
কথামুখ
অভূতপূর্ব এক নির্বাচন হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গে। চৌঠা মে ফল প্রকাশের পর সংবাদ মাধ্যম বলল, ‘গেরুয়া ঝড়’। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার সংবাদ মাধ্যমে ছিল না এই ঝড়ের পূর্বাভাস। বলা হচ্ছিল, অ্যান্টি ইনকামবেন্সির ফলে ভোট কমবে তৃণমূলের, আসন কমবে, কিন্তু হারবে না। তবু হারল। গো হারান হারা যাকে বলে। বিজেপি একাই ২০৭ আসন। বিপুল জনাদেশ। সেই কথাটাই বুক ফুলিয়ে নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সভায় সভায় বলতে শুরু করছেন। সমালোচনা করলেই বলছেন বিপুল জনাদেশের কথা। (ভাবটা যেন বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কৃষ্ণকান্তের উইলে’র জমিদারের মতো — ‘আমিই জজ, আমিই ম্যাজিস্টর’) বিজেপির জয়ে খুশি দুই প্রিয় শিল্পপতি। ‘সংবাদ প্রতিদিনে’র ২৭. ০৮.২৬ এর খবরে প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরের দিন অর্থাৎ ৫ মে (এই ৫ মে থেকে শুরু বুলডোজারের খেলা) গৌতম আদানি তাঁকে ফোন করেছিলেন ; আদানি বলেছিলেন বিজেপির জয়ে তিনি গর্বিত এবং ‘দেশের সুরক্ষার স্বার্থে’ তিনি ১০ লক্ষ টাকার মিষ্টান্ন বিতরণ করেছেন। আদানি যখন এগিয়ে এলেন, তখন আম্বানিও বাদ থাকেন কেন! মুকেশ আম্বানির সুপুত্র অনন্তের গণেশপুজোয় ডাক পেলেন বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সটান চলে গেলেন মুম্বাইএর ‘অ্যান্টিলিয়া’য়। আম্বানিদের বাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। … আম্বানির পরিবারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডিনার করেছি। বাংলায় অনেক বিনিয়োগ হবে।’ (আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা, ২২.০৯.২৬)। ‘বিপুল জনাদেশে’র আসল সত্যটা বেরিয়ে আসছে ধীর বিলম্বিত লয়ে। মনে পড়ছে আমাদের ঈশোপনিষদের ১৫ নং শ্লোকটি :
হিরণ্ময়েন পাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতম মুখম।
তত্ত্বং পূষন্নপাবৃণু সত্যধর্মায় দৃষ্টয়ে।।
সত্যের মুখ এক জ্যোতির্ময় সুবর্ণ পাত্রের দ্বারা আবৃত রয়েছে। এটি এক মোহময় আবরণ। হে পূষণ, হে জগৎপালক সূর্য, তুমি এই আবরণ উন্মোচন করো, আমি যাতে দেখতে পাই সত্যের মুখ।
‘বিপুল জনাদেশে’র আসল সত্যটা তেমনি ঢাকা ছিল মোহের আবরণে। সূর্যস্বরূপা হয়ে দেখা দিলেন দুই নারী। একজন রিতিকা চোপরা, আর একজন দামিনী নাথ। সাংবাদিক তাঁরা। আমাদের মতো কিছু অভাজনের অন্তরের প্রার্থনা উদ্বুদ্ধ করেছে তাঁদের। তাঁরা উন্মোচন করে দিয়েছেন সত্যের মুখ।
গঙ্গা আনে ভগীরথ
উন্মোচিত সত্যের কথা বলার আগে দেখে নেওয়া যাক আমাদের দেশে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের অবস্থাটা। ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বডার্স’-এর (RSF) সর্বশেষ ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদ মাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ভারত ১৮০টি দেশের মধ্যে আছে ১৫৭তম স্থানে। গত বছর ভারতের অবস্থান ছিল ১৫১ নম্বরে। মাত্র এক বছরে তার আরও ৬ ধাপ অবনতি ঘটেছে। অথচ আমাদের সংবিধানের ১৯ (১) (এ) অনুচ্ছেদে নাগরিকদের বাক ও মত প্রকাশের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
কেন এই অবনতি, তার কারণ বিশ্লেষণ করেছে আর এস এফ :
১) আইনি ও রাজনৈতিক চাপ —
ক] সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহ আইন, মানহানি মামলা, UAPA-এর মতো সন্ত্রাসবিরোধী বা জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার করে চলেছে শাসকদল।
খ] ২০২৩ সালে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়মের সংশোধনী এবং ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে সরকার ইন্টারনেট ও ডিজিটাল মিডিয়ার উপর নজরদারি ও সেন্সারশিপ বৃদ্ধি করেছে অনেকগুণ।
২) কর্পোরেট ও অর্থনৈতিক প্রভাব—
ক] ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর বড় অংশই গুটিকয়েক বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, যার ফলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথ সংকুচিত হয়েছে তীব্রভাবে।
খ] সরকারের সমালোচনা করলে সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সংবাদ মাধ্যম আপোষ করতে বাধ্য হয়েছে।
৩) সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা —
ক] গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় স্থানীয় দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা সহিংসতার শিকার হন। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে পড়তে হয় তাঁদের।
খ] এর পর আছে অনলাইন ট্রোলিং। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্ন মতাবলম্বী বা স্বাধীন সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত আক্রমণ হয়, কুৎসা রটনা করা হয়। এসবে জীবিকার সঙ্গে সাংবাদিকের সম্মান ক্ষুণ্ণ্ হয়।
সব সরকারই সংবাদ মাধ্যমের উপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে, চেষ্টা করেছে একটা স্তাবকবৃন্দ তৈরি করতে। কিন্তু বিজেপি সরকারের মতো এমন নির্লজ্জ ও সর্বব্যাপক চেষ্টা আগে দেখা যায় নি। যেখানে দরকার সেখানে পেতেছে প্রলোভনের ফাঁদ, আবার তাতে কাজ না হলে ভয়-ভীতি প্রদর্শন। যে সব মিডিয়া হাউস বিজেপি সরকারের ডংকা বাজানোর কাজে নিযুক্ত, বিখ্যাত সাংবাদিক রাভিশকুমার তাদের ‘গদি মিডিয়া’ আখ্যা দিয়েছেন। অসম্পূর্ণ তালিকাটা এইরকম :
১] রিপাবলিক টিভি। বিজেপি সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখরের অর্থ সাহায্যে ২০১৭ সাল থেকে তার যাত্রা শুরু। এই চ্যানেলের সম্পাদক ও সঞ্চালক প্রাতঃস্মরণীয় অর্ণব গোস্বামী, দিনকে রাত করার ক্ষমতা রাখেন যিনি।
২] ‘দ্য টাইমস গ্রুপে’র চ্যানেল ‘টাইমস নাও’। সভাপতি ইন্দু জৈন। সরকারের প্রতি ভক্তির সুবাদে লাভ করেছেন ‘পদ্মভূষণ’।
৩] হিন্দি নিউজ চ্যানেল ‘আজ তকে’র ভগ্নীপ্রতিম চ্যানেলরূপে ‘ইণ্ডিয়া টুডে’র আত্মপ্রকাশ ২০০৩ সালে। অরুণ পুরী চ্যানেলের চেয়ারম্যান। এই চ্যানেলে বিজেপি ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের প্রচার চালানো হয়।
৪] সিএনএন নিউজ-১৮ শিল্পপতি মুকেশ আম্বনানির মালিকানাধীন। নরেন্দ্র মোদির জিগরি দোস্ত আম্বনির রিলায়েন্স ইণ্ড্রাস্ট্রিজের অধীনে চলে ৬৫টি চ্যানেল।
৫] জি নিউজ। মালিক সুভাষ চন্দ্র। ইনি বিজেপির সমর্থনে রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন। আর এক প্রাতঃস্মরণীয় সুধীর চৌধুরী এই চ্যানেলের প্রধান সম্পাদক ও প্রাইম টাইমের সঞ্চালক। এঁরও দিনকে রাত করার ক্ষমতা আছে।
৬] ইণ্ডিয়া টিভি। ২০০৪ সালে এটি চালু করেন রজত শর্মা ও তাঁর ধর্মপত্নী রিতু ধাওয়ান। রজত শর্মাকেও ‘পদ্মভূষণ’ দেওয়া হয়েছে।
৭] আজ তক। এটি ‘ইণ্ডিয়া টুদে গ্রুপে’র চ্যানেল। সঞ্চালক অঞ্জনা উম কাশ্যপ। মুসলমানবিরোধী প্রচারে যেন আত্মনিবেদিতপ্রাণ।
৮] নিউজ নেশন। চ্যানেলের সম্পাদক দীপক চৌরাসিয়ার সঙ্গে মোদির মাখামাখি সম্পর্ক।
৯] ইণ্ডিয়া ২৪। চ্যানেলের পেছনে আছেন বিজেপি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের বোন অনুরাধা প্রসাদ।
১০] ‘সুদর্শন নিউজে’র চেয়ারম্যান সুরেশ চ্যবন দীর্ঘদিন আর এস এসের স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।
১১] এবিপি নিউজ। প্রথম দিকে মোটামুটি নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করলেও পুণ্যপ্রসূন বাজপেয়ী ও অভিসার শর্মার প্রতি বিজেপি ক্রুদ্ধ হলে এই সংস্থা ভোল বদলাতে থাকে।
এইসব মিডিয়া কেন বিজেপি সরকারের দালালি করে তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এস কে হাসান তাঁর ‘হোয়াই ইণ্ডিয়াজ গদি মিডিয়া স্প্রেডস হ্যাট্রেড অ্যান্ড ফেক নিউজ’ নিবন্ধে :
১] পাওয়া যাবে প্রচার, বিজেপির ১০০ মিলিয়ন হিন্দু দর্শক দেখবে এই মিডিয়া।
২] পাওয়া যাবে প্রচুর টি আর পি।
৩] বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান পাওয়ার সম্ভাবনা।
৪] সরকারের বিরুদ্ধাচরণ না করলে শাস্তির কোন সম্ভাবনা থাকে না।
৫] পুষ্ট হয় বাণিজ্যিক স্বার্থ।
আমাদের এই বঙ্গের ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও সংবাদ মাধ্যমকে দেদার টাকা বিলিয়েছে বিজেপি। সে আলোচনা আমরা করব ‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’ অধ্যায়ে।
কিন্তু গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের এই চরম দুর্দশার দিনে ভগীরথের গঙ্গা আনয়নের মতো সত্যকে আনলেন দুই সাংবাদিক। রিতিকা চোপরা ও দামিনী নাথ। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেছেন রিতিকা। মাস কমিউনিকেশন ও ভিডিয়োগ্রাফি ছিল বিষয়। ২০০৬ সালে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন ‘হিন্দুস্থান টাইমসে’। ২০০৭ সালে চলে যান দিল্লি। রাজনীতি, শিক্ষা, সমাজিক ব্যবস্থা নিয়ে লেখালিখি করেন ‘মেল টুডে’ এবং ‘দ্য ইকনোমিক্স’-এ। ২০১৫ সালে তিনি যোগ দেন ‘দ্য ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’। কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন নিয়ে তাঁর প্রতিবেদনগুলি মানুষের নজর কাড়ে। অনেক পুরস্কারে ভূষিত রিতিকা — লাডলি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড (২০১৮), ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইন্সটিটিউট’স ইণ্ডিয়া অ্যাওয়ার্ড (২০২০), রামনাথ গোয়েঙ্কা একসেলেন্স ইন জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড (২০২১), চামেলি দেবী জৈন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যাণ্ডিং উইওম্যান মেডিয়াপার্সন (২০২৪)।
দামিনী নাথ সাংবাদিকতায় এম এ উত্তীর্ণ। প্রথমে সাংবাদিকতা করতেন ‘দ্য হিন্দু’তে। এর পরে তিনি ‘দ্য ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’ যোগ দেন। সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নগর উন্নয়ন নীতি, নির্বাচন কমিশনের গতিবিধি ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেন তিনি।
হাটে হাঁড়ি ভাঙিল
২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। বুধবার। হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন ‘দ্য ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র সাংবাদিক রিতিকা চোপরা। সেই সংবাদপত্রের সেদিনকার হেডিং :
‘14 times in 10 months, two Election Commissioners objected on record to steps taken by Commission–from keeping them in the dark to adding new voters and deleting names’.
এই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করার আগে একবার দেখে নেওয়া যাক ভারতের নির্বাচন কমিশনের চেহেরাটা। তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিশন। সহকারী দুজন হলেন বিবেক জোশী আর সুখবীর সিং সান্ধু।
বিবেক জোশী ১৯৮৯ ব্যাচের হরিয়ানা ক্যাডারের আই এ এস অফিসার। হরিয়ানা সরকারের মুখ্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের পার্সোনেল অ্যাণ্ড ট্রেনিং বিভাগের সচিব ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
সুখবীর সিং সান্ধু ছিলেন ১৯৮৮ ব্যাচের উত্তরাখণ্ড ক্যাডারের আই এ এস অফিসার। তিনি উত্তরাখণ্ড সরকারের মুখ্য সচিব, NHAI-এর চেয়ারম্যান, লোকপালের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন।
এবার মহামান্য জ্ঞানেশ কুমারের কথা
ইনি ১৯৮৮ সালে আই এ এস অফিসার হিসেবে যোগদানের পর কেরালা ক্যাডারে নিষুক্ত হন। কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে থাকাকালীন তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ে অমিত শাহের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন । ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের সময় উপত্যকার নিরাপত্তা ও প্রসাসনিক পুনর্গঠনে কেন্দীয় ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২০ সালে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অযোধ্যা সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাম মন্দির ট্রাস্ট গঠনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেন। ২০২২ সালের মে মাস থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত নবগঠিত সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ তাঁকে এবং সুখবীর সিং সান্ধুকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি ছিলেন প্রথম নির্বাচন কমিশনার যিনি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন ২০২৩’-এর অধীনে গঠিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল দ্বারা নিযুক্ত হন। এই নিয়োগের সময় তখনকার বিরোধী দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী ভিন্নমত পোষণ করেন।
রাজীব কুমারের অবসরের পর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের নির্বাচনই প্রমাণ করে দেয় তিনি কি ভূমিকা পালন করে আসছেন। নিয়ম ছিল প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যে কমিটি হবে সেই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন করবে। কিন্তু সে নিয়ম পাল্টে দেওয়া হল। বাদ দেওয়া হল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে। তার বদলে এলেন মোদি মন্ত্রীসভার সদস্য অমিত শাহ। প্রবল আপত্তি জানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বললেন,
‘By violating the Supreme Court order and removing the Chief Justice of India from the committee the Modi government has exacerbated the concerns of hundreds of millions of voters over the integrity of our electoral process,’
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাকেত গোখলে বিদ্রূপ করে বললেন, ‘ভারতের নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার জন্য অমিত শাহকে ধন্যবাদ। ভারতবাসী নিশ্চিত যে আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভারতীয় জনতা দলের একটি শাখা সংগঠনে পরিণত হবে।’
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে খেলা শুরু হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের। শেষ বেলায় দেখা গেল হঠাৎ করে ৫ কোটি ভোটের বৃদ্ধি। তাই ১৫টি রাজ্যের ৭৯টি আসন চলে গেল বিজেপির ঝোলায়। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা না থাকলে, বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিজেপি-এন ডি এ পেত ২১৪টি আসন, আর বিরোধীরা পেত ৩০৩টি আসন। এই যে খেলা, তাকে একটি বিধিবদ্ধ রূপ দেবার জন্যই নতুন এক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দরকার। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ভার তাঁর উপর ছেড়ে দেওয়া হল। ফল মিলল হাতে হাতে। পরের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ। [ক্রমশ]
শুধু ভয় যদি ঋতিকা চোপড়া ও দামিনী নাথ গৌরী লঙ্কেশের পথে হারিয়ে যায়!
লেখকের অনুমতি নিয়ে লিংক টি আমার পরিচিতদের পাঠাচ্ছি।