| | |
এই মুহূর্তে ::
শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ঝন্টু মামা ও তাঁর শিকারের গল্প’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (প্রথম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা — বর্তমান পরিস্থিতিতে একট চ্যালেঞ্জ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘আদমের চোখ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার পার্থ সারথি পাত্র-র ছোটগল্প ‘টাইম-ব্যাঙ্ক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সার্ধশতবর্ষে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শতবর্ষে সুরসম্রাট ভূপেন হাজারিকার স্মরণে : যশোবন্ত রায় মাটির নিচের ইন্টারনেট — অণুজীব ও উদ্ভিদের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক : অন্বেষা গাঙ্গুলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্রম্পটনে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের সমাধি : অসিত দাস শৌনক দত্ত-র ছোটগল্প ‘হোয়েন আই ওয়াজ ডেড’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ডোকরা শিল্পীদের কাহিনি : স্বর্ণাভা কাঁড়ার পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ছমছম পায়েল বাজে’ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শাশ্বত বোস-এর বড়োগল্প এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে নন্দিনী অধিকারী-র বড়োগল্প ‘দুর্গাদালান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নকশালবাড়ি স্থাননামের নকশাল শব্দটির উৎসের সন্ধান : অসিত দাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার

Reporter
দিলীপ মজুমদার / ৮৪ Views জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কীর্তিযস্য স জীবতি

আমাদের নীতিশাস্ত্রে আছে : ‘চলচ্চিত্তং চলদ্বিত্তং চলজ্জীবনযৌবনম/ চলাচলমিদং সর্বং কীর্তিযস্য স জীবতি।’ অর্থাৎ মন-ধন-জীবন ও যৌবন ক্ষণস্থায়ী হলেও কীর্তিধারী মানুষ অমর হয়ে থাকেন। আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নীতিশাস্ত্রের এই নীতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন। তাই তো বঙ্গের বিজেপি সভাপতি তাঁর ব্যারি টোনে বলেছেন, এই মহামান্যকে ‘পদ্মভূষণ’ দেওয়া উচিত। মানুষ বিখ্যাত হয় দুভাবে — সুখ্যাত হয়ে অথবা কুখ্যাত হয়ে। সুকুমার সেন বা টি এন শেসান সুখ্যাত হয়ে বিখ্যাত আর জ্ঞানেশ কুমার কুখ্যাত হয়ে বিখ্যাত। বিখ্যাত মানুষ পদ্মভূষণ পাবেন, তাতে আর বিচিত্র কি?

কিন্তু জ্ঞানেশ কুমারের কীর্তিটা কি? সেই কীর্তি কি, যা সাংবাদিক রিতিকা চোপরা ফাঁস করেছেন? ঠিক তাই। আমাদের বঙ্গ সন্তান সুকুমার সেন থেকে আজ পর্যন্ত অনেক নির্বাচন কমিশনার এসেছেন, কিন্তু এমন অক্ষয় কীর্তির উদাহরণ তাঁরা স্থাপন করতে পারেন নি। জ্ঞানেশ কুমার শাসক দলের হয়েই কাজ করে গেছেন। বিরোধী দলের লোকেদের ধমকেছেন। তাঁরা দেখা করে অভিযোগ জানালে তাঁদের অসম্মান করেছেন। আর এই সব করতে গিয়ে সহকারী কমিশনারদের কথা শোনেন নি, বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষপাত নিয়ে। অতি সম্প্রতি (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেছেন, ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নির্ভর করে সত্যিকারের স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের উপর। নির্বাচন কমিশনের শুধু স্বাধীন হওয়াই যথেষ্ট নয়, নির্বাচন কমিশনারকে নিরপেক্ষ দেখানোটাও জরুরি।’

রিতিকা চোপরার প্রতিবেদনে দেখি, জ্ঞানেশ কুমার দিল্লির নির্বাচন সদনে বসে একের পর এক একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার –সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী গত ১০ মাসে ১৪ বারত আপত্তি জানিয়েছেন এস আই আর-সহ নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে। সেসব আপত্তিতে কান দেন নি জ্ঞানেশ কুমার। অনেক সিদ্ধান্তই ‘অনুমোদনহীন’ ও ‘বেআইনি’।

গত মে মাসে নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এস আই আরে নতুন নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬-এ বদল নিয়ে আপত্তি তুলে এস আই আর নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে নির্বাচন কমিশনকে এস আই আর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে তা ব্যতিক্রম ও এককালীন পদক্ষেপ হিসেবে। নতুন ভোটারদের নাম তোলার জন্য ফর্মে তাঁর নাম আগের এস আই আরে ছিল কি না, এই প্রশ্ন যোগ করা নিয়ে আপত্তি তোলেন তিনি। তাঁর মতে এইসব ‘অনুমোদনহীন’ ও ‘বেআইনি’। পশ্চিমবঙ্গে যে সব বিচারাধীন ভোটারের নাম বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের অনুমতি দিয়ে ভোটার তালিকায় যোগ হয়েছে, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য এস আই আর ট্রাইবুনালে নির্বাচন কমিশনের হয়ে ১৬ লক্ষ আপিল দায়ের করা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন সুখবীর সিং সান্ধু।

জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের মতভেদের ক্ষেত্রগুলি ‘ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আনন্দবাজার পত্রিকা (২৪.০৯.২৬) সূত্রবদ্ধ করেছেন এইভাবে :

১] এস আই আরের সময়ে ফর্ম-৬-এ নতুন করে জানতে চাওয়া হয় নতুন ভোটারের বাবা-মা বা ঠাকুর্দা-ঠাকুমা গত এস আই আরের তালিকায় ছিলেন কি না। জবাব দেওয়া বাধ্যতামূলক। জোশি বলেন, ফর্ম সংশোধনে সরকারি বিধি সংশোধন প্রয়োজন।

২] ভোটার তালিকায় কার প্রবেশাধিকার থাকছে ? নির্বাচনী তালিকা তৈরির দায়িত্বে ইআরও। সেই তালিকা সংরক্ষিত হয় ‘ইআরওনেট’ ও পরে ‘ইসিআইনেট’-এ। বাকি দুই কমিশনারের প্রশ্ন : এই তালিকায় ইআরও-দেরই প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে কি না। সান্ধু জানান,ইআরওনেট-এ তাঁদের সঠিক ও সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার নেই বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা।

৩] পশ্চিমবঙ্গের এস আই আরে একটি অংশের দায়িত্বে কোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকেরা ছিলেন। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা ১৬.১০ লক্ষ নামের বিরুদ্ধেও আপিল হয়েছে। কারা এই আপিল করেছেন?

৪] গোয়ায় নথি পরীক্ষা করে ইআরও-রা ৯৭ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু তা নথিভুক্ত করার বব্যবস্থা সফটওয়্যারে ছিল না। অনুরোধ সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা হয় নি।

৫] সফটওয়ারের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে সান্ধু এবং জোশী ক্যাবিনেট সচিবেরও দ্বারস্থ হন।

এবার পশ্চিমবঙ্গের এস আই আর নিয়ে কিছু আলোকপাত।

১] পশ্চিমবঙ্গে ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’র জন্য ‘বিচারাধীন’ ৬০ লক্ষ ভোটারদের মধ্য থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ বাদ গিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় ৩৩ লক্ষ জায়গা পেয়েছিলেন।

২] এস আই আর আপিল ট্রাইবুনালে ৩৮.৩১ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে, এর মধ্যে বাদ যাওয়া মানুষের আবেদন সংখ্যা ২২.২১ লক্ষ।

৩] বাকি ১৬.১০ লক্ষ আবেদন করেছে নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকায় ঢুকে যাওয়া ‘বিচারাধীন ভোটার’-দের নাম কাটার জন্য।

৪] গত আগস্ট মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের কাছে লিখিতভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনের তরফে এই সব আবেদন করার জন্য কাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? কারা নির্বাচন কমিশনের তরফে এই আবেদন করেছেন?

৫] সান্ধু জানিয়েছিলেন, তিনি বা অন্য নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী বা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান নির্বাচনী আধিকারিক, কাউকেই এই সব আপিলের ভিত্তি বা প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু জানানো হয় নি।

কে তুমি ওখানে মায়াবিনী

তিনি নির্বাচন কমিশনের ডাইরেক্টর জেনারেল ( আইটি)। কমিশনের বিভিন্ন ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার দায়িত্ব তাঁর। ২০২৫ সালে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার থেকে তিনি ডেপুটেশনে যোগ দেন নির্বাচন কমিশনে। ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের কাজে ব্যবহৃত ECI Net এবং ERO Net-সহ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিকাঠামোর সঙ্গে তাঁর দফতর যুক্ত। ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি চালু হওয়া ECI Net-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ৪০টিরও বেশি অ্যাপ ও পোর্টালকে একটি ব্যবস্থার অধীনে আনা হয় বলে দাবি করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন যে নতুন প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মানুষের আস্থা বাড়াবে।

হ্যাঁ, বলেছিলেন তিনি।

তাঁর নাম সীমা খান্না। ভোট চুরির কাহিনিতে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে এই সীমা খান্নার নামও জড়িয়ে যাচ্ছে। সুখবীর সিং সান্ধু আর বিবেক জোশী প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সফটওয়ারে ERO-দের প্রবেশাধিকার সীমিত করার কোনও আইনি ক্ষমতা সীমা খান্নার আছে কি না!

জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৩ বি ধারায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের দায়িত্ব ERO-কে দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা, সংশোধন করা। স্থানান্তর করা কিংবা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ERO-দের ভূমিকা বিধিবদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ERO Net সংক্রান্ত বিবরণেও বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা ভোটার নিবন্ধন যাচাই এবং ERO-র সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার জন্য তৈরি হয়েছে। তার মানে সফটওয়্যারটি সিদ্ধান্তে সাহায্য করবে, কিন্তু সিদ্ধান্তগ্রহণকারী বিধিবদ্ধ আধিকারিকের জায়গা নেবে না।

প্রশ্ন উঠছে : দিল্লির কোনও প্রযুক্তি আধিকারিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে ERO-র বিধিবদ্ধ সিদ্ধান্ত কার্যকে হওয়া আটকাতে পারেন কি না!

দৃষ্টান্ত : গোয়া

সেখানে ৯৭ জন ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছিলেন ERO-রা। কিন্তু ডেটাবেসে প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার না থাকায় ৯৭ জনের নাম ভোটার তালিকায় যোগ করা যায় নি। নির্বাচন কমিশনকে বারবার চিঠি দিয়েও কোন সুরাহা হয় নি।

অভিযোগ : ভোটার সফটওয়্যার ব্যাকএণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে ভোটার তালিকা প্রভাবিত করা কিংবা নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

ধেয়ে আসে প্রশ্নের লহরি

তিন প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জাতিসংঘ ভারতকে চিঠি দিয়েছেন।

প্রতিবেদকদের মূল বক্তব্য SIRকে কেন্দ্র করে। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঘোষণা করা হয় ৯টি রাজ্য (ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, পঃ বঙ্গ) ও ৩টি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে (আন্দামান-নিকোবর, লাক্ষাদীপ, পুদুচেরি) SIR হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে সব বৈধ ভোটারদের নাম যুক্ত হবে, অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্যরকম দেখা গেল। এই ৯ টি রাজ্য ও ৩ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের নাম বিশেষভাবে বাদ গেছে (“Across 9 States and 3 Union Territories, approximately 52 million names have allegedly removed, with West Bengal particularly affected, where a total of 9.1 million names were repoetedly deleted from the register . Affected individuals of the second phase report being wrongfully excluded despite having provided valid identification. Muslim voters were reportedly disproportionately impacted by the SIR process.”) প্রতিবেদকরা পঃবঙ্গের নির্বাচন কেন্দ্র নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। বৈধ প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও সেখানকার বহু মুসলমান ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৯৫% মুসলমান (“In one constituency, namely Nandigram, allegedly 95 per cent of the deleted voters were Muslims, even though Muslims only make up 25 per cent of the constituency’s electorate . They have sought redress through domestic remedies, including recourse to the ECI and judicial review by the Supreme Court of India, which declined to stay the process on 6 April 2026.) [লক্ষ্য করা গেছে বিজেপি প্রার্থীরা যত ভোটে জিতেছেন, প্রায় সেই পরিমাণ বা তার চেয়ে কিছু বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বহু কেন্দ্রে। এটা সুপরিকল্পনা বলেই অনুমিত হতে পারে। প্র্রতিবেদকদের বক্তব্যে তার ইঙ্গিত আছে, যদিও তাঁদের পক্ষে বিশদভাবে কিছু বলা হয় নি]

প্রতিবেদকদের বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেবার পটভূমিটাও তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপি নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীপ্রমুখেরা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’দের, বাংলাভাষীদের ( প্রতিবেদকরা ‘রোহিঙ্গ’ শব্দটি উচ্চরণ করেন নি ) তাড়াবার কথা বলে নাম বাদ দেবার পটভূমি তৈরি করে রেখেছিলেন। ফর্মুলাটি ছিল Detect, Delete, Deport (“Senior Government officials, including the Union Home Minister, have reportedly publicly framed the deletion of voter names as targeting ‘illegal Bangladeshi immigrants’–rhetoric that conflates legitimate Indian Muslim citizens with foreign nationals. It is reported that there has been repeated invocation of this framing by the highest levels of the executive, including the characterization of the SIR as a mechanism to ‘purify’ electoral rolls of infiltrators. It is also reported that, before Parliament, the Home Minister framed the State-administered electoral process in terms of the removal of a religious community, expressed through the policy formula ‘Detect, Delete and Deport’)।

AI–ব্যবহার করে সুবিধামত গ্রহণ-বর্জন করারও অভিযোগ প্রতিবেদকরা করেছেন, “We are also concerned by reports of the alleged use of an AI-driven system that flagged ‘irregularities’ in voter data, raising serious issues related to transparency, errors and potential bias.” এই AI-ব্যবহার বৈধ ভোটারকে বিচ্ছিন্ন করা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে বিঘ্নিত করার ঝুঁকিপূর্ণ, “The use of AI-driven systems in the AIR process risks having disenfranchised legitimate voters, undrmining democratic fairness and raising concerns about reliability of automated decision-making in such a high-stakes context.”

ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধি ও সরকারের কর্মকর্তাদের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক ও বিভাজনমূলক আচরণ সম্বন্ধে প্রতিবেদকরা প্রকাশ করেছেন গভীর উদ্বেগ। তাঁরা বলেছেন এই আচরণ আন্তর্জাতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারের (ICCPR) পরিপন্থী। এর ফলে মুসলমান নাগরিকরা নিজেদের স্বদেশে পরবাসী বলে ভাবতে থাকবে (“We are further concerned by the discriminatory rhetoric by politicians and senior public figures of the Govrnment in the context of the SIR exercise, which could amount to potential incitement to discrimination within the meaning of article 20 (2) of the International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR), ratified by India on 10 April 1979. This article prohibits any advocacy of national, racial or religious hatred that constitute incitement to discrimination, hostility or violence. We are concerned that the rhetoric used by authorities may serve to construct Muslim citizens as presumptively foreign, criminal and underserving of civic rights, without any individualized determination of their legal status, in a manner incompatible with the non-discrimination obligation of articles 2 and 26 of the ICCPR.”)।

এস ওয়াই কুরেশি হলেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার (২০১০ সালের ৩০ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১০ জুন পর্যন্ত)। সম্প্রতি ‘India and I : A Hundred Memoires, Not a Memoir’ বইটি প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে কুরেশি SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে ২০০২-৩ সালে বিহারে শেষ বড় আকারের নিবিড় সংশোধনের পর নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ভোটার তালিকা কম্পিউটারাইজড হয়ে যাওয়ায় আর এ ধরনের নিবিড় সংশোধনের প্রয়োজন নেই। তার পরিবর্তে চালু হয় ‘সামারি রিভিশন’ বা সংক্ষিপ্ত সংশোধন প্রক্রিয়া। এতে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা দেখতেন, তথ্য মিলিয়ে নিতেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন সেখানেই সম্পন্ন হত। যখন ৯৯% নাম ইতিমধ্যেই তালিকায় রয়েছে, তখন আবার শূন্য থেকে শুরু করে কে কোথায় থাকে তা খুঁজতে যাওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, ‘কতজনকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়, সেটাই যেন এখন প্রধান লক্ষ্য। মনে হচ্ছে যত বেশি মানুষকে বাদ দেওয়া যাবে, ততই যেন সাফল্যের নম্বর বাড়বে।’

পঃ বঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে তাঁর প্রশ্ন, ‘আট কোটি মানুষকে দৌড় করানোর পর শেষ পর্যন্ত কতজন বিদেশি সনাক্ত হলেন? আজ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দেশের মানুষ জানতে চায়, আমরা জানতে চাই, কতজন বিদেশিকে চিহ্নিত করা গেছে?’

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ড. পারকালা প্রভাকর SIRকে ‘রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে এর ফলে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক তৈরি করার চেষ্টা এবং প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে । তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণ তাদের সরকার বেছে নেয়, কিন্তু এস আই আরের মাধ্যমে সরকার নিজের পছন্দমতো ভোটার বেছে নিচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev