| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাষ্ট্রের বিধি বনাম মায়ের শেষ ইচ্ছে — চিন্ময়কৃষ্ণের ঘটনা যে প্রশ্ন রেখে গেল : যশোবন্ত রায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার নেপালের পর কি কলকাতা জলের তলায় চলে যাবে — চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বৈশ্বিক অস্থিরতায় জাতিসংঘের ছয় অগ্রাধিকার : নিকোলাস বিশ্বাস বাম-ব্যানারে শারদোৎসব না দুর্গোৎসব : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গুরুবাবাদের প্রবঞ্চনা-শোষণ-যৌনতা ও রাজনীতির জম-জমাট রঙ্গ : দিলীপ মজুমদার সিরাত : জীবন খুঁজে দেয় : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘টেবিলের নিচে একটি দেশ’ বানভাসি এলাকায় মানুষ ও সাপের সহাবস্থান, দংশনে বাড়ছে মৃত্যু : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘সংকোচ’ পাখণ্ডী শব্দটির অর্থ যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ লাইন অব প্যাসেজ — সংগ্রামী জীবনের দর্পণ : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কেন উত্তম মহানায়ক : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ হড়পা বানের হাড়হিম করা দৃশ্য : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উত্তম কুমার : বাঙালির সমাজভাষ্য, মূল্যবোধ ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকার : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় গৈরিক নয়, ‘গৈরেয়’ শব্দটি থেকেই এসেছে ‘গেরুয়া’ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাঙালিয়ানা ও উত্তম কুমার: সংস্কৃতির দর্পণে এক অনন্য মহাকাব্য : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় বিচিত্র লোক সংস্কৃতি — নন্দোৎসবে নারকেল কাড়াকাড়ি : সুব্রত দত্ত গড়িয়াহাট কি ছিল অলস, অকর্মণ্য বলদের হাট : অসিত দাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ রাখি পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫৪ Views জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খাজনা বা রাজস্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে আসল (assul), আবওয়াব (abwab) ও নিকদারি (neakdarry) — এই বিভাজন পদ্ধতি বিহারের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই এই পরগনাতেও অনাদিকাল থেকে চালু। এই ব্যবস্থায় জমির খাজনা বা উৎপন্ন ফসল সরকার, সরকারি কর্মকর্তা এবং চাষির মধ্যে সুনির্দিষ্ট অংশে ভাগ করে নেওয়া হতো; এর মধ্যে প্রথম দুটো অংশ সরকারের প্রাপ্য হিশেবে গণ্য করা হতো এবং শেষ অংশ — অর্থাৎ নিকদারি — নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির প্রাপ্য ছিল। আদায় সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক ব্যয় এবং অন্য কিছু খরচ (যা পরে উল্লেখ করা হবে) দেহ-খরচা (deh curcha) বা গ্রাম্য ব্যয়ের তহবিল থেকে মেটানো হতো। প্রতি বিভাগ বা আলাদা খাতে খাজনার বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে আরও ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।

আসল (Assul) — এটা জমির প্রতি বিঘা হিসেবে ধার্য করা সাধারণ হার, যার খাজনা নগদে শোধ করা হয়। মাটির গুণমান এবং শুকনো মৌসুমে পুকুর বা কূপ থেকে কৃত্রিম উপায়ে জল পাওয়ার সুবিধার ওপর ভিত্তি করে এই হার পরিবর্তিত হয়। এই হারগুলো কোনো সরকারি নথিপত্র বা রেকর্ডের সময়েরও আগের; এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি পাওয়ার বহু আগে থেকেই এই খাজনাগুলো নিশ্চিতভাবে আরোপিত হয়েছিল।

আবওয়াব (Abwabs)

১। কসুর (Kussoor) : এই শব্দের অর্থ বাট্টা/বাটা বা বিনিময় পার্থক্যের খরচ। মুঘল আমলে মফস্বল থেকে আদায় করা রুপির মানের তারতম্য বা ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বাট্টা/বাটা — যাতে সরকারি কোষাগারে একটা নির্দিষ্ট ও সমান মানের মুদ্রা জমা দেওয়া যায় — এটা আগে দেহ-খরচার (পরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে) অংশ হিসেবে আদায় করা হতো। কাসিম আলি [মীর কাশিম] এই আনুষঙ্গিক খাজনাকে পুরো পরগনা জুড়ে এক অভিন্ন ও স্থায়ী খাজনা কাঠামোয় রূপান্তরিত করেন এবং তখন থেকেই এটা একইভাবে চলে আসছে। রায়ত বা কৃষকরা এখন আর এর বিরুদ্ধে আপত্তি তোলে না; কারণ খাজনা চালুর পর থেকে শস্য ও অন্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে তাদের যে সুবিধা হয়েছে, তা সম্ভবত এই খাজনা ভার পুষিয়ে দিয়েছে।

২। দেহদারি (Dehdary) : মূলত দেহদারের (পুলিশ বিভাগের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা) প্রাপ্য অংশ ছিল। প্রায় ১৬ বছর আগে এই পদবাতিল হয় এবং তাঁর পরিষেবার আর প্রয়োজন না থাকায়, একই নামে এই খাজনাকে নিকদারি খাত থেকে সরিয়ে আবওয়াব খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়; বর্তমানে এটা রাজস্বের একটা অংশ হিসেবে গণ্য । [২৪১]

৩। মেহমানি (Mehemany) : আংশিক বা বিশেষ খাজনা (exaction)। মুঙ্গেরে কাসিম আলী যে সময় থাকতেন, তখন এটা প্রথম মহোবি (Mohoby) এবং এর অধীনস্থ গ্রাম সাকেরপুর (Sackerpore) ও জামিনুলকেতার (Juminulketa) ওপর ধার্য করা হয়। এর মোট পরিমাণ ছিল — প্রথমটির ক্ষেত্রে ৪২ টাকা, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ২০ টাকা এবং শেষটির ক্ষেত্রে ১২ টাকা ১২ আনা। শুকনো মৌসুমে সেচযোগ্য জমির ওপরই কেবল এই খাজনা ধার্য করা হয়েছিল; ফলে একই গ্রামের কৃষকদের মধ্যেও এর প্রভাব ছিল অসম, কারণ এর ফলে তাদের জমির মূল হারের (assul rates) ওপর প্রতি টাকায় ৭ আনা হারে বাড়তি বোঝা চেপেছিল। কৃষকদের জোরালো অনুরোধ এবং আমার একটা প্রস্তাবে তাদের তাৎক্ষণিক সম্মতির প্রেক্ষিতে আমি এই খাজনা বাতিলের সুপারিশ করি। প্রস্তাবটা ছিল — মূল ভূখণ্ডে পতিত জমি না থাকায় সংলগ্ন কোনো দ্বীপে এমন পরিমাণ পতিত জমি চাষের জন্য নেওয়া, যার খাজনা ওই আপত্তিখাজনা খাজনার সমপরিমাণ হবে। জমিদার এতে সানন্দে রাজি হন এবং তদনুসারে এই খাজনা বাতিল করা হয়। ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প হিসেবে যে পরিমাণ জমি নেওয়া হয়েছে, তার হার এবং অন্যান্য বিবরণ আবওয়াব (abwabs)-এর ফারসি রেজিস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এর সাথে পাঠানো হচ্ছে।

নিয়কদারি (Neakdary) —

১। মকদ্দমি (Mockudmy) — বা যাকে মালিকানা (Malikannah)-ও বলা হয় : এটা হলো অনাদিকাল থেকে চলে আসা মোট খাজনার এমন একটা অংশ যা নির্দিষ্ট নামের কোনো মালিক বা কর্মকর্তার জন্য বরাদ্দ থাকে; এদের পারস্পরিক অবস্থান বা বিশেষ দায়িত্ব ব্যাখ্যা করা আমি অপ্রয়োজনীয় মনে করি।

২। রসুম [মুঘল রাজস্ব কাঠামোয় রসুম আরবি শব্দ। এর অর্থ নিয়ম, প্রথা, রীতিনীতি, বা কোনো কাজের জন্য নির্দিষ্ট ফি বা ট্যাক্স (খাজনা)] চৌধুরী (Russoom Chowderahy): এটা চৌধুরী বা জমিদারের জন্য বরাদ্দ একটা অংশ, যার প্রকৃতি পূর্বোল্লিখিত বিষয়টির মতোই।

৩। পাটোয়ারি (Patwarry) : পাটোয়ারি বা গ্রাম-নিবন্ধকের (village register) জন্য বরাদ্দ অংশ।

৪। গোরায়ত (Gorayt) : জমিদার বা তহসিলদারের অধীনে কর্মরত গ্রামের নিম্নপদস্থ কোনো কর্মকর্তার জন্য বরাদ্দ অংশ; তার পদমর্যাদা অনেকটা পিয়নের পদের মতোই।

৫। দেহ খরচা (Deh Curcha) : জেলার অন্যান্য অংশের মতো এখানেও পূর্বে এই খাজনার হার ছিল পরিবর্তনশীল; বছরের শেষে নির্দিষ্ট কিছু আনুষঙ্গিক ব্যয়ের (যা ওই পদের আক্ষরিক অর্থ অনুযায়ী উদ্ভূত বলে গণ্য হতো) পরিমাণ এবং সেই সাথে জমিদার ও কানুনগোদের প্রাপ্য তসলানা (tussulana — সান্ত্বনা দেওয়া বা ধৈর্য ধারণ করতে বলা) ও অন্যান্য স্বীকরা ভাতার সমষ্টির ওপর ভিত্তি করে এই হার নির্ধারিত হতো। মহবি (Mohoby) এলাকার ক্ষেত্রে এর বিস্তারিত বিবরণ এর সাথে সংযুক্ত করা হলো; আর পরগনার অন্যান্য অংশের বিবরণ পরবর্তীতে দেওয়া হবে। তবে, এই খাজনা নির্ধারণের অন্যায্য পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রায় ১৬ বছর আগে অভিযোগ ওঠায় প্রতিটি গ্রামে এর প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে তদন্ত করা হয়েছিল; এবং এই পরিবর্তনশীল খাজনার পরিবর্তে একটা আনুপাতিক হার স্থায়ী খাজনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা তখন থেকেই যথাযথভাবে আদায় হচ্ছে। এই পদক্ষেপ সর্বজনীন সন্তুষ্টির কারণ হয়েছে বলে মনে হয় এবং এর ফলে আমার এই পরগনায় পরিদর্শনের একটা প্রধান উদ্দেশ্য আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে বলে আমি দেখতে পাই; কারণ, এর মাধ্যমে একমাত্র অনির্দিষ্ট খাজনা ব্যবস্থা একটা নির্দিষ্ট হারে রূপান্তরিত হয়েছে এবং বিশেষ করে পিয়নদের (peons) নিপীড়ন করে অর্থ আদায়ের পথ বন্ধ হয়েছে। জমিদারদের প্রতি ন্যায়বিচার করে আমাকে বলতেই হবে যে, অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরেও আমি তাঁদেরকে সংশ্লিষ্ট নিয়ম থেকে বিচ্যুত হতে দেখিনি। অতএব, আমি এ পর্যন্ত যতদূর অগ্রসর হয়েছি, সেলিমপুর দমদমা ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে এই খাজনা নির্ধারণের পরিমাণ বা পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজনীয় মনে করিনি। সেলিম্প্রে দমদমা হলো সেই খাজনা মওকুফের সমতুল্য একটা ব্যবস্থা, যে গ্রামের উপর মওকুফ পাওয়া যায় — এবং আপনারা সংযুক্ত ফারসি কাগজপত্র থেকে লক্ষ্য করবেন — তা একটা সংলগ্ন দ্বীপের পতিত জমি চাষ করার মাধ্যমে।

উপরোক্ত ব্যাখ্যাগুলো ভাওলি এবং নগদি উভয় খাজনা হারের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য; কিন্তু প্রথমটার ক্ষেত্রে একটা অতিরিক্ত ধারা লক্ষণীয় – খালি। মনে হয়, আগের আমলে কয়ালদের জন্য একটা ভাতা ছিল; তারা ফসলের নিজ নিজ অংশ ওজন করে দিত; কিন্তু কালক্রমে, রায়তরা উৎপাদিত পণ্যের পরিবর্তে নির্দিষ্ট হারে সেই পণ্যের মূল্য নগদে পরিশোধ খাজনাতে শুরু করলে, কয়াল পদ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে, যদিও রাজস্বের অংশ হিসেবে একই নামে খাজনা আদায় হতে থাকে।

জমিদারেরা, কানুনগোরা এবং আমার হিশেবে, যার ফলে আমরা সকলেই একমত হয়েছিলাম, দেখা গেল যে এই তরফের ভাওলি জমিতে রায়তের নিট অংশ ছিল —

<ছবি ১>

তুলনামূলকভাবে দেখা যায় যে, জেলার অন্যান্য অধিকাংশ এলাকার তুলনায় মুঙ্গেরে রায়তদের ওপর ধার্য এই হারগুলো অনেকটাই বেশি; তবে আমার ধারণা, এই পরগনার জমির উন্নত গুণমান এবং উৎপাদিত পণ্যের কাছের সহজলভ্য বাজারে পৌঁছনোর সুবিধা থাকায় সেই পার্থক্য পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

তরফ মহোবি (Turp Mohoby)-তে খাজনার হার সংক্রান্ত ওপরের তদন্ত এবং এ পর্যন্ত আমার করা অন্যান্য সমস্ত তদন্তের ভিত্তিতে, জেনাপাট (Jenapaut) পাট্টা — অর্থাৎ নকদি (nuckdy) ও ভাউলি (bhowley) — জারি করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; তবে মুঙ্গেরে পশ্চিমে গঙ্গা নদীর বুকে অবস্থিত কিছু দ্বীপে চাষকরা জমির ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে, যা পরে উল্লেখ করা হবে। সংযুক্ত একটা পাট্টার অনুলিপি লক্ষ্য করলেই দেখবেন যে, তাতে জমির পরিমাণ, খাজনার বিভিন্ন খাত ও হার এবং নকদি জমির ক্ষেত্রে মোট খাজনার পরিমাণ বা জমা (jumma) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরগনা বিষয়ক আমার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সাথে যে রেজিস্টারটি থাকবে, তাতেও একই বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে (যার খসড়া বা বিন্যাসটি বিবেচনার জন্য এর সাথেই পেশ করা হলো)। এর মাধ্যমে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পেয়ে যাবেন — যেমন, নকদি পাট্টার আওতায় চাষকরা জমির অত্যন্ত নির্ভুল ও বিশদ মূল্যমান এবং চাষাধীন ভাউলি কিসসা (bhowly kissa) জমির উপযুক্ত পরিমাণ। অবশ্য মুঙ্গেরে পশ্চিমে অবস্থিত দ্বীপগুলোর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে; কারণ, আমার প্রশ্নের জবাবে কানুনগো (canongoe) যে প্রতিবন্ধকতাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন (যা সংযুক্ত নথিতে আছে), সেগুলো বর্তমানে আমার কাছে দুর্লঙ্ঘ্য বলে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি আপনার নির্দেশ প্রার্থনা করছি। ইতিমধ্যে আমি এটুকু উল্লেখ খাজনাতে চাই যে, ফারকিয়া (Furkeya)-তে অনুরূপ ক্ষেত্রে যে ধরনের পাট্টা দেওয়া হয়েছিল, তা ওই দ্বীপগুলোর (যার মধ্যে সম্পূর্ণ তাপ্পা দেওরা বা tuppah Dewra অন্তর্ভুক্ত) স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে আমার মনে হয়েছে। তাই আমাকে প্রদত্ত ঘোষণার ৪ নম্বর ধারার ক্ষমতাবলে আমি সেই পদ্ধতিটি গ্রহণ করাতে দ্বিধা করিনি। আর যদি আপনি এতে সম্মতি দেন, তবে স্থায়ী বন্দোবস্তের ভিত্তি হিসেবে সংশ্লিষ্ট জমির পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য অন্য উপায়ে — যেমন গ্রামের নথিপত্র বা রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে — সংগ্রহ করা যেতে পারে; অবশ্য যদি না এই পদ্ধতিটিকে অতি-সূক্ষ্ম স্থানীয় তদন্ত বা যাচাই-বাছাই হিসেবে গণ্য করে কোনো আপত্তি তোলা হয়। পক্ষান্তরে, যদি আপনি কানুনগোর (canongoe) উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানের কোনো উপায় নির্দেশ করেন এবং আপনার কাঙ্ক্ষিত শর্তাবলি বা বিবরণসহ জনজৌত পাট্টা (janajaut pottahs) তৈরির ব্যবস্থা করেন, তবে এই তাপ্পা (tuppah)-য় ইতিমধ্যে দেওয়া পাট্টা সহজেই প্রত্যাহার করে আপনার নির্দেশ অনুযায়ী নতুন পাট্টা জারি করা সম্ভব হবে।

আমি আরও জানতে চাই যে, আমার ডেপুটেশন রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত এই পরগনা ও অন্যান্য পরগনার মোকরারি মহল (Mockurrey mahals)-গুলোতেও পাট্টা দেওয়ার বিষয়টি সম্প্রসারিত করা আপনার অভিপ্রেত কি না; আমার বিশ্বাস, ওই রেজিস্টারগুলো আপনার কাছারিতেই জমা রয়েছে।

আমি আশা করি, ইতিমধ্যে প্রদত্ত পাট্টাগুলোর যে সারসংক্ষেপ (Abstract) এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে, তা আপনার বর্তমান প্রয়োজনে বা প্রতিটি গ্রামের জন্য পূর্ণাঙ্গ রেজিস্টার প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত (যা আমি কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করার আশা করছি) যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে; কারণ মূল নথিটি এখন পাঠালে আমার কাজের গতি অনেক কমে যাবে। তাছাড়া, এত বিশাল আকারের নথির অনুলিপি প্রস্তুত করা আমার সাথে থাকা মোহরর বা লেখকের সহায়তায় এই ডাকের জন্য যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

১৭৮৭ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর তারিখের বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর যে আদেশের কথা আপনার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনো প্রতিলিপি আমার কাছে নেই; তাই ওই আদেশের একটা অনুলিপি পেলে আমি অত্যন্ত বাধিত হব।

সন্দারপুর, ১১ই আগস্ট ১৭৯০।

মহোদয়, আপনার একান্ত অনুগত ও বিনীত সেবক, এস। ডেভিস, মুঙ্গেরে ডেপুটেশনে নিযুক্ত সহকারী।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev