন্টারনেট — অণুজীব ও উদ্ভিদের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক : অন্বেষা গাঙ্গুলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্রম্পটনে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের সমাধি : অসিত দাস শৌনক দত্ত-র ছোটগল্প ‘হোয়েন আই ওয়াজ ডেড’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ডোকরা শিল্পীদের কাহিনি : স্বর্ণাভা কাঁড়ার পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ছমছম পায়েল বাজে’ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শাশ্বত বোস-এর বড়োগল্প এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে নন্দিনী অধিকারী-র বড়োগল্প ‘দুর্গাদালান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নকশালবাড়ি স্থাননামের নকশাল শব্দটির উৎসের সন্ধান : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনয় মজুমদারের কবিতা — বিজ্ঞান ও দর্শনের রসায়নজাত স্বতন্ত্র নির্মাণ : আনন্দগোপাল হালদার উৎসবে মানুষ নতুন হয়ে ওঠে : হাসান আজিজুল হক ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘চার্বাক দর্শন’ দুর্গা যখন মাঠংমা : শ্যামলী কর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার গিরমিটিয়া ভারতীয়দের ইতিহাস — কলকাতা বন্দর থেকে বিশ্বজুড়ে এক সংগ্রামের কাহিনী : কমল ব্যানার্জী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৫ Views জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

[এই কিস্তিতে গ্রান্ট তিনটি প্রধান বিষয় তুলে ধরেছেন। প্রথমত, মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সঙ্গে সঙ্গে প্রাদেশিক প্রতিনিধিরা (নবাব, ফৌজদার) সম্রাটের অনুমোদন ছাড়াই নানা আবওয়াব (অতিরিক্ত কর) আদায় করতে থাকে। আলিবর্দি খান দিল্লির কর্তৃত্ব ছিন্ন করার পর এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। কিফায়ত (পুনরুদ্ধারকৃত অর্থ), তওসির (নাযিম ও জায়গিরদারদের বাড়তি আয়) ইত্যাদি আবওয়াবের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয়ত, ১৭৬৫ সালে বাংলাকে সিডেড ও দেওয়ানি — এই দুই ভাগে (১:৯ অনুপাতে) বিভক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই দেশীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাজস্বের হিসাব পৃথক দফতরে রাখার প্রাচীন প্রথা পরিত্যাগ করে এবং আসিল তুমার জমা-র সঙ্গে নানা স্থায়ী আবওয়াব একত্রিত করে এমন এক জটিল ও বিভ্রান্তিকর ব্যবস্থা তৈরি করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ আড়াল করা। তৃতীয়ত, গ্রান্ট রাজস্ব-বর্ষের তিনটি পর্যায় চিহ্নিত করেছেন এবং বাংলার ফসলি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে হিজরি অব্দের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন।]

তবে এগুলি সর্বদা সম্রাটের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই আদায় করা হতো এবং আলিবর্দি খান যখন দিল্লির রাজকীয় কর্তৃত্বের নাগপাশ ছিন্ন করেন, তখনও নাযিমের পক্ষে এগুলোর হিসাব পৃথকভাবেই রাখা হতো — এমনকি শেষ বিপ্লবের সময়কাল পর্যন্তও এই ধারা অব্যাহত ছিল। একই সাথে, সাম্রাজ্যের পতন বা সুবাদারের থেকে প্রদেশের সম্পূর্ণ আয় রাজকোষে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের অক্ষমতার অনুপাতে এই অর্থের পরিমাণও নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আরও উল্লেখ্য যে, আবওয়াব (অতিরিক্ত কর)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল কিফায়ত বা মুনাফা — অর্থাৎ সীমান্তবর্তী ও অসম্পূর্ণভাবে কর-নির্ধারিত কিছু অঞ্চলের সেই অর্থ যা আগে আত্মসাৎ করা হয়েছিল কিন্তু পরে পুনরুদ্ধার করা হয়। এসব অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে ফৌজদারদের সামরিক শাসনের অধীনে ছিল; তারা নিজ নিজ এলাকায় তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ভূস্বামীদের ওপর আনুপাতিক বা খেয়ালখুশিমতো কর আরোপ করত। নবাব যেমন মুঘল সম্রাটের কাছে তাঁর অতিরিক্ত সংগ্রহের অর্থ জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন, তেমনি এই অধস্তন প্রতিনিধিরাও যোগসাজশ বা বলপ্রয়োগে নিজেদের আদায় করা বাড়তি অর্থ নিজেদের কাছেই রেখে দিতেন। একই সাধারণ শিরোনামের অধীনে তওসির বা নাযিম ও কিছু ছোট জায়গিরের আয়ের বৃদ্ধিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; কারণ বরাদ্দ হওয়ার সময় থেকে শুরু করে কাসিম আলীর সময়কাল পর্যন্ত এগুলোর ওপর অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বা বিশেষ কর ধার্য করা হয়নি।

তৃতীয়ত। ১৭৬৫ সাল থেকে বাংলাকে সিডেড (সমর্পিত) ও দেওয়ানি — এই দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়টি (যার অনুপাত ছিল প্রায় ১:৯) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটা দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের বিভিন্ন পদ্ধতির প্রভাব — বিশেষ করে কোম্পানির নিজস্ব কোভেন্যান্টেড (চুক্তিভিত্তিক উচ্চপদস্থ) কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রশাসনের শ্রেষ্ঠত্ব — প্রমাণ করতে সহায়তা করে। সেই সময়েই, তৎকালীন দেশীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতারণাপূর্ণ ও স্বার্থপর উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে রাজস্বের হিসাব পৃথক দফতর বা নথিতে নিয়মিতভাবে রাখার প্রাচীন প্রথাটি — যার মাধ্যমে জমির মূল্য বা কৃষকদের কর প্রদানের সক্ষমতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যেত — প্রথমবারের মতো পরিত্যাগ করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত কর বা ভাড়ার অতিরিক্ত হিসেবে আনুপাতিক হারে কর ধার্য করে সরকারি রাজস্ব সংগ্রহের যে নিয়মটি ছিল, তা এক নিমেষেই বাতিল করা হয়; এর পরিবর্তে অর্থসংগ্রহের প্রকৃতি, আইনি উৎস, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং প্রকৃত সংগ্রহের পরিমাণের ক্ষেত্রে একটা ত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর ব্যবস্থা তৈরি করে তা অনভিজ্ঞ শাসক কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় — অথচ দাবি করা হয় যে, এটা সেই পূর্ববর্তী সরকারের প্রকৃত রীতিনীতিরই অনুরূপ, যার থেকে এই ভূখণ্ডের অধিকার হস্তান্তরিত হয়েছিল; এছাড়া সরলীকরণের এক বিভ্রান্তিকর ধারণার আড়ালে — যেখানে আগেকার মতো কোনো নির্দিষ্ট কর-হারের বালাই ছিল না — প্রাচীন তুমার জমা (toomar jumma)-র সাথে নানাবিধ স্থায়ী আবওয়াব (alwabs) বা অতিরিক্ত করকে একত্রিত করে বার্ষিক জমিদারী বন্দোবস্তের মাধ্যমে ইচ্ছাকরাভাবে এমন সব জটিলতা ও অসংগতি সৃষ্টি করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কোষাগারের অনুমোদিত, প্রয়োজনীয় ও ন্যায্য পাওনা থেকে বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার প্রত্যক্ষ ও জবাবদিহিহীন আত্মসাৎ বা তছরুপকে আড়াল করা; আর এই হিসাবের বাইরেও থেকে যায় কর বৃদ্ধির সেই সম্ভাব্য সুযোগ, যা হয়তো অর্জিত হতে পারত যদি প্রকৃত তথ্যটি আগেই জানা থাকত।

স্থানীয় বিভাজনের এই তিনটি পর্যায় আবার ভিন্ন ভিন্ন সময়কালের সাথেও সম্পর্কিত; আর সেই সময়ক্রম অনুসারেই আমরা পরবর্তী আলোচনাটি সাজাতে চাই। প্রথম পর্যায়টি শুরু হয় ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে আকবরের রাজত্বকালে এবং তা ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে মোহাম্মদ শাহের আমল পর্যন্ত বিস্তৃত — অর্থাৎ ১৪০ বছরের এই সময়কালে বাংলার ভূমির আসল তুমার জমা বা মূল রাজস্ব-তালিকার (rent-roll) একটা সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হবে; এই প্রক্রিয়ায় টোডরমল কর্তৃক এর প্রবর্তন থেকে শুরু করে জাফর খানের সুবাদারির আমলে এর চূড়ান্ত সংস্কার ও উন্নয়ন পর্যন্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একইভাবে, দ্বিতীয় পর্যায়েও এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হবে। জাফর খানের শাসনকাল ও ১৭১৩ সালে ফারুখসিয়ারের রাজত্বকাল থেকে শুরু করে ১৭৬৩ সালে কাসিম আলী খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা পর্যন্ত — এই দীর্ঘ অর্ধশতাব্দকাল সময়ে — মূল নির্ধারিত ভূমির ওপর চাপানো বিভিন্ন আবওয়াব বা আনুষঙ্গিক করর বার্ষিক আয় প্রাদেশিক প্রতিনিধিরা কার্যত জনসেবার উদ্দেশ্যে হলেও মূলত নিজেদের একক কর্তৃত্বেই আদায় করে গেছেন। তৃতীয় আর সর্বশেষ পর্যায়ে সমগ্র অঞ্চলের ভূমি-রাজস্বের অনুরূপ বিস্তারিত বিবরণ থাকবে; এই পর্যায় কোম্পানির প্রশাসনে ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের সময় থেকে (যখন আসল-তুমার ও আবওয়াব একত্রিত করা হয়েছিল, তবে তা প্রতারণামূলকভাবে কমিয়ে দেখানো হয়েছিল) ১৭৮১-৮৪ সাল পর্যন্ত সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করবে — যে সময়ে প্রেসিডেন্সিতে অবস্থিত একটা অধস্তন কমিটির তত্ত্বাবধানে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিতে সর্বশেষ সংস্কারটি সাধিত হয়েছিল। [২৫৪]

তাই, আমাদের কাজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যখন এই বিষয়টি আলোচনার জন্য আসবে, তখন আমরা সেরুশ নেমুচ (seroosh nemuch) — এই প্রাচীন দেশীয় পরিভাষাটি ব্যবহারের অনুমতি চাইব। যদিও গাবেল (gabelle)-এর মতো কারিগরি শব্দের তুলনায় এর অর্থ সরল এবং উচ্চারণ ততটা শ্রুতিমধুর নয়, তবুও বাগ্মিতার গুণগুণে — যদি তা প্রয়োগ করা সম্ভব হয় — তবে অন্তত সাধারণ মানুষের কাছে এটা সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

একইভাবে, নর্দার্ন সরকারস (Northern Circars)-এর রাজনৈতিক সমীক্ষায় অর্থসংক্রান্ত দ্বিতীয় প্রধান বিষয়টিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমান আলোচ্য অঞ্চলের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এখানেও কার্যত একই ধরনের নির্দেশনামা, নথিপত্র ও কার্যপদ্ধতি অনুরূপ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অনুসরণ বা কার্যকর করা হয়; ভাষা বা শব্দচয়নে সামান্য পার্থক্য থাকলেও ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর মূল অর্থে কোনো হেরফের নেই। এছাড়া, সরকারি রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতিতে বার্ষিক বন্দোবস্ত বা চুক্তির বিষয়টিই এখানে প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান। তবে, এই চুক্তি নবায়নের সময়কাল এবং স্থানীয় রাজস্ব বছরের হিসাবের ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। কারণ বাংলায় খরিফ বা প্রধান ফসল হলো ধান — যা গ্রীষ্মকালীন অয়নকালের সময় ক্রান্তীয় বৃষ্টিপাতে সিক্ত নিচু জমিতে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয় — তাই ফসলি বর্ষপঞ্জি এই ঋতু থেকেই শুরু করা হয়েছে। এর সাথে হিন্দুদের প্রচলিত বর্ষপঞ্জির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে বৈশাখ মাসের ১১ তারিখ থেকে, যা আমাদের এপ্রিল মাসের ১১ তারিখের সমতুল্য। এরপর দুই মাস সময় দেওয়া হয় যাতে জমিদার ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা তাঁদের হিসাবপত্র সম্পন্ন করতে পারেন, বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে পারেন এবং সার্বভৌম দেওয়ানি প্রতিনিধির সাথে পুণ্যাহ (Pooneah) নামক প্রথাগত সভায় নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ওড়িশা ও বিহার সুবায় — যেখানে ভূমি উঁচু এবং জলবায়ু কম আর্দ্র হওয়ায় শুষ্ক শস্য ভালো জন্মে (অবশ্য ওড়িশার কয়েকটি সংলগ্ন জেলা এর ব্যতিক্রম, যা এখন বাংলার অন্তর্ভুক্ত) — সেখানে বেলায়েতি বা আমিলি (এগুলো রাজস্ব-বর্ষের ভিন্ন নাম) শরৎকালীন বিষুবের সময় শুরু হয়। এই সময়টি রবি বা বসন্তকালীন ফসলের বীজ বপনের মৌসুম; উল্লেখ্য, আরব দেশে — যেখান থেকে ঋতু-সূচক এই শব্দগুলো এসেছে — সেখানেও এটা বার্ষিক চক্রের একটা সমান বিভাজন হিসেবে গণ্য হয়। আবার, বছর গণনার ক্রমের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ফসলি অব্দ মূলত হিজরি বা চান্দ্র অব্দেরই সৌর-হিসাবভিত্তিক ধারাবাহিকতা — যা হিন্দুস্তানে আকবরের রাজত্বকাল অথবা দাক্ষিণাত্যে পরবর্তী মুঘল বিজয়ের সময় থেকে শুরু হয়েছিল। সুতরাং, এই রাজস্ব-বর্ষের হিসাব (যা উল্লিখিত সময়কাল বা ৯৬২ হিজরি থেকে শুরু) বাংলার পরবর্তী যেকোনো বছরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; অথবা (এক সংখ্যা যোগ করলে) তা প্রতিবেশী সুবাগুলোর প্রচলিত বছরের সাথেও মিলে যায়। এর কারণ হলো ওই অঞ্চলগুলোতে রবি মৌসুমের শুরুটা কিছুটা দেরিতে হয় এবং একই সাথে তা ৯৬৩ হিজরি বছরের শুরুর সময়ের খুব কাছাকাছি পড়ে — যেখান থেকেই ওই প্রদেশগুলোর আমিলি বছরের হিসাব নির্ণয় করা হয়। তবে এই সাধারণ নিয়মের একটা ব্যতিক্রমও রয়েছে: চট্টগ্রাম জেলা — যা প্রাচীনকালে আরাকান রাজ্যের অধীন ছিল — সেখানে ব্যবহৃত বছরের গঠন ও মাসগুলোর বিন্যাস সব দিক থেকেই বাংলা অব্দের অনুরূপ হওয়া সত্ত্বেও, সেখানকার বর্ষ-সংখ্যাটি ৪৫ কম। তাই, গণনায় কোনো কালগত অসঙ্গতি না থাকলে বলা যায় যে, এই অব্দটি কোনো ইসলামি কালপঞ্জির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং ওই অঞ্চলের নিজস্ব কোনো ধর্মীয় বা লৌকিক কালগণনা পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয়েছিল। অতএব, রাজস্বের তৃতীয় সাধারণ খাত — অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত বার্ষিক অর্থরাশি-ই এখন থেকে আমাদের ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের প্রধান ও যথার্থ বিষয়বস্তু হয়ে উঠবে। এই বিন্যাস অনুযায়ীই আমরা ভারতের বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তি এবং এর মূল নীতি ও কালক্রমে সাধিত বিভিন্ন সংস্কারের ওপর পরিচালিত সুপরিকল্পিত অনুসন্ধানের পটভূমি তুলে ধরব।

বাংলায় আসিল তুমার জমা (প্রকৃত রাজস্ব-নির্ধারণ)-র একটা সারসংক্ষেপ — যা ১৫৮২ সালের দিকে মুঘল সম্রাট আকবরের পক্ষে রাজা টোডরমল কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছিল। এতে উড়িষ্যার পাঁচটি সরকার (প্রশাসনিক অঞ্চল) অন্তর্ভুক্ত ছিল না; কারণ এগুলি কিছুকাল পরে যুক্ত হলেও একই শাসনামলের শেষভাগে কিংবা পরবর্তী শাসনামলের শুরুতে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটা পৃথক সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।

টিকা

১. আবওয়াব (Abwab): মুঘল আমলে মূল ভূমি-রাজস্বের (তুমার জমা) অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করা নানা ধরনের কর। এগুলো প্রথমে সাময়িক বা বিশেষ প্রয়োজনে ধার্য করা হলেও পরে স্থায়ী হয়ে যায়। উপনিবেশিক আমলে জমিদাররা প্রজাদের ওপর ৬৪ প্রকারের আবওয়াব চাপিয়ে দিত।

২. কিফায়ত (Kifayat): আবওয়াবের একটি বিশেষ রূপ — যা ছিল সীমান্তবর্তী ও অসম্পূর্ণভাবে কর-নির্ধারিত অঞ্চলের সেই অর্থ, যা আগে আত্মসাৎ করা হয়েছিল কিন্তু পরে পুনরুদ্ধার করা হয়। ফৌজদাররা নিজেদের এলাকায় এই অর্থ আদায় করে নিজেদের কাছে রেখে দিত।

৩. তওসির (Towsir): নাযিম ও ছোট জায়গিরদারদের আয়ের বৃদ্ধি। বরাদ্দ হওয়ার সময় থেকে কাসিম আলীর সময়কাল পর্যন্ত এগুলোর ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট কর ধার্য করা হয়নি।

৪. সিডেড ও দেওয়ানি (Ceded and Dewani): ১৭৬৫ সালে বাংলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয় — সিডেড (সমর্পিত) অঞ্চল ছিল বাংলার প্রায় ১/১০ অংশ, আর দেওয়ানি ছিল ৯/১০ অংশ। এই বিভাজন দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের বিভিন্ন পদ্ধতির প্রভাব প্রমাণে সহায়ক।

৫. আসিল তুমার জমা (Ausil Toomar Jumma): বাংলার প্রকৃত রাজস্ব-নির্ধারণ বা মূল রাজস্ব-তালিকা। গ্রান্ট দেখান যে, ১৭২২ সালে জাফর খানের সংস্কারের পর এটাই প্রকৃত “আসল তুমার জমা” নামে পরিচিত হয় — যাকে ভুলভাবে টোডর মলের প্রবর্তিত আদি রাজস্ব-তালিকা বলে মনে করা হয়।

৬. টোডরমল (Todar Mal): আকবরের রাজস্বমন্ত্রী। ১৫৮২ সালে তাঁর প্রবর্তিত তুমার জমা মুঘল ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি। তবে গ্রান্ট দেখান যে, বাংলার প্রকৃত রাজস্ব-তালিকা আসলে ১৭২২ সালের জাফর খানের সংস্কারের ফসল।

৭. জাফর খান (Jafar Khan): মুঘল সুবাদার। ১৭২২ সালে তিনি বাংলার ১৯টি সরকারকে ১৩টি চাকলায় রূপান্তর করেন এবং ক্ষুদ্রতর জেলার সংখ্যা ১,৩৫০ থেকে ১,৬৬০-এ উন্নীত করেন। এই সংস্কারই “আসল তুমার জমা”-র ভিত্তি। মুর্শিদকুলি খান

৮. ফারুখসিয়ার (Farrukhsiyar): মুঘল সম্রাট (১৭১৩–১৭১৯)। তাঁর রাজত্বকাল থেকে কাসিম আলী খানের ক্ষমতাচ্যুত (১৭৬৩) পর্যন্ত প্রাদেশিক প্রতিনিধিরা আবওয়াব আদায় করে নিজেদের একক কর্তৃত্বে রেখে দিত।

৯. কাসিম আলী খান (Qasim Ali Khan): বাংলার নবাব (১৭৬০–১৭৬৩)। তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির পর দেওয়ানি-পরবর্তী প্রশাসনিক বিভাজন শুরু হয় — জনসাধারণের ভাষায় মীর কাশিম।

১০. পুণ্যাহ (Pooneah): বাংলার রাজস্ব-বর্ষের একটি প্রথাগত সভা। বৈশাখ মাসের ১১ তারিখ (এপ্রিলের ১১ তারিখ) থেকে রাজস্ব-বর্ষ শুরু হতো। এরপর দুই মাস সময় দেওয়া হতো জমিদার ও কর্মকর্তাদের হিসাব সম্পন্ন করার জন্য। এরপর সার্বভৌম দেওয়ানি প্রতিনিধির সঙ্গে পুণ্যাহ সভায় নতুন চুক্তি হতো।

১১. খরিফ ও রবি (Kharif & Rabi): খরিফ হলো প্রধান ফসল — ধান, যা গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিতে নিচু জমিতে জন্মে। রবি হলো বসন্তকালীন ফসল, যা শরৎকালীন বিষুবের সময় বপন করা হয়। বাংলায় খরিফ প্রধান, তাই রাজস্ব-বর্ষ বৈশাখ থেকে শুরু; ওড়িশা ও বিহারে রবি প্রধান, তাই সেখানে বর্ষ শুরু শরৎকালীন বিষুব থেকে।

১২. আমিলি/বেলায়েতি (Amili/Belaiti): ওড়িশা ও বিহারে রাজস্ব-বর্ষের ভিন্ন নাম। এই শব্দগুলো আরব থেকে এসেছে, যেখানে এটি বার্ষিক চক্রের সমান বিভাজন হিসেবে গণ্য।

১৩. হিজরি অব্দ (Hijri Era): ইসলামি চান্দ্র অব্দ। ফসলি অব্দ মূলত হিজরি অব্দের সৌর-হিসাবভিত্তিক ধারাবাহিকতা — যা আকবরের রাজত্বকাল (৯৬২ হিজরি) থেকে শুরু। বাংলার রাজস্ব-বর্ষ এই হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১৪. চট্টগ্রামের ব্যতিক্রম: চট্টগ্রাম জেলা — যা প্রাচীনকালে আরাকান রাজ্যের অধীন ছিল — সেখানে ব্যবহৃত বছরের গঠন বাংলা অব্দের অনুরূপ হলেও বর্ষ-সংখ্যা ৪৫ কম। গ্রান্টের মতে, এটি ইসলামি কালপঞ্জির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং স্থানীয় ধর্মীয় বা লৌকিক কালগণনার ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত।

১৫. সেরুশ নেমুচ (Seroosh Nemuch): গ্রান্ট কর্তৃক ব্যবহৃত একটি প্রাচীন দেশীয় পরিভাষা। তিনি এটিকে ফরাসি গাবেল (লবণ-কর)-এর সমতুল্য একটি কর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃত অর্থ অস্পষ্ট; সম্ভবত ফারসি “সেরুশ” (আজ্ঞাপালন/বিবেক) ও একটি অজ্ঞাত উপসর্গ “নেমুচ”-এর সংমিশ্রণ।

১৬. নর্দার্ন সারকার (Northern Circars): ভারতের পূর্ব উপকূলের একটি অঞ্চল। ১৭৮৪ সালের ডিসেম্বরে এই অঞ্চল সংক্রান্ত রাজনৈতিক সমীক্ষায় সার্বভৌম শাসককেই ভূমির প্রকৃত মালিক বলে ঘোষণা করা হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার যে বর্ণনা দেওয়া হয়, তা বাংলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

১৭. তুমার জমা (Toomar Jumma): মুঘল আমলে ভূমি-রাজস্বের নির্ধারিত তালিকা বা বন্দোবস্ত। “তুমার” অর্থ নির্ধারিত, “জমা” অর্থ মোট আদায়। এটি ছিল রাজস্ব নির্ধারণের মূল নথি।

১৮. চাকলা (Chucklah): মুঘল প্রশাসনিক বিভাগ। ১৭২২ সালে জাফর খান বাংলার ১৯টি সরকারকে একত্রিত করে ১৩টি চাকলায় রূপান্তর করেন — যা পরবর্তীতে ফৌজদারি প্রশাসনের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।

১৯. ফৌজদার (Faujdar): মুঘল প্রশাসনিক ও সামরিক কর্মকর্তা। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাঁরা সামরিক শাসন চালাতেন এবং নিজেদের এলাকায় ভূস্বামীদের ওপর খেয়ালখুশিমতো কর আরোপ করতেন।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev