| | |
এই মুহূর্তে ::
ছেলে বেলার পুজো : সুব্রত দত্ত SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (তৃতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শাশ্বত বোস-এর গল্প ‘সর্বভূক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (দ্বিতীয় কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার শত সুরের সারস্বত সাধক — নলিনীকান্ত সরকার : রিঙ্কি সামন্ত পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ঝন্টু মামা ও তাঁর শিকারের গল্প’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ SIR-এর ফাঁসে জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনের অন্দরে অশান্তি (প্রথম কিস্তি) : দিলীপ মজুমদার রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা — বর্তমান পরিস্থিতিতে একট চ্যালেঞ্জ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘আদমের চোখ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার পার্থ সারথি পাত্র-র ছোটগল্প ‘টাইম-ব্যাঙ্ক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সার্ধশতবর্ষে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শতবর্ষে সুরসম্রাট ভূপেন হাজারিকার স্মরণে : যশোবন্ত রায় মাটির নিচের ইন্টারনেট — অণুজীব ও উদ্ভিদের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক : অন্বেষা গাঙ্গুলী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্রম্পটনে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের সমাধি : অসিত দাস শৌনক দত্ত-র ছোটগল্প ‘হোয়েন আই ওয়াজ ডেড’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ডোকরা শিল্পীদের কাহিনি : স্বর্ণাভা কাঁড়ার পীযূষ কান্তি দাস-এর ছোটগল্প ‘ছমছম পায়েল বাজে’ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শাশ্বত বোস-এর বড়োগল্প এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে নন্দিনী অধিকারী-র বড়োগল্প ‘দুর্গাদালান’
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ছেলে বেলার পুজো : সুব্রত দত্ত

Reporter
সুব্রত দত্ত / ৪৫ Views জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

লোকটা একটা ভিলেন! এমন বেইমানি করবে জানা ছিল না! দুর্গা পুজো এসেছে। আকাশে বাতাসে আনন্দ! আজ শুভ সপ্তমী। সকাল থেকে ঢাক ঢোল বাজছে পুজো তলায়। বন্ধুরা নতুন জামা প্যান্ট পরে ডাকতে এসেছে। সবাই এক সাথে যাবো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমাদের জামা প্যান্ট এসেছে কাল রাতে। ঘুমে তখন চোখ ভারি। চোখে দেখেই লুটিয়ে পড়েছিলাম বিছানায়। ঘুমে স্বপ্ন দেখি। নতুন জামা প্যান্ট পরে সবাই পাখির মত উড়ছি আকাশে। হাতে হাতে টিনের বন্দুক। পকেটে ভরা পটকা গুলি। একে অপরের দিকে তাক করে গুলি ফোটাচ্ছি। কেউ টারজান, কেউ অরন্যদেব। হঠাৎই ভোরের ঢোল-ঢম্বুলে ঘুম ভেঙে যায়। এখনও আঁধার। মিষ্টি সানাই-এর সুর ভেসে আসছে পুজোতলা থেকে। অধীর অপেক্ষায় আছি কখন সকাল হবে। স্নান করে নতুন জামা প্যান্ট পরে পুজো তলা যাব। নাওয়া খাওয়ার সময় বাদে পুজো তলাতেই কাটবে এ দিন গুলো।

ষষ্ঠীর দিনেই স্কুলে ছুটি পড়ে গেছে। দু তিন মাস আগে থেকেই দিন গুনছিলাম সবাই। আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা আর কাশফুল আমাদের খবর দিত পুজো আসছে। দুর্গা মূর্তিতে মাটি পড়া থেকে রঙ, প্রতিটা মুহূর্তের সাক্ষী আমরা। মাস খানেক আগে থেকেই বায়না ধরেছি নতুন জামা প্যান্টের। বাবা চাষী মানুষ। কিছু জমি আছে। চাষের ফসল বিক্রি করে সংসার চলে। কখনও ধান, কখনও আলু কচু। আশ্বিন মাসে গোলার ধান তলায়। বছরে একবার ধান তখন। সামনে এখনও দু-তিন মাস। বাকি ধান কটা বুক দিয়ে আগলে না রাখলে মুখের অন্নে টান পড়বে। বড় একান্নবর্তী সংসার আমাদের। ভাইবোন ভাইপো ভাইঝি মিলে অনেক গুলো কাচ্চাবাচ্চা তারপর বাড়ির বৌ ঝি মুনিশ রাখাল আছে। এ সময় সবাই পরিবারের কর্তার মুখ চেয়ে আছে। অনেক টাকার কেনাকাটা। বাবাকে এ সময় অকুল পাথারে পড়তে হয়। আমাদের কচুর চাষ ছিল। খুব অনাদরের ফসল। দাম ছিল না। তবুও করতে হত সংসারের কথা ভেবে। যে বছর বাজার ভালো সে বছর কচুই উৎরে দিত পুজো। সে নেহাতই বরাতজোর। তবে কিছু টাকা আসত ফি বছর। সেটাই সম্বল করে বাবা ছুটতেন কাছের কাটোয়া শহর। তখন গ্রামে কাপড়ের দোকান ছিল না। ফেরিওয়ালারা আসত কাপড় নিয়ে। কিছু কেনাকাটা হত। তাদের দড়ি দেওয়া প্যান্ট আর জামা পরেই পুজো দেখেছি ছোট বেলা। একটু বড় হতেই বায়না ধরলাম ইংলিশ প্যান্ট চাই। অর্থাৎ বোতাম দেওয়া প্যান্ট। সে বায়না মঞ্জুর হয়েছে এবার। জামাও কাটাতে দেওয়া হয়েছে। এবার অন্য পুজো আমার।

কাটোয়া শহর থেকে বড়োদের জন্য লং ক্লথ কিনে আনতেন বাবা। তখন রেডিমেড জামা প্যান্টের চল ছিল না তেমন। দরজির কাছে তৈরি করে নিতে হত। আমাদের দরজি ছিলেন নারান কাকা। গ্রামেই বাড়ি। পঞ্চাননতলায় তার দোকান। একদিন বাড়ি এসে জামা প্যান্টের মাপ নিতেন। সেই মাপ যোগ করে জামা আর প্যান্টের একটা করে থান কাপড় আনতেন বাবা। অর্থাৎ সবার জামার রঙ প্যান্টের রঙ এক। এমন রীতি অন্য বাড়ির ক্ষেত্রেও ছিল। বেশ মজার ব্যাপার। মনে হত এক একটা ফুটবল টিম। জামা প্যান্ট বাছতে আমাদের তালগোল পাকিয়ে যেত, এজন্য মা ভিন্ন রঙের সুতো সেলাই করে চিহ্নিত করে দিতেন জামা প্যান্টের কোন এক কোনে। রঙ নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল না, নতুনের গন্ধে আমরা মাতোয়ারা। তবে অভিযোগ ছিল পকেট নিয়ে, মাপ নিয়ে। জামার দু-দিকে দুটো পকেট, প্যান্টের পিছনে আর একটা পকেট হলে ভালো হয়। এ সব দাবি পেশ করতাম নারান কাকার দরবারে। কাকা যথারীতি ঘাড় নাড়তেন। কিন্তু ভরসা পেতাম না। কথা গুলো স্মরণ করাতে প্রায়ই কাকার দোকানে ঢুঁ মারতাম। দোকানটা স্কুলের কাছেই রাস্তার ধারে। স্কুল যাওয়া আসার পথে একবার ঢুঁ মারা। এ ছাড়া জামা প্যান্ট তৈরির কাজ কতদূর সে কৌতূহল ছিল। দোকানের ভিতরে তখন তাকে ঠাসাই রঙ বেরঙের অসংখ্য থান। নিচের মেঝেতেও স্তূপ। সেখানে প্রতিদিন নিজেদের কাপড় খুঁজতাম। বাঁশ বনে ডোম কানা অবস্থা। হয়ত যেটা নিজেদের ভাবছি, পাশ থেকে অন্য দল সেটা তাদের বলে। এ নিয়ে তর্ক বাঁধে মাঝে মধ্যে। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না। পূজার আগে কাজের চাপে কাকার মাথা তোলার সময় নেই। আমাদের মতোই দাবি, আশা নিয়ে এসেছে স্কুলের অনেক সহপাঠী। মুচকি হেসে, হচ্ছে হবে বলে আমাদের ভরসা যোগাতেন কাকা। কিন্তু ভরসা পেতাম না।

পুজোর দিনে স্নান করে নতুন জামা প্যান্ট পড়ছি। কিন্ত এ কি! বেঢপ ঢলঢল করছে। প্যান্ট ঝুলছে হাঁটুর নিচে। ঢিলা কোমরে দড়ি বাঁধলে ভালো হয়। আর জামা যেন পাঞ্জাবি। আমরা তো সুকুমার রায়ের রামসুখ তেওযারী নই যে চা খেয়ে অম্বুলে রোগ ধরেছে! রীতিমত মাপজোক দিয়ে তৈরি জামা প্যান্ট। এই জামা প্যান্ট পরে বের হলে সবাই হাসবে। চোখ ফেটে জল আসছে। এত ভরসার এই দাম! শয়তান, এমন বেইমানি! অবশ্য শুধুই আমি না, সবার এক হাল। কেউ পা ছড়িয়ে কাঁদছে, কেউ পরবো না বলে গোঁ ধরেছে। এ দিকে আমাদের একটাই জামা প্যান্ট। অনেকের মাসি পিসি মামার বাড়ি থেকে জামা প্যান্ট আসে। কেউ কেউ কাকা জ্যাঠার উপহার পায়। আমাদের সে কপাল নেই। একটা জামা প্যান্ট সম্বল। মা পিসিমা দিদিরা সান্ত্বনা দিচ্ছে এবার চালিয়ে নে। প্যান্ট গুটিয়ে নে,জামার ঝুল প্যান্টের নিচে ঢুকিয়ে দে। হাতা গুটিয়ে নে। শেষ পর্যন্ত তাই করতে হত। সত্যিই এখন কিছু করার নেই। পূজা শুরু হয়ে গেছে। নারান কাকার মুন্ডুপাত করতে করতে পথে নামতাম।

পুজোর ছুটি শেষে স্কুল খুললে দেখা হত নারান কাকার সাথে। অভিযোগ জানালে অবাক হতেন। তারপর একটা কিছু অজুহাত খাড়া করতেন। কিন্তু আমাদের সন্দেহ মিটত না! বছর বছর এমন ভুল হয় কেন! দেখতাম অনেক ভুক্তভোগী। নারান কাকা যথারীতি হেসে অপরাধ স্বীকার করছেন। রাগে লোকটাকে ভিলেন বলে মনে হত। কিন্তু তার কবল মুক্তির উপায় ছিল না। পঞ্চাননতলায় আর একজন দরজি আছে অবশ্যই। কিন্তু তারও সমান বদনাম। অনেক সহপাঠী তার পাল্লায় পড়ে ভুগেছে। সুতরাং নারান কাকাকে জব্দ করার পথ নেই।

বড় হয়ে বুঝেছি নারান কাকার দোষ ছিল না। পুজোর পর আমাদের জামা প্যান্ট ‘তোলা কাপড়’ হয়ে ভরা থাকত মায়ের টিনের বাক্সে। পূজা পার্বণ, আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার সময়ে সেগুলো পরতাম। এ রকম কিছুদিন ব্যবহারের পর সেটা আটপৌরে হত। তখন আমাদের বাড়ন্ত বয়স। তাই অন্তত বছর দুয়েক পরার কথা গোপনে বলা থাকত নারান কাকাকে। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। তখনকার মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী পরিবারে তখন কোন কিছু সহজলভ্য ছিল না। বড় দাদা দিদির ছোট জামা প্যান্ট পরত নিচের ভাই বোন। সেলাই করা, পট্টি দেওয়া জামা প্যান্ট পরা তখন লজ্জার ব্যাপার ছিল না। এমনই দুর্দিন ছিল তখন। আশ্বিন-কার্তিক মাসে খুব টানাটানি। অর্ধেক মানুষ খেতে পেত না। দুর্গা পুজোয় নতুন জামা কাপড় পরা তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন ছিল। সেই তুলনায় আমরা ছিলাম সৌভাগ্যবান।

বড় হয়ে নারান কাকাকে অন্য ভাবে চিনলাম। তিনি ছিলেন অকৃতদার। এলাকার একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী, রাজনৈতিক নেতা। অনেক উচু দরের নেতাদের সাথে মেলামেশা। তার চিঠিতে অনেকের অনেক কাজ হয়েছে কিন্তু নিজে কিছু নেননি। আজীবন দর্জি হয়েই থেকেছেন। আজও দুর্গাপূজা এলে মনে পড়ে তাকে। তেমন দর্জি আর দেখি না।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev